বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অতঃপর ভালবাসা
*Mohammad Bayzid Hossain*
---------- -------------
-----------------
প্রতিটি মেয়েদের একটা সপ্ন থাকে বাসর রাত নিয়ে।তেমনি ছিল সোনিয়ারও একটা সপ্ন।কিন্তু সেই সপ্নের রাতের ঘটনা দেখে নিজের চোখটাকে বিশ্বাস করাতে পারছে না।।।সেই বাসর রাতেই মারুফ নেশা করে রুমে ডুকেছে।এসেই ধপাস করে খাটে শুয়ে পড়ল।সোনিয়া মারুফের জুতা খুলে দিয়ে পাশে শুয়ে পড়ল।।
-
পরের দিন সকালে মারুফ ও তার ফেমিলির সবাই একটা রুমে বসে গল্প করছিল।তখন সোনিয়া চা নিয়ে সেখানে গেল।সকলকে চা দিল।কিন্তু সমস্যা বাজল মারুফকে নিয়ে।মারুফ চা গ্রহন করছিল না। হঠাৎ সোনিয়ার হাতে ধাক্কা দিয়ে কাপ ফেলে দিল।কাপটি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।সকলের দৃষ্টি চলে গেল মারুফের দিকে।মারুফ বলল-
-তুমি এই বাড়ির বউ হতে পার।কিন্তু আমার স্ত্রী হওয়ার সপ্ন ভুলে যাও।
সকলে মারুফের কথায় অবাক হয়ে গেল।মারুফের মা মারুফকে গিয়ে পাচ-ছয়েক চড় লাগিয়ে দিল।মারুফ ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
-মা তুমি কিছু মনে কর না।।ও একটা মেয়ের সাথে রিলেশন করত।মেয়েটি ওকে ফেলে অন্য একটা ছেলের সাথে বিয়ে করছে।তাই ওর মাথাটা একদম গেছে।(মারুফের বাবা)
-ও বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না।তাই আমরা জোর করে রাজি করিয়েছি।তাই ও হয়ত এরকম করেছে।কিছু মনে কর না।(মারুফের মা)
-ওকে সমস্যা নেই।মনে হয় চায়ে লিগার কম হয়েছে।তা দেখে ফেলে দিছে।(সোনিয়া উত্তর দিল)
-প্লিজ মা তুমি আমার মারুফকে একটু ভাল করে দাও।(মারুফের মা)
-তুমি ছাড়া কেউ মারুফকে ভাল করতে পারবে না।।আমরা যথাসম্ভব তোমাকে হেল্প করব।(মারুফের বাবা)
সোনিয়া কি উত্তর দিবে বুঝতে পারছে না।তবুও বলল,
-আপনারা শুধু আমার জন্য দুয়া কইরেন।
-
রাতে মারুফ এসেছে,তবে নেশা করেনি।
-টেবিলে খাবার রেডী করা আছে খেয়ে নিন।
-সেটা তোমার বলতে হবে না।
কিছুক্ষন পর মারুফ একা খেয়ে এসে বিছানায় শুয়ে পড়ল।
-বিছানায় শুইছেন কেন?(সোনিয়া)
-কেন এটা আমার বিছানা।আমি শুইব না তবে কে শুইব?
-কেন আমি শুইব।আপনি ছোপায় গিয়ে শুয়ে পড়েন।
--দেখ,তুমি কিন্তু অতিরিক্ত করতেছ।।আমি এটা একদম পছন্দ করি না।
"কি আর করার মারুফ ছোপায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।"
-
পরের দিন সকালে
-এই যে সাহেব,শুনতে পাচ্ছেন??
-...............
-আরে বাড়ির পোকা-মাকড় সব ঘুম থেকে জেগে গেছে।আপনি তারাতারি জেগে নামাজে যান।।
-সকাল ১০ টার আগে একবারও ডাক দিবে না।দেখতেছো না ঘুমাইতেছি।
-আল্লাহকে ভয় করুন।।
"এটা বলে সোনিয়া চলে গেল।মারুফেরর মনে সত্যিই আল্লাহর ভয় ঢুকে গেল।তারাতারি উঠে ওজু করে বাসায় বসেই নামাজ পড়ে নিল।"
-
রাতে মারুফ অফিস থেকে বাসায় ফিরল।সোনিয়া দেখেই-
-আস্সালামু আলাইকুম
-...........
-সালামের জওয়াব দেয়া কিন্তু ওয়াজিব।
-(কি আর করার,মারুফ মনে মনে সালামের উত্তর দিল)
-আমি কিন্তু সালাম উচ্চস্বরে দিয়েছি।সালামের উত্তরও উচ্চস্বরে দিতে হবে।মনে মনে দিলে হবে না।
-ওকে।।।ওয়ালাইকুমুস্সালাম।তো এবার কি হবে??(প্রচন্ড রেগে)
-আজব আমি কি কিছু হওয়ার কথা বলছি।
-বিরক্ত কোথাকার।
-আমি বিরক্ত করলাম কোথায়???
-আর একটা কথাও শুনতে চাই না।।
-শুনেন প্রমিক পুরুষ,খাবার টেবিলে রাখা আছে।যদি খেতে মনে চায় খেয়ে নিয়েন।আমাকে একবারও ডাকবেন না।
-ওকে।মনের ভুলেও ডাকব না।
"মারুফ টেবিলে গিয়ে দেখল টেবিলে শুধু ভাত রাখা আছে,কোন তরকারি নেই।ভাবছে লবণ দিয়ে খাবে।কিন্তু লবণও নেই।এত রাতে বাইরের দোকানপাট সব বন্ধ।খাবারের রুম বাহির থেকে তালা মারা।সোনিয়াকেও ডাকতে পারতেছে না।।মায়ের রুমের সামনে গিয়ে ডাকতে শুরু করল"-
-মা....
ভেতর থেকে মা বলল
-কে????
-মা,আমি মারুফ।খাবার রুমের চাবিটা কোথায়??
-আমি জানি না।বউ মাকে জিজ্ঞেস কর।
"কি আর করার রুমে গিয়ে।বড় বড় শব্দকরে কথা বলে,দরজাটা শব্দ করে আটকায় তবুও সোনিয়া জাগতেছে না।কারন এটা সম্পুর্ন সোনিয়া ও মা-বাবার প্লান।।
-সোনিয়া......
-......(শুনেও চোখ বুঝে রইল)
-সোনিয়া তরকারি দাওনি কেন??ভাত কি দিয়ে খাব??
-বলছিনা আমাকে না জাগাতে।আবার চাগালেন কেন???
-আরে তুমিতো তরকারি দাও নি।।ভাত কি আমার মাথা দিয়ে খাব।।
-মনে হয় আপনার মাথায় গোবর।আপনি এক কাজ করেন, আপনার মাথায় সবজি চাষের ব্যবস্থা করেন।ভাল ফলন পাবেন।
-মানে কি??
-আমাকে ডাক না দিয়ে মাকে কেন কষ্ট দিলেন।সে গত রাতে কাশির কারনে ঘুমোতে পারে নি।আজ একটু ঘুমানো শুরু করছে।তখনই তাকে জাগাইছেন।।
"মারুফ অবাক হয়ে গেল।তার মা-বাবর প্রতি সোনিয়ার এত দরদ,এত ভালবাসা।কিন্তু মারুফ তাকে প্রশ্রই দেয় না।মারুফের চোখে পানি।।"
-চলেন তরকারি দিতেছি।
-না।
-কেন???
-এখন আমি ভাত খাব না।
-কেন????
-কারন এখন আমি কিসমিস খাব।
-একদম দুষ্টুমি নয়।।কারন মা জেগে আছে।।আগে তাকে কাশির ঔষুধ খাওয়াইয়ে ঘুম পড়িয়ে আসি।।।
****অতঃপর শুরু হল ভালবাসা*
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now