বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অপবাদ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X ১০ বছর পর গ্রামে ফিরছি। ফিরছি মানে এখনো রাস্তায়। যাবো কি যাবো না?পড়েছি এই দুই টানায়। ১০ বছরের মধ্যে আর গ্রামে আশা হয় নি! ছেড়েছি গ্রাম ছেড়েছি মানে বের করে দেওয়া হয়েছিলো চুরির দায়ে। সবার অপমান আর ঘাড় ধাক্কা নিয়ে বের হয়ে এসেছিলাম গ্রাম থেকে। সেই লজ্জায় বাবা গলায় দড়ি নিলো। বাবা গ্রামে একটা বেড়ার স্কুলে পড়াতেন। কত শত ছেলে মেয়েকে আলোর পথ দেখান শেষে কিনা তার ছেলের ঘাড়ে এসে পড়লো চোরের অপবাদ? এটা কি কেউ মেনে নিতে পারবে? তিনিও মেনে নিতে পারে নি। বাবার ঝুলন্ত দেহের দিকে তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। মায়ের পরনে উঠে আসলো সাদা বেনারসি। বাবাকে দাফনের সুযোগটাও দেওয়া হলো না,তার আগেই বের করে দিলো সবাই মিলে। গভীর রাতে লুকিয়ে বাবার কবরটা একটা বার যেয়ারত করে আসলাম। সাথে তিন মুঠো মাঠি দিলাম। মায়ের ঘরের জানালাটার কাছে লুকিয়ে গেলাম মা কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে। গায়ে সাদা শাড়ি, হাতটা ফাকা চুরিগুলো হয়তো অবহেলায় পড়ে আছে সাথে নাকের নলকটাও। মাকে সব সময় বললাম, চাকরির প্রথম বেতনের টাকা দিয়ে একটা লাল টুকটুকে শাড়ি কিনে দিবো। মা কোন কথা বলতেন না শুধু হাসতেন। চলছি উদ্দেশ্যহীন! আচ্ছা ভালোবাসলে কি সব হারাতে হয়? পরিবার সুখ সব কিছু? চুরি না করেও চুরির দায় নিতে হলো ঘাড়ে ভালোবাসার অপরাধে। তারই সাথে হারালাম সব কিছু। কিন্তু আমি তো এটা চাই নি কেন হলো এমন? চেয়েছিলাম ওকে নিয়ে সুখের নীড় তুলবো। সেখানে কষ্টের ছিটা ফোটাও থাকবে না। কিন্তু সেই স্বপ্ন অকুড়েই ভেঙ্গে গেলো। বড়লোকের মেয়ে তার উপর আবার গ্রামের প্রধান। প্রেমটা তার মেয়ের সাথেই নাম অধরা! বিষয়টা প্রধানের কানে গেলেই এই সব কিছু শেষ হয়ে গেলো। আচ্ছা মায়ের কি হবে? মাকে কে দেখবে? গ্রাম থেকে চলে আসার সময় সব হাত পা ধরেছিলাম অনেক বার কিন্তু কেউ কথা কানে নিলো না। বের করেই দিলো। রাতের ট্রেনে ঢাকায়। টিকেট মাষ্টারের দুইটা চড় খেতে হয়েছিলো টিকেটের টাকা টা না দিতে পারায়। গ্রামের স্কুল পাশ করে কলেজটা পাশ করেছি। ভেবেছিলাম একটা চাকরি হবে কিন্তু হলো না। কেটে যাচ্ছে দিন পানিকে সম্বল করে। কিন্তু এই ভাবে আর কত দিন? হাতে টাকাও নেই কিছু একটা করবো। বসে আছি একটা নির্জন স্থানে। ঢাকায় এমন স্থানের খোজ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার! নির্জন বলতেও তেমন নির্জন না তবে অন্যসব স্থানের থেকে একটা ভালো। চারিদিকে নানান কপোত-কপোতির আনা-গোনা এই স্থানে। কেউ বা নিজের ইচ্ছাতেই বিলিয়ে দিচ্ছি তার রুপ সুধা প্রিয়জনের কাছে আবার কেউ বা টাকার বিনিময়ে। কারও নজর নেই কারও দিকে। সবাই ব্যস্ত নিজেদের কাজ এবং উদ্দেশ্য সাধনে। দুরে বসে আছি। একটা রুপবতী নারী এসে আমন্ত্রন জানালো! কোন কথা বলছি না দেখে গাল দিয়ে চলে গেলো। পাশের ঝোপের আড়াল থেকে কপোত-কপোতির হালকা যৌন নিবেদন ভেসে আসছে। চলে আসলাম। বসলাম একটা চায়ের দোকানে। দোকানদার আমাকে দেখেই বললো, -নতুন নাকি? উওরে মাথা নাড়লাম। -বাসা কই? -নওগা -তো এখানে কেন? -কাজের খোজে -পাইছো? -না -করবে? -হুমমম -লেগে যাও! সকালে একটা বিস্কুট দুপুরে আধা পেট আর রাতে পেট পুরে খেতে পারবে। চলবে? মাথা নেড়ে বললাম হুমমম -তো দেরি করো না এখানে টাকা থেকে সময়ের দাম বেশি। -গ্রামে মা আছে। কথাটা শুনেই আমার দিকে তাকালো। -হুমমম কাজ ভালো করলে পাবে। প্রথম মাস টা খেয়েই শোধ। পরের মাস থেকে বেতন দিলো। জামানো শুরু করলাম। চাচা আদর করে ডাকে ছুটু। একদিন বললো...... -ছুটু রে আর মনে হয় দোকানটা রক্ষা করতে পারলাম না রে। কথাটা শুনেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। -কেন চাচা? -রাস্তার কাজ চলবে দোকানের জায়গাটা রাস্তায় যাবে। মলিন কণ্ঠে চাচা বললো! নিজের চোখের সামনে তচনচ হয়ে গেলো দোকানটা। চাচা দেশের বাড়ি চলে গেলো। আবার একা হয়ে গেলাম। প্রতিমাসের জমানো টাকা দিয়ে পানির ব্যবসা শুরু করলাম। ঢাকায় পানিও বিক্রি হয়। কাজটা করি দেখে শত লোকে হাসতো, বিশেষ করে মেয়েরা। পানির ব্যবসা টা বাদ দিয়ে ধরলাম অন্য ব্যবসা। অবশেষে............... -স্যার কাচা রাস্তায় গাড়ি যাবে না তো এখন কি করবেন? শরিফ আলীর কথায় ঘোর কাটলো। আজকে আমার সব আছে যেই প্রধান আমাকে গরীব বলে তার মেয়ের পথ থেকে সরালো তার সব কিছু এখন ১০ বার কিনতে পারি। কিন্তু পারি না নিজের মন থেকে চোরের অপবাদ টা সরাতে। হয়তো গ্রাম বাসির মনে নেই এই চোর নীলের কথা কিন্তু মনে বার বার দাগ কেটে যায় চোর চোর চোর। গাড়ি থেকে নামলাম! হেটেই পথ ধরেছি। আজকে বাবার ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী। পথের ধারে বাবলা গাছটার নিচে কবর দেওয়া হয়েছে। দুর থেকে দেখলাম কবরের পাশে আগরবাতি জ্বলছে। আস্তে আস্তে বাড়ির দিকে হাটা শুরু করলাম। কিন্তু বাড়ি নেই শুধু দুইটা দেয়াল অবশিষ্ট আছে। লোক মুখে শুনলাম মাকে জোর করে একজন বিয়ে করেছে। এতে গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গরা মত ছিলো। কিন্তু কয়েক বছর পর লোকটাও মারা গেছে। আগের বউটা মরার পর মাকে বিয়ে করে! আগের বউয়ের দুই ছেলে। লোকমুখে বাড়িটার সন্ধান মিলালাম। দুর থেকে দেখছি কয়েকটিমাত্র ছোট ছেট বাচ্চাকে কি যেন দিচ্ছে। হয় তো বাবার ছিন্নি (গ্রামের মিলাদের পর যা খেতে দেওয়া হয় তাকেই ছিন্নি বলে) চোখটা জলে ভরে উঠলো। মনটা খুব চাইলো কাছে যেতে। কিন্তু পারলাম না। বাদল চাচার দোকান টা সেই আগের মতই আছে। গ্রামের এক কোনে দোকান সবাই মিলে আড্ডা জমাতাম ওখানেই। আজও আড্ডা জমে! দোকানে গিয়ে বসলাম। -চাচা একটা গরম আদা দিয়ে মিষ্টি চা দেও তো। কথাটা শুনেই চাচা আমার দিকে তাকালো। সাহেব বেসে থাকাতে হয়তো চিনতে পারে নি। তবুও একটু তাকিয়ে থাকলো। -কে বাবা তুমি? -চাচা আমি.......... পুরো পরিচয়টা দিলাম না তার আগেই চুপ হয়ে গেলাম। চোরের অপবাধ আছে না বলাই ভালো। চাচা চা দিলো। "চাচা এই গ্রামেই কি আফাজ মাষ্টার থাকতো? " চায়ে চুমুক দিয়েই কথাটা বললাম। চুমুকে সেই আগের শব্দটাই বের হলো। শব্দটা অদ্ভুদ লাগে নিজের কাছেও। চাচা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো। -হুমমম থাকতো বড্ড ভালো লোক ছিলো। -এখন কই? -ওই যে তার ছেলেটা মান্নানের ম্যাইয়ার সাথে প্রেম করতো তাই মান্নান মিথ্যা চোরের দায়ে গ্রাম থেকে ছেলেটাকে বের করে দিলো সেই লজ্জায় মইরা গেছে। তবে জানো বাবা ছেলেটা চোর না অনেক দিন পর সবাই জানতে পারে। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয় নি কারন ছেলেটা তো নেই। শেষ হয়ে গেলো পরিবারটা। চাচার কথা শুনছি আর চা খাচ্ছি। ১০ বছর আগে যখন চাচার দোকানে বসে চা খেতাম তখস মুখ থেকে একটা অদ্ভুদ শব্দ বের হতো। যা আজও বিধ্যমান চাচা বার বার তাকাচ্ছে আমার দিকে। হয়তো আমার মাঝে সেই নীলের ছায়াটা খুজছে সাহেবী পোশাকের মধ্যে। -তুই নীল না? চাচার কথায় মুখের দিকে তাকালাম। উওর দেওয়ার শক্তি নেই গলাটা ধরে আসছে কান্নায়। -আমি তোকে ঠিকই চিনেছি! যখন গরম আদায় মিষ্টি চা চাইলি। এমন করে তুই চা চাইতি। আর শব্দটা তোর মুখে এখনো আছে। এতো দিন পর কেন এলি রে? -কি করবো চাচা চোর তো তাই। -ওই তুই চোর না রে এখন সবাই জানে তুই চোর না। -যা হারাবার তা তো হারিয়েছি চাচা। -মায়ের কাছে গেছিলি? মাথা নেড়ে কিছু একটা বুঝাতে চাইলাম। -যাবি না? -কেমনে চাচা এই ছেলের জন্য আজ মায়ের এই অবস্তুা। আধরা কেমন আছে চাচা? কথাটা শুনেই মুখটা কালো হয়ে গেলো চাচার। কোন কথা না বলে হাতের ইশারাতে একটা কবর দেখালো দুরে। -কেমনে চাচা? -বাপে টাকার লোভে বাপের বয়সি একটা লোকের সাথে বিয়ে দিছিলো বিয়ের রাতেই মরেছে। সব যেন এলোমেলো হয়ে গেলো একটা মিথ্যা অপবাদে। -মায়ের কেমনে চলে রে? -ভালো না রে! সৎ ছেলেরা দেখতে পারে না এর থেকে ওর থেকে চেয়ে চেয়ে খায়। তুই একবার যা না খুব খুশি হবে রে তোকে পেয়ে। -চাচা এই টাকা গুলো দিও মাকে। ভুলেও আমার কথা বলবে না। কিছু টাকা দিলাম চাচার হাতে। চলে আসলাম চাচার কাছ থেকে অনেক ক্ষন তাকিয়ে দেখলে আমার চলে যাওয়া। রুমাল দিয়ে চোখের পানি মুছলাম। কিইবা করার আছে এখন? মা আমাকে হয়তো আবার বুকে টেনে নিবে কিন্তু তার সাথে জ্বলে উঠবে সেই ১০ বছর আগের চাপানো আগুনটা। হেটে গাড়ির কাছে আসলাম। গাড়িতে উঠতেই শরিফ আলী ইন্জিন চালু করলো। চলছে গাড়ি সাথে সময়ও। ___________ সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৪২০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ইউসুফ আ. এর উপর চুরির অপবাদ
→ অপবাদ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now