বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিঃশব্দে কাদা ছাড়া কিছুই যেন করার নেই
আমার।
এদিকে নাহিদ পাগল এর মত চেষ্টা করছে
আমার সাথে যোগাযোগ করার। কোন
উপায় না পেয়ে সিমিকে আমার বাসায়
পাঠালো খোজ নেবার জন্য। মানুষটা
আমাকে অন্ধের মত ভালবাসে। এত বড়
অন্যায় কি করে করবো আমি। কি করে
কাদাবো এই মানুষটাকে। ঠিক করলাম পালিয়ে
যাব। সবাইকে ফাকি দিয়ে অনেক কষ্ট
করে বাসা থেকে বেরও হলাম। কিন্তু
আপুর চলে যাওয়ার পর আব্বু আম্মুর কষ্ট
লজ্জা সব কিছুর ছবিটা চোখের সামনে
আবারও ভেসে উঠলো। পারলাম না। একটা
ফোন ফ্যাক্স এর দোকান থেকে
কাদতে কাদতে নাহিদ কে সরি বলে
অর্ধেক রাস্তা থেকেই আবার বাসাই ফিরে
আসলাম। এসে দেখি প্রত্যাশা অনুরূপ বাসার
সবাই চুপচাপ বসে আছে। যে আব্বু
আমকে কোন দিন ধমক দিয়ে কথা বলিনি
সে আব্বু আমার গায়ে হাত তুললো। সারা
রাত কাদলাম। কান্নাই যেন একমাত্র সঙ্গী
এখন। না পারছি আব্বু আম্মুকে কষ্ট দিতে
না পারছি নাহিদকে কাদাতে।
পরদিন সকালে রাজ্জাক আঙ্কেল এর একটা
ফোন আমার জীবনটাতে একই সাথে
মুক্তি আর পঙ্গুত্ব দান করলো। ডাক্তার এর
মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী আমি
কোনদিন মা হতে পারবো না। বিয়েটা
ভেঙ্গে গেল। কাঁদবো না মুক্তির নিঃশ্বাস
ফেলব বুজতে পারলাম না। শুধু স্থব্দ হয়ে
থাকলাম।
নাহিদ এর সামনে দাঁড়ানোর মত মুখ আমার
নেই। সিমির মাধ্যমে ও সব কিছু জানলো।
আর সব জেনে শুনেই ওর আব্বুকে
দিয়ে আবারও বিয়ের প্রস্তাব পাঠাল আমার
বাসাই। প্রথম বার ফিরিয়ে দিলেও এবার আর
পারল না। কারণটা সহজ। আব্বু আম্মু স্বাভাবিক
ভাবেই কিছুটা লজ্জিত হয়ে নাহিদ এর এক
আকাশ সমান ভালবাসার কাছে হার মানল। পাওয়া
না পাওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে
কষ্টের আর সুখের দিন এটা।
পরদিন নাহিদ এর অনুরোধেই আব্বু আম্মুর
অনুমতি নিয়ে ওর সাথে দেখা করতে
গেলাম । কথা বলার শক্তিটা যেন হারিয়ে
ফেলছি। কাপতে কাপতে ওর সামনে গিয়ে
দাঁড়ালাম।
ও কাছে এসে আমার হাত ধরে বলল- আমি
শুধু তোমাকে চাই হেনা আমার আর কিচ্ছু
দরকার নেই বিশ্বাস করো আমার শুধু
তোমাকে হলেই চলবে। বল আমকে
আর কখনো ছেড়ে যাবা নাতো ?
উত্তরে কিছুই বলতে পারলাম না। বুক
ফেটে কান্না এলো। ওর এই সীমাহীন
ভালবাসার কাছে আমি খুবি নগণ্য। কোথাই
রাখবো ওর এতোটা ভালবাসা। কি দিয়ে
শোধ করবো আমি। সুখের কান্নাটা আর
থামাতে পারলাম না। চোখের সামনে থাকা
স্বর্গটার দিকে তাকিয়ে অঝোরে
কাদলাম। ও হাত দিয়ে চোখের জ্বল টুকু
মুছে দিল।
ওকে হয়তো বাবা হবার সুখটা কোন দিনও
আমি দিতে পারবো না। তবে আমার শেষ
নিঃশ্বাসটা পর্যন্ত এক বিন্দু কষ্ট পেতে
দিবো না ওকে। তাতে আমার মরন হলেও
হাসতে হাসতে মেনে নেবো সেই
মরণটাকে।
আমি ভালবাসি নাহিদ। অনেক বেশি ভালবাসি
তোমাকে।
বাজে লেখাগুলো পরার জন্য ধন্যবাদ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now