বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পার্সি জ্যাকসন এন্ড দ্য ব্রোঞ্জ ড্রাগন
মূলঃ রিক রাইঅর্ডেন
অনুবাদঃ সালেহ আহমেদ মুবিন
মিথলোজিক্যাল ফ্যান্টাসি
পর্ব ১
পুরো একটা দিন বেঘোরে নষ্ট করার জন্য শুধুমাত্র একটা ড্রাগনই যথেষ্ট। বিশ্বাস করুন, একজন ডেমিগড হিসেবে আমার যথেষ্ট খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি কামড় খেয়েছি, ছ্যাকা খেয়েছি, এমনকি হয়েছি বিষাক্রান্তও। আমার একমাথা, দোমাথা, আটমাথা কিংবা নয়মাথা সমৃদ্ধ ড্রাগনের সাথে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আছে। এমনকি গত বছর তো বহুমস্তক এক ড্রাগনের সাথেও যুদ্ধ করেছি। সেটার মাথার সংখ্যা গোণার জন্য থামতে গেলেও আপনাকে বেঘোরে মারা পড়তে হবে। কিন্তু ব্রোঞ্জ ড্রাগন? আমি সেবার ভেবেছিলাম নিশ্চিতভাবেই আমি আর আমার বন্ধুরা এবার চিড়ে চ্যাপ্টা হতে চলেছি। খুলে বলা যাক।
সময়টা ছিল জুনের শেষার্ধ। দু'সপ্তাহ আগেই আমার শেষ অভিযানটা থেকে ফেরত এসেছি মাত্র। ক্যাম্প হাফ ব্লাডের জীবনেও প্রায় মানিয়ে নিয়েছি। বলে রাখি, আমি পার্সি জ্যাকসন, একজন ডেমিগড। আমার বাবা মহাপরাক্রমশালী গ্রীক সমুদ্রদেব পসাইডন। আর ক্যাম্প হাফ ব্লাড হচ্ছে ডেমিগডদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। তো যা বলছিলাম, ক্যাম্প হাফ ব্লাডের সন্ধ্যাটা ছিল অন্যান্য দিনের মতই খুব স্বাভাবিক। স্যাটাররা ড্রায়াডদের সাথে দৌড়াদৌড়ি করছে। পাশের বন থেকে ভেসে আসছে মনস্টারদের চিৎকার চেঁচামেচি। ক্যাম্পাররা মেতে আছে একে অন্যের সাথে ঠাট্টা তামাশায়। আর আমাদের ক্যাম্প পরিচালক ডিওনিসাস অবধারিত নিয়মে অশিষ্টাচারীদেরকে আঙ্গুরগুল্মে পরিণত করে দিচ্ছিলেন। চিরাচরিত গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের সাধারণ পরিবেশ। রাতের খাবারের পর ক্যাম্পাররা সব খাবার তাবুর সামনে ঘোরাফেরা করছিল। সবাই বেশ উত্তেজিত। কেননা আজ রাতের ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ খেলাটা ভয়ংকরতম হতে যাচ্ছে। এর পিছনে যথার্থ কারন আছে অবশ্যই। হেফাস্টাস কেবিন ভয়ংকর কারনটা তৈরি করেছে। গতরাতে এরিস কেবিনের কাছ থেকে পতাকা ছিনিয়ে তাদেরকে লজ্জাজনক এক হার উপহার দিয়েছিল তারা। এবং সেটা ঘটেছিল অবশ্যই আমার সাহায্যে। সুতরাং বলাই বাহুল্য আজকের খেলায় এরিসরা এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নামবে। এটা ঠিক যে তারা সবসময়ই তারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নামে, কিন্তু আজকে বিশেষভাবেই নামবে।
নীল দলে পড়েছে হেফাস্টাস, এপোলো, হার্মিস কেবিন আর আমি-পসাইডন কেবিনের একমাত্র ডেমিগড। খারাপ ব্যাপারটা হচ্ছে এবার এরিস আর এথেনা- দুই যুদ্ধ দেবদেবীর কেবিন একত্রে জোট বেধেছে আমাদের বিপক্ষে। তাদের সাথে লাল দলে আরো আছে আফ্রোদিতি, ডিওনিসাস এবং ডিমিটার কেবিন।
অন্য পতাকাটা এথেনা কেবিনের হেফাজতে রাখা আছে। আর তাদের দলপতি হচ্ছে আমার বন্ধু অ্যানাবেথ।
সত্য কথাটা হচ্ছে অ্যানাবেথকে কেউ কখনও শত্রু হিসেবে চাইবে না।
খেলা শুরুর মুহুর্তকয়েক আগে সে ঘুরে আমার কাছে আসল। "হেই সীউইড ব্রেইন।"
"আমাকে এই নামে ডাকা বন্ধ করবে তুমি?"
ও জানে আমি এই বিশেষ নামটা একদমই ঘৃণা করি। এর কারন সম্ভবত এর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার মত যথার্থ কোন অস্ত্র নেই আমার কাছে। কেননা সে হচ্ছে জ্ঞানের দেবী এথেনার মেয়ে। আওলহেড কিংবা ওয়াইজ গার্ল খেপানোর জন্য নিশ্চয়ই যথেষ্ট অপমানজনক নাম না।
সে কাঁধ দিয়ে আমাকে মৃদু একটা ধাক্কা দিয়ে বলল, "আরে তুমি জান যে নামটা তুমি বেশ পছন্দই করো।"
কাঁধের ধাক্কাটা নিশ্চয়ই বন্ধুভাবাপন্নই ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অ্যানাবেথের পড়নে ছিল গ্রীক বর্ম। ফলে যে ব্যাথাটা পেলাম সেটা বেমালুম চেপে যাবার চেষ্টা করতে হল। অ্যানাবেথের ধুসর চোখদ্বয় হেলমেটের নিচে চকচক করছে। ঘোটকীর লেজের মত পিছনে বেধে রাখা সোনালী চুলগুলো কাঁধের পাশে পড়ে রয়েছে অনাদরে। যুদ্ধবর্মে কাউকে সুন্দর লাগাটা খুব সহজ ব্যাপার না। কিন্তু অ্যানাবেথ সব নিয়মনীতি স্রেফ ভেঙে ফেলেছে।
সে গলার স্বর নিচু করে বলা শুরু করল, "শোন তোমাকে বলে রাখি, আজকে তোমাদেরকে আমরা একদম পিষে ফেলব। তবে তুমি ডান পাশের কোণাটার মত নিরাপদ জায়গায় অবস্থান নিলে ভিন্ন কথা। তাহলে আমি নিশ্চয়তা দিতে পারব যে অন্তত তোমাকে খুব বেশি চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে না।"
"অনেক ধন্যবাদ", আমি বললাম। "কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা জেতার জন্য খেলছি।"
অ্যানাবেথ ক্রুর একটা হাসি দিল। দুঃখজনকভাবে ক্রুর হাসিতেও ওর উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আনতে আমার খুব বেগ পেতে হল।
"যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা হবে।" এরপর সে দ্রুত পদক্ষেপে ফিরে গেল তার দলসঙ্গীদের কাছে। আর তারা বিদ্রুপাত্মক ভঙ্গীতে হেসে ওকে হাই ফাইভ জানাল। এত খুশি হতে তাকে আমি জীবনেও দেখিনি। মনে হচ্ছে আমাকে পিটিয়ে ধরাশায়ী করতে পারাটা ওর জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় ব্যাপার হতে যাচ্ছে।
বেকেনডর্ফ তার হেলমটটা হাতের নিচে রেখে এগিয়ে আসল আমার দিকে। "সে তো তোমাকে সত্যিই খুব পছন্দ করে দেখছি।"
"অবশ্যই", অসন্তোষের ভঙ্গীতে বললাম আমি। "লক্ষ্যভেদের টার্গেট হিসেবে খুব বেশিই পছন্দ করে।"
"আরে না। মেয়েরা সবসময়ই করে এইসব। যখন কোন একটা মেয়ে তোমাকে খুব মারতে চাইবে, বুঝে যাবে কোন গড়বড় আছে। মেয়েটা তোমাকে পছন্দ করে।"
"অনেক কিছু বুঝে ফেলেছি।"
বেকেনডর্ফ শ্রাগ করল। "আমি এইসব বিষয়ে খানিকটা অভিজ্ঞ, সেটা তো তুমি জানোই। বলি কি তোমার উচিৎ ওকে আতশবাজিতে তোমার সাথে যাবার প্রস্তাব দেয়া।"
আমি বুঝতে পারছিলাম না বেকেনডর্ফ সিরিয়াস কথা বলছে কিনা। আফ্রিকান অ্যামেরিকান কিশোর বেকেনডর্ফ হেফাস্টাস কেবিনের প্রধান কাউন্সেলর। বেসবল খেলোয়াড়দের মত স্থায়ী পাকানো পেশীবহুল শরীর তার। প্রায় সারা জীবনটাই চুল্লীতে কাটানোর ফলে বেশ শক্তপোক্ত হাতের অধিকারী। কিছুদিন হল সে আঠারোয় পা দিয়েছে। কিছুদিন পরেই নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে যাবে।
আর সে যেহেতু বয়সে বড় তাই সচরাচর আমি বিভিন্ন বিষয়ে তার কথা শুনতাম। কিন্তু চৌঠা জুলাইয়ে সৈকতের আতশবাজি উৎসবে অ্যানাবেথকে নিয়ে যাবার ব্যাপারটা অদ্ভুত প্রস্তাব। চিন্তাটাই আমার পাকস্থলীকে আকড়ে ধরছে। নার্ভাস বোধ করলে আমার পাকস্থলী এরকম আকড়ে ধরে।
তখনই হঠাৎ আফ্রোদিতি কেবিনের প্রধান কাউন্সলর সিলেনা বোরগার্ডকে পাশ দিয়ে যেতে দেখলাম। সে বেকেনডর্ফের গোপন ক্রাশ। ভুল বললাম। সিলেনা পাকা তিন বছর যাবৎ বেকেনডর্ফের একদম অগোপনীয় ক্রাশ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now