বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অশ্রুর অভিশাপ(সুমু)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এস এম মোরশেদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X ____ অশ্রুর অভিশাপ ____________(সুমু) , , , , জানালার ছিদ্র পথে রাশিরাশি আলো অন্ধকার ঘরটা কে আলোকিত করে তুলছে। নির্ঘুম চোখগুলি যেন আর বাধা মানতে চায় না। বাহিরের কুয়াশাকে শীতল করতে সূর্য হার মানছে। বৃক্ষের পাতা থেকে এখনো ফোঁটা ফোঁটা অশ্রুজলের ন্যায় পানি ঝড়ছে। লাইটের হরেক রকম আলোতে চোখজোড়া ও অসহ্য হয়ে যাচ্ছে। কখনো সাদা কখনো নীল কখনো সবুজ। মনোরম দৃশ্যপট ছেয়ে যাচ্ছে আমাদের পুরো বাড়িটা। নিখুঁত ভাবে কারুকার্য করা হয়েছে পুরো বাড়িটাকে। নানা রকম সাঁজে সজ্জিত করা হয়েছে। এত রকম সাঁজে সজ্জিত করার একটি মাত্র কারণ হলো আজ বড় আপুর বিয়ে। ভোর থেকেই মেহমানদের আনাগোনা। ছোট্ট শিশুদের হৈ হোল্লার আওয়াজ কর্ণ ইন্দ্রিয় ছেদ করে বক্ষকে ছিঁড়ে ফেড়ে খাচ্ছে। মুখে হাসি ফুটিয়ে থাকাটা সম্ভব হলে ও ভিতরে বাধ ভাঙ্গা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। আপু আমাকে ছেড়ে অন্যের সংসারে চলে যাবে এটা ভাবতেই কষ্টটা কেমন জানি মুখ থুবড়ে পরে। অশ্রুজল চোখগুলিকে বর্ধিত করে ফেলে। মানে না কোনো বাধা অনায়সে পরতে আছে। , এই একটি মাত্র মানুষ ছিলো আমাকে বুঝার। আর এই মানুষটাই স্বার্থপরের মত অন্যের ঘরে চলে যাবে তা মেনে নেওয়াটা অসম্ভব। সবাই যখন আমাকে অবহেলার পাত্র ভাবতো তখন আপুটা মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতো চিন্তা করিস কেন আমি তো তোর পাশে আছি। একটা দিনের কথা খুব মনে পড়ে আমার। আমি পঞ্চম শ্রেণীতে ফাইনাল পরিক্ষায় একটা বিষয়ে অকৃতকার্য হই। আসলে ভুলটা আমারই ছিলো,ভুল করে আমার সিট নং এ অন্য একটা লিখে ফেলেছিলাম, তাই এই বিষয়ে আমার ফল স্থগিত করা হয়েছিলো। আমার ফল আসে নাই। ফলাফল বের হওয়ার পর আমি যখন ঘরে আসি তখন পরিবারের বাকি সদস্যরা আমাকে নিয়ে মশকরা করতে থাকে। আমি অতিরিক্ত ভেঙ্গে পড়েছিলাম, কারণ আমি জানতাম এটা অসম্ভব। আমার প্রত্যেকটা পরিক্ষা ছিলো পরিপূর্ণ খুব ভাল পরিক্ষা ও দিছি তাহলে এমন হলো কেন। বাবা আমাকে অনেক মেরেছিলেন। পরিবারের সবার চোখে যখন ঘৃণিত তখন একটা মানুষের চোখে আমি সুনার খনি ছিলাম সেটা হলো এই বড় আপু। বড় আপু আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আমার পাশে দাড়ায়। যার ফলে আমি কিছুটা বেঁচে যাই। নিজেকে স্থির রাখতে পারি। , আজ আপুর বিয়ে। কিন্তু আমি জানি আপু এই বিয়েতে রাজি নয়। বাবা একরকম জোড় করে আপুকে বিয়ে দিচ্ছে। আপু মিরাজ ভাই কে ভালবাসে এটা ও আমি জানি। কিন্তু পরিবারের কারোর সম্মতি ছিলো না আপু মিরাজ ভাইকে বিবাহ করে সুখে থাক। মিরাজ ভাইয়ের পরিবার একটু দরিদ্র বলে সবাই ঘৃণার চোখে দেখে। আমাদের পরিবার ও তার ব্যতিক্রম নয়। আপু অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু কেউ বুঝতে চায় নি। গরীব লোকদের যে একটা মন আছে এটা কেউ বুঝতে চায় নি। সবাই মশকরা করে উড়িয়ে দেয়। মিরাজ ভাই আপুকে পালিয়ে যাবার প্লানটা ও বলেছিলো। কিন্তু আপু পরিবারের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে রাজী হয় নি। দীর্ঘ পাঁচ বছরের একটা রিলেশন মূহুর্তের মধ্যে এভাবে নিঃশেষ হবে উভয়ের মধ্যে কেউই কল্পনা ও করে নাই। আপু আর মিরাজ ভাই একে অপরকে অনেক বেশী ভালবাসতো। হয়তো সবার মত তাদের ও একটা স্বপ্ন ছিলো। উভয়ে একটি ঘরে অবস্থান করবে। একসাথে জ্যোৎস্না বিলাস করবে। একটি চাঁদ উভয়ে মিলে দেখবে। একে অপরের কাধে মাথা রেখে ভালবাসার সাগরে ডুব দিবে। কিন্তু তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। স্বপ্নগুলি এখন শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে তাদের চারিপাশে। , বড় লোকের ছেলে দেখে আপুকে বিয়ে দিবে কোনো নিচ বংশের দরিদ্র পরিবারের হাতে আপুকে তুলে দিবে না এটা ছিলো বাবার প্রতিজ্ঞা। তার কাছে ভালবাসার কোনো মূল্য ছিলো না। ছিলো না মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা। তার একটাই চিন্তা শুধু টাকা। তাই বাবা এই রকম একটা স্বপ্নকে ভেঙ্গে দিতে পারলেন। বাবার উপর আমার ও ভিষণ রাগ হচ্ছিলো। আপুর দুঃখ বেদনাটা কেউ বুঝতে চায়নি। কেউ তার দুঃখের ভাগটা নিতে চায়নি। গভীর রাতে আপুর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ কারোর কর্ণ ইন্দ্রিয়কে ছেদ করে নি ঠিক। কিন্তু আমার কর্ণ ঠিক তা শুনতে পেত। আমি ছিলাম নিরুপায়। কিছু করার শক্তি নেই আমার। আপুর রুমে ও যাই না কারণ আপুর কান্না দেখে আমি নিজেকে স্থির রাখতে পারি না। আপু যখন আমাকে জড়িয়ে কান্না করতো তখন আমার হৃদয়টা ফেটে ছিন্ন হয়ে যেত। তবুও আপু লুকানো বেদনাগুলি চেপে ধরে পরিবারের সম্মানটা বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলো। , বাবার কদমে আমি অনেকবার আকুতি করে বলেছি, বাবা আপুকে মিরাজ ভাইয়ের হাতে তুলে দাও। তাদের ভবিষ্যৎ অনেক আলোকিত হবে। তাদের কে এভাবে মরুভূমিতে ছেড়ে দিয়ো না। আমার প্রতিদান স্বরূপ বাবার লাথি খেতে হলো। তার পরও আমি বাবার কদমে বারবার লুটিয়ে পরতাম। আমি জানতাম কেউ আমার কথা শুনবে না কারণ সবাই যে এখন টাকার কাছে অন্ধ, ভালবসার কোনো মূল্যবোধ তাদের কাছে নেই। জননী গর্ভধারিণী ছিলেন একেবারে নিরুপায়। আদরের মেয়েটিকে পালিয়ে যাওয়ার কথা ও বলতে পারছেন না, আবার বিয়ে করে নেওয়ার কথা ও বলতে পারছেন না, শুধু আলিঙ্গন করে কয়েক ফোঁটা অশ্রু উ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অশ্রুর অভিশাপ(সুমু)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now