বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অরণিকাষ্ঠ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X বৃষ্টি নেমেছে তাই রিক্সাটার হুড উঠিয়ে দিতে হলো । এতেই যত বিপত্তি । রনো এতক্ষন যতটুকু পারে সাইডে চেপে বসেছিলো কিন্তু এখন আর পারলো না। তার গা অরিণের সাথে ঘেষে গেছে । রিক্সাওয়ালার কাছে তেরপাল চেয়েছিল কিন্তু তাও নেই । এদিকে বৃষ্টির আরো জোরে নেমেছে । দুজনের ভিজে একাকার হবার অবস্থা । রনো খুবই বিব্রত । তবে একদিক দিয়ে খারাপ লাগছে না রনোর । অরিণের চুলের সুবাস পাচ্ছে। 'বোধ হয় শ্যাম্পু করেছে আজ তাই' -রনো ভাবল । অরিণের খারাপ লাগেনি যখন রনোর গা তার গায়ের সাথে ঘেষেছে । ছেলেটা খুব লাজুক। এতক্ষন সাইডে চেপেছিল কিন্তু হুড তোলায় আর সাইডে চাপতে পারছে না তাই অনেকটা বিব্রত , অরিণের বুঝতে বাকি রইল না । অরিণের ইচ্ছে করছে হুড নামিয়ে দিয়ে ভিজতে কিন্তু তা পারছে না । 'মামা রাস্তার এইপাড় না ওইপাড় নামবেন' -রিক্সাওয়ালার ডাকে দুজনের চিন্তায় বাধা পরল । 'ওইপাড়ে নামান মামা' - শপিংমলের সামনের দিকে হাতে ইশারা করে রনো । আজ রমজানের বাইশ তারিখ । বৃষ্টি নেমেছে তবুও এখানে অনেক ভীর দেখা গেলো । গতমাসেই বিয়ে হয়েছে রনো আর অরিণের । তেমন ধুমধাম কিছু না । রনোর পরিবার বলতে শুধু ওর মা। তিনি গ্রামে একা থাকেন । রনো ঢাকায় একটা চাকরি পেয়ে এখানেই স্যাটেল হয় । অরিণকে দেখে রনোর মার ভালো লাগাতে পরবর্তী সপ্তাহের শুক্রবারে ছোট খাট আয়োজনের মধ্যে বিয়ের কাজ সেরে ফেলে । বিয়ের পর রনোর দুরুমের বাসায় ওঠে তারা । ছিমছাম হলেও রনো ভালোই গুছিয়েছে বাসা। ঘরটাকে কিছুদিনের মাঝেই আপন করে নিলেও রনোকে আপন করতে পারেনি অরিণ । রনোর নিজের মাঝে গুটিয়ে থাকাই হয়ত তার কারণ..... .................... মোটামোটি কাকভেজা হয়েই দুজন শপিং মলে ঢুকলো । অরিণ ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো। অভিজাত শপিং মলের আকাশচুম্বী দামের আশংকায় রনো তার মানিব্যাগ নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত। বাসা ভাড়া আর গ্রামে মায়ের কাছে টাকা পাঠিয়ে প্রায় ফাঁকা মানিব্যাগ । 'এটা ক্যামন হবে ? '- নীল রঙের একটা শাড়ি দেখিয়ে বলছে অরিণ 'পচ্ছন্দ হলে নিয়ে নেই , এটার প্রাইস ক্যামন হবে ভাই' - দোকানিকে জিগ্যেস করে রনো দাম শুনে রনো তার মানিব্যাগে থাকা টাকার পরিমাণ হিশেব করলো । হিশেবে দেখা গেলো একেবারে ফাঁকা হয়ে যায় মানিব্যাগ । কিন্তু অরিনের আলোয় ভরা চোখে তাকিয়ে হিশেব আর করা হলো না। দাম মিটিয়ে আরো কিছুক্ষন ঘোরাঘুরি করার পর রনো বলল - 'বাসায় রওনা দেই' 'আপনার জন্যে কিছু কিনবেন না' 'না , আমি পরে আবার এসে দেখবো' 'আমি পচ্ছন্দ করে দেই' 'না পরে আবার আসব' বাইরে তখন বৃষ্টি নেই । বেরিয়ে রিক্সা ডাক দিল রনো। _____________________________________ আজ শেষ রমজানের রাত । কালই ঈদ । আগের ঈদের পাঞ্জাবিটা ইস্ত্রি করতে হবে- রনো সিড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতে উঠতে ভাবছে । সিড়ির শেষ ধাপে আসতেই অরিণ দরজা খুলল । রনো খেয়াল করেছে প্রতিদিনই প্রায় শেষ ধাপে আসতেই অরিণ দরজা খোলে । কোনো ভাবে টের পেয়ে যায় হয়ত সে আসছে । ভেতরে ঢুকে রনো এক গ্লাস পানি চাইলো । শোবার ঘরে ঢুকে বিছানায় একটা শপিং ব্যাগ দেখল রনো । কি হতে পারে ভাবতে ভাবতেই অরিণ পানি নিয়ে ঢুকল। 'আজ সে মলে গিয়েছিলাম । আমার শাড়িটা হঠাৎ করেই ক্যামন যেনো লাগছিলো । রঙটা ভালো লাগছিলো না তাই বদলিয়ে অন্যটা এনেছি । অনেকগুলো টাকা বেঁচে যাওয়ায় আপনার জন্য একটা পাঞ্জাবি এনেছি । দেখেন তো ভালো হয়েছে কিনা ? ' রনো সরাসরি অরিণের চোখে তাকালো । অরিণ চোখ সরিয়ে নিলো । চোখে চোখ রেখে মিথ্যের অভিনয় করা যায় না । তবুও যে মিথ্যায় হাসি ফোটে তার পাপ হয়ত আল্লাহ সুবহানাতা'লা মাফ করেন । ....................... পরদিন বিকেলে দুজন নব দম্পতীকে রিক্সায় হাতে হাত রেখে ঘুরতে দেখা গেলো


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অরণিকাষ্ঠ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now