বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পারিশা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ভূমিকম্প হলেই আমার এক মেয়ের কথা মনে পড়ে। একটি ছন্দময় "সুন্দর" কিন্তু মলিন নাম - "পারিশা" . সময়টা ১৯৯৭ । দিনটা শুত্রুবার হবে বা হতে পারে । আমাদের ৫ সদস্যের এই ছোট পরিবারটি তখন ছাঁদে উঠেছি বিকেলের হওয়া খেতে । হঠাৎ কি হল জানি না । ধরণীটা ভীষণ ভাবে কেঁপে উঠলো । আম্মু চিৎকার করে দোয়াদরুদ পড়তে লাগলেন । এরপর সব নিশ্চুপ । যেভাবে ধরণী ঝাঁকানৌ শুরু করেছিলো ঠিক সেই ভাবেই হঠাৎ করে ঝাঁকানো শেষ করলো । সত্য কথা বলতে কি আমি ভয় পাইনি কারণ ভয় পাওয়ার মুহুর্তটিতে ছিল শুধুমাত্র বিস্ময় । জীবনে প্রথম জানলাম এই বিস্ময়কর মুহুর্তটিকে বলে "ভূমিকম্প" . সেই বয়সে যতদুর জানি চিটাগং শহরের অনেক বাড়ি নাকি ভেঙ্গে পড়েছিলো । তবে তার মাঝে হামজার বাগের একটি পাঁচ তলা বিল্ডিং এর চার তলা পযর্ন্ত মাটির নিচে দেবে যাওয়ার খবরটি ছিল তখন টক অফ দ্যা টাউন । পরদিন সকালে পত্রিকায় ছবিসহ খবর বেরুলো । বিল্ডিং এর চাপে পিষ্ট হয়ে মারা পড়ার বিভৎস সব ছবি । . কিন্তু আসল ঘটনা ঘটলো পরের দিন । কারো সাহায্য ছাড়াই এক বাচ্চা মেয়ে নিজে নিজে সেই বিল্ডিং থেকে বেরুলো । গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই , যা আছে তা কেবল ধুলো । মেয়েটির নাম ছিল - "পারিশা" . পারিশার এই ছবি তার পরের দিনের আজাদী পত্রিকার প্রধান হেডলাইন ছিল । মেয়েটা অনেকের আশার প্রতীক হয়ে দাড়িয়েছিল । আব্বু কেন যেন পারিশার কার্যকালাপে এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে , উনি তার একমাত্র মেয়ের নামের মাঝে "পারিশা" নামটি ঢুকিয়ে দেয় । . কিন্তু এই অনিশ্চিত জীবনে আশা যে কবে দুরাশায় পরিণত হয় তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই । পারিশা মেয়েটা মারা গেলো । তাও হাসপাতালের বেডে মাত্র ৫ দিনের জ্বরে । আসলে এতবড় শকটা সহ্য করার ক্ষমতা মেয়েটা ছিল না । মেয়েটি মারা গেলেও আব্বু নামটা মুছেন নি । তার একমাত্র মেয়ের নামের মাঝে পারিশা বরাবর নামটা রেখে দিলেন । যদিও পরবর্তী জীবনে আমার বোন তার পুরো নামটি বড় হয়ে যাচ্ছে অজুহাতে "পারিশা" নামটি গ্রহণ করেনি । . "পারিশা" নামটির অর্থ কি আমি জানি না তবে নামটি আমার মনে আজো দাগ কেটে রয়ে গেছে । হয়ত শৈশবের সেই স্মৃতিটার কারণে আমি ঠিকঠিকই একদিন (প্রায় ১০ বছর পর) বন্ধু সামিয়াতের মাধ্যমে (তার বাসা ঐ দিকেই ) এই বিল্ডিংটা খুঁজে বের করি । অবাক হয়ে দেখলাম এই বিল্ডিংটি আজো আছে ! বিল্ডিংটির নাম "সওদাগর ভিলা" । ৫ তলার মাঝে ৪ তলা আজো মাটির নিচে । ৫ম তলাটি কিছু নিম্ন বিত্তের লোকজন বসবাস করে । তারাও ঠিকমত ঐ ঘরটাতে থাকতে চায় না । রাতে নাকি বিচিত্র গোঙ্গানির (!) শব্দ শোনা যায় । এখান বলে রাখা ভালো অনেক হতভাগ্যের লাশ নাকি আজো এই বিল্ডিং এর নিচেই চাপা পড়ে আছে। . আজো মাঝে মাঝে আমার বোনকে কল দিয়ে "পারিশা" "পারিশা" বলে ডাকি সে রাগে নাক ফুলায় । আমি খানিকটা নষ্টালজিক হয়ে পড়ি । পারিশা মেয়েটা যদি আজ বেঁচে থাকতো সে কি আমার বোনেটির সমান হতো না ? [] শান্তনু চৌধুরী শান্তু []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পারিশা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now