বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি কি ছবি আঁকবো নাকি নীহারিকার দিকে তাকিয়ে
থাকবো?
মেয়েটা এতো সুন্দর করে সেজে আসছে
যে চোখ ফেরাতে পারছি না।মেয়েটা যে
এতো সুন্দর আর মায়াবি তা আগে খেয়াল করা হয় নি।
কয়েকদিন ধরে আমাকে জ্বালাতন করছে
মেয়েটা।তার নাকি ছবি এঁকে দিতে হবে।আমি ছবি
আঁকতে পারি।তবে সেটা প্রকৃতির দৃশ্য হতে হবে।
মেয়েদের ছবি ঠিক আঁকি না।কারন,সেটা ঠিক মত
ফুটিয়ে তুলতে পারি না।আরো একটা কারন আছে।
সেটা হলো কোন মেয়ের ছবি আঁকতে
গেলেই হাত কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়।আর এতে
আমারর কোন নিয়ন্ত্রন নেই।কি কারনে হয় তা ঠিক
বুঝতে পারি না।তবুও তাকে এঁকে দিতেই হবে
যেমন ই হোক না কেন!ভার্সিটি ছুটি কিছু দিন।তাই
কাছেই একটা নদীর পাড়ে আসছিলাম ছবি আঁকতে।
নীহারিকা ফোন করে জানতে চাইলো যে আমি
কোথায়।বলার আধ ঘন্টা পরেই গাড়ি নিয়ে হাজির।
কিন্তু অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে এতো অল্প
সময়ের ভিতরে কেমন করে এতো সুন্দর ভাবে
সাজতে পারে একজন!আর এজন্যই নাকি নারীরা
রহস্যময়ী।এই তো কিছুদিন হলো নীহারিকার
সাথে পরিচয়।খুব সম্ভ্রান্ত আর ধনী পরিবারের
মেয়ে সে।সেদিন প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে।ভার্সিটির
গেটের সামনে অনেক পানি জমে আছে।সবাই
দাড়িয়ে আছে।আমি ঠিক একটু ফাকা জায়গায় দাড়ানো।
কারন,আমি ঠিক আলাদা থাকতে পছন্দ করি।একটু নিরবতা
আমার খুব পছন্দ।খেয়াল করে দেখি নীহারিকা
দাড়ানো পাশে।বৃষ্টি থেমেছে।কিন্তু তার গাড়ি এখন
পৌঁছে নি।একই ক্লাসে পড়লেও আমি ঠিক
মেযেদের একটু এড়িয়ে চলি।কারন,আমার অস্বস্হি
লাগে।যখন রিকশা ডাক দিয়ে উঠে পড়লাম মেসের
উদ্দেশ্যে তখনই কেউ একজন বলে উঠলো,
-রুদ্র সাহেব,আমি কি যেতে পারি আপনার সাথে?
চেয়ে দেখি নীহারিকা চোখে দুষ্টুমির হাসি।আমার
একটু অস্বস্হি লাগছিলো।আমি ঠিক কিছু বলতে পারলাম
না।তবুও সে উঠে বসলো।আমাদের মেসের
রাস্তা দিয়েই নাকি সে যায়।আমি চুপচাপ বসে আছি
দুরত্ব নিয়ে।
-তুমি ঠিক কম কথা বলো।
-জ্বী।আমি নিরবতা পছন্দ করি।
-ক্লাসমেটের সাথে আপনি কেমন দেখায়?
হেসে উঠলো সে।সেদিন হতেই বন্ধুত্ব।
তারপর আর কি সময়ের সাথে পাশাপাশি অবস্থান বাড়তে
থাকলো।
-কি হলো মিস্টার রুদ্র সাহেব?হা করে তাকিয়ে
কেন?
আমাকে কোন সময় যে অস্বস্থিতে ফেলে
দেয় মেয়েটা তা ঠিক ধরতে পারি না।যেমন এখন
হচ্ছে।তবে একটা কথা।নীহারিকা অন্য সব ধনী
মেয়েদের মত না।তার মনটা খুব সুন্দর।আর কোন
প্যাচমুচুরা বুঝে না।যা বুঝবে তাই সরাসরি বলবে।
অর্থাৎ স্পষ্টভাষী।সাথে খুব আন্তরিকও।মানুষের
মূল্য বুঝে।নয়তো আমার মত একজনের সাথে
কেন বন্ধুত্ব করবে?মেয়েটা যখন দুষ্টামি
করবে,ঠিক তখন আপনি করে বলবে।সাথে
আমাকে বিব্রত করে ফেলবে। ধাঁধাঁয় ফেলে
দেয়া যাকে বলে।
-কি দেখছো অমন করে?ছবি আজ এঁকে দিতেই
হবে।
-ঠিক দেখছি না।ভাবছি যে এমন নিখুত আর সৌন্দর্য
ফুটিয়ে তুলতে পারবো কিনা?
-ওই,একদম চালাকি হবে না।ছবি না এঁকে দেয়া ধান্দা
হচ্ছে না?একদম খবর আছে।
-গাড়ি ছেড়ে দিলে যে?
-তোমার সাথে রিকশাতে যাবো।
এবার ঠিক আমি ভয় পেয়ে গেলাম।তার চাহিদা টা যেন
বেড়েই চলেছে।আমার সাথে রিকশাতে করে
যাবার চাহিদা।মাঝে মাঝে খুব ভয় পাই।কখন আবার ওর
বাবা ঠিক জেনে যায়।যদিও আমরা কেবল বন্ধু।এটা
ছাড়া অন্যরকম কোন সম্পর্ক নেই আমাদের।
যাক,তাকে সোজা হয়ে দাড়াতে বললাম। আর আমি
ক্যানভাসে মনোযোগ দিলাম।যদিও মেয়েদের
ছবি আঁকি নি কোনদিন।তবে আজ না এঁকে পারা যাবে
না।জানি ভালো হবে না।তবে ঠিক এক ঘন্টা পর আমার
ভুল ভাঙলো।এতো সুন্দর ছবি আঁকতে পারি আমি তা
নিজেই জানতাম না।নীহারিকা খুশিতে জড়িয়ে ধরলো
আমায়।আমি থতমত হয়ে গেলাম।অস্বস্হির চরম
পর্যায়ে আমি।
-স্যরি রুদ্র
-ঠিক আছে
নীহারিকা মুচকি হাসি দিলো।ছবি আঁকা শেষে দুজনে
রওনা দিলাম।সে একটা রেস্টুরেন্টে যেতে
চাপাচাপি করছিলো।বিলের ভয়ে না।যদিও জানতাম সে
বিলটা দিবে।আসল কারন ছিলো তখন আমার অস্বস্হি
ভাব টা কাটে নি।তাই আলাদা হতে চাইছিলাম।আরো
একটা কারন ছিলো।আমরা বন্ধু হলেও সে সম্ভ্রান্ত
ধনীর ছিলো।অনেক ক্ষন সাথে দেখলে
লোকে অন্যরকম ভাববে।যদিও ক্যাম্পাসের কথা টা
আলাদা।মেয়েটা জানে তার সাথে চলতে এমনিতেই
অস্বস্হি কাজ করে।তারপরেও এমন কাজ গুলো
করবে যাতে আমি অস্বস্থিতে পরি।
কিছুদিন পরের ঘটনা।সন্দেহ টা ঠিক ভয়ে পরিণত
হলো আমার।নীহারিকার বাবা গাড়ি পাঠিয়েছে আমার
জন্য।মানে আমাকে ডেকেছেন তিনি।হয়তো
খারাপ কিছু আছে তাই সম্মান করে নিয়ে যাচ্ছেন।
পরে আদর দেখাবেন।আসলে হয়েছে টা কি।
নীহারিকা আমাকে অস্বস্থিতে ফেলে দেয়।আর
এটা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।সেদিন তাকে
সেটা বলেছি।আর সে যেন আমার সাথে একদম
কম চলে তা বলেছি।তাতে মেয়ে টা অভিমান করে
চলে গেছে ক্যাম্পাসে আসে নি।না আসুক।
আপাতত একটু শান্তি পাবো।কিন্তু ঠিক আজ বিপদ
এসে দুয়ারে হাজির।দেখি কি হয়।কিছু না হোক।নতুন
অভিজ্ঞতা তো হবে।
-তুমি কি জানো ঠিক কি জন্য ডেকেছি তোমাকে?
-জ্বি আঙ্কেল।আমি যাতে নীহারিকার সাথে না মিশি
সে জন্য!
-গুড বয়।
-আপনি যা ভাবছেন তা না।আসলে আমি ওকে ভাল বন্ধু
মনে করি।আর কিছু না।আর ভালো বন্ধু কখনো
অপর বন্ধুর ক্ষতি চাইবে না। আপনি যখন বলেছেন
তখন আর যাবো না নীহারিকার সাথে।
সব শেষে চলে এলাম মেসে।সেই গাড়িতে
করেই নামিয়ে দিয়ে গেছে। যতটা ভয় পাইছিলাম
ততটা হয় নি। যাক,আপাতত আর অস্বস্থিতে পরতে
হবে না।খুব পিপাসা লেগেছে।ঠান্ডা পানি খাওয়া যাক।
পরের কদিন আগের মতই স্বাভাবিক ভাবে চলতে
লাগলাম।নীহারিকা নেই, অস্বস্হি ও নেই। তবে
মেয়েটা অনেক ভালো মনের।যে কারো
সাথে মানিয়ে নিতে পারে সহজেই।সকাল হয়েছে
অনেক আগে।ওঠে নিজের অ্যাসাইনমেন্ট টা ঠিক
করে নিয়েছি। পরে সময় হবে না।কিন্তু
পরক্ষনেই অবাক হয়ে গেলাম।নীহারিকা আমার
মেসে এসে হাজির। আজ এতো সেজেছে
যে চোখ ফেরাতে পারছি না পরে আবার সেই
চিরচেনা অস্বস্হি তে পরে গেলাম কথাটা শুনে।
-রুদ্র, তোমাকে বাবার বেশ পছন্দ হয়েছে।তিনি
অনেক ভেবে দেখেছেন।আমি নাকি তোমার
কাছেই সুখে থাকবো।
-এই কি বলছো এসব?কিছুই বুঝতে পারছি না।
-তুমি যখন তোমার সাথে চলতে না করলে তখন খুব
অভিমান হয় আমার।সেজন্যই ক্যাম্পাসে যাই নি।অল্প
কদিনেই তোমাতে কতটা ডুবেছি তা টের
পেয়েছি এই কদিনে।বাবা সেটা ধরে ফেলেন।
পরে বাবাকে সত্যি টা বলি।যে আমি তোমাকে...
-তুমি আমাকে কি?
ধ্যাত অসভ্য।আমার লজ্জা করে।পরে তিনি বললেন
যে তোমাকে যদি উনার পছন্দ হয়, তবে তিনিই সব
ব্যবস্থা করবেন।
না আর শেষ রক্ষা হলো না।শেষ পর্যন্ত আবার
অস্বস্থিতে পরতেই হলো।কি পাগলামো করে
বসলো মেয়েটা।তবে যাই হোক না কেন!এরকম
টা হলে সারাজীবন ই অস্বস্থিতে পরতে রাজি আছি
আমি....!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now