বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জয়নাল বিনীত গলায় বলল,আমি লেখাপড়া জানি । ক্লাস থিরি পাশ করছিলাম । পাচের ঘরের নামতা জানি ।
*পাচের ঘরের নামতা জানলে হবে না ,আরো পড়াশোনা জানা লাগবে ।
*জি আচ্ছা । স্যার আইজ উঠি ।
*আচ্ছা যা ।
জয়নাল উঠে দাড়াল তবে চলে গেল না । আবারো খুক খুক করে কাশতে লাগল । মনে হচ্ছে সে আরো কিছু বলতে চায় । মবিন সাহেব বললেন,কিছু বলবি?
জয়নাল বিবত গলায় বল,সাধু হওয়ার নিয়মটা কি?
*কেন,তুই কি সাধু হতে চাস নাকি?
জয়নাল মাথা নিচ করে ফেলল । তার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে সে সাধু হতে চায় ।
মবিন সাহেব বললেন,সাধু হওয়া বড়ই কঠিন । নির্লোভ হতে হয় । পরের মঙ্গলের জন্যে জীবন উৎসর্গ করতে হয় । তারা কখনো মিথ্যা বলে না । সাধারণ মানুষ মিথ্যা না বলে থাকতে পারে না । সামান্য মিথ্যা হলেও বলতে হয় । জয়নাল প্রায় ফিসফিস করে বলল,স্যার ,আমি মিথ্যা বলি না ।
*ভাল । খুক ভাল ।
*আমার কোন লোভও নেই ।
*মবিন সাহেব হাসতে হাসতে বললেন,তুই তো তাহলে সাধুর পর্যায়ে চলেই গেছিস ।
*জয়নাল লজ্জা পেয়ে বলল,স্যার যাই?
*আজ্ঞে যা । আরে শোন শোন ,একটু দাড়া ।
মবিন সাহেব ঘর থেকে একটা পুরনো কোট এনে দিলেন । কোটের রঙ জলে গেছে ,হাতের কাছে পোকায় কেটেছে । তবু বেশ গরম । জয়নাল ব্যবহার করতে পারবে । মবিন সাহেব লক্ষ্য করেছেন এই শীতেও জয়নাল পাতলা একটা জা মা পরে থাকে । খালি পায়ে হাটে ।
জয়নাল কোট পেয়ে অভিভূত হয়ে গেল । তার চোখে পানি এসে গেল ।
*সে নিচু হয়ে মবিন সাহেবকে কদমবুসি করল ।
কোট যেদিন দিলেন সেদিন সন্ধাতেই মবিন সাহেবের সঙ্গে জয়নালের আবার দেখা । কোট গায়ে দিয়ে জয়নাল একেবারে ফিটফাট বাবু ।
সে রাস্তার মোড়ো উবু হয়ে বসে একটা কুকুরকে পাউরুটি ছিড়ে ছিড়ে দিচ্ছে । ফিসফিস করে কুকুরকে বলছে,খা বাবা খা । কষ্ট কইরা খা । পরের বার তোর জন্যে গোস্ত জোগাড় করব । না খাইলে শইল্যে বল হইব না ।
*মবিন সাহেব থমকে দাড়ালেন ।
*কি করছিস রে জয়নাল?
*কিছু না স্যার ।
*কুকুরকে পাউরুটি গাওয়াচ্ছিস ,ব্যাপারটা কি?
*এ স্যার হাটা চলা করতে পারে না । দুইটা ঠেং ভাঙা,লুলা হইয়া আছে । ঠেং এর ওপর দিয়া গাড়ি চইল্যা গেল ।
*তুই কি রোজ একে খাইয়ে যাস?
মবিন সাহেব দেখলেন কুকুরটার আসলেই অন্তিম দশা । মনে হচ্ছে শুধু পা না,কোমরও ভেঙ্গেছে । নিম্নশ্রেণীর প্রানী বলেই এখনো বেচে আছে ।
মানুষ হলে মরে যেত ।
জয়নাল কিছু বলল না । হাসল । মবিন সাহেব বললেন,পাউরূটি ছিড়ে ছিড়ে মুখে তুলে দেবার দরকার কি ? সামনে ফেলে দে ,নিজেই খাবে ।
*জি আচ্ছা ।
*জয়নাল পাউরুটি ফেলে মবিন সাহেবের সঙ্গে আসতে লাগল ।
*মবিন সাহেব বললেন,কোটে শীত মানে?
*জে স্যার মানে ।
*কোট গায়ে দিয়ে খালি পায়ে হাটাহাটি ভাল দেখায় না । এক জোড়া স্যান্ডেল কিনে নিস ।
*জে আচ্ছা ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now