বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"পালিয়ে যাচ্ছো?"
.
কথাটা শুনে নিজের ভিতরেই কেমন যেন
লাগলো! বোধ হয় হেরে গেছি দেখেই
এমন মনে হচ্ছে! আমি কিছু বললাম না। চুপ করে
দাঁড়িয়ে থাকলাম। আজ কেন যেন নিজের উপরেই
ভীষন লজ্জা লাগছে।
.
ইরিনার সাথে এভাবে হঠাত করেই সামনাসামনি দেখা
হয়ে যাবে ভাবিনি! এইতো ৪মাস আগেও সব কিছুই
ঠিক ছিল। ভালই ছিলাম ইরিনা আর আমি। আমার নাম
রুবায়েত, রুবায়েত আহসান! ছোট বেলা
থেকেই লাজুক ছিলাম যার কারণে মেয়েদের
সাথে তেমন কথা বলতাম না। তেমন কোন
মেয়ে ফ্রেন্ডও ছিল না! যাইহোক ক্রাস ফ্রি
খাবার তাই আমিও নিয়মিত ক্রাস খেতাম! তেমনি
ভার্সিটিতে একদিন একটা মেয়ের উপর ক্রাস
খেয়ে ফেললাম! ভেবেছিলাম অন্য সব
ক্রাসের মতো এটাও টেম্পোরারি ক্রাস হবে।
কিন্তু না! সবকিছু ভুল প্রমাণ করে মেয়েটি মনের
ভিতর পার্মানেন্ট জায়গা করে নিল! ওর চেহেরা
মনে হলেই বুকের ভিতর কেমন যেন চিন চিন
ব্যাথা শুরু হয়ে যেত! তখনই বুঝতে পারলাম পড়ে
গেছি প্রেমে! হ্যা সেই মেয়েটিই হলো
ইরিনা! তারপর মেয়েটির পিছনে ঘুরঘুর করা শুরু
করে দিলাম! যদিও তাকে বুঝতে দিতাম না! এই
প্রথম কোন মেয়েকে ফলো করা শুরু
করলাম! কিন্তু কথায় আছেনা, "মেয়েদের কারা
ফলো করে না করে তারা ঠিকই বুঝে যায়!" আমার
ক্ষেত্রেও সেটাই হলো! একদিন ফলো
করতে নিয়ে ধরা খেয়ে যাই! সেবারই ওর সাথে
প্রথম কথা বলি! ও আমাকে ডাক দেয়। আমি ওর
সামনে মাথা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলাম! পা কাপাকাপি
শুরু হয়ে গিয়েছিল! ও বুঝতে পারেছিল কিনা
জানিনা, ও বলল,
- সমস্যা কি?
- কিছু না!
- তাহলে পিছে পিছে ঘুরেন কেন?
- কই নাতো!
- তাহলে কি আমি মিথ্যা বলতেছি?
.
হঠাতই ওর রাগী কন্ঠে আমি ভড়কে গেলাম!
মনে মনে খালি বলতেছিলাম একবার খালি ওর
সামনে থেকে চলে যেতে পারলে বাচিঁ! আর
ওর পিছে ঘুরবো না! আমার চুপ করে থাকা
দেখে ও আবার বললো,
- কি ব্যাপার চুপ কেন? এখনই তো পা কাপাকাপি শুরু
হয়ে গেছে! আসছে পিছে পিছে ঘুরতে!
আর যেন আমার আশে পাশে না দেখি!
- জ্বী আচ্ছা!
এই বলে কাছে থেকে চলে আসলাম। এসেই
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। যদিও খারাপ লাগলো কারণ এই
প্রথম কোন মেয়েকে ভাল লেগেছিল। পিছে
পিছে ঘুরে ছিলাম! কিন্তু ঠিক করলাম ওর আশে
পাশেও আর যাবো না। তারপর কয়েকদিন পার হয়ে
গেল ওর আশে পাশে যাইনি। ওকে ভুলার চেষ্টার
করছিলাম কিন্তু তবুও ভুলতে পারতেছিলাম না! হঠাত
একদিন ভার্সিটি ঢুকবো এমন সময় কে যেন
পেছন থেকে জামা নেটে ধরলো! পেছনে
ঘুরেই আমি শকড! ইরিনা! আমি কিছু বলবো তার
আগেই আমাকে টেনে নিয়ে রিকশায় তুললো।
তারপর সে উঠে রিকশাওয়ালাকে যেতে বলল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
- কই যাচ্ছি?
- একটু পরেই দেখতে পারবেন!
ওর রাগী কষ্ঠ শুনে গতবারের মতো এবাও
চুপসে গেলাম! পুরা পথ চুপ করে ছিলাম কেমন
যেন আনইজি ফিল হচ্ছিলো! রিকশা একটা পার্কের
সামনে থামলো। রিকশা থেকে নামলাম তারপর
পার্কের ভিতরে ঢুকলাম। দেখলাম ও এক জায়গায়
বসলো! তারপর আমি ওর সামনে যেয়ে
জিজ্ঞেস করলাম,
- এখানে কেন?
- নিজেকে কি মনে করেন? একদিন এক
মেয়ের পিছে আরেকদিন অন্য মেয়ের পিছে
ঘুরবেন? বেয়াদপ!
- কই আমি আবার কার পিছে ঘুরলাম?
- তাহলে গতকালকে কি আমি ভুল দেখলাম? আপনি
একটা মেয়ের সাথে বসে হেসে হেসে কথা
বলছিলেন!
এবার বুঝতে পারলাম! গত কাল আমি আমার ফ্রেন্ড
সিফার কাছে থেকে কিছু জরুরি নোটস
নিয়েছিলাম। নোটস গুলো নিয়েই কথা
বলতেছিলাম। আর ইরিনা সেটাই দেখেছে! আমি
বললাম,
- আরে ও তো আমার ফ্রেন্ড সিফা ছিল। ওর
কাছে থেকে কিছু নোটস নিয়েছিলাম।
সেগুলো নিয়েই কথা বলেছিলাম!
এবার দেখলাম ওর মুখে একটু হাসি হাসি ভাব
ফুটলো! বলল,
- আপনি আর আমার পিছে আসেন না কেন?
- আপনিই তো বলেছিলেন আশে পাশে না
যেতে!
- আমি বলেছি বলে তাই আসবেন না? সেদিন
রাগের মাথায় বলেছিলাম!
কে যেন বলেছিলেন, "মেয়েদের মন
বুঝতে যাবেন না, কিছু তো বুঝবেনই না উল্টো
পাগল হয়ে যাবেন" হঠাতই কেন যেন কথাটা মনে
পরে গেল! বললাম,
- তো এখন কি করতে হবে?
- সবই বলে বলে করাতে হবে নাকি!!
বুঝতে পারলাম গ্রিন সিগনাল! এই সুযোগ, এটা
হাতছাড়া করা যাবেনা! কোথায় থেকে এতো সাহস
পেলাম জানিনা করে ফেললাম প্রোপোজ!
তারপর যা হবার হয়ে গেল! বুঝতেই পারছেন!
.
সবই ঠিকঠাকই চলছিল! কিন্তু হঠাতই কি দিয়ে কি যেন
হয়ে গেল! সেদিন দুপুরে ফোনে কথা
বলছিলাম। তো কথার ফাকে জিজ্ঞেস করলাম,
- কি করো?
- এইতো শুয়ে আছি...
- আজকে বিকালে বের হতে পারবা?
- না আজকে বের হওয়া পসিবল না...
- আচ্ছা তাহলে রেস্ট নাও বাই...
- বাই..
ফোন রেখে একটু পর তূর্যর (ফ্রেন্ড) সাথে
বাইরে বের হলাম। ঘুরাঘুরির শেষে বিকালে একটা
রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলাম। কিন্তু
রেস্টুরেন্টে বসে যা দেখলাম নিজের
চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না... সত্যি?
দেখলাম ইরিনা একটা ছেলের সাথে বসে আছে।
ইরিনা আমাকে দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল।
আমি কিছু না বলেই ওখান থেকে চলে আসলাম।
তূর্য হয়তো বুঝতে পেরেছিলাম তাই ও কিছু বলল
না। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর
থেকেই ইরিনা কল দিচ্ছিলো কিন্তু ধরলাম না। বাসায়
এসে ফোন বন্ধ করে রাখলাম। খুব খারাপ লাগছিল।
ইরিনা এরকম করবে কখনো ভাবি নাই... রাতে
ফোন অন করেই দেখি অনেকগুলো
ম্যাসেজ। সবগুলাতেই ফোন রিসিভ করো আর
সরি বলা। আবার ফোন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে ভাবলাম ভার্সিটি যাবো না। কিন্তু একটা
প্রজেক্টের কাজে যেতে হলো। যেয়ে
দেখি ইরিনা আগেই এসেছে। আমার সাথে কথা
বলতে চাইলে আমি পাত্তা দিলাম না। এক পর্যায়ে
মাথাটা গরম হয়ে গেল। ওর কোন কথাই শুনলাম না।
ওকে অনেক কথা শুনালাম। মাথা গরম হয়ে ছিল তাই
অনেক কথা বললাম! এক পর্যায়ে দেখলাম ওর
চোখ দিয়ে পানি পরছে! তারপর বললাম আমার
সাথে যেন আর যোগাযোগ করার চেষ্টা না
করে। বলেই চলে আসলাম!
.
বাসায় এসেই এক পর্যায়ে মনে হলো বেশি
বলে ফেলেছি। কিন্তু কথাগুলো বলে মনে
শান্তি পাচ্ছিলাম। কিন্তু বারবার একটা কথাই মাথায়
আসছিলো, "ও আমার সাথে এরকম করতে
পারলো? ওকে কি আমি কম ভালোবেসেছিলাম?"
তারপর আর প্রয়োজন ছাড়া ভার্সিটি যেতাম না। ওর
সাথেও দেখা হতো না।কিন্তু কেন জানি ওকে
অনেক মিস করতাম! অনেকবার ভেবেছিলাম সরি
বলবো ওকে! সেদিন বেশিই খারাপ ব্যবহার
করে ফেলেছিলাম কিন্তু সেদিনের ব্যবহারের
পর কোন মুখ নিয়ে সরি বলবো! তাই আর সরি
বলাও হয়নি! এভাবেই ৪ মাস কেটে গেল আর
আজই হঠাত ওর সাথে দেখা হয়ে গেল! আর
যখন ওকে এড়িয়ে চলে যেতে চাচ্ছিলাম তখনই
ও আমার সামনে এসে এই কথা বলল, "পালিয়ে
যাচ্ছো?" আমি কিছু বললাম না। মাথা নিচু করে চুপ
করে দাঁড়িয়ে থাকলাম। তারপর ও বলল, "চলো ওই
দিকটাই গিয়ে বসি" আমি কেন যেন কিছু বলার জন্য
পেলাম না। ওর সাথে গেলাম গিয়ে বসলাম। কেউই
কিছু বললাম না। চুপ করে অনেকক্ষন বসে
থাকলাম! তারপর ও বলল,
- সেদিন তো আমাকে কোন কথা বলার
সুযোগই দিলে না...
আবার বলল,
- কিছুদিন ধরে আমাকে একটা ছেলে ডিস্টার্ব
করতো। মানা করার পরও শুনতো না। সেদিন
ছেলেটা ফোন দিয়ে বলল একবার দেখা করুন
আর ডিস্টার্ব করবো না। আমি বিষয়টা তোমাকে
জানাতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভাবলাম একবার দেখা
করেই দেখি কি বলে। আর তোমার মাথা গরম
হয়ে যায় অল্পতেই তাই তোমাকে না জানিয়ে
ছেলেটার সাথে দেখা করেছিলাম। ওকে বুঝিয়ে
বললাম আর তখনই তুমি দেখেছিলে। আর পর
তো আর আমাকে কিছু বলার সুযোগই দিলে না।
কথাগুলো বলেই ইরিনা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
আমি কি বলল কিছুই বুঝতে পারলাম না।নিজেকে খুব
নিচু মনে হচ্ছিল। কিন্তু না আজ আমাকে ক্ষমা
চেতেই হবে। মাথা তুলে ওর দিকে তাকালাম। ও
আমার দিকে তাকালো! আমি উঠে দাড়ালাম! ওর
সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম,
- অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। মাফ করা যায়
না?
ও দাড়ালো! হঠাতই আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না
শুরু করে দিলো! কাদঁতে কাদঁতেই বলল, "কেন
সেদিন আমার কথা গুলো শুনলে না?জানো কত
কষ্ট দিয়েছো?" আমি ওর চোখ মুছতে মুছতে
বললাম আর কখনো কষ্ট দিবো না!
.
তারপর ওর বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিলাম। বাসায় যাওয়ার
আগে ও বলল,
- জানো আজকে বছরের সবচেয়ে বড় রাত?
আজকে সারা রাত কথা বলবো..
- আচ্ছা...
- আচ্ছা আমি যাই তাহলে...বাসায় যেয়ে কল দিবা
কিন্তু..
- হ্যা দিবো! এখন যাও বাইরে শীত...
.
বাসায় আসতে আসতে মনে মনে বললাম,
"তোমাকে ছাড়া এই চার মাসের প্রতিটি রাতই ছিল
বছরের সবচেয়ে বড় রাত!"
- Diego Alves Rifat
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now