বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দৃশ্যপট :প্যারিস রোড
--মো: হাবিবুর রহমান
দুপাশে সারি সারি সুবিশাল সিরিশ গাছ,মাঝখানে সোজা একটি প্রসস্ত রাস্তা। নাম প্যারিস রোড। সিরিশ গাছগুলো মনে হয় আকাশ ছুঁয়েছে। এমনি একটি সিরিশ গাছের ফোকরে বাসা বেঁধেছে এক শালিক দম্পতি। সকাল হলেই তারা জুড়ে দেয় কিচিরমিচির। পুরুষ শালিকটি ঠোটে করে সিরিশ পাতা নিয়ে আসে আর স্ত্রী শালিকটি বাসা বানায়।শালিক জুটি বাসার আশেপাশে ঘুরে বেড়ায় আর মনের আনন্দে কিচিরমিচির করে।
শালিক জুটির মতই প্রতিদিন সকালে একটি সিরিশ গোড়ায় বসে আরো এক জুটি, আবির আর মিলি। দিনের বেলা বাড়ার সাথেই চলে তাদের গল্প।সুখ, দু:খ আর ভালোলাগার গল্পে মেতে উঠতো ওরা দুজন।
ওরা দুজনই এবার ভর্তি হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। মিলির অনেক দিনের শখ ছিল বাংলায় পড়বে।তাছাড়া বাংলার প্রতি তার টান অনেক ছোট থেকেই।মিলি ছোটবেলা থেকেই নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, সরৎ এর অনেক বই পড়েছে।তায় বাংলা সাহিত্য নিয়ে লেখাপড়া করা তার কাছে ছিল চাঁদ হাতে পাওয়ার মত।
অন্যদিকে লেখালেখি করার ইচ্ছা মিলির অনেক আগে থেকেই। কিন্তু দৃশ্যপট না পাওয়ায় তা আর হয়ে উঠেনা।একবার ছোট বেলায় মিলি বৃষ্টি আর ব্যাঙ নিয়ে একটি ছড়া লিখেছিল।
তখন মিলি ক্লাস টু বা থ্রি তে।
বড় হয়ে যখন মিলির ঐ ছড়ার কথা মনে পড়ত তখন সে হাঁসিতে ফেটে পড়ত।বড় হবার পর যখন আকাশে মেঘ ধরেছে বা বৃষ্টি হয়েছে তখনই মিলির হাসি শুরু হয়ে যেতো।
আজও সকালে আবির আর মিলি সেই সিরিশ গাছের নিচে বসে গল্প করছিল। সামনে রোজার ছুটি তাই একমাস দুজনার দেখা ও কথা হবেনা। দুজনারই বাসা অনেক দূরে, তাই আজ তারা শেষ সাক্ষাত করতে এসেছে। কাল সকালে মিলি চলে যাবে,আর আবির পরশু। আবিরের চোখে হতাশার চিহ্ন।
কথা বলতে বলতেই কখন যে আকাশে মেঘ করেছে কেউ জানেনা।হঠাৎ মিলি মেঘের গর্জন শুনতে পেল। আর সঙ্গে সঙ্গেই তার মনে পড়ে গেল ছোটবেলার সেই ছড়াটির কথা। মুহুর্তেই মিলি হাসতে শুরু করে দিল।সেই কি হাসি! হাসিতে ফেটে পড়লো মিলি।হাসি কিছুতেই থামেনা।আবির অনেক চেষ্টা করলো থামাতে কিন্তু মিলি তার কথায় কানই দিলনা।মিলি হেসেই চলেছে। এদিকে হাসির মাঝেই মেঘ কেটে গেছে।
আবির মিলিকে থামাতে নাপেরে রাগ করে প্যারিস রোডের মাঝ বরাবর চলতে শুরু করেছে।
মিলি যতক্ষনে বুঝতে পারলো যে আবির রাগ করে চলে যাচ্ছে ততক্ষণে আবির অনেক দূর চলে গেছে। মিলি এবার আবিরের রাগ ভাঙানো দরকার। মিলি আবিরের নাম ধরে ডাকতে শুরু করল।
প্রিয়তমার ডাক,আবির আর অভিমান করে থাকতে পারল না। মুহুর্তেই ভেঙে গেল আবিরের সব অভিমান।
আবির পেছনে ঘুরে মিলির দিকে আসতে শুরু করল। হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটি প্রায়ভেট কার আবিরকে চাপা দিয়ে চলে গেল। প্যারিস রোডের ওপর পড়ে থাকলো আবিরের রক্তাক্ত দেহ,মাথাটা থেঁতলে গেছে আবিরের ।রক্তে ধুয়ে গেছে আবিরের নিথর দেহ।প্যারিস রোড যেন রক্তের রং মেখেছে! আবিরের দেহ আর রক্তের উপর তখন পরছিল দু একটা সিরিশ পাতা।
মিলির উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। কান্নায় ভারি হয়ে আসলো চারপাশ। মিলি শোকে কাতর হয়ে গেল।সে বার বার আবিরের মাথায় হাত রেখে জাগাতে চেষ্টা করলো,কিন্তু আবিরের এ ঘুম চিরদিনের। আর কখনো জাগবেনা আবির। মিলির উপর এ অভিমান যেন চিরদিনের। মিলি আজ হারিয়েছে জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদটাকে। মিলি দিশেহারা হয়ে কান্না থামিয়ে যেন পাথর হয়ে গেলো। মিলি দেখলো প্রিয় মানুষটির রক্তাক্ত করুণ মৃত্যু।
তখনও শালিক জুটি কি যেন কিচিরমিচিরে মেতে উঠেছে নিজেদের মধ্যে।আর মিলিও পেলো জীবনের করুন একটি দৃশ্যপট।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now