বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসম্পূর্ণ গল্প

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X আমি তখন বর্ধমানের রাজ কলেজে পড়তাম, শনিবার ছিল ভেবেছিলাম দুপুরের মধ্যেই বাড়ি যাবার জন্য তৈরি হলাম কিন্তু এমন কিছু কাজ এসে পড়ল শেষ পর্যন্ত সন্ধের গাড়ি ছাড়া অন্য কোন উপাই থাকল না। সন্ধ্যা ছয়টার গাড়ি ধরতে এসে জানতে পারলাম গাড়ি ছাড়তে প্রায় একঘন্টা দেরি আছে। তাই কিছু সময় এদিক ওদিক ঘোরা ঘুরির পরে ওয়েটিং রুমের একটা কোনার দিকে গিয়ে বসে পড়লাম। শীতের সন্ধ্যা তাই স্টেশেন চত্তর ফাঁকাই ছিল। আমি যেখানে বসে ছিলাম সেখানে আরো তিনজন বসে ছিল, দুজন সতের আঠারো বছরের ছেলে আর তাদের পাশে বছর চল্লিশের একজন লোক, তাদের কথাবার্তায় মনে হলো তিনি তাদের পরিচিত হবেন। আমি তাদের কাছে যখন বসলাম ছেলে দুটির মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়ে গেছে। আমার বেশ কৌতুহল হল তাই মন দিয়ে তাদের কথা শুনতে থাকলাম, দেখি তাদের ঝগড়া হচ্ছে ভূতের নিয়ে। তোমরা তো যানোই সব গল্পের রাজা হচ্ছে ভূতের গল্প, কারো কারো অবশ্য অন্য মত আছে, তা সে যার যার নিজের নিজের ব্যপার। এক বন্ধু বলছে ভূত আছে আরেক জন বলছে নেই, আর এতেই জমে উঠেছে। প্রথম বন্ধু বলল তাহলে শোন আমার নিজের একটা ঘটনার কথা বলি – একবার আমার পিসির বাড়িতে গিয়েছিলাম রঘুনাথপুরে সেখানে একটা বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল, সেখানে গেছিলাম। তো বিয়ের দিন সারাদিন হৈ হুল্লোড় করে কেটে গেল। রাতের বেলাতে শোবার সময় বাড়িতে লোক বেশি আর জায়গা কম পড়তে থাকলো। তা কি করবো পিস্তোতভাই সুমন বলল চল আমার একবন্ধুর বাড়ি আছে, নতুন বাড়ী করেছে, এখনো গৃহপ্রবেশ হয়নি তাই একাই থাকে, সে বিয়ে বাড়িতেও এসেছে, চল আমরা তিনজনে মিলে সেখানে ওর সাথে শুয়ে পড়ি। এমনিতে আমার কোন অসুবিধা ছিলো না কিন্তু তবুও বললাম ওর কোন অসুবিধা হবে নাতো। বলল- ও একটা ঢেমনা, চল গিয়ে ওর আরেক রুপ দেখতে পাবি, ওখানে গেলেই তোর হাতে বিয়ারের বোতোল ধরিয়ে দেবে। বন্ধুদের জোর করে ধরে নিয়ে যায় ওর বাড়িতে পার্টি করার জন্য, সে করবে আপত্তি। দাড়া ওকে ডাকি কোথায় আছে দেখি, তুই এখানেই বোস আমি ওকে খুজে নিয়ে আসি। বলেই তাকে খুজতে চলে গেল, আমি তার নামও যানতাম না, কাকে খুজতে গেল সুমন। তাই সেখানেই একটা চেয়ার টেনে নিয়ে সেখানেই বসে পড়লাম। একটু পরেই সুমন ওরই বয়সি একটা ছেলেকে ধরে নিয়ে এলো- এই আমার বন্ধু শুভ এর কথাই তোকে বলছিলাম আর ও আমার ভাই বিজয়। আজ আমরা দুজনাই তোর সাথে তোর বাড়িতে থাকবো, তোর কোন আপত্তি আছে। শুভ বলল কি বলছিস কি আমি আপত্তি করবো, তার চেয়ে আমার তো মজাই হবে, আজ তিন জনেমিলে বেশ ইঞ্জয় করা যাবে। বেটা তুই কবে থেকে পার্মিসেন নিতে শিখলি। না না আমার এই ভাইটা কিন্তু কিন্তু করছিল, তাই ওকে শুনিয়ে দিলাম। শুভ বলল – তুমি কোন সংকোচ কোরোনা বন্ধু, তুমি সুমনের ভাই মানে আমারো ভাই, আমার বাড়িতে তোমার কোন কষ্ট হবে না আমি গেরেনটি দিচ্ছি। তারপরে আমারা তিনজনে বেরিয়ে পড়লাম, শুভোর বাইকেই রওনা হলাম। সুমন বলেছিল আমি আর সুমন দুজনে তার বাইকে যাব আর সুমন তার নিজের বাইকে কিন্তু বার হবার সময় দেখি বাইকে পেট্রোল শেষ। বিয়ে বাড়িতে যে পেরেছে চালিয়েছে বাড়িতে কোন জিনিষ আনতে হবে বাইক নিয়ে ছুটেছে, তাই কখন যে তেল ফুরিয়ে গেছে বোঝাই যাইনি। শেষে শুভর বাইকেই তিনজনে যাব ঠিক করলাম, ও বলল কালকে সকালে আবার বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যাবে। শুভ নিজেই চালাচ্ছিল, আমি মাঝে বসেছিলাম আর সুমন পিছনে বসেছিল। শুভদের বাড়ির কাছাকাছি আসতেই দেখতে পেলাম একটা বিশাল আকারে ছায়া মূর্তি রাস্তার এপার থেকে ওপারে চলে গেল। সেই ছায়া মূর্তিটা প্রায় তালগাছের মতো লম্বা অথচ স্বাভাবিক মানুষের মতোই মোটাসোটা, কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো এই জায়গাটাতে কোন প্রকার কৃত্রিম আলো মানে ইলেকট্রিক আলো এসে পড়েনি যে কোন মানুষের ছায়া তা হতে পারে না, কেবল মাত্র চাঁদের আলো পড়ছে। সেই চাঁদও আকাশে ঠিক আমাদের মাথার উপরে তাই ছায়া বড়তো হবেনা আকারে চেয়ে ছোটই হবে। শুভো একটা হেচকা ব্রেক মারলো, সুমন বলে উঠলো শালা হটাৎ এমনি জোরে ব্রেক মারলি কেন আমার মুখে ধাক্কা লেগে গেল। শুভ বলল কিছু দেখলি, সুমিন বলল কি দেখব। সে সময় আমিও কিছু বললাম না, শুভ বলল না কিছু না, বলেই গাড়ি চালিয়ে শোজা ওদের বাড়িতে উঠল। তারপরে বেশ কিছু সময় আমারা আড্ডা মারলাম, শুভ ওদের ফ্রিজ থেকে বিয়ারের বোতোল বের করে আনল। কথায় কথায় সুমন বলল ঐ যায়গাটাতে এমন ব্রেক কষালি, দেখ ধাক্কালেগে আমার ঠোঁটই কেটে গেছে, তোকে যে কোন --------- ভাই ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়েছে ------। সুমন এমন একটা মুখ খারাপ করা গালি দিল সেটা আর বলা যাবেন। শুভ কিছুক্ষন চুপকরে থেকে বলল কি বলবো ভাই বললেই তুই আবার আমাকে নিয়ে এমন হাঁসাহাঁসি করবি, তাই বলছি না। সুমন একটা অবাক হয়ে বলল কি হয়েছে ভাই আমাকে বল, কোন সমস্যা, তুই তো এমন চুপসে যাবার ছেলে নোস, তুই কোন প্রতিবাদ করছিস না, মুখ থেকে কোন ভালো ভালো বানী দিচ্ছিস না, কি ব্যাপার শরীর টারীর ভালো আছে তো বলেই ওর কপালে হাত দিল। না না আমি ভালোই আছি। তাহলে কি ব্যাপার? আসলে এইখানে বাড়িটা বানিয়ে ফেঁসে গেছি। কেন জায়গাটা তো বেশ ভালোই, এই দিকটায় বেশ ফাঁকা ফাঁকা জোড় ( ছোট নদীর মতো ) আছে তাই এদিকে আর বাড়িও হবেনা খুব একটা। ব্যাপারটা তুই কিছুই যানিস না, আসার সময় কি দেখে গাড়ি থামিয়ে ছিলাম যানিস? কি দেখে? একটা বিশাল আকারের ছায়া মূর্তি আমাদের রাস্তার এপার থেকে ওপারে চলে গেছিল। আমিও সাথে সাথে বললাম আমিও দেখেছি। তাই সুমন কথাটা উড়িয়ে দিতে পারলো না, বিভিন্ন রকমের যুক্তি দিতে থাকলো এটা কোন রাস্তা থেকে বা কারো বাড়ির জানালা থেকে আলো এসে পড়েছে, আর সেই বাড়ির কোন লোকেরই ছায়া দেখেছিস এই আরকি। শুভ বলল না, না ব্যাপারটা এতো সোজা নয়, তুই একটু ভেবে দেখ ওই গলিটাতে কোন বাড়ি থেকে আলো এসে পড়ছিলো না। আর রাস্তাতে আর কোন গাড়িঘোড়াও ছিলো না কেবল চাঁদের আলো ছাড়া আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার কোন লোককে কি রাস্তায় দেখিতে পেলি, না পাশনি তো। তবে! আর এই রাত সাড়ে-বারোটার কেই বা রাস্তাই ঘুরে বেড়াতে যাবে, তাও বা মেন রাস্তাতে হতো, কোন মানুষ হয়তো দরকারে বার হতে পারে কিন্তু এই গলিতে কার কি দরকার হবে। যদি কোন চোর ছেচোড় হয়। তাহলে তো দু একটা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটতো, কই সে রকম কোন ঘটনার খবর এই পাড়াতে কারো মুখে শুনিনি। তাছাড়া একটা জিনিসে একটু খটকা লাগছে। কি কি বেপারে, আমি কিছুটা উৎসাহিত হয়ে বললাম। শুভ বেশ কিছুটা চুপকরে থেকে বলল, সুমন তুই যানিস তো অনেক দিন থেকেই এখানে বাড়ি করার জন্য যায়গা খুঁজছিলাম। সে রকমের ভালো যায়গা পাচ্ছিলাম না। কোথাও পিছিনের দিকে পাচ্ছিলাম, সামনে রাস্তা একেবারে সরু গলির মতো, আবার কোথাও যায়গা ভালো পেলে জমির দাম এতো বেশি বলছিল যে আমাকে পিছিয়ে আসতে হচ্ছিল, আবার কোথাও জায়াগা ভালো দামেও ঠিকঠাক হলে, জমির পেপার দেখতে গিয়ে দেখতে পারছি সরিকি ঝামেলা আছে ওই জমিতে, আবার কোন জমিতে প্রায় ত্রিশ চল্লিশ বছরের টেক্স বাকি পড়ে আছে। এতো ঝামেলা করে এক দালালের মধ্যদিয়ে এই যায়গাটার দাম দস্তুর হয় চলতি দামের প্রায় অর্ধেক দামে পেয়ে যাই। দালালটাকে জিজ্ঞেস করাতে বলেছিলো জায়গার মালিকের মায়ের শরীর খুবই খারাপ উনার খুব তাড়াতাড়ি টাকার প্রয়োজন তাই একটু কমদামে দিয়েদিচ্ছে....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বৃষ্টির অসম্পূর্ণ গল্প
→ একটি অসম্পূর্ণ গল্প
→ অসম্পূর্ণ গল্প
→ একটা অসম্পূর্ণ গল্প
→ গল্পটা অসম্পূর্ণ !!
→ একটি অসম্পূর্ণ গল্পের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now