বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাগলির আত্মনার্থ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলো সুমনার । সে মুখ থেকে চাদরটা না সরিয়েই আশেপাশের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলো। সূর্যের আলো তো এখনও ফুটেনি। তাহলে এতো বিকট শব্দ হলো কেন? সে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে। হালকা কুয়াশা পড়ছে। চাদর অনেকটাই ভিজে গেছে। তার ঠান্ডা লাগছে। সে চাদরটা সরায়। স্টেশনের ল্যাম্পপোষ্টের অতি উজ্জ্বল আলো তার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। সে তাকানোর সাথে সাথেই চোখটা বন্ধ করে ফেলে। . আবার চোখ খুলে তাকায়। আলোটা এখন কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। সে চাদরের নিচ থেকে না উঠেই আশেপাশে তাকায়। তার কেন জানি উঠতে ইচ্ছে করছে না। কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে কারই বা চাদরের নিচ থেকে উঠতে ইচ্ছে করে? তবুও সে উঠে। . . উঠার আগে সে দেখে নেয় তার পরনে কিছু আছে কিনা। পরনে জামা কাপড় না থাকলে কিছু পুরুষ নামক নর পিশাচ লুপুপ দৃষ্টিতে তার বক্ষ গুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। . হ্যাঁ সে দেখতে পায় তার পরনে একটা পুরাতন পায়জামা আর আর ময়লা একটা সোয়েটার আছে। এই সোয়েটারটা ময়লা ছিলো না। কিছুদিন আগে তাকে কয়েকটা লোক এসে চাদর আর এই সোয়েটারটা দিয়ে যায়। . অনেক দিন হলো পড়ে আছে তাই ময়লা হয়ে গেছে। সে প্রথম যখন এই স্টেশনে এসেছিলো তখন শীত ছিলো না। তার স্পষ্ট মনে আছে তার সৎ মা এসে তাকে এখানে ছেড়ে দিয়ে যায়। যাবেই বা না কেন? সৎ মা বলে কথা। সে কি আর শুধু শুধু একটা পাগলী ঘরে বসিয়ে খাওয়াবে? আগে যখন ভালো ছিলো তখন তো ঘরের সব কাজ করতো। পড়াশোনাও করতো। সে ক্লাস ৯ এ উঠেছিলো। তারপর একদিন কাজ না করায় সৎ মা প্রচুর মারলো। সজোরে পেটে একটা লাথি দিলো। সে কি ব্যথা। ব্যথার যন্ত্রণা তার শরীর বহন করতে পারলো না। মাথাটা গিয়ে ঠেকলো ঘরের ওয়ালে। একদিকে পেটের ব্যথা তার উপর মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত। তারপর আর তার কিছু মনে নেই। . . হঠাৎ একদিন তার মা এসে তাকে শম্ভুগন্জ ব্রিজে ছেড়ে দিয়ে গেলো। সে জানতো না এটা শম্ভুগন্জ। কোন এক ব্যানারে লিখা দেখে সে পড়েছে। পরে বুঝতে পারছে এই জায়গার নাম শম্ভুগন্জ। . . সে আস্তে আস্তে হাটতে হাটতে একদিন এই স্টেশনে চলে আসে। অনেক দোকানে খাবার চেয়েছে কেউ দেয় নি। উল্টা পাল্টা কথা বলছে। তার বয়স কম। গায়ের রং ধবধবে সাদা। এর জন্যও তাকে শুনতে হয়েছে "পাগলী তো দারুন সুন্দরী নামক কটুক্তি " সে পাগল তবুও সে বুঝতো কে কি বলছে কে কি করছে। আচ্ছা আমাদের সমাজে কি এমন কোন নিয়ম আছে! যেখানে বলা হয়েছে পাগলীরা কখনোই সুন্দরী হতে পারবে না। অল্প বয়সী হতে পারবে না।? এমন কি কোন আইন আছে? . . যদি থেকেই থাকে তাহলে কেন প্রকৃতি সুন্দরী আর কম বয়সী মেয়েদের পাগলী বানালো? . . সে যখন ভালো ছিলো তখন তার গায়ের রং ছিলো দুধে আলতা। কি সুন্দর চুল ছিলো। বয়সই বা কত ছিলো? ১৫-১৬। এখনও গায়ের রং ধবধবে সাদা। তবে ময়লার কারনে বোঝা যায় না। চুলগুলো আর নেই। ময়লার কারনে জটলা বেধে গেছে। তার মতে স্টেশনের মানুষগুলো খুব ভালো। এখানে প্রতিদিন তাকে ভালো ভালো খাবার দেয়া হয়। . . তার বাবার বয়সী একটা লোক আছে। পরনে একটা সাদা কাপড় থাকে। ডাক্তাররা যেমন উপরে যেমন সাদা কাপড় পরে তেমন। সেই লোকটা তাকে প্রতিদিন সকালে খাবার দিয়ে যায়। সে যখন সুস্থ ছিলো তখন সে দেখেছে ডাক্তাররা জামার উপরে সাদা কাপড় পরে। কিন্তু এখানে ডাক্তার কেন আসবে? স্টেশনে ডাক্তার কি করে? সে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে। তবে মাঝে মাঝে ওই লোকটাকে সে ট্রেনের ভিতরেও দেখে। . . সে মাঝে মাঝে অবাক হয় ট্রেন দেখে। কি সুন্দর করে দুইটা লোহার পাতের উপর দিয়ে ট্রেন চলে যায়। কত হাজার হাজার মানুষ থাকে ভিতরে। এতো জোরে তো রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলে না। রাস্তা কত মসৃণ হয়। কিন্তু এই আকা বাকা লোহার পাতের উপর দিয়ে এতো দ্রুত ট্রেন কিভাবে যায়? . . আবার যারা রুটি কলা বিক্রি করে তারাও মাঝে মাঝে তাকে কিছু নষ্ট রুটি দিয়ে যায়। সে তৃপ্তি সহকারে এইসব খাবার খায়। . . আবার প্রতিদিন বিকেলে তার মতো বয়সী হবে কয়েকটা ছেলে মেয়ে পাটি বিছিয়ে এখানে বাচ্চাদের পড়াশোনা করায়। আবার পরে খাবারও দেয়। তাকেও প্রতিদিন খাবার দেয়া হয়। তাদের পিছনে সুন্দর করে একটা বড় কাগজে লিখা থাকে "১ টাকার আহার " সে বানান করে করে পড়েছে। . . আচ্ছা তারা এই ১ টাকা দিয়ে কি করে? ১ টাকা দিয়ে কি এইসব খাবার কিনতে পাওয়া যায়? তার কাছে তো দোয়েল এর ছবিওয়ালা কয়েকটা টাকা আছে। ওইগুলা দিয়ে তাহলে তাকে খাবার দেয় না কেন? একদিন ওই ছেলে মেয়েদের প্রশ্ন করতে হবে। ১ টাকা দিয়ে তারা কি করে। . . সে তার পেটে হঠাৎ করেই ব্যথা অনুভব করে। একটু না তীব্র ব্যথা। হঠাৎ করে সে খেয়াল করে তার পায়জামার নিচ দিয়ে ভেজা। ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় দে স্পষ্ট দেখতে পায় তার পায়জামা লাল হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। সে আর হাটতে পারছে না। চারপাশ ঝাপসা হয়ে আসছে। . . তার মনে হতে থাকে সেই রাতের ঘটনা সেদিন কয়েকটা ছেলে এসেছিলো। তাকে ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যায় রেল লাইনের উপর পড়ে থাকা প্রাক্তন কিছু রেলের বগীতে।। সেদিন সে বুঝতে পারে নি সেখানে কেন তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। সেই বগীতে তার সাথে এমন কিছু করা হয়েছে যার কারনে সে দুইদিন ব্যথায় সেই বগীর পাটাতন থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। একজনের পর একজন তার নগ্ন শরীরকে ছিড়ে ছিড়ে খেয়েছে। সে পারেনি তাদের ফেরাতে। সেদিনের করা তার চিৎকারের কারন কেউ বুঝেনি। আর বুঝলেও তার ডাকে কেউ সাড়া দেয়নি। কারন সে পাগলী। পাগলীদের আবার কেউ সাহায্য করে!!!! . . সেদিনের পর থেকে সে অনুভব করতে থাকে তার দেহে আর একটি প্রানের অস্তিত্ব। অল্প অল্প করে বেড়ে উঠছে। সে জানেনা এই অস্তিত্বের পরিচয় কি হবে। এই সমাজ হয়তো এই অস্তিত্বকে জারজ বলে চালিয়ে দিবে। . . হঠাৎ করেই পাগলীটা হাটতে হাটতে পরে গেলো প্লাটফর্মের মেঝেতে। তার চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসতে লাগলো। সে কি মারা যাচ্ছে নাকি জ্ঞান হারাচ্ছে। সে বুঝতে পারছে না। না আসলে সে বুঝতে চাচ্ছে না। . . ভোরের সূর্য ফোটে উঠেছে। কুয়াশা ভাব কেটে পূর্ব আকাশ থাকে সূর্যটা আস্তে আস্তে মধ্য আকাশের দিকে এগুচ্ছে। ফ্লাটফর্মে পড়ে থাকা নিথর দেহটা ঘিড়ে লোকজনের ভীড় বাড়তে শুরু করেছে। সবাই দেখছে একটি দেহ। কিন্তু তার ভিতরের দেহটা কেউ দেখতে পায় নি....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পাগলির আত্মনার্থ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now