বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাগলি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অনভুতিহীন লেখক (০ পয়েন্ট)

X গল্প : ♥ পাগলি ♥ . . . )> তুমি কি আমাকে একটুও ভালোবাসো না? )> দুপুরে খাওয়া শেষ করে বিশ্রামের জন্য নিজের রুমে শুয়ে আছি আর কানে হেডফোনটা লাগিয়ে গান শুনছি। এটা আসলে আমার বরাবরের অভ্যাস বললেও চলে। শুয়ে থাকলে গান শুনতেই হবে। চোখের পর্দাটা যেই বন্ধ করতে যাবো ঠিক সেই সময়ই অরনির কথাটা কানের কাছে বজ্রপাতের মত শুনতে পেলাম। মনে হয় খুব জোড়ে কথাটা বলল। কানে হেডফোন থাকার কারনে কথাটার শব্দ আন্দাজ করতে পারিনি। )> কি হল চুপ কেন? কিছু তো একটা বল! এবার একটানে হেডফোনটা কান থেকে ওর হাতে নিয়ে নিলো। )> হেডফোনটা এভাবে কেউ টান দেয়? যদি ছিড়ে যেত? )> এতক্ষণ ভালো ভাবেই বলছিলাম কিন্তু শুনোনি। যাইহোক,আমি একটা প্রশ্ন করছি এটার উত্তরটা দাও! )> আমি আগেও বলছি আর এখনও বলছি আমি তোমাকে ভালোবাসিনা। তারপর কাঁন্না করতে করতে অরনি চলে যায়। আমার উচিৎ হয়নি ওকে এভাবে বলা। আমিও বা কি করবো সবসময় এই এক গ্যানগ্যানানি কার ভালো লাগে? কিছু বলিনা বিধায় যা ইচ্ছা তাই করছে। . যাইহোক, এবারে পরিচয়টা দেয়া যাক। আমি তানিম। পড়াশুনা শেষ করে ছোট একটা কোম্পানিতে কাজ করছি। আমার একটা ছোট বোন আছে। তার মাধ্যমেই অরনির সাথে আমার পরিচয়। অরনি আর আমার বোন খুব ভাল বন্ধু। আসলে আমি যখন চাকরি করি না তখন আমার বোনকে আমি পড়াতাম। আমার বোন রেজাল্ট ভালো করায় অরনি ওকে জিজ্ঞেস করে ও কার কাছে পড়ে। তখনই আমার বোন অরনিকে আমার কথা বলে। তারপর অরনিও আমার কাছে পড়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পরে। আমার কাছে যখন আমার বোন এইকথা বলে তখনই আমি না করে দেই। কারন আমার কাউকে পড়াতে ভালো লাগে না। আমার বোনকে পড়াই কারন সে আমার ছোট বোন। তারপর অরনি হয়তো মা'কে বলছে। আর মা আমাকে বলায় আমি আর না করতে পারিনি। যেদিন প্রথম অরনিকে পড়াতে ওদের বাসায় যাই। সেদিনই একটু হলেও আন্দাজ করতে পারছিলাম এই মেয়ে কি রকম। আমাকে কি না বলে, সে আমাকে আপনি করে বলতে পারবে না! তুমি করে বলবে। আমি যে তার টিচার সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। পরেরদিন আরেকটা জিনিস বুঝতে পারলাম। সে তার বাবা-মায়ের খুব আদুরে মেয়ে। আদুরে অবশ্য সব মেয়েই তার বাবা-মায়ের কাছে থাকে। তবে অরনির ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে হয়তো একটু বেশিই আদুরে। যাইহোক, কিছুদিন পড়ানোর পরই অরনির এক্সাম সামনে চলে আসলো। ইন্টার ফাইনাল এক্সাম দিবে। তাই পড়াশুনার চাপটা একটু বেশি। ওকে একটু বেশি সময় নিয়ে পড়াতে হয়। কিছুদিন ধরে লক্ষ করছি অরনি কেমন যেন বেখেয়ালি থাকে । মানে ওকে যখন পড়াতে যাই তখন কেমন আনমনা আনমনা ভাব থাকে। আমাকে ভিবিন্ন বিষয় প্রশ্ন করে। যেমন, আমি কাউকে ভালোবাসি কি না? আমার কেমন মেয়ে পছন্দ? আমি কি করতে ভালোবাসি? কি ভালোবাসিনা? এইসব ভিবিন্ন প্রশ্ন। আমি বুঝতে পারতাম এটা ওর বয়সের প্রভাব। কারন এ সময় আবেগ দ্বারা পরিচালিত হতে খুব ভাল লাগে। এতে ওর পড়াশুনায় ক্ষতি হতে পারে। তাই আমি ওকে একটু শাসন করতে লাগলাম। অবশেষে যা ভাবছিলাম ঠিক সেটাই হলো। তিনদিন পর অরনির ফাইনাল এক্সাম। তাই আজকে ওকে শেষবারের মত পড়াতে আসছি। আর আসা হবে না। তাই একটু বেশি সময় নিয়ে এসেছি। এসে লক্ষ করলাম অরনির মধ্যে একটা উদাসীন ভাব। তারপর আমি অরনিকে জিজ্ঞেস করলাম এরকম করার কারন কি? সে যা বলল তাতে আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। সে বলছিল... )> আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। (অরনি) )>হুমমম বল, (আমি) )> দেখ আমি দেখতে খারাপ না। আমাকে অনেক ছেলে প্রতিনিয়ত প্রপোজ করে। কিন্তু আমি তাদের কারও প্রপোজাল গ্রহন করিনি। তবে তোমাকে দেখে খুব ভালবাসতে ইচ্ছে করছে। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমি চাই তুমিও আমাকে ভালোবাসো। (অরনি) )> তুমি এসব কি বলছো হ্যাঁ? তুমি ভুলে যাচ্ছো আমি তোমার শিক্ষক। আর হ্যাঁ এখন তোমার বয়স অনেক কম তাই এরকম মনে হচ্ছে। যাইহোক,সামনে তোমার এক্সাম। এই সব খারাপ চিন্তা মাথা থেকে বের করে ফেলো। আর ভালোভাবে পড়াশুনা করো। (আমি) )> আমি এতকিছু বুঝিনা। তুমি আমাকে ভালোবাসো কি না সেটা বলো। আর তোমার উত্তর যদি" না " হয় তাহলে কিন্তু আমি পরিক্ষা দিবো না। (অরনি) )> এ তো আমাকে ব্লাকমেল করছে। যেরকম মেয়ে তাতে পরিক্ষা নাও দিতে পারে।কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। অবশেষে অরনিকে একটা শর্ত জুড়ে দিলাম। শর্তটা হল, সে যদি পরিক্ষায় এ+ পায় তাহলে আমি তাকে ভালোবাসবো। সবাই হয়তো এরকম শর্ত শুনে ভাববেন এটা আবার কেমন শর্ত। আসলে আমার কিছু করার ছিলো না। আমি না বললে তো ও পরিক্ষা দিবে না। তাই ওর লেখাপড়ায় যেন কোনো প্রভাব না পরে সে জন্য এই শর্তটা দিয়েছিলাম। তারপর ওর পরিক্ষা শেষ হলো। রেজাল্টের অপেক্ষায় আছে। আমার সাথে পরিক্ষা শুরু হওয়ার পর আর দেখা হয়নি। হয়তো রেজাল্টের অপেক্ষা করছে। এদিকে আমারও একটা চাকরি হয়ে গেছে। . অবশেষে অরনির রেজাল্ট দিয়েছে। অরনি এ+ পেয়েছে। তারপর অরনি আমার কাছে আসে। কিন্তু আমাকে পায়নি।পরে অনেক দিন আসছে কিন্তু পায়নি। পায়নি বললে ভুল হবে আসলে আমিই ওর সাথে দেখা দেই নি। দেখা হলে কি বলবো এই কারনে দেখা দেইনি। অবশেষে আজকে আর লুকাতে পারলাম না। ঠিক আমাকে এসে ধরে ফেলেছে। আর এসে কিভাবে কথা বললো তা তো প্রথমেই বললাম। তবে ও যখন কাঁন্না করতে করতে চলে গেল তখন খুব খারাপ লাগছিল। আমিও মনে হয় ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। সে জন্যই ওর কাঁন্না দেখে হয়তো আমার খারাপ লাগছে। অনেকদিন ধরে লক্ষ করছি অরনি আমাদের বাসায় আসে না। ও মনে হয় আমার উপর সত্যিই রাগ করছে। কারন অরনি তার কথা রেখেছে সে এ+ পেয়েছে। আমিই আমার কথা রাখিনি। এখানে রাগ করা স্বাভাবিক। যাইহোক, অরনি কিছুদিন না আসায় আমার খুব খারাপ লাগছে। আমিও ওকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। কিন্তু ওর কথা কিভাবে আমার বোনকে জিজ্ঞেস করবো সেটাই বুঝতে পারছি না। আমার বোন আমার আর অরনির সম্পর্কে সব জানে। কয়েকদিন ধরে মনটা খুব ব্যাকুল হয়ে আছে অরনির সাথে দেখা করার জন্য। কিন্তু কোনো উপায় পাচ্ছিনা। তাই একাকী রুমে বসে আছি। কিছুক্ষন পর আমার বোন আমার রুমে আসলো। )> কিছু বলবি? (আমি) )> হ্যাঁ ভাইয়া। আসলে বিষয়টা তোমাকে বলা খুব দরকার। (আমার বোন) )> হ্যাঁ বল! (আমি) )> অরনির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আজকে ওকে দেখতে আসবে। (আমার বোন) কথাটা শুনে এতটাই খারাপ লাগছিল যে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আর কিছু না ভেবে আমি ছুটে চলে যাই অরনিদের বাসায়। গিয়ে দেখি বাসা খুব ঠান্ডা। অরনির মা এসে আমাকে বলল অরনির তার রুমে বসা। আমি কিছুই বুঝতে পারলামনা। কি হতে চলছে কিছু ভাবতে পারছি না। তারপর অরনির রুমে চলে গেলাম। আমাকে দেখেও অরনির কোনো রিয়েকশন হলো না। ও মনে হয় এখনো আমার উপর রেগে আছে। আমি ওর কাছে গিয়ে যেই ওর হাতটা ধরলাম তখন ফ্যালফ্যাল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে কাঁন্না করে দিলো। তারপর আমি অরনিকে জড়িয়ে ধরি। পাগলিটা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁন্না করতে লাগলো। পাগলিটা অনেক কষ্ট পেয়েছে। আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে নিলাম এই পাগলিটাকে আর কখনো কষ্ট দেবো না। অতঃপর জানতে পারলাম অরনির বিয়ে ঠিক হয়নি। এটা সম্পূর্ণ একটা পরিকল্পনা। যাতে আমি অরনির কাছে চলে আসি। যাইহোক, এই পরিকল্পনায় কে কি পেয়েছে তা দরকার নেই। তবে আমার খুব লাভ হয়েছে সেটা মানতেই হবে। কারন এখন অরনিকে ভালোবাসার কথা না বলতে পারলে হয়তো কখনো বলতে পারতাম না। আমার পাগলিটা হয়তো হারিয়ে যেত। এখন সেই ভয় থেকে বাঁচা গেল। কারন আমার পাগলিটা এখনতো আমার কাছে। এতগুলা ভালোবাসি আমার পাগলিটাকে। . . (বিঃ দ্রঃ : ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ----ধন্যবাদ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কিউট পাগলি ৫
→ কিউট পাগলি ৪
→ কিউট পাগলি ৩
→ কিউট পাগলি ২
→ পাগলি
→ একটা পাগল আর একটা পাগলি ২
→ পাগল আর পাগলি
→ পাগলি পাগলি লাগছে
→ প্রাপ্তি আমার পাগলি
→ সেই পাগলি মেয়ে
→ পাগল ছেলে Vs পাগলি মেয়েটা
→ আমার অবুঝ পাগলিটা
→ গল্প : #ব্রেকআপ_পাগলি !!!
→ গল্প : #পাগলিটাকে ছেঁড়ে যাবো না !!!
→ গল্প : #পিচ্চি_পাগলি_মেয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now