বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"বিয়ে আমি ওকেই করবো। আমাদের ৫বছরের সম্পর্ক আমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারব না..!
নিজের বাপের মুখের উপর এত বড় সত্য বলা মোটেও সহজ নয়। বরং এটা তৃতীয় বিশ্ব
যুদ্ধের চেয়ে কম কী..!
বুকের ভেতর সাহস যুগিয়ে নিজের জন্মদাতা পিতার মুখের উপর এত বড় সত্য কথা বলে চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি..!!
মনের ভেতর ভয়ের প্রবনতা বেড়েই চলেছে,মনে হচ্ছে শরীরের ভেতর কম্পন শুরু হয়েছে। সাহস করে তো কথাটা বলে দিয়েছে কিন্ত আসেপাশে কোনো প্রকার সাউন্ড না পেয়ে ।কাঁপা কাঁপা চোখ মুখ নিমে মাথা তুলে বাবার দিকে তাকাতে ৫সেকেন্ডের মতো বাবা গম্ভীর মুখে চেয়ে থেকে জোরে জোরে শব্দ করে হেসে দিল
ড
.
বাবার এরূপ কান্ড দেখে মেয়েটি অবাক,সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।বাবার হাসির সাথে পরিবারের বাকিরাও হেসে দিল।পুরো ড্রয়িং রুম হাসির শব্দে ভরে গেলে,সকলের কলাহল,, মেয়েটি অবাক হয়ে সবাইকে দেখছে। সে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে তাকালো দেখলো সেও ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে..!
সকলের হাসির শব্দ যেন অসস্থির।সবাইকে চুপ করিয়ে দিয়ে বাবা বলে.."তুমি সত্যি বলছো ওর সাথে তোমার
৫বছরের সম্পর্ক।
মেয়েটি থতমত খেয়ে গেল আমতা আমতা করে বলল.."হ.. হ্যাঁ
বাবা মুখে মুচকি হাঁসির রেখা ঝুলিয়ে বলে.."আচ্ছা
তৎক্ষণাৎ মেয়েটির বাবা ওই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন..."তুমি কিছু মনে করো না বাবা ও একটু ছেলে মানুষ ,এত বড় হয়েও ছেলেমানুষী যায়নি..!
মেয়েটির ভ্রু কুঁচকে গেল। ছেলেটা বাবার সামনে এসে মুচকি হেসে বলল.."না ঠিক আছে, তাহলে আজ আমি আসি অন্য একদিন আসবো
মেয়েটি ভড়কে গেল,বাবা ছেলেটির হাত ধরে বলে.."আজ প্রথম এলে আর না বসেই চলে যাচ্ছো না না তা কি করে হয়।
ছেলেটা সোজন্য পূর্ণ হাসি দিয়ে বলল.."না আঙ্কেল একটু কাজ আছে আর তাছাড়া কাল তো আসছিই সবই তখন না হয় হবে
মেয়েটি অবাকের চরম পর্যায়ে,,মেয়েটা একটা ঢোক গিলে মনে মনে বলে.."কথা শুনে মনে হচ্ছে ও বাবার চেনা তারমানে আমি ধরা পরে গেছি ওহ নো.."
ছেলেটা সবার সাথে কথা বলে বিদায় নেয়..!
মেয়েটি চোরের মতো সিড়ি বেয়ে উঠতে যাবে তার আগেই ওর বাবা হুংকার দিয়ে বলল.."দাঁড়াও...!
মেয়েটি কেঁপে উঠলো,পা অটোমেটিক থেমে গেল,,পেছন ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখে। বাবার মুখে গম্ভীরতা বিরাজমান।বাবা পাশে থাকা সোফায় বসে গম্ভীরভাবে বলে.."আমার সামনে এসে বসো
বাড়ির সবাই যে যার কাজে চলে যায়..মেয়েটি গুটিগুটি পায়ে এসে ওনার সামনে এসে বসে..!বাবা কিছুক্ষণ চুপ থেকে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে.."কী চাও তূ্মি
মেয়েটি থতমত খেয়ে গেল,ভয়ে বার বার হাত মুচরাচ্ছে ,,পরে মনে সাহস যুগিয়ে বলে.."আমি এখন বিয়ে করবো না
কোনোমতে এটুকু বলে মাথা নিচু করে বসে আছে..!
বাবা বলে.."আচ্ছা তুমি যা চাও তাই হবে..!
মেয়েটির চোখ খুশিতে চিকচিক করে উঠে..!
সে খুশিতে দাঁড়িয়ে পড়ে হাসিমুখে বলে.."থ্যাংক ইউ বাবা থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ ,থ্যাংক ইউ সো মাচ
বলে খুশিতে নাচতে নাচতে নিজের ঘরে দৌড়ে চলে যায়
ঘরে গিয়ে গান ছেড়ে নাচ..!
নাচের মাঝে হঠাৎ গান অফ হতেই থেমে গিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখে..!ওর কাজিন সামিরা দাড়িয়ে আছে,,ও সামিরা কে দেখে দপ করে বিছানায় বসে পড়লো
তারপর খুশিতে হাসতে হাসতে বলল.."দেখলি তো ঠিকই কায়দা করে বিয়েটা আটকে দিলাম।
সামিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে বিছানায় এসে গা এলিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়ে। পরে ওর দিকে তাকিয়ে বলে.."তুই যে একটা গাধী সেটা আমি জানতাম কিন্তু তুই যে এত বড় একটা মেন্টাল সেটা জানতাম না নিলা।
[বিদ্রঃ মেয়েটির নাম নিলা]
সামিরার কথা শুনে নিলা রেগে গেল। রাগী চোখে
সামিরার দিকে তাকিয়ে বলল "আমি গাধী তুই গাধী
নিজের মাথায় কিছু আছে? তুই আমাকে দেখ আমি কি সুন্দর বুদ্ধি খাটিয়ে বিয়েটা আটকে দিলাম আর তুই
তুই কিনা আমাকে গাধী বলছিস, আমাকে মেন্টাল বলছিস।
সামিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখ বন্ধ করে বলে.."তোকে কে বললো যে বিয়ে আটকে গেছে।
নিলা সামিরার কথা শুনে কিছুটা ভাব নিয়ে বলে.."বাবা আমাকে বলেছে আমি যা চাইবো ।
তাই হবে আমি যখন বিয়ে করতে চাই না তার মানে নিশ্চয়ই বিয়েটা হবে না । বাবা বলেছে বলে কথা
আমার বাবা তো কখনো কথা খেলাপ করে না।
সেটা তো তুই জানিসই সো বিয়ে আটকে গেল।
সামিরা চোখ খুলে ওর দিকে চেয়ে বলল.."তোকে বলেছে তুই যা চাবি তাই হবে , তুই কাকুকে বলেছিস তুই এখন বিয়ে করতে চাস না তাইতো..!
নিলা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়াই, সামিরা আবার বলে.."কাকু বলেছে তুমি যা চাও তাই হবে ।
সে তো এটা বলেনি, যে তোকে বিয়ে দেবে না
হয়তো বিয়ে পড়ে দেবে। কিন্তু আগে এনগেজমেন্ট করিয়ে রাখবে যাতে তুমি ডানা মেলে উড়ে যেতে না পারো।
সে যেন আকাশ থেকে পড়লো সামিরার মুখে এই কথা শুনে সত্যি তো এগুলো কিছু তো ভাবেনি। সামিরা ওকে এরকম ভাবনাই পড়তে দেখে বলে।
"আর হ্যাঁ তোকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করা হলো না তুই বয়ফ্রেন্ড কোথায় পেলি..? আবার পাঁচ বছরের সম্পর্ক তোর তো একদিনের সম্পর্ক নেই তাহলে তো আমি জানতাম কেসটা কি বলতো সত্যি করে বলবে কিন্তু..?
নিলা একটা বাঁকা হাসি হেসে বলল.."তাহলে শুরু থেকে কি হয়েছে তোকে বলি..!
আজকে সকালে আমি যখন কলেজের জন্য রেডি হচ্ছিলাম
রেডি হয়ে নিচে ডাইনিং টেবিলে নাস্তা করতে বসে শুনতে পেলাম যে আজ আজ সায়ন আঙ্কেলের ছেলে দেশে ফিরেছে আর আমাদের বাসায় আসছেন আর কালকে উনারা পুরো পরিবার আমাদের বাসায় আসবে আমাকে দেখতে। তুই তো জানিসই আমি এখন বিয়ে করতে চাই না আমি আমার লাইফটা নিয়ে অনেক সিরিয়াস আমি এখন বিয়ে করে আমার লাইফটাকে একদমই শেষ করতে চাই না।
তাই তাড়াতাড়ি করে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম
ফ্ল্যাশব্যাক..
রেডি হয়ে কলেজের যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায় আজকে একটা রিক্সায় নেই, এর মধ্যে ঝুম করে বৃষ্টি শুরু, বৃষ্টির মধ্যে ছাতা নিয়ে হেঁটে হেঁটে কলেজের দিকে যাচ্ছিল মেয়েটি, রাস্তা খালি থাকাই রাস্তার মাঝে দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিল, হঠাৎ কোথা থেকে একটা গাড়ি এসে রাস্তার সাইডে জমে থাকা কাদা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিল ।
নিলা তো রেগে আগুন ইচ্ছে মত বকা দিতে থাকলো। গাড়িটা তখনই থেমে গিয়েছিল কিন্তু গাড়ি থেকে কেউ বের হচ্ছিল না। নিলা রেগে গাড়ির সামনে এগিয়ে গেল। ও এগিয়ে যেতে গাড়ি থেকে নামলো এক সুদর্শন ছেলে। চেহারায় কেমন বিদেশী বিদেশী ভাব,,
পরনে ব্ল্যাক প্যান্ট আর ব্ল্যাক শার্ট। সাথের হাতাগুলো ফোল্ড করা, মাথায় চুলগুলো কান ছুই ছুই। চোখে
সানগ্লাস,হাতে একটা ছাতা নিয়ে বের হলো।
ছেলেটি কিছু বলবে তার আগেই নিলা তাকে ইচ্ছেমতো কথা শুনিয়ে দেয়,
"দামি গাড়ি আছে বলে এভাবে আশেপাশের মানুষদের পিঁপড়া মনে হয় যেভাবে ভিজিয়ে দিয়ে যাবেন, কি অবস্থা করেছেন
ছেলেটি চোখ থেকে চশমা সরিয়ে কিছুটা ভাব নিয়ে বলে"রাস্তার মাঝখানে নিয়ম কানুন ভেঙ্গে যদি চলাফেরা করে তাহলে তো তার এই অবস্থায় হবে, আর তাছাড়া পায়ে হাটার জন্য যথেষ্ট পরিমাণের ফুটপাতের রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিলা রেগে টেগে একাকার।ও কিছু বলবে তার আগেই আরেকজন থেলে গাড়ী থেকে হুংকার দিয়ে বলল.."আরে কিছু টাকা ধরিয়ে তাড়াতাড়ি বিদায় কর।
নিলা রেগে আগুন,সামনে থাকা ছেলেটা পকেট ওয়ালেট বের করে, কিছু টাকা সামনে ধরে।
"টাকা ...!টাকা দিয়ে আমি কি করবো আমাকে দেখে কি আপনার ভিকারী মনে হচ্ছে..!
ছেলেটা বলে.."দেখে তো তাই মনে হচ্ছে,, যাইহোক এগুলোর নিন এগুলো রাখুন আর বিদায় হন তাড়াতাড়ি আমাদের অনেক কাজ আছে আপনার সাথে কথা বললে আমরা আমাদের সময় নষ্ট করতে চাই না..!
নিলা হাতে টাকা ধরিয়ে দিয়ে ছেলেটা গাড়িতে উঠে পড়ে। গাড়ী স্টাট দেয় ।
সাথে সাথে মেয়েটি গাড়ির দিকে একটা ইট ছুড়ে মারে সামনের গ্লাস ভেঙ্গে যায়। যেহেতু গাড়ি স্টাট দিয়েছিল ব্যালেন্স করতে না পেরে গাড়ি গিয়ে একটা গাছের সাথে হালকা ধাক্কা লাগে।
ছেলেটি পুনরায় গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে মেয়েটির সামনে এসে রাগান্বিত হয়ে হংকার দিয়ে বলে.."এটা কী করলেন..? Are you crazy..!
নিলা রেগে গিয়ে বলল.."তো কি করব আপনারা এক তো দোষ করেছেন আর এক আমাকে অপমান করছেন তাহলে আপনাদের সাথে কি করবো আপনাদের জন্য এটাই ঠিক আছে।
ছেলেটি ফোন বের করে বলল.."এক্ষুনি আমি পুলিশকে কল দিব। আমার গাড়ি ভাঙ্গার অপরাধে আপনার কি অবস্থা করে দেখুন।
নিলা এবার একটু ভয় পেয়ে যায়। ঠিক করিনি সেটা ও বুঝতে পারছে। একটু ভড়কে গিয়ে বলে.."আপনি আমাকে পুলিশ দেখাচ্ছেন ।দেখি পুলিশ আমার কি করবে..!
তখনই আরেক পুরুষশালী কন্ঠ ভেসে এলো.."What happened..!!ashik
নিলা গাড়ির দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে.."একটা হোয়াইট শার্ট পড়া ছেলে দাঁড়িয়ে আছে , চোখে মুখে ভীষণ রাগ, চেহারায় বেশ বিদেশী বিদেশী ভাব
ছেলেটি সামনে এগিয়ে এলো এসে ভ্রু কুচকে বলল... কি সমস্যা আপনার..!!
নিলা এবার মনে মনে ভয় পেল। তবুও মুখে তেজ রেখে বলল.."সমস্যা সমস্যা তো আপনাদের আপনারা এভাবে মাঝরাস্তায় একটা মেয়ের সাথে রুড বিহেভ করতে পারেন না।
ছেলেটা ভ্রু কুঁচকে একবার নিলাকে দেখে নিল তারপর এটা বাঁকা হাসি দিল দিয়ে বলল.."চলুন আপনাকে আমারা ড্রপ করে দিচ্ছি
ছেলেটির এই কথা শুনে মেয়েটি এবং তার সাথে র ছেলেটা অবাক হয়ে গেল।
নিলা বলল.."তার কোন প্রয়োজন নেই,
ছেলেটি বলল.."ওহ গাড়ির যে অবস্থা ড্রপ কীভাবে করবো
নিলা মনে মনে বলল.."না এখান থেকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে বেশি ঝামেলা হয়ে যাচ্ছে। না আর আজকে মনে হয় কলেজে যেতে পারব না ।আমাকে বাড়িতে যেতে হবে তাড়াতাড়ি এখান থেকে যেতে হবে।
নিলা দ্রুত কন্ঠে বলল.."এবারের মতো আপনাদের ছেড়ে দিলাম,আমি চলে যাচ্ছি
[প্রথমে যে ছেলেটি এসেছিল ওর নাম আশিক]
আশিক এবার চোখে মুখে রাগ দেখিয়ে বলল.."চলে যাচ্ছি মানে কি আমার গাড়ি, আমার গাড়ির ক্ষতিপূরণ কে দেবে আমার এত দামী একটা গাড়ির ক্ষতি করে আপনি বলছেন চলে যাচ্ছি দোস্ত তুই কিছু বল..!
আশিকের বন্ধু বলে.."দেখুন আপনাকে যেতে দিতে পারি তবে একটা শর্ত আছে..!
আশিক অনেক রেগে গিয়ে তার বন্ধুকে বলে.."আগে আমার গাড়ির ক্ষতি পূরণ দিবে তারপর এখান থেকে যাবে
নিলা বলে.."আমি কোন ক্ষতিপূরণ দিতে পারবো না আমি কোন দোষ করিনি আর কি শর্ত..?
আশিকের বন্ধু বলে.."আমাদের জন্য অন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে হবে..!
আশিক এবার প্রচন্ড রেগে গেল আর তার বন্ধুর উদ্দেশ্যে বলল.."তুই কি পাগল হয়ে যাচ্ছিস এ সামান্য কারণে তুই ছেড়ে দিবি। আরে গাড়ির ব্যবস্থা তো আমরাই করতে পারব। না না না আমার গাড়ির ক্ষতিপূরণ লাগবে
আশিকের বন্ধু তাকে ফিসফিসিয়ে বলে.."তুই চুপ হয়ে যা
আশিকও ফিসফিসে বলে.."এটা আমার বাপের গাড়ি গাড়ির কিছু হয়ে গেলে বাবা আমাকে...
ওর কথা শেষ না হতে আশিকের বন্ধু বলে.."আচ্ছা তোর গাড়ির ক্ষতিপূরণ আমি দেব।
নিলা বলে.."ঠিক আছে আমি আপনাদের গাড়ির ব্যবস্থা করে দিব।
আশিকের বন্ধু বলে.."ওকে
নিলা একটি সাইডে গিয়ে ব্যাগ থেকে নিজের ফোনটা বের করল, করে মাকে কল দিল।
কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর ওর মা কল রিসিভ করল.."হ্যালো মা আমি রাস্তায় আটকে গেছি বৃষ্টিতে খুব খারাপ একটা অবস্থা হয়ে গেছে..! এখনই গাড়ি পাঠাও বাড়ি থেকে আমি লোকেশন পাঠাচ্ছি তোমাকে।
নিলা কল কেটে দিল। এবং ওদের সামনে এসে বলল.."ওয়েট করেন গাড়ি চলে আসবে কিন্তু একটা প্রবলেম আছে..!
আশিক বলে.."আবার কিসের প্রবলেম আর কোন প্রবলেম টবলেম দেখতে পারব না
আশিককে থামিয়ে দিয়ে ওর বন্ধু বলে.."কি প্রবলেম বলেন
নিলা একটু ভাব নিয়ে বলে.."দেখুন আপনাদের থেকে আমার অবস্থা খুব বেশি খারাপ সো গাড়ি আসলে আগে আমি গাড়িতে করে বাড়ি যাবো..! দেন তারপর গাড়ি এসে আপনাদের ড্রপ করে দেবে..!
আশিকর বন্ধু বলে.."আচ্ছা ঠিক আছে আমরা না হয় একসাথেই উঠে পরে,,আপনি আপনার বাড়ির সামনে নেমে যাবেন।
নিলা রাজি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি চলে আসে, এবং ওরা গাড়িতে উঠে পড়ে,পুরো রাস্তায় কেউ কারো সাথে আর কথা বলেনি..! হঠাৎ করে আশিকের বন্ধু বলে. .."এখানে সাইডে রাখুন
ড্রাইভার গাড়ি সাইড করে রাখে,আশিক নেমে যায় আর বলে.."সন্ধ্যাই তাড়াতাড়ি করে চলে আসিস
আশিকের বন্ধু বলে.."ওকে
ও যেতেই গাড়ি আবার ছুটতে থাকে,এবার এসে একেবারে নিলার বাড়ির গেটের সামনে থামে..!
নিলা নেমে চলে যাবে তার আগেই দেখে ছেলেটিও নেমে ওর সামনে দাঁড়াই, নিলা বিরক্তী নিয়ে বলে.."আপনি নেমেছেন কেনো..!
ছেলেটি হাত দিয়ে চুল ঠিক করতে করতে বলে.."আসলে ভাবছিলাম আপনার সাথে ভেতরে যাব আর কি..!
নিলা অবাক হয়ে বলে.."ভেতরে যাবেন মানে কি .?ভিতরে যাবেন কেন..? তার কোন প্রয়োজন নেই আপনি গাড়িতে যান আমি ড্রাইভার কে বলছি আপনাকে ড্রপ করে দেবে..!
ছেলেটি বলল.."আরে এক গ্লাস পানি খাবো, পানি খেয়ে তো চলে আসব আমি কি থাকতে যাচ্ছি আজব তো। নাকি আপনার বাড়িতে পানি নাই।
নিলা বলে.."দরকার নেই আপনি রাস্তা থেকে পানি কিনে খান বাসায় কেন পানি খেতে হবে আপনাকে..!
ছেলেটি বলে.." পানি খাওয়াবেন নাকি পুলিশকে কল দেব তখন অ্যাক্সিডেন্টে করিয়েছেন..!
নিলা রেগে গেলেও বিরক্ত নিয়ে বলল.."ঠিক আছে চলুন
নিলা আগে আগে এবং ছেলেটি তার পিছনে পিছনে হাঁটতে থাকে। মনে মনে ছেলেটির গুষ্ঠি ধুয়ে দিল।
বাড়ির ভেতরের দরজার খোলাই ছিল । দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে নিলা দেখলো বাড়ির সবাই ড্রয়িং রুমে বসে আছে.. ফুফুরা,এসেছে,সবাই বেশ আড্ডা দিচ্ছে,
নিলা ভেতর প্রবেশ করতেই ওর ফুফুতো বোন এলিসা ছুটে এলো এসে ফিস ফিসিয়ে বলল.."নিলু তোর নাকি বিয়ে আমার তো খুবই এক্সাইটেড লাগছে।
নিলা রেগে আগুন হয়ে বলল.."হোয়াট বিয়ে..?
এলিসা বলল.."হ্যাঁ বলল আজ নাকি ছেলের বাড়ি থেকে কথা বলতে আসবে..!
নিলার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল.. অনুভূতি শূন্য লাগছে,মনে হচ্ছে কেউ পাহাড়ের চূড়ায় থেকে ফেলে দিয়েছে, অবশ্য ও জানতো এমন কিছুই হবে, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হবে ভাবতেও পারেনি।
ভাবতে লাগলো এখন ওর কি হবে। ও তো এখন বিয়ে করতে চাই না, জীবন টা বিয়ে করে সংসার সামলিয়ে শেষ করে দেবে। স্বামী সেবা করে কাটাবে এসব ভাবতে গেলেই রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে,না নাকিছু একটা করতে হবে। বাবা যদি একবার আজ তাদের কথা দিয়ে দেয় ।তাহলে তো বাবা নিজের কথা কোনদিনও খেলাপ করবে না।
ওকে এতো টেনস দেখে এলিসা বলে.."আরে কী হলো...?
নিলা এলিসার কথায় যেন গভীর ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো।
নিলা বলল.."তোকে কে বলেছে..??
এলিসা চোখ ছোট ছোট করে বলে.."সবাই যেন,আর তাছাড়া মামাই তো আমাদের এজন্য আস্তে বলল..!
নিলা বিরক্ত হলো,চরম অশান্তি লাগছে,মাথায় শুধু একটাই চিন্তা ঢুকে গেল ও বিয়ে করবে না..!
কিন্তু কীভাবে আটকাবে ,ভাবতে ভাবতে ড্রয়িং রুমে থাকা টিভিতে সিরিয়াল চলছিল। সিরিয়ালের কিছু কথা কানে এলো নিলার"একজন মেয়ে কান্না করে বলছে আমি একজনকে ভালোবাসি আমি ওকে বিয়ে করব.. আমি ওকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করব না!!
নিলার মাথায় তখনই একটা প্রশ্ন এলো.."আজ যদি আমারও কারো সাথে কোন রিলেশন থাকতো নিশ্চয়ই আমার বাবা-মা কে আটকাতে পারতাম,,. আমিও কিছু একটা বলতে পারতাম কিন্তু আজ আমি কি বলব
সম্পকের কথা বললেও তো না হয় কয়েক বছরের জন্য বিয়েটা পেছানো যাবে। এই কিছুক্ষণের মধ্যে রিলেশন কিভাবে হবে।
এসব ভাবতে ভাবতে কেউ একজন বলল.."excuse me..
নিলা পেছনে তাকিয়ে দেখে ওর সাথে আসা ছেলেটি ডাকছে। বিরক্ত হল তখনই ওর মাথায় এলো.."এই ছেলেটা তো পানি খাবে।
নিলা এলিসা কে উপেক্ষা করে কিচেনে পানি আনতে গেল। এলিসা অপরিচিত এই সুদর্শন পুরুষকে একপলক পা থেকে মাথা অবদি দেখে নিল।
পরনে ব্ল্যাক প্যান্ট,হোয়াইট শার্ট,পায়ে হোয়াইট সু , শার্টের হাতা ফোল্ড করা, জিম করা পুরুষালি শরীরে সাদা শার্টটা ঘেমে কিছুটা ভিজে আছে, শার্টের উপরের দুইটা বোতাম খুলে রাখা,মাথায় চুল গুলো এলোমেলো কান ছুঁই ছুঁই।মুখে হালকা চাপ দাড়ি,সাদা ধবধবে ফর্সা গায়ের রং যেন বিদেশী কোনো পুরুষ,চোখে মুখে কেমন একটা বিদেশী ভাব,চোখের মনিটা একদম বাদামী,দেখে মনে এজন্য এক সিনেমার নায়ক দাঁড়িয়ে আছে,
নিলা পানি নিয়ে এলো এসে ছেলেটির কাছে গেল, এলিসা এই অপরিচিত সুদর্শন পুরুষকে দেখে অবাক হয়ে গেল কে এই ছেলেটা,
নিলা গিয়ে ছেলেটির হাতে পানি দিল তখন এলিসা গেল ওখানে.. ছেলেটি পানি মুখে দিল তখনই এলিসার কথা শুনে বিষ্ময় খেল
এলিসা বলল.."এটা কে? তোর বয়ফ্রেন্ড নাকি..?
ওর কথা শুনে ছেলেটি বিষ্ময় খেল..! নিলা কিছু একটা বলতে যাবে তার আগে মাথায় থাকা অংকটা মিলে গেল..
ও জোরপূর্বক একটা হাসি দিয়ে বলল.."হ্যাঁ
ওর কথা শুনে ছেলেটি আবার বিষ্ময় খেল।
নিলা একটু নাটক করে ছেলেটাকে বলল.."আরে আরে আস্তে আস্তে পানি খাও।
ছেলেটা অবাক হয়ে বলল.."বয়ফ্রেন্ড মানে..!!
এলিসা মনোযোগ দিল।নিলা বলল.."আরে আসলে কী হয়েছে বাবার সাথে ওর মিট করাতে আনছি
ছেলেটি অবাকের শেষ পর্যায়, চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইল নিলার দিকে, তখনই নিলার বাবা দুতলা থেকে সিড়ি বেয়ে নেমে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসল
নিলার বাবাকে দেখে এলিসা বলল.."ওই তো মামা এসেছে দাড়া আমি মামাকে বলছি
এই বলে এলিসা পা বাড়াই, নিলা এলিসাকে ডাকলো কিন্তু এলিসা কানে নিল না, ছেলেটা নিলাকে বলল.."কী হয়েছে..?
নিলা দ্রুত কন্ঠে বলে.."শুনুন আমি যা যা বলব তাই করেন পরে সব বলছি,আর আপাতত আপনি আমার বয়ফ্রেন্ড ওকে
এদিকে এলিসা নিলর বাবার কাছে গিয়ে বলে.."মামা নিলা তার বিএফ নিয়ে এসেছে
ওর কথা শুনে পরিবারের সবাই চমকে উঠে, নিলার বাবা বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলে.."মানে..??
এলিসা বলল.."ওই দেখো কাকে নিয়ে এসেছে
আঙ্গুল দিয়ে নিলাদের দিকে ইশারা দেয় এলিসা,সবাই ওদের দেখে অবাক হয়ে যায়..!
নিলা ভয় পেলেও মনে সাহস যুগিয়ে ওর বাবার সামনে গিয়ে বলে.."বাবা আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই
নিলার বাবা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার দিকে এতক্ষণ চেয়ে ছিল,মেয়ের কথা শুনে মেয়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে.."কি বলবে বলো..?
নিল ছেলেটির দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় ওর কাছে এসে দাড়াতে বলে, ছেলেটি আহম্কের মতো ওর পাশে এসে দাঁড়াই। নিলা ছেলেটির দিকে একপলক তাকিয়ে পরে ওর বাবার দিকে তাকিয়ে বলে.."বাবা আমি ওকে ভালোবাসি..!আমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারব না
ওর বাবা অবাক হয়ে গেল,সাথে সবাই অবাক হলো, ছেলেটি যেন আকাশ থেকে পড়লো।নিলার বাবা একটু চেঁচিয়ে বলল.."কি ..?
নিলা বলে.."আমি ওকেই বিয়ে করব।অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারব না,আমাদের ৫বছরের সম্পর্ক।
ওর কথা শুনে ওর বাবা চুপ থেকে হো হো করে হেসে উঠলো।
টুং টুং....
কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে নিলা। সামিরা নীলার কথা শুনে অবাকের শেষ পর্যায়ে। নীলার কথা শুনে সামিরা একটা দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে বলল.."যা করেছো খুব ভালো করেছো কিন্তু তোমাকে একটা কথা জানিয়ে রাখি যেটা জানলে তোমার পায়ের নিচের মাটি সরে যাবে..!
নীলা ওদিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকায়, পরে বলে.."দেখ একদম খোঁচা মারবি না যা বলার ক্লিয়ার করে বল।
সামিরা একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বলে.."তুই যাকে বয়ফ্রেন্ড বানালি না,, সে আসলে কি জানিস..!
নীলা ভ্রু কুচকালো.."কে..?
সামিরা মুখে সেই ডেভিল মার্কা হাসি দেখে বলল.."তাকে কিন্তু আমরা সবাই চিনি..!
নীলা অবাক হলো.."আসলে আমি চিনি না কেন..?
সামিরা বলে.."কারণ তুই তাকে চিনতে চাস নি..!
নীলা খানিকটা রাগ দেখিয়ে বলল.."দেখ যা বলবি ক্লিয়ার করে বল মাথা এমনি কিন্তু গরম হয়ে আছে..! আমার তো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা পছন্দ না..
সামিরা মুখ টিপে হাসি আর বলে.."সে আর কেউ নয় কি হলো তোমার হবু হাজবেন্ড , সায়ন আঙ্কেলের একমাত্র ছেলে the great ariyan khan shingdho
কথাটা বলেই সামিরা হেসে ওঠে, নিলার পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেল, চোখগুলো রসগোল্লার মত হলো, মনে হচ্ছে এর আগে এত বড় সত্য কথা কখনোই শোনেনি। বুকের ভেতরটা কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে বারি মারছে।
সামিরা নীলার এই অবস্থা দেখে বলল.."আরে আরে কুল কুল
নীলা স্তব্ধ বসে রয়েছে কিছু বলছে না। সামির একটা টেবিল মার্কা হাসি দিয়ে বলে..."নিজের অজান্তেই কত বড় একটা ভুল করেছো বুঝতে পেরেছো..! তুই সবাইকে বললে ও তোর বয়ফ্রেন্ড , এখানে কিন্তু তোদের এমনি বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। তার ওপর এবার তোর এই রিলেশনের কথা দেখবে এখন তো বিয়ে পুরাই পাক্কা..!
নীলার ব্রেন কাজ করা বন্ধ করে দিল,, নিজের উপর খুব রাগ হচ্ছে।
to be continue.....
#অভিমান
#পর্ব ১
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now