বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই বিষয়টা এখন চিন্তাও করোনা।" আমি সতর্ক করলাম।
"আরে না। স্বর্ণ নিয়ে ভাবছি না। চল এখান থেকে বের হওয়া যাক যতক্ষণ...." সে কথা শেষ করতে পারল না। তার চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেল। আমি তার দৃষ্টি অনুসরণ করলাম। পঞ্চাশ ফিট দুরে গোবদা সাইজের দু'টো পিঁপড়া বড়সড় একট টুকরা ধাতু তাদের গুহায় নেয়ার জন্য টানাটানি করছে। ধাতব টুকরাটার আকার প্রায় একটা রেফ্রিজারেটরের মত হবে। এর গায়ের স্বর্ণ আর লোহা জ্বলজ্বল করছে। অদ্ভুতভাবে বেকে গেছে এর একপাশটা। আর নিচের দিকটায় গোছাখানেক তার বিচ্ছিন্নভাবে বেরিয়ে আছে। পিঁপড়াগুলো নড়াচড়া করতে থাকায় আমি জিনিসটার মুখটাও দেখতে পেলাম। আরেকটু হলেই লাফিয়ে উঠতাম আমি।
"এটাতো একটা...."
"শশশ!" বেকেনডর্ফ আমাকে টেনে ঝোপে ফিরিয়ে আনল। আমি উত্তেজিত হয়ে পড়ছিলাম।
"কিন্তু এটাতো একটা...."
"ড্রাগনের মাথা। হ্যাঁ আমি দেখেছি এটা কি," ভীতস্বরে বলল সে।
ড্রাগনের মুখটা এককথায় বিশাল। প্রায় আমার সমান হবে। মুখটা হা করে খোলা। ভিতরে এর ঝকঝকে ধারালো দাঁতগুলো দেখা যাচ্ছে। অনেকটা হাঙরের দাঁতের মত। পার্থক্য শুধুমাত্র এগুলো ধাতব এবং আরো তীক্ষ্ম। এর চামড়া স্বর্ণ আর ব্রোঞ্জ মোড়ানো আঁশের মত। আর চোখগুলো রক্তলাল চুনিপাথরের মত উজ্জ্বল। আকারে সেগুলো প্রায় আমার হাতের মুষ্টির সমান। তবে এই আলগা মাথাটা দেখে মনে হচ্ছে এটি এর দেহ থেকে ছিড়ে নেয়া হয়েছে। আর এটা যে পিঁপড়ার চোয়ালের কাজ তা দিনের আলোর মতই স্পষ্ট। ছেড়া তারগুলো একত্রে জট পাকিয়ে আছে। আর মাথাটাকেও খুব ভারী বলে মনে হচ্ছে। কেননা পিঁপড়াগুলো এটাকে প্রতি পদক্ষেপে কয়েক ইঞ্চির বেশি নড়াতে পারছে না।
"পিঁপড়াগুলো একবার যদি পাহাড়ের উপর মাথাটাকে নিয়ে যেতে পারে", বেকেনডর্ফ বলা শুরু করল, "তাহলে অন্য পিঁপড়াগুলোও তাদেরকে সাহায্য করবে। আমাদের থামাতে হবে এটা।"
"কী?" আমি চেচিয়ে উঠলাম। "কেন?"
"এটা হেফাস্টাসের একটা চিহ্ন। কথা না বাড়িয়ে দ্রুত চল।"
তার কথাগুলো পুরো মাথার উপর দিয়ে গেল আমার। তবে একটা কথা সত্য, বেকেনডর্ফকে আর কখনো এতটা মরিয়া হতে দেখিনি। সে উঠে ছুট লাগাল খোলা প্রান্তরটার দিকে। তার বর্ম তাকে গাছপালার সাথে তাকে অনেকটাই মিশিয়ে দিতে সাহায্য করল। আমিও তাকে অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু তখনই হঠাৎ আমার ঘাড়ে ঠান্ডা ধারালো কিছুর স্পর্শ টের পেলাম। "সারপ্রাইজ!" আমার ঠিক পাশেই অ্যানাবেথের গলা শোনা গেল। খুব সম্ভবত সে তার ইয়ানকি ক্যাপটা পড়ে আছে। কেননা আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি না। তার ইয়ানকি ক্যাপ তার মা এথেনার পক্ষ থেকে আশির্বাদপুষ্ট উপহার। এটি পড়লে সে অদৃশ্য হয়ে যায়। আমি নড়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে যখন তার ছুড়িটা আমার চিবুকে ধরল, তেড়িবেড়ি করার আর সাহস করলাম না।
সিলেনা তার তলোয়ার বাগিয়ে বন থেকে বেরিয়ে আসল। তার আফ্রোদিতি বর্মটা লাল আর গোলাপী রঙের মিশ্রণ। তার কাপড় আর মেকআপের সাথে ম্যাচ করার জন্য আরকি। তাকে দেখতে অনেকটা গেরিলা বারবি যোদ্ধার মত লাগছে।
"ভাল দেখিয়েছ", সে বলল অ্যানাবেথকে।
একটা অদৃশ্য হাত আমার তলোয়ারটা ফেলে আমাকে নিরস্ত্র করে দিল। এরপরই একটা আত্মতৃপ্তির হাসি দিয়ে ক্যাপটা খুলে ফেলে দৃশ্যমান হল অ্যানাবেথ। "ছেলেদেরকে ফলো করা পানির মত সহজ। এরা প্রেমে পড়া মিনোটরের চেয়েও বেশি চেচামেচি করে।" (মিনোটর গ্রীক মিথের অর্ধ ষাঁড়-অর্ধ মানব জাতীয় দানব।)
আমার গাল লাল হয়ে গেল। আমি দ্রুত মনে করবার চেষ্টা করলাম এতক্ষণ মেয়েদের নিয়ে লজ্জাজনক কোন কথাবার্তা বলেছি কিনা। কে জানে অ্যানাবেথ আর সিলেনা কতক্ষণ যাবৎ আড়ি পেতে আছে।
"তুমি আমাদের বন্দী", অ্যানাবেথ ঘোষণা দিল। "চল এবার বেকেনডর্ফকে ধরা যাক আর...।"
"বেকেনডর্ফ!" কয়েক মুহুর্তের জন্য আমি বেকেনডর্ফের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু সে এখনও ড্রাগনের মাথা লক্ষ্য করে দ্রুত ছুটে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই চল্লিশ ফিট দুরে চলে গেছে সে। সে মেয়েদরকেও দেখেনি। এমনকি আমি যে তার পিছনে নেই সেটাও না।
"বুঝতে চেষ্টা কর আগে", অ্যানাবেথকে বলার চেষ্টা করলাম আমি।
সে আমাকে টেনে রাখল। "বন্দী, কোথায় যাচ্ছ তুমি?"
"ওদিকে দেখ!"
সে খোলা প্রান্তরটার দিকে তাকাল এবার। আর সম্ভবত প্রথমবারের মত উপলব্ধি করল আমাদের অবস্থান ঠিক কোথায়।
"ওহ জিউস...."
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now