বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অপ্রাসঙ্গিক:-[|] (পর্ব -২)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X আরো প্রায় ঘন্টা খানেক পর রাজীবের জ্ঞান ফিরল। আমাদের দিকে রাজীব কেমন যেন বোকাবোকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল। আমরা পাত্তা না দিয়ে জিজ্ঞেস কলাম – তুই ওই ভোরে একা একা পুকুর পাড়ে কি করছিলি? আমাদের চাপাচাপিতে সে শেষ পর্যন্ত বলল আমরা যখন গল্প করছিলাম আগের দিন সন্ধায় সে নাকি কি সব শব্দ শুনতে পেয়েছিল। আমরা বললাম – আমরা তো শুনতে পাইনি। সে বলল – তোরা খেয়াল করিসনি। আমরা আর কথা বাড়ালাম না। কিছুক্ষন পর সবাই খেয়ে দেয়ে বসে ছিলাম তখন খবর এলো মামা আমাদের ডাকছেন। সবাই মিলে মামার ঘরে গেলাম। মামা আমাদের দেখে বলতে লাগলেন – তোমরা আর কোনোদিন ওই পুকুর পাড়ে যাবেনা, বিশেষত সন্ধ্যায়। আমরা বললাম- কেন মামা? মামা বললেন – অনেক অনেক দিন আগে এই গ্রামেরই এক মেয়ে ভর সন্ধ্যায় ওই গাছে ফাঁসি নিয়ে আত্নহত্যা করে। কারণটা জানা যায়নি। তার লাশটাকেও কেউ দাফন করতে রাজী হয়নি। শেষ পর্যন্ত তার পরিবার লোকেরা জানাজা ছাড়াই লাশটাকে ওই বরই গাছের নিচে কবর দেয়। এ ঘটনার পরে ওই মেয়ের পরিবারে লোকজনদের একঘরে করা হয়। তার পর থেকেই সে গাছের আশে পাশে প্রায়ই অদ্ভূত কিছু দেখা যায়। কে যেন ওখানে বসে কাঁদে, কাউকে দেখতে পেলে কাছে ডাকে। রাজীব বলে – এটা তো কোন কথা হয়ে পারে না, ভূত বলে কিছু নেই। মামা তর্ক না করে বলে – তাহলে বলতো, তুমি আজ ভোরে ওখানে কেন গিয়েছিলে আর কেনইবা কাঁদছিলে? রাজীব আর কিছু বলে না। মামার ঘর থেকে বেড়িয়ে আমরা আবার ধরলাম রাজীবকে – সত্যি করে বলতো তুই আসলে কি করতে গিয়াছিলি ওখানে? রাজিব বলে – সে ভোরে যায়নি আসলে, সে গিয়েছিলো মাঝরাতে। আমরা সবাই তখন ঘুমিয়ে পরেছিলাম। তার ঘুম আসছিলো না। সে সুধু সন্ধ্যায় শোনা শব্দটার কথা ভাবছিলো। সেদিন সন্ধ্যায়ই সে বুঝতে পেরেছিলো যে ওই শব্দটা আমরা কেউ শুনতে পাইনি। আসলে সে শব্দটা শুনেই আমরা ওই পুকুর পাড়ের দিকে তাকাই, কিন্তু মজা করার নেশায় থেকে সেটা আর আমাদের মনে ছিলো না। কিন্ত রাজীবের কেন যেন সন্দেহ হয়। তাই সে ওখানে যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমাদের বাধায় ও আর যেতে পারেনি। মাঝরাতে আমরা যখন সবাই ঘুমিয়ে তখন সে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে। তারপর এগিয়ে যায় ওই গাছতলায়। শীতের রাত ছিলো। আকাশে চাঁদ ও ছিলো। বেশ কুয়াশা থাকায় সামনের কিছুদুর আর পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিলো না। তখন রাজীবের মনে হয় টর্চটা না এনে ভুল করেছে। তারপর সে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। গাছটা খুজে পেতে বেশ কষ্ট হচ্ছিলো। বারবার মনে হচ্ছিলো পথ ভুলে করছে না তো? ভিষণ অবাক হয় রাজীব তখন। বাড়ি থেকেও তো ওই পুকুর পাড় দেখা যায়। কিন্তু তার সেখানে এতোটা সময় লাগছে কেন। অনেক্ষন পড়ে রাজীব শেষ পর্যন্ত পৌছায়। কিন্ত সেখানে তেমন আহামরি কিছু সে দেখতে পায়নি। গাছের নিচে বসেবসে কি করবে তাই ভাবছিলো। তখন তার ভিষণ ঘুম পেয়ে যায় আর সে অখানে বসেই ঘুমিয়ে পরে। ঘুম ভেঙ্গে দেখে সে বাড়িতে বিছানায় শুয়ে আছে আর সবাই তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। শুনে আমরা আরো অবাক হলাম। বললাম – তুই যদি ওখানে ঘুমিয়েই থাকবি তাহলে ভোরবেলায় মামা যখন তোকে নিয়ে এল তখন তুই কাঁদছিলি কেন? শুনে রাজীবও ভিষণ অবাক হল। সে বলল – আমিও বুঝিনাই যখন মামা আমাকে বললেন আমি নাকি কাঁদছিলাম। কিন্তু……. । সেদিন সারাদিন আবার আগের মতই রাজীব আমাদের সাথে ঠাট্টা মশকরা করতে লাগলো। কিন্তু আমরা বুঝতে পেড়েছিলাম রাজীব কিছু কারার চেষ্টা করবে। আমরা তার উপর করা নজর রাখতে লাগলাম। কিন্তু সে আর কিছুই করল না। কয়েক দিন কেটে গেলো এভাবে। রাজীব ও বেশ স্বাভাবিক আচরণ করতে লাগল। বেশ কিছুদিন পরে আমরা সবাই প্রায় ভুলেই গেলাম রাজীবের ওই ঘটনাটা। তখনই ঘটলো আসল ঘটনাটা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপ্রাসঙ্গিক:-[|] (পর্ব -২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now