বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অত:পর তবুও বেঁচে থাকে ভালোবাসা
--------------------------------------
*** মো.আমরিন ইবনে হাসনাত(আকাইদ) ***
রাত তখন ও অনেক বাকী।ঘড়ির ঘন্টার কাটা টা ১ টার ঘরে উঁকিঝুঁকি মারছে। বেলকুনির বারান্দার দ্বারিয়ে অভ্র শহর দেখছে।রাতের অন্ধকারে সোডিয়াম বাতির হলুদ আলোয় অন্যরুপে চিরচেনা ব্যস্তনগরীর শান্ত রুপ।
.
হঠাত কি ভেবে যেনো ঘরে এসে এফ এম রেডিও অন করে দিয়ে আবার বেলকুনিতে ফিরে গেল।এবার অবশ্য ওর সাথে এক মগ কফি যুক্ত হয়েছে।কফি খেতে খেতে এফ এম রেডিও সাথে অসাধারন একটা পরিবেশ।
.
অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র অভ্র। ছেলেটা অন্য সবার থেকে হয়তো আলাদা।ভদ্র শান্ত স্বভাবের ছেলেটার বরাবর ই ফটোগ্রাফীর প্রতি ঝোক টা বোধ হয় বেশি।নিস্তব্ধতা প্রিয়।গ্রামের সাধারন জনপদ,প্রকৃতি থেকে শুরু করে জীবিত প্রানীর সোৌন্দর্য সব ই ক্যামেরাবন্দী করে রাখে।
.
ঘটনা টা বেশ কিছু দিন আগের,,,,,,,,,,,
রাতে বন্ধুদের সাথে একটা বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফিরছিল।সন্ধ্যে বেলায় হঠাতই গগন বিদির্ন করে বৃষ্টির আগমন।বাজারের পাশের দোকান থেকে একটু দূরে ফাকা জায়গাগাড়ি থামালো,কারন বৃষ্টির সাথে দমকা হওয়া আর বিদ্যুৎ ও চমকাচ্ছিল।তাই ভ্রমন বিরতিতে সকলে।
.
অসাধারন প্রকৃতি।অভ্র তাই ডিএস এল আর দিয়ে ছবি তুলে নিল কয়েকটা।প্রায় ৪৫ মিনিটের প্রবল বৃষ্টি আর সাথে আকাশে বিদ্যুৎচমকের মাঝ দিয়ে কখন কেটে গেল,টের ই পাওয়া যায় নি।
.
বাড়ি ফিরে ছবি গুলো ল্যাপটপ এ নিয়ে দেখতে থাকে অভ্র।সব ছবিগুলো একের পর এক মনোযোগ সহিত দেখতে দেখতে ওর চোখ পড়ে যায় একটা ছবিতে। যেটা রাস্তা ফোকাস করে তোলা হলেও ছবিতে ধরা স্পষ্ট রুপে ধরা দিয়েছে সুন্দরী বালিকা।ছবির মেয়েটাকে কেন জানি অভ্রর খুব ভালো লাগে।
.
মেয়েটাকে খুজে বের করতে চায় ও।কিন্তু অচেনা শহরতলিতে কোথায় খুজে বের করবে ওকে?জীবন তো আর নাটক সিনেমা নয় যে একদিন রাস্তায় দেখা হয়য়ে যাবে!এসময় ই ঘটে গেল এক নাটকীয়তা।অভ্রের বেস্ট ফ্রেন্ড আবিরের ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্ট ওই মেয়েকে পাওয়া গেল।ফ্রেন্ড হবার বেশিদিন হয়নি অবশ্য।
.
অভ্র যেন এ খবর পেয়ে হাতে আকাশের চাঁদ পেয়ে যাওয়ার মত অবস্থা।সাথে সাথে '''প্রিয়ন্তিকা প্রিয়ন্তি '''আইডি টায় রিকুয়েস্ট পাঠালো।২ দিন পর রিকুয়েস্ট টা এক্সেপ্টেড হল।দীর্ঘ ২ মাসের ও বেশি সময় ধরে ওদের মধ্যে চ্যাটিং এর এক পর্যায়ে অভ্র এর সাথে বেশ ভালো একটা বন্ধুত্ব হয়ে উঠল।
.
এরপর একদিন এর ঘটনা।রাতের বেলা অভ্রকে মেয়েটা অনেক বড় একটা মেসেজ পাঠালো।মেসেজ টা পেয়ে অভ্র খুব কষ্ট পেল কারন,এতদিন যার সাথে চ্যাটিং হয়েছিল সেটা একটা ভুয়া আইডি ছিল।
.
তবে বড় ব্যাপার হচ্ছে আইডি টার ইউজার একজন মেয়ে ই ছিল,সুপ্তি।অভ্রকে অনেক স্যরি বলার পরও অভ্র ব্যাপার টা মানতে পারল না।খুব কষ্ট পেল আর সুপ্তিকে ব্লক করে দিল।
.
''২ মাস পেড়োলো পুরাপুরি একটা মিথ্যার পেছনে গিয়ে।মেয়েটাকে আদৌ আর পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।'' অভ্র এর কথা শুনে আবির বলল,''দোস্ত তুই তো ভুল করে ফেলছিস,ওরে ব্লক না মেরে ওর কাছে শুনে নিলেই হত কোন আইডি থেকে ছবি টা নিয়েছে।
.
অভ্র হতচকিত হয়ে উঠল,"এটা তো আমার মাথায় আসে নি"....
এবার ব্লক লিস্টে গিয়ে আনব্লক করে আবারও সুপ্তিকে রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে অনেক কষ্টে জানতে পারে যে "সুপ্তবনিতা" আইডি থেকেই ছবি টা পাওয়া।
.
অভ্র রিকুয়েস্ট পাঠালো।প্রতিদিন চেক করত রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট হয় কি না।দীর্ঘ ১৫ দিন কেটে গেল হতাশায়।একদিন বিকেলে সুপ্তবনিতা ওর রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করল।
.
আবার যেন হাতে চাঁদ পেয়ে যায় অভ্র।গল্প এভাবেই এগোতে থাকে।অভ্র জানতে পারে মেয়েটার নাম সুভা।মেয়েটা অনেক চাপা স্বভাবের বুঝতে বেশিদিন দেরি হয় নি।কিন্তু,অভ্র ছেলেটার সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায় সুভার।
.
বন্ধুত্ব দিন দিন এগোতে থাকে।প্রায় ৬ মাস কেটে যায়।এরপর দুজোনের প্রতি দুজোনের একটা দুর্বলতা তৈরি হয়।হ্যা,ভালোবাসা নামের নতুন সম্পর্কের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ওদের সম্পর্ক বুঝতে বেশিদিন দেরি হয় না কারও।
.
কিন্তু সুভা অভ্রকে এড়িয়ে যেতে থাকে।ধীরে ধীরে অভ্র বুঝতে পারে।এভাবেই ফেসবুকেই কথা চলছিল।অভ্র একদিন সুভার নম্বর চায় ওর সাথে কথা বলার জন্য।সুভা ওকে বলে নম্বর দিতে পারবে না।
.
অভ্র ব্যাপার টা মেনে নেয়।এরপর সুভার সাথে অভ্র এর একদিন দেখা হবার দিন ঠিক করল।দেখাও হলো।অভ্র ছেলেটা বড়ই লাজুক ও কোনো কথা বলছিল না।দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পর..........
অভ্র:তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে।
সুভা:কিছু বলে না!!
অভ্র:সুভা কিছু বল প্লিজ।
(সুভা নিস্তব্ধ)
অভ্র:সুভা!!!!
সুভা: কেঁদে ফেলে। এর পর একটা কাগজ বের করে লিখে দেয়,
অভ্র,
আমার উচিত ছিল তোমাকে জানানো।কিন্তু আমি পারি নি।আমারই দোষ।আমি তোমার বন্ধুত্ব হারাতে চাই নি।তাই কিছু বলতে পারিনি।অভ্র আমাকে যে দেখছ,এই মেয়েটা কোন দিন মুখে কিছু বলতে পআরআরবে না।হ্যা,আমি বাকপ্রতিবন্ধী।এটা শোনার পর যে সহানুভূতি টুকু আসবে তোমার থেকে আমি চাই না আমার এই দুর্বলতায় কেউ সহানুভূতি দেখাক,
ভালো থাকো অভ্র।আসি.......
থেমে যায় অভ্র।ওর চোখ গুলো লাল হয়ে যায়।ও ওর ভালোবাসায় অটুট থাকে। ও আজও সুভা কে ভালোবাসে।সুভা অভ্রকে অনেক ভাবে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।শেষে নিজের এই দুর্বলতা নিয়েই অভ্রকে আজ ও ভালোবাসে।
.
কাল সুভা আর অভ্রর প্রেমের বয়সের এক বছর পুর্তি।ওদের কাল দেখা হবে।অভ্র জানে ওর ভালোবাসা ওকে বলবে না 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'
নিস্তব্ধ চোখের জলের ভাষায় বুঝিয়ে দিবে অভ্রের প্রতি মন থেকে ওর ভালোবাসা টুকু।
রবীন্দ্রনাথের ওই দুটো চরনের মতো,
"তুমি রবে নিরবে,হৃদয়ে মম"
""ভালোবাসার ভাষা মুখের নয়,ভালোবাসার ভাষা মনের""
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now