বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসমাপ্ত নীলাম্বরী

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X .. জগতে দুশ্রেণীর মানুষ বেঁচে থাকে,যাদের মধ্যে এক শ্রেণী বেঁচে থাকে তীব্র বাস্তবতায়,আরেক শ্রেণী বেঁচে থাকে কল্পনার মাঝে।সমস্যা হচ্ছে,এ শ্রেণীদ্বয়ের মাঝে তীব্র দ্বন্দ।কেউ কল্পনাকে হেসে উড়িয়ে দেয় তো আরেক শ্রেণী বাস্তববাদী শুনলে নাক সিটকায়।আমার দৃঢ় বিশ্বাস,এ দুশ্রেণীর দ্বন্দেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। মা খুব মনযোগ দিয়ে আমার তত্ত্ব শুনেন,তারপর অট্টহাস্যে মেতে ওঠেন।আমি ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাই। "হাসির কারণটা কি আমি জানতে পারি?" মা মুখ চেপে হাসি থামানোর চেষ্টা করেন।"তুই দার্শনিক হলি কবে থেকে রে?" আমি অবাক হই।"বারে!সত্য বলা কি দার্শনিকতার লক্ষণ?" "তা তো জানি না।" আমি স্পষ্ট দেখতে পাই মা এখনো হাসছেন। বাস্তবতা থেকে আমি অনেকটাই দূরে।সমাজ নামক শব্দটার সাথে সম্পর্ক অনেকটাই ছিন্ন,একাকিত্বে আমি মিশে যাই,উজাড় করে দিই নিজের নিসঙ্গতাকে। কখনো গল্পের পাতার ফাঁকে ডুবে যাই,মিলনের আনন্দে আপ্লুত হই।আচ্ছা বাস্তবে যদি সব গল্পই এমন সম্পূর্ণ হতো? মা হাসেন।"ঈশ্বর বড় নিষ্ঠুর রে দিপু। প্রতিটা গল্পই এখানে অসম্পূর্ণ।আফসোস" এক চির পরিচিত শব্দের নাম।" একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি, আমার জীবনগল্পের সারমর্ম হিসেবে। মেয়েটার নাম নীলা,আমি আদর করে ডাকি নীলাম্বরী। প্রতিদিন বিকালে তার সাথে দেখা হয়,ছাদের এক কোণে সে অপেক্ষায় থাকে আমার।আমি দূর থেকে তার অস্থির অপেক্ষা দেখি,চপল সে নারীতে মুগ্ধ হই। "আপনার আর আমার পার্থক্য কি জানেন?" আমি তার দিকে ফিরে তাকাই।"কি?" "আপনি একটা বন্ধ ধরনের মানুষ।" আমি অবাক হই।"বন্ধ মানে?" "মানে..."মেয়েটা অস্থিরভাবে মাথা চুলকাতে থাকে।"ধরুন আপনি এমন একটা ভাব ধরেন যে আপনার কোন অনুভূতি নেই,কিন্তু ভেতরে ভেতরে অনেকটাই কষ্ট পান।" আমি থুতনীর নিচে হাত নিই।"মূল্যবান জিনিস কি প্রকাশ্যে আনা ঠিক?" নীলা ঠোট কামড়ে ওঠে।"তা বটে।" নীলাকে নীলাম্বরী নামটা দেয়ার ইতিহাসটাও অদ্ভুত।সেদিন ছিল তীব্র বৃষ্টি। আমি অকারণেই হাজির হই বাসার ছাদে।সেখানে নীল শাড়ি পরা একটা মেয়ে দুহাত মেলে দাঁড়িয়ে আছে।আমাকে দেখেই সে শাড়ি ঠিক করার চেষ্টা করে,এগিয়ে আসে আমার দিকে। "ছাদে কি?" "তোমায় দেখতে এলাম বলে.."আমি বলে উঠি। "এহ"মুখ ভেংচি দেয় সে।"কালো মেয়েকে আবার কেউ দেখতে আসে নাকি?" "বাহ্যিক রূপের ভেতরে মানুষের আরেকটা রূপ আছে।সবাইকে একই কাতারে কেন ফেলা হয় নীলা?বলতে পারো কি?" মেয়েটা মাথা চুলকায়।"আপনি গল্প লেখেন না?" আমি মাথা নাড়ি।"একটু একটু।" "আমার নীলা নামটা কি একটু বদলে দিবেন?কেন যেন আজকাল নামটা ভালো লাগছে না।" আমি হেসে উঠি।"নীলাম্বরীই তবে ধারণ করে নাও।" কি যেন ভাবে সে।"তা খারাপ না।ঠিক আছে,আজ থেকে আমি নীলাম্বরী। " "নীলাম্বরী! "আমি একবার আনমনেই বলে উঠি। "ভাবছি চুলগুলো কেটে ফেলব।" আমি তার দিকে অবাক হয়ে তাকাই।"কেন!" "ঠিক জানি না।ইচ্ছে হলো,তাই।" আমি হতাশ হই।"ও,আচ্ছা।" নীলাম্বরী মিটিমিটি হাসে।"কষ্ট পেলেন?" আমি জবাব দিই না। ঘড়ির দিকে আরেকবার তাকাই,সূর্য অস্ত যাবে বলে।গত কিছুদিন ধরে নীলাম্বরী আসছে না,তবে তার কি কিছু হলো?কাধের উপর কে যেন হাত রাখে,আমি ফিরে তাকাই। "মা?" "তোর নীলাম্বরীকে দেখতে এলাম।"মা পাশে বসতে বসতে বলে ওঠেন। "সে আজ আসে নি।"আমি হতাশ কন্ঠে বলে উঠি। মা বিমর্ষ চোখে আমার দিকে তাকান।"এভাবে আর কতদিন?" আমি মায়ের দিকে ফিরি।"যতদিন বেঁচে আছি।" "বাস্তবতায় কি ফিরে আসবি না?" আমি হেসে উঠি,শুকনো হাসি।"বাস্তবতা বড় নিষ্ঠুর।আমি তাকে প্রচন্ড ভয় পাই।" মা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন,উঠে চলে যান ফেরার পথ ধরে।আমি বসে থাকি,ফিরে যাই দুবছর আগের সেই দিনগুলোতে।যখন বিকালটা কেটে যেত নীলাম্বরীর সঙ্গে। ভালই কাটছিল সব,একদিন হঠাৎ সে হারিয়ে গেলো জগতের সকল বাস্তব গল্প থেকে।বাম হাতটার দিকে ফিরে তাকাই একবার,সেখানে আজও যেত রক্তের গন্ধ।একটা ট্রাক,নিথর দেহ....মাথাটা কেমন যেন গুলিয়ে আসে।আমি আর ভাবতে চাই না,কল্পনায় বেঁচে থাকতে চাই আজীবন। দূর আকাশে তাকাই,সেখানে আঁধার নেমে আসছে।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি,অনিশ্চিত দীর্ঘশ্বাস...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অসমাপ্ত নীলাম্বরী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now