অসমাপ্ত ভালোবাসা (৪র্থ পর্ব) "উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রাসেল পারভেজ (০ পয়েন্ট)
X
"অসমাপ্ত ভালোবাসা" (৪র্থ পর্ব)
লিখেছেনঃ রাসেল পারভেজ
অশ্বত্থ বৃক্ষের তলদেশে ভাবলেশহীন ভাবে বসিয়া এক নয়নে নদীর চরা দেখিতেছিল সোহান। কত স্মৃতি জমা পড়িয়া আছে এই নদী তীরে। সোহানের বয়স তখন বোধহয় দশ হইবে, তখনও ভালোভাবে সাঁতার শিখিতে পারিয়াছিল না। সেবারের বর্ষায় দুই দিনেই নদীতে জলে পূর্ণ হইয়া গিয়াছিল। নদীতে সেকি জলের তেজ। আস্ত দুই জোয়ানের ও নৌকো বাহিয়া পাড়ি দিতে গায়ের ঘাম ছুটিয়া যাইতো। বৃষ্টি হইলেই নদীর এঁটোল কাদা বাহির হইয়া প্রচুর পিচ্ছল হইতো। পাড়ার ছেলেপুলেরা তখন নদীতে আসিয়া পিচ্ছিল খেলিতো, কেহ নদীর কিনারের পিচলায় বসিতো কেহ পিছন হইতে সজোরে ধাক্কা দিতো আর সে পিছলাইতে পিছলাইমতে জলের মধ্যে উবু হইয়া পড়িতো, সেকি আমদ সবার মুখে। কেহবা দূর হইতে ছুটিয়া আসিয়া জলে ঝাপাইয়া পড়িতো। সেদিন সকলের দেখাদেখি সোহানও ঝাপাইয়া পড়িলো। সেদিন জলের প্রচন্ড বেগ ছিল। সোহান জলে ঝাপাইয়া হাত পা ছুঁড়িয়া সাতরাইতে লাগিলো কিন্তু ওত তেজের জলের সাথে সোহানের ক্ষুদ্র দেহ পারিয়া উঠিতেছিল না, বারংবার দুরে ভাসিয়া যাইতেছিল। ভাগ্যিস তখন আয়েশা হাতখানা জাপটাইয়া ধরিয়াছিল নয়লে সেদিন ভাসিতে ভাসিতে লাঙ্গলবাঁধের ঘাটে গিয়া ঠেকিতো।
আজ বারংবারই আয়েশার কথা মনে বাজিতেছে। চোখের সামনে এখনও জ্বলজ্বল করিতেছে আয়েশার বাম হাতের দাগ খানা। সেদিন ফড়িং ছানা কাড়িয়া নিয়াছিল বলিয়া আয়েশার দক্ষিণ হস্তে কামড় বসাইয়া দিয়াছিল।
আজ বারংবার চক্ষু হইতে নোনা পানির স্রোত বহিতে চাহিতেছে। পিছন হইতে কে যেন ঘাড় ছুঁইয়ে দিলো, সোহান ঘাড় ফিরিয়া দেখিলো বিকাশ চুপিসারে কখন যেন পিছনে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে। বিকাশ শুধু শীতল স্বরে কহিল, "কাকি তোমায় খুজছেন, বাড়ি যাও। "
.
সোহানের মা এক হাড়ি ভাজা পিঠা আর এক সের চাউলের পায়েস রাধিয়াছে। সোহানকে দেখিয়া তৃপ্তির হাসি হাসিয়া কহিল, " একবার তোর খালাদের বাড়িতে যা দিকিনি, মাজু সেই এক হপ্তা আগে থেকে ডেকে পাঠাচ্ছে।"
সোহান কিছু না কহিয়া ঘর গিয়া পিরানখানা গায়ে চাপাইয়া খালা বাড়ি চলিলো।
সোহান সন্ধ্যা নাগাদ খালা বাড়িতে পৌছলো। বাড়িতে মহাভোজের আয়োজন চলিতেছে। সোহান আসিবে ওরা বোধহয় আগে থেকেই জানিতো। সোহান চুপচাপ দেউড়ির পাশে ক্ষণকাল দাড়াইয়া ছিলো। খালার ছোট ছেলে হাবিব বোধহয় হাতপা ধুইতে কুয়োপাড়ে যাচ্ছিল, সোহানকে দেখিয়া চেচাইতে চেচাইতে মাকে জানান দিয়া আসিলো সোহান ভাই আসিয়াছে। সোহানের খালা মাজু বেগম রান্নাঘর হইতেই দেউড়ির দিকে উকি দিয়া দেখিবার চেষ্টা করিলো। পরক্ষণেই খালাতো ভাই খবর পৌছাইয়া পুনরায় সোহানের পাশে আসিয়া দাড়াইয়াছে। ক্ষণকাল সোহানের হাতের পাতিলের দিকে চাহিয়া কহিল, "হাড়িতে কি আছে ভাই? "
সোহান হাড়ি দুইখানা খালাতো ভাইয়ের হাতে তুলিয়া দিয়া কহিল, " ঘরে নিয়ে দেখিস। "
হাবিব দুইহাতে পাতিল দুইটা ধরিয়া রাখিতে পারিতেছে না, তবুও ছাড়িবার পাত্র নয়, বাকা হইয়া ছ্যাঁচড়াইতে ছ্যাঁচড়াইতে ঘরে লইয়া গেল। ততক্ষনে মাজু বেগম রান্নাঘর ছাড়িয়া সোহানের কাছে আসিয়াছে, কাপড়ের আঞ্চল খানা দিয়া চোখ মুছিয়া লইয়া কহিল, " কতদিন তোরে দেখিনা, হপ্তা ধরে খবর দিয়েও আসছিস না। " এই বলিয়া মাজু বেগম আবার চোখ মুছিয়া লইয়া কহিল, " না খেয়ে চোখমুখ একদম শুকিয়ে ফেলেছিস। তোরে দেখলেই আমার আব্বার কথা মনে পড়ে। ঠিক অবিকল তোর মতই দেখতে ছিলো।" মাজু বেগম পুনরায় চোখ মুছিলো। সোহান মুখে একখানা মুচকি হাসির রোল তুলিয়া পুনরায় চুপ হইয়া গেল
চলবে...........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now