বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পাগলীর পাগলামী
লেখকrosonjit Chandra Dash(ছদ্মাবেশী মন)
.
~এই মিস্টার একটু থামুন ?(বিণা)
~পারবোনা।
~প্লিজ,
~তোমার সমস্যা কি?
~আমার তো অনেক সমস্যা?
~যেমন,
~আমি যে তোমার মতো তাড়াতাড়ি হাঁটতে পারি না ?
~তোমাকে আমার সাথে হাঁটতেই বা কে বলেছে ?
~তোমার সাথে কথা বলবো বলে।
~এটা কথা বলার সময়?
~হুম,
~আমি এখন তোমার সাথে দাড়িয়ে কথা বলতে পারবোনা।
~প্লিজ একবার,
~না।
~শুধু একটা কথা বলে চলে যাবো,
~শুধু একটা কথা বলবো কিন্তু,
~আচ্ছা, তোমার কি জিএফ আছে?
~এই কথা বলার জন্য এত দৌড়াদৌড়ি ?
~হুম।আগে বলো আছে কিনা?
~হুম।
~আজকেই তার সাথে ব্রেকাপ করবে?
~মামার বাড়ির আবদার নাকি?
~তুমি করবে না তাহলে?
~না,
~ওকে, তাহলে আজ থেকে রাস্তায় থাকার প্রাকটিস করো।
~মানে?
~মানে কিছুই না, যখন বাসায় থেকে বের করে দিবো তখনি বুঝতে পারবে,
~এই রকম করোনা প্লিজ?
~তাহলে ব্রেকাপ করবে?
~হুম।
~আর আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি।
~আ..............।
~আর তোমার উওর জানার প্রয়োজন মনে করছিনা। আর তাড়াতাড়ি কাজ করে আসবে কিন্তু,
~কেন?
~বেরাতে যাবো তাই,
~পারবোনা,
~তোমার বাবা শুদ্দ পারবে,
~ওকে,আমার বাবা কে নিয়ে যাও?
.
আমি তপু আর যে পাগলির সাথে এতক্ষণ বকবক করলাম সে হচ্ছে বিণা।পাগলী টাইপের রোমান্টিক একটা মেয়ে আর আমি তাদের বাসার ভাড়াটিয়।অনেক কষ্ট করে এই বাসা পেয়েছি তাই বিণা খুব ভালো করে জানে বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্য বাসায় আমি কখন যাবোনা তাই কথায় কথায় বাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেই।বিণাকে কিছু বলতেও পারিনা কারণ কাকা বাবু(বিণা বাবা) কিছু বলতে মানা করে দিয়েছে।বলতে না বলতেই পাগলিটার ফোন দশ মিনিটের মধ্যে যদি আমি তার কাছে না যাই তাবে আমাকে বাসা থেকে বের করে দিবে♩
.
~তুমি কি কোন দিন মানুষ হবেনা?(বিণা)
~আমাকে কি মানুষ মনে হয় না(তপু)
~না।
~তা কি মনে হয়?
~ছাগল,
~এই আমি ছাগল! তাহলে তুমিও একটা ছাগী।
~আমার কোন আপত্তি নেই?
~মানে?
~ছাগলের ছাগী হতে,
~তোমাকে না,
~কি করবে,মারবে আমাকে?
~দরকার হলে তাই করবো।
~ছোট একটা বাচ্চা মেয়েকে মারতে তোমার লজ্জা করবেনা?
~না,
~তুমি অনেক পঁচা,
~কোন সমস্যা আছে?
~হাঁ।
~কি সমস্যা?
~পঁচা বিএফ আমার একদম পছন্দ না?
~এই তোমার বিএফ হতে আমার বয়েই গেছে!
~কি বললে তুমি,আমার বিএফ হবে না?
~না,
~তাহলে কিন্তু,,,,
~বাসায় থেকে বের করে দিবে তো?
~না,
~কেন?
~আমার ইচ্ছা,
~ও।
~আর ভালো করে শুনো কাল থেকে আর চাকরি করতে যাবে না?
~কেন?
~কাল থেকে তুমি শুধু আমার চাকরি করবে।আর টাকা কথা নিয়ে একদম ভাববে না,প্রতি মাসে দিয়ে দিবো।
~এখন কিন্তু বারাবারি হয়ে যাচ্ছে,
~বারাবারি কি দেখছো।এখন তো শুরু করলাম,
~প্লিজ থামো এই বার
~থামতে পারি যদি বলো নীল শাড়িটা পড়ে আমাকে কেমন লাগেছে?
~হা হা।
~তুমি হাঁসলে কেন?
~তোমাকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া উচিৎ।
~কিসের অ্যাওয়ার্ড?
~এত সুন্দর শাড়ি পরার জন্য।
~তুমি আমার সাথে মজা করছো
~হুম,এই না,
~কি বললে তুমি,আমার সাথে মজা করছো,না হয় আমি শাড়ি পরতে পারিনা তাই বলে এই ভাবে বলবে?
~ওকে সরি।
~তুমি সরি বলবে আর আমি ক্ষমা করে দিবো তা হবে না।
~তা আমাকে কি করতে হবে ম্যাডাম,
~বেশি কিছু না শুধু আমার শাড়িটা ঠিক করে পরিয়ে দিবে,
~আমি শাড়ি পরাতে জানি না?
~আমি এইসব কিছুই বুঝি না তুমি অামাকে শাড়ি পরিয়ে দিবে এটাই শেষ কথা।
~সত্যিই পারি না,
~তুমি পরিয়ে দিবে না,
~না।
~তাহলে ব্যাগ গোছাতে শুরু করো তাহলে,
~এই রকম করো না,
~তাহলে শাড়ি পরিয়ে দেও।
.
.অনেক কষ্ট করে বিণাকে শাড়িটা পরিয়ে দিলাম ভাগ্যিস ইউটিউব মামা ছিলো না হলে অ্যাওয়ার্ডটা মনে হয় আমাকেই দিতো।মেয়ে যেমন তাদের শাড়িটাও তেমন.
.
~ বললে যে তুমি শাড়ি পরাতে পারোনা(বিণা)
~পারিনা তো(তপু)
~তাহলে এত সুন্দর করে শাড়ি পরিয়ে দিলে কেমনে?(বিণা)
~কীভাবে হলো বুঝতে পারিনি?
~যায় হোক শাড়ি পরানো অনেক সুন্দর হয়েছে।
~তাই!
~হুম,এই ভাবে সারা জীবন আমাকে শাড়ি পরিয়ে দিবে?
~পারবোনা,
~কেন পারবেনা?
~এতে তোমার স্বামীর রাগ করবে না,
~না।
~কেন?
~এই তুমি এত বোকা,আমার স্বামী আমাকে শাড়ি পরিয়ে দিবে এত রাগ করার কি আছে?
~মানে?
~মানে কিছুই না,আমার স্বামী তো তুমিই হবে
~বলছে?
~বাবা কিন্তু রাজী,
~কি?
~বিয়েতে,
~অনেক হয়েছে এইবার না গেলে কিন্তু দেরী হয়ে যাবে।
~ওকে চলো আর আমার স্বামী কিন্তু তুমিই হবে,
~পরে দেখা যাবে,এই বার চলো তো।
.
যাক শেষে থামাতে পারলাম না হলে ট্রেন কোথায় যে থামতো ভগবানি জানে।
.
হঠাৎ ছোট বোনের ফোন পেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসতে হলো মার খুব শরীর খারাপ দেখে।বিণাকে বলেও আসা হয়নি ভেবেছিলাম বাড়িতে গিয়ে বলবো কিন্তু মোবাইল একটু চার্জ ছিলো না,চার্জ দিবো কারেন্টও ছিলোনা মনে হয় কপাল খারাপ হলে এমনি হয়। তাই বেশি দিন থাকতে চাইলেও আর থাকা হলো না,
.বাসায় গিয়ে বিণাকে অনেক খুঁজলাম কিন্তু কোথায় নেই হয়তো বাইরে গেছে অার এই দিকে যাওয়া আসিতে অনেক ক্লান্ত হয়ে পরেছি,তাই ভাবলাম একটু ঘুমিয়ে নিয়ে পরে দেখা করবো।কিছুক্ষণ ঘুমনোর পর
.
~এই কি হলো ওঠো বলছি (বিণা)
~একটু ঘুমাই,(তপু)
~না।
~ওঠবে না তুমি?
~না,
.
হঠাৎ যেন গায়ের উপর বৃষ্টি পরতে লাগলো পরে দেখলাম বালতি হাতে নিয়ে বিণা দাড়িয়ে আছে বুঝতে বাঁকি রইলো না কি ঘটেছিলো কিছুক্ষণ আগে।
.
~এটা তুমি কি করলে?(তপু)
~দেখতেই তো পারছো।(বিণা)
~তাই বলে জল ঠেলে দিবে,
~হাঁ, তুমি কিছু করবে আমাকে?
~তোমাকে না,
~কি?
~কিছু না।
~তোমার ফোন বন্ধ ছিলো কেন?
~চার্জ ছিলোনা,
~চার্জ দিতে পারোনি?
~কারেন্ট ছিলোনা,
~ভালোই অজুহাত দিতে শিখেছ দেখছি,
~সত্যি কারেন্ট ছিলোনা,
~না হয় কারেন্ট ছিলোনা ,অন্য কারো ফোন থেকে ফোন দিতে পারতে?
~সেটা কীভাবে দিবো?
~কীভাবে দিবে মানে?
~তোমার নম্বার মুখস্থ ছিলোনা,
~কি বললে আমার নম্বার মুখস্থ ছিলোনা, তোমাকে ভালোবাসাটাই ভুল হয়ে গেছে আমার
~তাহলে এখন কি করবে?
~ভুলে যাবো।
~আমাকে ভুলে যতে পারবে,
~হুম।
~কিন্তু আমি যে পারবোনা,
~কেন?
~ভালোবাসি
~কাকে?
~জানি না।
~কিন্তু আমি জানি,
~কি জানো?
~এই তুমি আমাকে ভালোবাসো।
~তোমাকে ভালোবাসবো কেন? আমার জিএফ আছে না,
~তোমার জিএফ থাকলে তো ভালোবাসবে।
~জানো তুমি,
~হুম।
~কীভাবে?
~তোমার বন্ধুদের থেকে,
~তলে তলে এত দূর,
~হাঁ,তোমাকে ভালোবাসি আর তোমার সম্পর্কে না জানলে চলবে?
~তাই,
~হুম।
~এত ভালোবাসো আমাকে?
~এত ভালোবাসি মানে,তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি।
~কিন্তু আমি যে ভালোবাসি না তোমাকে....
~কি বলে তুমি আমাকে ভালোবাসো না
~ভালোবাসি।
~তা বললে যে,
~বলছি তোমার মতো ভীষণ ভালোবাসি না।
~কেন? আমি কি দেখতে খারাপ বলে?
~তা না,
~তাহলে,
~ভীষণ ভালোবাসতে পারিনা যে,
~ওকে,তোমাকে ভীষণ ভালোবাসতে হবেনা,না হয় একটুই ভালোবাসো,
~একটু ভালোবাসা নিয়ে কি করবে?
~রান্না করে খাবো তাতে তোমার সমস্যা আছে
~হুম।
~ কি সমস্যা শুনি?
~রান্না করতে গিয়ে যদি তোমার কিছু হয়ে যায়।
~এই মিস্টার আমাকে নিয়ে এত ভাবো,
~হুম।
~কেন?
~ভালোবাসি যে,
~ভীষণ ভালোবাসতো না আর।
~আর পাগলী তোমাকে ভীষণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।
~সত্যি তো।
~হুম।
~বিশ্বাস করি না,
~কি করলে বিশ্বাস করবে?
~বেশি কিছুনা ছাদ থেকে লাফ দিতে পারবে?
~এটা কথা হলো,চলো,
~আমি কোথায় যাবো?
~লাফ দিতে হবেনা,
~আমি না তুমি লাফ দিবে।
~শখ কত আমি ছাদ থেকে লাফ দেই আর তুমি দাড়ি দেখবে তা হবেনা?লাফ দিলে দুইজনে এক সাথে দিবো,
~থাক তোমার লাফ দিতে হবেনা,
~তাহলে তোমাকে কীভাবে বিশ্বাস করাবো?
~বিশ্বাস করেছি।
~সত্যি,
~হুম।
~তাহলে জড়িয়ে ধরি তোমাকে,
~সব কিছু বলে দিতে হবে,
~ওকে।
~এই তুমি কি করলে এটা,
~কি করলাম আমি?
~কিস করলে কেন?
~তুমি তো বলে সবকিছু বলে দিতে হয় তাই ভাবলাম কিস দিলে কেমন হয়?
~তাই বলে কিস দিবে,
~কি ভালো লাগেনি আর একটা দিবো?
~এই না কিন্তু ফাজিল,,
এই ভাবে একটু একটু করে চলতে থাকে ভালোবাসার রেলগাড়ি আর বাড়তে থাকে পাগলির পাগলামী।
লেখকrosonjit Chandra Dash(ছদ্মাবেশী মন)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now