বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ ‘‘অপূর্ণ স্বপ্ন‘’’
··
‘‘বাবা মায়ের অনেক বড় স্বপ্ন ছিল তাদের একমাত্র ছেলে নাঈমকে একজন খুব বড় ডাক্তার বানাবে।’’
·
ছেলেটা মোটামোটিই শান্ত ও নরম স্বভাবের এবং ভাল ছাত্র হিসাবেও সে গ্রামে, স্কুলে ভাল সুনাম কুড়িয়েছে। স্কুলের শিক্ষক-ছাত্র সবার মুখেই নাঈমের প্রশংসা শোনা যায়। ক্লাসেও ফার্স্ট বয় নামেও বেশ খ্যাত।
.
এভাবে একটা বড়ো সুনাম অর্জন করে সে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা জীবন সফলতার সহিত পারি দিয়েছে।
·
এখন,সে মা-বাবার স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষে মেডিকেল ভার্সিটির আঙ্গিনায়।
‘‘দুই-এক বছর সেখানে নিত্য-নৈমিত্তিক জীবন সে ক্রমাগত প্রবল উচ্ছ্বাসের সাথে কাটালো। অত:পর নেমে আসলো তার জীবনে কুপ্রভাবের বিবর্তন।’’
‘‘এই বুঝি তছনছ হতে চলছে বাবা-মার জেগে উঠা স্বপ্নিল ঘাসগুলো।’’
‘‘কেন ধ্বংস হতে চলছে তাদের স্বপ্ন জানেন? তাইলে মন খুলে শুনুন....
··একদিন ভার্সিটির লাইব্রেয়ীতে গল্পের বই পড়চছিলো নাঈম। তখন কে যেন এসে বলতে লাগল, ‘‘নাঈম তুই এত পড়িস কেন রে? এমনিতেই তুই ভাল ছাত্র তার উপর আরও বেশি পড়লে পাগল হয়ে যাবি রে।’’
বিরক্তির দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো ‘‘তার রুমমেট রাকিব আর তুহিন। কেন আমি পাগল হয়ে গেলে তোদের কোন সমস্যা?’’
তুহিন বললো, ‘‘সেইটা আমরা বললাম নাকি দোস্ত! চল একটু বাহিরে যাই।’’
‘‘নাহ, তোরা যা। আমার কাজ আছে।
তারা দুইজন একটু বিদ্রূপসূচক হাসি দিয়ে চলে গেল।’’
·
একদিন রাত্রিতে রাকিব একটা বই দিয়ে বললো, ‘‘তুইতো শুধু বইয়ের পোঁকা; এই ছোট্ট বইটা পড়িস, মাথায় নতুন কিছু ঢুকাতে পারবি।’’নাঈম কিছু না ভেবেই বইটি তার কাছ থেকে নিলো। বইটি বেশি বড় ছিলনা; এই ধরুণ ১০-১২পৃষ্টা হবে।
·
কিছুক্ষণপর বইটি ভাল করে পড়ে বুঝতে পারলো যে, ‘‘সেখানে (Exercise) ব্যায়াম, চর্চা, অনুশীলন, অভ্যস্ত, শরীরে আলো-বাতাসের অপরিহার্যতা, বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎস্যাবীদদের যুক্তি উপস্থাপন ইত্যাদি নিয়ে বিশদ বর্ণনা দেওয়া আছে।’’
.
একবার ভাবলো যে, এটা আমাকে তাদের পরিবেশের সাথে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র নয়ত?
অপরপক্ষে নাহ, বইটির কথাগুলোও তো ঠিক মনে হচ্ছে।
·
পরেরদিন রাকিব বললো, ‘‘কি কিছু বুঝেছিস বইটি পড়ে?’’, ‘‘হুম্ম বুঝেছি!’’
·
- তাহলে চল আমাদের সাথে।
- আরে নাহ, পরে যাব এখন কিছু ভাল লাগছে না।
- আরে চলনা একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি।
‘‘কিছু না ভেবেই তার সাথে চলতে লাগলো। সে নাঈমকে ভার্সিটির ক্যান্টিনে নিয়ে গেল।’’
·
সেখানে গিয়েই তো চমকে উঠলো নাঈম!
‘‘এই মেয়েটা এখানে কেন? ওতো আমাদের ক্লাসের নিরুপমা (ভাইস পিন্সিপাল স্যারের মেয়ে)। আমাকে কয়েকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আমি কোন পাত্তায় দেইনি।
ষড়যন্ত্র নয়তো?’’
‘‘রাকিব আমি গেলাম, আমার মাথা ব্যাথা করতাছে।’’
কিন্তু তারা আমাকে সেখান থেকে আসতে দিল না। এদের উদ্দেশ্য কি? বুঝার বাকি রইল না।
·
নিরুপমা বসা অবস্থা থেকে উঠে আমার কাছে আসতে লাগল।
তখন ঐসময় পরিবেশটা কেমন যেন নিস্তব্ধ নিড়িবিড়ি মনে হচ্ছিল।
কি করবে ভেবে না পেয়ে,ডিপ্রেশন বৃদ্ধি পেতে লাগল; নিরউপায় হয়ে মাটির দিকে তাকালো সে।
·
মেয়েটা কাছে এসে বলতে লাগল, ‘‘কি আমার প্রস্তাবে রাজি? আমাকে ভালবাসবে না?’’ কোন উত্তর না দিয়ে নির্বাক হয়েঈ নাঈম দাড়িয়ে রইল।
এবার মেয়েটা একটু রাগিভাব নিয় বললো, কি উত্তর দাও? আমার দিকে তাকাও?
·
হ্যা পরিশেষে ঐখান থেকেই শুরু হয় প্রেম নামক সম্পর্ক।
বেশ চলছিল তার সাথে সম্পর্কটা। রাগ, অভিমান, ঝগড়ার মধ্য দিয়েই দিনগুলো অতিবাহিত হচ্ছিল।
এভাবে দীর্ঘ ৬মাস ২১দিন পর্যন্ত তার সাথে রিলেশনটা ছিল।
.
তারপর কাঁচের মতো ভেঙ্গে যায় সম্পর্কটা!
একদিন পার্কে দেখলাম একজন ছেলের সাথে আড্ডা দিচ্ছে সে। পরে একজনের কাছ থেকে সম্পূর্ণ ব্যাপারটা ক্লিয়ার হল যে, ঐ মেয়েতো টাইম পাস্ট করার জন্য ছেলেদের সাথে প্রেম করে। ঐ মেয়ের চরিত্র ভাল না। ওতো এর আগে সজীব নামের এক ছেলের সাথে বেঈমানী করছে।
·
মনে মনে নাঈম ভাবল প্রেম যখন ধরছি আর ছাড়মুই না। মেয়েটারে পরে খুব বুঝালো কিন্তু সে কিছুতেই নিজের দোষ শিকার করছে না।
·
অবশেষে বললো, "তোমার যাহা ইচ্ছে তাই কর, এতে আমার যায় আসে না। দ্বিতীয়বার আমার সাথে আর কথা বলার চেষ্টা করবে না।
·
রাত্রে অনেক কেদেছে তার জন্য, মানুষ এই রকম কি করে হতে পার?
তার একমাত্র স্বপ্ন যদিও ছিল একজন ডাক্তার হওয়ার।কিন্তু এর সাথে আরো একটি স্বপ্ন যুক্ত হয়েছিল, নিরুপামাকে জীবন সঙ্গিনী করার।
·
‘‘বিরহের জালা সহ্য করতে না পেরে সে এখন বিভিন্ন নেশাদ্রব্যে আসক্ত! অতপর সে হয়ে গেলাম ইভটিজারদের পরিচালক। নেশা করে, নারীদের উত্তাপ্ত করাই তার প্রধাণ কাজ। শুধু তাই নয়, মারামারি, কাটাকাটিতেও ১ম সারিতে। এক পর্যায়ে আমি ছাত্রলীগ নেত্রীতের দায়িত্ব পেলো সে। এই একটি মাত্র বছরেই সে হয়ে গেলাম এত কিছু।’’
‘‘ভাল মানুষ যখন খারাপ হবে, তখন সে ১০০টা খারাপ মানুষের বাপ হয়ে দাড়াবে, এটাই স্বাভাবিক।’’
·
.
‘‘অসৎ সঙ্গ থেকে প্রেম তারপর ছ্যাকা অতপর গুন্ডা নাম্বার ওয়ান!!
বাবা-মার জেগে জেগে দেখা স্বপ্নগুলো অসম্পূর্ণই থেকে গেল।’’
.
এভাবেই ধ্বংস হচ্ছে সহস্র পিতা-মাতাদের জীবন বাস্তবায়নের পরিকল্পিত জ্যন্ত স্বপ্নগুলো।
.
ধিক্কার জানাই তোদের এই অবৈধ মেকি নামক প্রেম সম্পর্কগুলোকে।
ধিক্কার জানাই এদের মত বন্ধু নামক কলঙ্কদের।
"কষ্টে ভরা জীবন "
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now