বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অতৃপ্ত আত্মা-৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অতিপ্রাকৃতিক উপন্যাস "অতৃপ্ত আত্মা" আফজাল হোসেন -------------------- (পর্ব ৩) চার মাঝ রাত ৷ সুমির গায়ে ঊথাল পাথাল জ্বর ৷ … জাহিদ সুমির মাথার কাছে বসে কপালে ‘ জল পট্টি দিচ্ছে। জ্বরের ঘোরে সুমি মাঝে মাঝে প্রলাপ বকছে… আগুন ! আগুন! …আগুন! … আমাকে বাঁচাও আমাকে বাঁচাও। আমি বাচতে চাই ! . . .আমাকে বাচাও. … … ’। সুমির গলা দিয়ে বেরুনাে প্রলাপ যেন … সুমি করছে না… অন্য কেউ করছে। ক্ষণে ক্ষণে ’ জাহিদ চমকে উঠছে ! কারণ কণ্ঠস্বরটা মোটেই সুমির মত লাগছে না৷ মনে হচ্ছে ব্যাথায় যন্ত্রণায় কাতর কোনও পুরুষ লোক অস্ফুট হিসহিসে গলায় টেনে টেনে কথা বলছে। মাঝে মাঝে খাটের নীচ থেকে মৃদু খুটখাট শব্দ হচ্ছে।সেই সঙ্গে ফোস ফোস করে ভারি নিঃশ্বাস ফেলার শব্দও যেন ৷ আবার একদম নীরব l কেউ কি খাটের নীচে ঘাপটি মেরে বসে আছে?! চোর টোর ? জাহিদ উবু হয়ে খাটের নীচে উঁকি দিল। মোবাইলের ছোট্ট টর্চ জ্বেলে আলো ফেলে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল ৷ না… কিচ্ছু নেই ৷ তবে বিকেলে যে সে দেখেছিল কূটিকুটি করে ছেঁড়া সবুজ শাড়িটার টুকরােগুলাে খাটের নীচে ছড়ানাে, তা এখন সেরকম নেই। কে যেন সেগুলো গুছিয়ে স্তূপ করে এক জায়গায় রেখেছে। জাহিদ খাটের নীচ থেকে মাথা তোলার আগেই শুনতে পেল… সূমি জ্বরের ঘোরে এখন কেমন বিকট বিকৃত গলার স্বরে গোঙানি শুরু করেছে ৷ যেন কোনও পুরুষ লোক গােঙাচ্ছে। গলায় শ্লেষা জড়নো ভারী গলার কোনও পুরুষ। জাহিদ খাটের নীচ থেকে মাথা তুলে দেখে, সুমি গোঙানির সাথে সাথে হাত পা ছুঁড়ে মাথা ডানে …বামে উপরে প্রচণ্ড রকম ভাবে ঝাকিয়ে ঝাঁকিয়ে ছটফট করছে ৷ সেই সঙ্গে মুখমন্ডল কেমন ডানে বামে কুঁচকে আঁকাবাঁকা করে বিকৃত মুখভঙ্গি করছে ৷ জাহিদ খুব ঘাবড়ে গেল, এমন করছে কেন?! জ্বরেৱ ঘোরেও কি ওর মানসিক বিকারগ্রস্ততা প্রকাশ পাচ্ছে? জাহিদ দুহাতে সুমির দু কাধ সজােরে চেপে ধরে, ‘এই, সুমি , এই কী হলো তোমার?! কী হলো?!….. বলতে বলতে শান্ত করতে চাইল। অনবরত মাথা ডানে বামে উপরে ঝাঁকানাের ফলে সুমির মাথার চুলগুলো তার মুখের উপর এসে পড়েছে ৷ জাহিদ মুখের উপর থেকে চুলগুণো সরিয়ে দিতে চাইল। অমনি সুমি বিকৃত, বিকট স্বরে চিৎকার করে উঠে জাহিদকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারল। সেই সঙ্গে সে শোয়া অবস্থা থেকে তড়াক করে সে শোয়া অবস্থা থেকে তড়াক করে উঠে বসল ৷ সে শোয়া অবস্থা থেকে তড়াক করে উঠে বসল ৷ তার গলা দিয়ে ‘হুউমম..…হুউমম………হুউমম………’ এক ধরনের জান্তব শব্দ হতে লাগল। যেন পচণ্ড ক্রোধে তার গলা দিয়ে অমন শব্দ বেরোচ্ছে ৷ ধাক্কার চোটে জাহিদ ছিটকে পড়েছে মেঝেতে ৷ বেশ ব্যথা পেয়েছে। সে শরীরের ব্যথাকে আমল না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাড়াল৷ সুমি বিছানার উপর মাথা ঝুঁকিয়ে বসে রয়েছে। ঝুঁকে থাকার ফলে তার মাথায় সমস্ত চুল মুখের উপর এসে পড়েছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না। প্রচণ্ড ক্রোধের হুমমউ………হুমমউ……… শব্দ করেই যাচ্ছে। জাহিদ সুমির দিকে এগিয়ে যেতে লাগল ৷ অমনি সুমি আবার প্রচণ্ড রকম ভাবে ডানে-বামে উপরে মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে ক্রোধাম্বিত পুরুষ কণ্ঠে বলে উঠল, ওই, তুই আমার কাছে আসবি না। ছুঁবি না আমায় । জাহিদ এর পরও এগিয়ে যেতে লাগল ৷ থামল না। সুমির ক্রোধান্বিত পুরুষ কণ্ঠ আরও প্রচণ্ড ক্রোধে ফেটে পড়ে খিস্তি করে উঠল, ….…বাচ্চা তোরে আসতে মানা করছি না …….বাচ্চা , তুই যদি আর এক পা আগাস তোর….…ছিইড়া তোর মুখের ভিতর ঢুকাইয়া দিমু। জাহিদ থমকে দাঁড়িয়ে গেল। তার ৰিস্ময়ের সীমা রইল না৷ এসব কী কথা বেরোচ্ছে সুঘির মুখ দিয়ে ! সত্যিই কি সুমি বলছে, না অন্য কেউ?! সুমির মুখের উপর থেকে এখন তার বেশির ভাগ চুলই সরে গেছে ৷ অল্প ফাঁকা ফাঁকা চুলের মাঝে তার মুখ দেখা যাচ্ছে ৷ চেহারা কেমন বিকৃত। চোখ দুটো আধ বোজা হয়ে খোলা ৷ চোখের মণি দেখা যাচ্ছে না। শুধু সাদা অংশ ৷ ঠোটের দু কোনা বেয়ে পড়িয়ে নামছে ফেনা। জাহিদকে আরও বিস্মিত করতে জাহিদের চোখের সামনে সুমি বিছানা থেকে চার হাত পায়ে হামা দিয়ে নীচে নামতে লাগল ৷ তার পিঠটা কুঁজো রোগীর মত বাকা, অবিশ্বাষ্য৷ মাথার চুলগুলাে ঝুলে পড়েছে দু কাধের পাশ থেকে আর মুখের উপর। কেমন জানি মাকড়সার মত লাগছে ৷ যেন চার পায়ের বড় একটা মাকড়সা ৷ মুখ দিয়ে বেরােচ্ছে, হুমউ………হুমউ.…. ক্রোধের শব্দ ৷ বিছানা থেকে মেঝেতে নেমে সুমি খাটের নীচে ঢুকে গেল ৷ হামা দিতে দিতেই খাটের নীচে ঢোকার পর ক্রোধান্বিত_ হুমউ.……হমউ……. শব্দ থেমে গেল ৷ শোনা গেল কান্নার শব্দ ৷ বিকৃত গলার গা শিউরানো…অদ্ভুত কান্না ৷ জাহিদ ৰিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে কী করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। গ্রামের বাড়িতে তার বাবা মাকে জানানো উচিত। সুমির ৰাবাকেও জানানো দরকার। সুমির তো আবার মা নেই ৷ কিন্তু তাদেরকে এই মুহূর্তে জানালেও তো তারা এখনই এসে হাজির হতে পারবে না। তারা তো রয়েছে কত দূরে ! আশপাশের কোনও মসজিদ থেকে ভেসে এল ফজরের আযানের ধ্বনি। আশ্চর্য! ঠিক সেই মুহূর্তে থেমে গেল সুমির অদ্ভুত কান্নার শব্দ ৷ জাহিদ উবু হয়ে খাটের নীচে উকি মারল ৷ সুমি চিত হয়ে পড়ে রয়েছে। জাহিদ সুমি………সুমি…..করে কয়েকবার ডাকল। কোনও সাড়া নেই। জাহিদ খাটের তলায় ঢুকে পড়ল ৷ মোবাইল ফোনের ছোট্ট টর্চটার আলো সুমির মুখে ফেলল। সুমি দাঁতে দাঁত খিল লেগে অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে। সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে চুপচুপে। গা থেকে টায়ার পোড়ার মত তীব্র গন্ধ বেরোচ্ছে। জাহিদ সুমিকে খাটের নীচ থেকে বের করে ৰিছানায় শুইয়ে দিল ৷ চোখে-মুখে পানির ছিটে দিতে লাগল ৷ কিছুক্ষণ যেতেই সুমির জ্ঞান ফিরে এল। জ্ঞান ফিরতেই সুমি বলল, আমার খুব পিপাসা পেয়েছে ৷ আমাকে এক গ্লাস পানি দাও। সুমির ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, এতক্ষণ সে যা করেছে সেই সম্বন্ধে কিছুই জানে না। জাহিদ সুমির মাথাটা একটু তুলে পানি খাইয়ে দিল ৷ আবার ৰিছানায় শুইয়ে দিয়ে কপালে হাত রেখে বলল, যাক, জ্বরটা এখন একটুও নেই। এতক্ষণ যে অবস্থা হয়েছিল। সুমি দুর্বল গলায় বলল, "কী হয়েছিল?!’ প্রশ্নটা শুনে জাহিদ অবাক চোখে সুমির দিকে তাকাল। কী নিস্পাপ সরলতা ওর চেহারায় ! কে বলবে, এমন মিষ্টি একটা মেয়ে কিছুক্ষণ আগে কী ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছিল ! সুমি দুর্বল গলায় আবার প্রশ্ন করল, , বললে না, কী হয়েছিল। ‘প্রচণ্ড জ্বরে তুমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে ৷ , আমি খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম ! খুবই ভয় পেয়ে ছিলাম….…" জাহিদ প্রকৃত ঘটনা সুকৌশলে এড়িয়ে গেল ৷ পাঁচ … জাহিদ সুমিকে নিয়ে গ্রিন রোডের এক সাইকিয়াট্রিস্টের চেম্বারে এসেছে। সাইকিয়াট্রিস্টের নাম ডা. মিজানুর রহমান। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। জাহিদের এক কলিগ এই সাইকিয়াট্রিস্টের ঠিকানা দিয়েছে। … খুবই নামকরা সাইকিয়াট্রিস্ট নাকি। ওয়েটিং লাউঞ্জে আধ ঘণ্টা অপেক্ষায় পর ভিতরে ঢোকার ডাক পড়ল। তবে শুধু জাহিদ। সে বেশ অবাক হলো, রােগীকে না ডেকে শুধু মাত্র তাকে কেন ডেকে পাঠাল? ভিতরে ঢুকে জাহিদ ডা. মিজানুর রহমানের মুখোমুখি চেয়ারে বসল। ডাক্তার সাহেবের বয়স বোধহয় পঞ্চাশের কােঠায় ৷ গায়ের রং কালো। বেঁটে খাটো। মাথা জুড়ে বিশাল টাক ৷ জুলফির দু ধারে সামান্য যে চুল অবশিষ্ট আছে তাতে পাক ধরেছে। ভোতা নাক। চোখে গোল্ড রিমের চশমা ৷ চোখের চাহনি আলাভােলা টাইপের ৷ ডা. মিজানুর রহমান গলা খাঁকারি দিয়ে পরিষ্কার গলায় বললেন… …"রোগীকে না ডেকে আপনাকে কেন ডাকলাম, নিশ্চয়ই অবাক হয়েছেন? এটাই আমার পদ্ধতি। রোগীর ঘনিষ্ঠ মানুষদের কাছ থেকে আগে রােগী সম্পর্কে ধারণা নিই। এবং সেটা রোগীর অবর্তমানে ৷ আবার রোগীর সঙ্গে যখন কথা বলি তখনও কাউকে তার সঙ্গে থাকতে দিই না ৷ যাক, আপনি এখন আপনার রোগী সম্পর্কে বলুন ৷ কখন থেকে … কী দেখে , কীভাবে বুঝলেন যে সে মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত? তার আগে বলুন আপনি তার কে হন…?" জাহিদ ডা. মিজানুর রহমানকে সুমির সম্পর্কে সব কিছু জানাল ৷ তাদের বিয়ের পর গত তিন মাসে সুমির মধ্যে যে সব অস্বাভাবিকতা তার চোখে পড়েছে সবই পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বর্ণনা করেছে ৷ কিছুই বাদ দেয়নি। সব শোনার পর ডা. মিজানুর রহমান জাহিদকে বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতে আর সুমিকে পাঠাতে বলেন ৷ সুমি এসে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ডা. মিজানুর রহমানের সামনে চেয়ারে বসল। তার চেহারায় গত রাতের জ্বরের কোনও ছাপ নেই। তাকে বেশ সুস্থ, স্বাভাবিক দেখাচ্ছে ৷ ডা. মিজানুর রহমান বললেন, "আপনার নাম ?" "সুমাইয়া আক্তার সুমি ৷" "বয়স ?" “চব্বিশ।" "আপনর হাজবেণ্ডের কাছে জানলাম… একা হলেই আপনি নাকি খুব ভয় পান ৷ প্রথমে ৰিচ্ছিরি কটু গন্ধ পান। এরপর কেউ আপনার পেছনে দাঁড়িয়ে ঘাড় এর উপর নিঃশ্বাস ফেলে ৷ ফিসফিস করে আপনার নাম ধরে ডাকে। বেশিরভাগ সময়ই তাকে দেখতে পান না৷ কখনও সখনও দেখতে পান। ভয়ঙ্কর একটা চেহারা। এই ব্যাপারটা করে থেকে ঘটছে আপনার সঙ্গে ?" সুমি কিছুক্ষণ ভেবে বলতে লাগল, “চার পাঁচ বছর আগে থেকে। চার পাঁচ বছর আগে , এক সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে প্রথম এই ব্যাপারটা ঘটে আমার সঙ্গে ৷ সেদিন আমি আমাদের … বাড়ির সামনের উঠানে পায়চারী করছিলাম। উঠানের উত্তর দিক বড় বড় সব গাছ গাছালিতে ভরা। আম গাছ, কাঠাল গাছ, জামরুল গাছ, পেয়ারা গাছ, নারকেল গাছ, আতা গাছ, জাম গাছ….বেশির ভাগই ফলের গাছ ৷ উঠান ঘেঁষে এই ফলের বাগানটা অনেকখানি জায়গা জুড়ে ৷ কয়েক একরের কম হবে না। গ্রামের বড় বড় বাড়িগুলােতে যেমনটা থাকে। কী মনে করে যেন আমি উঠান থেকে হেঁটে হেঁটে বাগানের দিকে যাই ৷ বাগানের ভিতরে ঢুকে পড়ি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে বলে বাগানের ভিতরটা বেশ অন্ধকার অন্ধকার ৷ হঠাৎ অবাক হয়ে শুনতে পাই পেছন থেকে কে যেন হিসহিসে গলায় আমার নাম ধরে ডাকছে ৷ চমকে পেছনে ফিরে দেখি কেউ নেই। পেছনে চার পাঁচ হাত দূরে একটা মোটা আম গাছ। ঠিক তখন আবার সামনে থেকে শুনতে পাই সেই হিসহিসে গলার ডাক। চমকে তত্ক্ষণাৎ মাথা ঘুরিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। সামনে একটা মোটা কাঠাল গাছ। এমন সময় আমার ডান দিক থেকে শুনতে পাই আবার সেই হিসহিসে ডাক। তাকিয়ে দেখি… কেউ নেই৷ মোটা একটা কী গাছ যেন। এভাবে সামনে পেছনে ডানে বামে ঘুরে ফিরে ডাকটা শুনতে লাগলাম। ভাবলাম কেউ কি গাছের গুঁড়ির আড়ালে আড়ালে লুকিয়ে আমার সঙ্গে লুকোচুরি করছে? আমি সামনে পেছনে… যেদিক থেকে ডাকটা শুনতে পাই ছুটে ছুটে সেদিকে গিয়ে গাছের গুড়ির ওপাশটা দেখি ৷ নাহ, কেউ নেই! হঠাৎ চমকে লক্ষ করি একটা গাছের গুড়ির মাটি থেকে ছয় সাত হাত উপরে অদ্ভুত একটা মুখাকৃতি ৷ যেন গাছের বাকল ফুড়ে মুখটা বেরিয়েছে৷ চোখ, ভ্রু, ঠোট….…একেৰাবে জীবন্ত মুখ৷ চোখ মেলে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। চোখ দুটো জ্বল জ্বল করছে। আর ঠোঁট নেরে আমার নাম ধরে ডাকছে। ওই মুখটার ডাকা শেষ হতেই আগের মত আবার পেছন থেকে একই হিসহিসে গলার ডাক শুনতে পাই ৷ ভয়ে জমে যাওয়া আমি কোনােরকমে পেছনে তাকিয়ে দেখি পেছনের গাছেও ওই একই মুখ ! সামনে পেছনে ডানে বামে প্রতিটা গাছে ওই একই মুখাকৃতি ৷ প্রতিটা মুখ হিসহিসে গলায় পর্যায়ক্রমে আমার নাম ধরে ডাকছে। আমি জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ি ৷ এই ঘটনার পর থেকেই আমি একা হলে ওই হিসহিসে গলার ডাক শুনতে পাই। বিয়ের পর সমস্যাটা আরও ,বাড়ে।" ডা. মিজানুর রহমান হাতে ধরা কলমের উপরি ভাগ দিয়ে নিজের গৃল চুলকাতে চুলকাতে বললেন, ‘আচ্ছা_ ওই মুথাকৃতিটার সাথে আপনি কি আপনার কোনও পরিচিত মানুষের মুখের মিল পেয়েছেন?’ সুমির সংক্ষিপ্ত উত্তর, "না।" ডা… মিজানুর রহমানের সুমির এই না উত্তরটা বিশ্বাস হয়নি। কারণ সুমির না বলার ভঙ্গি , বডিল্যাঙ্গুয়েজ বলেছে ভিন্ন কথা। ‘না কথাটা বলার সময় সুমির গলার স্বর ছিল দ্বিধান্বিত ৷ হাত মুঠি বদ্ধ করে ফেলেছিল। কেউ যখন মিথ্যা কথা বলে তখন তার নিজের অজান্তেই তার গলার স্বরে এক ধরনের দ্বিধা প্রকাশ পায়। আর কেউ যখন সত্যি প্রকাশ করতে চায় না তখন হাত মুঠো করে ফেলে। ওই মুখাকৃতির সাথে সে কার চেহারার মিল পেয়েছে তা পরে অন্যভাবে জেনে নিতে হবে। জোর খাটানাে যাবে না l মানসিক রোগীদের উপর কখনও জোর খাটাতে হয় না। ডা. মিজানুর রহমান বলতে লাগলেন, "আমার ধারণা আপনাদের বাড়ির উঠান সংলগ্ন যে বাগানে আপনার ভয় পাওয়ার সূচনা, সেই বাগানে আপনি ছোট বেলায় কারও সঙ্গে লুকােচুরি খেলতেন ৷ বড় হবার পর স্বাভাবিক ভাবেই ছোটবেলার লুকােচুরি খেলা আর হয় না। আর যার সঙ্গে আপনি লুকোচুরি খেলতেন সে ও অনেক দিন ধরে আপনার থেকে দূরে বা মারা গেছেন।" তাই চার পাঁচ বছর আগের সেই সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে আপনি প্রচন্ডভাবে নস্টালজিয়ায় ডুবে যান। না হলে ওই সময় আপনার বাগানে ঢোকারই কথা নয়। আপনি এক ধরনের ঘোরের মধ্যে গিয়ে ওই বাগানে ঢুকে পড়েন ৷ প্রচণ্ড ঘোর, লুকােচুরি খেলার প্রতি এক ধরনের অবসেশন, তীব্র নস্টালজিয়া আপনার মধ্যে ডিলিউশনের সৃষ্টি করে ৷ ছোট বেলায় লুকোচুরি খেলার সময় গাছের আড়ালে আড়ালে লুকিয়ে আপনার নাম ধরে যেভাবে ডাকত সেই ডাক আপনি শুনতে পান। এক সময় গাছের গুঁড়িতে মুখাকৃতি ফুটে উঠে ব্যাপারটা ভয়ঙ্কর দিকে মোড় নেয় এই জন্যে যে, আগে থেকেই ওই বাগানে আপনার কোনও ভীতিকর অভিজ্ঞতা ছিল। আমি কি ঠিক বলছি?’ সুমি হ্যাঁ না কিছুই বলল না। শুধু অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। তার তাকানাের ভঙ্গিই বলে দিচ্ছে ডা. মিজানুর রহমান যা বলেছেন তা একেবারেই ঠিক ৷ … ডা. মিজানুর রহমান আবার বলতে লাপলেন, ‘চার পাঁচ বছর আগে বাগানের গাছে মুখাকৃতি দেখে যে ভয় পেয়েছিলেন সেই ভয়ই এখনও আপনাকে তাড়া করছে ৷ ভয়ের বীজটা মনের ভিতর পোঁতা হয়েছিল তারও অনেক আগে। হয়তো ছোট সময়ে। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা যায় ছোট সময়ের পাওয়া ভয়ই অতি গোপনে মনের গভীরে থেকে যায়। সময় সুযোগ মত একেক রূপে ধরা দেয়। আপাতত কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷ প্রয়োজনে সাইকোথেরাপি… হিপনেটোইজ করে সাজেশন দেওয়া হবে। (চলবে) ---------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অতৃপ্ত আত্মা-৩
→ অতৃপ্ত আত্মা-৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now