বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসম্ভব প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X -তিথি -বল -তোর হাতটা একটু ধরি ? -আচ্ছা মাঝে মাঝে এত নাকামো করিস কেন বলত.? এমন ভাবে বলছিস যেন আগে কখনও আমার হাত ধরিস নি.? -ধরেছি তো,, কিন্তু এখন অন্যভাবে ধরতে চাচ্ছি.. -কিরকম.? -বুঝিস না.? -নাহ তো.. -আই লাভ ইউ.. -তারপর.? -তারপর তো তুই বলবি.. -আমি কি বলব.. -তুই বল,“আই লাভ ইউ” -আই হেইট ইউ.. -সত্যিই.? -হুম,,তোকে না বলেছি আমাকে এসব কথা বলবি না.. আমি এসব পছন্দ করি না.. -তোকে ছাড়া আমার জীবন অন্ধকার.. -তো আমি কি করব.? ধেৎ মুড টাই অফ করে দিলি.. বলেই তিথি উঠে চলে গেল.. আর.. পিছন থেকে রাহাদ তার পথের দিকে তাকিয়ে রইল.. এক অসম্ভব অবাস্তব প্রেমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে.. . তিথি আর রাহাদ ক্লাসমেট.. ভার্সিটিতেই ওদের পরিচয়.. রোল নাম্বার পরপর হওয়ায় বিভিন্ন প্রজেক্টের জন্য দুজনকে একসাথে কাজ করতে হয়.. এর মাধ্যমেই ওরা ধীরে ধীরে অনেক ভাল বন্ধু হয়ে যায়.. শুধুই বন্ধু.? এর বেশি কিছু নয়.. কারণ দুজনেই জানে এর বেশি আর সম্ভব নয়.. . কিন্তু আজ কয়েকদিন ধরে রাহাদ নিজেকে কোন ভাবেই বোঝাতে পারছে না.. তার কাছে মনে হচ্ছে তার এই জীবনটাতে তিথি ছাড়া অন্য সবকিছুই বৃথা.. ওর সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল এমন একজন জীবনসঙ্গী যে ওকে বুঝবে,, ওর কষ্টগুলো শেয়ার করবে,, ওর যখন মন খারাপ হবে তখন ওকে কাছে টেনে নেবে,, ভালবাসবে,, ওর মন ভাল করে দেবে.. . আর এই সবগুলো গুণই তিথির মধ্যে আছে.. তিথির হাসি,কান্না,রাগ, অভিমান সবকিছুই যেন রাহাদকে চম্বুকের মত আকর্ষণ করে.. এই কয়েকবছরেই তিথির এত কাছাকাছি এসে গেছে যে,, নিজের সবচেয়ে দামী বস্তু মনটা তিথিকে দিয়ে আজ নিজেকে সর্বস্বান্ত বানিয়ে ফেলেছে.. কিন্তু রাহাদ নিজেও জানে,, তিথি কখনই তার হবে না,, তিথি যদি নিজ থেকেও এসে বলে,, “রাহাদ, আমি তোকে ভালবাসি ” তারপরেও সম্ভব নয়.. কারণ সমাজ-সংসার তাদের এই ভালবাসা কখনই মেনে নেবে না.. তাদের দুজনের মাঝে যে ধর্ম নামক বিশাল এক আকাশচুম্বি দেয়াল দাঁড়িয়ে.. এই দেয়াল পেড়িয়ে কখনই রাহাদ তিথির কাছে যেতে পারবে না.. . বাসায় এসে সোফায় ধপ করে বসে পড়ল রাহাদ.. তিথির সাথে গত পাঁচ ঘন্টায় কোন কথা হয় নি.. বিকেলের ঘটনাটা নিয়ে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে রাহাদের.. তাই অনেকটা অপরাধবোধ আর খানিকটা অভিমান থেকেই তিথিকে ফোন দেয় নি সে.. অভিমান হল এই কারনে যে,, সে জানে তিথিও তাকে মন থেকে অনেক ভালবাসে.. কিন্তু মেয়ে তো !!!! বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না.. নিজেকে নিজে কষ্ট দেবে কিন্তু মুখ ফুটে বলবে না,“রাহাদ তুই ই আমার সব” . আরো একটা ঘন্টা পেরিয়ে গেল , এখনও তিথির সাথে কথা হয়নি.. ওকে কি সরি বলা দরকার.? ভাবতে ভাবতেই ফোনটা হাতে নিল রাহাদ.. ঠিক সঙ্গে সঙ্গেই ভাইব্রেশন দিয়ে মোবাইলের স্ক্রিনটা আপনা আপনিই জ্বলে উঠল.. স্ক্রিনের নাম টা দেখেই রাহাদের মনে অদ্ভুদ এক আনন্দের শিহরণ বয়ে গেল.. তিথির ফোন.. -হেলো -রাহাদ.? -হুম,বল.. -কিরে কোন খোঁজ খবর নাই.. -কিসের খোঁজ খবর.. -রাগ করেছিস আমার উপর.? -কেন,রাগ করব কেন.? -বিকেলে তোর সাথে ওরকম করলাম যে.. -নাহ..ঠিকই করেছিস.. আমি কিছু মনে করি নি.. -তাই.?তাহলে ফোন দিসনি কেন.? -এমনি কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না,,তাই.. -ও আচ্ছা..তাহলে তো আমিই ডিস্টার্ব করলাম..তাই না.? -জানি না.. -আচ্ছা তাহলে তোর জন্য একটা গুড নিউজ আছে.. তোকে আর কখনও ডিস্টার্বড হতে হবে না.. -কেন.? -আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে.. -ও আচ্ছা.. কনগ্রচুলেশনস.. -থ্যাংকস.. -ওয়েলকাম.. -শীঘ্রই দাওয়াত পেয়ে যাবি.. -আচ্ছা.. -এখন রাখি..অনেক কাজ.. -আচ্ছা..গুড নাইট.. -গুড নাইট.. কথাগুলো একনাগাড়ে বলতে তিথির অনেক কষ্ট হচ্ছিল.. গলাটাতে যেন পাথর আঁটকে গিয়েছিল.. ফোনটা রেখেই তাই সব কষ্ট চোখের অশ্রুর মধ্য দিয়ে বের করে দিতে চাইল.. অনেক কাঁদল তিথি.. কারণ সেও জানে এখন রাহাদও তার মতই কাঁদছে.. দুই দিন পর... আজ তিথিকে ছেলে পক্ষ থেকে দেখতে আসবে আর একই সাথে বিয়ের দিনও ঠিক করবে.. রাহাদের সাথে ওই যে কথা হয়েছিল,, আর কথা হয় নি.. আর এই দুই দিনে তিথি আদৌ কিছু খেয়েছে না খায় নি সে নিজেও জানে না.. যতই সময় যেতে থাকল ততই যেন ওর বুকের উপর একটা পাথর বড় হতে থাকল.. বুকের বাম পাশটায় একটা চিনচিনে ব্যাথা করছে.. চোখ গুলো কেমন যেন ধুয়ে আসছে.. সাড়া শরীর যেন আড়ষ্ঠ হয়ে আসছে.. নাহ সে পারবে না,, এই বিয়ে তার দাড়া সম্ভব নয়,, কখনই না.. দৌড়ে গিয়ে মায়ের কাছে বলল,“মা, আমি এই বিয়ে করতে পারব না.. বলেই বেড়িয়ে পরল.. মাকে কিছুই বলার সুযোগই দিল না.. রাহাদের বাসায় দরজা খুলল ওর আম্মু.. তিথি ওনাকে দেখেই অনেকটা পাগলের মত বলল,, -আন্টি রাহাদ কোথায়.? -আরে ওর কথা বল না.. কি হয়েছে কে জানে,, গত দুদিন কিছু খায়ই নি.. সারক্ষন বেলকুনিতে বসে কি যেন ভাবে.. আর.. কিছুক্ষণ পর পর দরজার দিকে যেন কারোর জন্য তাকিয়ে থাকে.. -কোথায় ও.? -ওর রুমেই,হয়ত বেলকুনিতে.. কোনরকম অপেক্ষা না করে তিথি ছুটে গেল রাহাদের কাছে.. দেখল বেলকুনিতে বসে আছে নির্বিকার ভাবে.. -রাহাদ.? -তিথি,উঠে দাড়াল রাহাদ.. তারপর তিথি রাহাদকে জড়িয়ে ধরে এতদিনের সব জমানো কান্নাই যেন কাঁদতে লাগল,, বলল,, -পারলাম না রাহাদ.. কান্নার মধ্যেও অনেকটা হাসি মুখ করে রাহাদ বলল,, -জানতাম -তুই অনেক খারাপ.. -কেন.? -এত কষ্ট দিস কেন আমাকে.? -আর তুই মনে হয় আমাকে অনেক সুখ দিস.? -হুম.. কান্নার মাঝে হাসল তিথিও.. ওর ওই কান্নাভরা হাসিতে কেমন যেন আরো বেশি মায়াময় লাগছিল.. এভাবেই চলতে থাকল দুজনের অসম্ভব প্রেম অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অসম্ভব প্রেমিকার সন্ধানে
→ অসম্ভব প্রেম
→ প্রেম ছাড়া বাচা অসম্ভব !
→ উফফ! প্রেম কি অসম্ভব বেদনা দায়ক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now