বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্ধকারের পর আলো: হংসদের জীবনসংগ্রাম

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rumon (০ পয়েন্ট)

X লেখক: লাল স্যার হংসদ এর জীবন হংসদ ছোটবেলা থেকেই ছিল খুব শান্ত আর পরিশ্রমী। সংসারের হাজার টানাপোড়েন সত্ত্বেও পড়াশোনার প্রতি তার টান ছিল প্রবল। পঞ্চমে পড়ার সময় সে দিনরাত এক করে মেধা ও শ্রম দিয়ে এক দুর্দান্ত ফলাফল করল। সেই সাফল্যের রেশ ধরে সপ্তম শ্রেণীতে উঠেও সে তার ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল। শিক্ষক থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী, সবাই ভাবত এই ছেলেটি একদিন অনেক দূর যাবে। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর খেলা শুরু হলো সে যখন নবম শ্রেণীতে উঠল। হঠাৎ করেই মাথার ওপর থেকে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দেওয়া বাবা পরলোক গমন করলেন। বাবার এই অকালপ্রয়াণ হংসদের পুরো পরিবারকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের মধ্যে ফেলে দিল। বাবার মৃত্যুর শোক আর সংসারের অনটন একসাথে হংসদকে মানসিকভাবে একদম গুঁড়িয়ে দিল। সে প্রচণ্ড হাইপারটেনশন ও গভীর বিষণ্নতায় তলিয়ে গেল। সারারাত জেগে সে কেবল ভাবত—"আমার ভবিষ্যৎ তো এখানেই শেষ! এখন আমি কী করব? কার ওপর ভরসা করে বাঁচব?" হতাশায় ডুবে গিয়ে সে একসময় পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। বই-খাতা গুটিয়ে সে যখন সব আশা ছেড়ে দিয়েছে, ঠিক তখনই তার জীবনে ঘটল এক অবিশ্বাস্য মোড়। সামাজিক মাধ্যমে তাকে একটি আইডি থেকে মেসেজ পাঠাল একটি মেয়ে। তবে মেয়েটি সরাসরি নিজের পরিচয়ে আসেনি; একটি অন্য ছেলের ছদ্মবেশে হংসদের সাথে যোগাযোগ শুরু করে। হংসদের চারপাশের পরিবেশ এবং তার এই ভেঙে পড়ার খবর কোনোভাবে সেই মেয়েটির কানে পৌঁছেছিল। ছেলেটির ছদ্মবেশে মেয়েটি প্রতিনিয়ত হংসদকে মেসেজ দিতে লাগল। সে হংসদকে বোঝাত, "তোমার স্বর্গীয় বাবা তোমাকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তুমি আজ থেমে গেলে তাঁর সেই স্বপ্নগুলোও মরে যাবে। ঈশ্বর তাকেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করেন, যাকে তা সহ্য করার শক্তি দেন।" আইডির পেছনের মূল মানুষটি কে, তা হংসদ জানত না। কিন্তু প্রতিদিনের সেই কথাগুলো, যুক্তি আর অনুপ্রেরণা তার ভেতরে জমে থাকা অন্ধকার দূর করতে শুরু করল। হংসদের মনে হলো, জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সমাধান নয়; লড়াই করে বেঁচে থাকাতেই জীবনের আসল সার্থকতা। হংসদ আবার বই হাতে তুলে নিল। বাবার সৎকর্মের আশীর্বাদ আর নিজের অদম্য জেদকে সম্বল করে সে নতুন উদ্যমে পড়ালেখা শুরু করল। দিনে টিউশনি করা, সংসারের দায়িত্ব সামলানো, আর রাতে টেবিলে বসে পড়া—এই ছিল তার জীবন। হাজারো আর্থিক অনটন আর মানসিক ঝামেলার মুখোমুখি হয়েও সে আর পেছনে তাকায়নি। এক নতুন ভোরের সূচনা বছরের পর বছর ধরে চলা হংসদের এই নীরব সাধনা ও পরিশ্রম অবশেষে আলোর মুখ দেখল। একটা সময় উচ্চশিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে হংসদ তার মেধা ও সততার জোরে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে খুব উঁচু পদে নিজের স্থান করে নেয়। যে ছেলেটি একসময় অনিশ্চয়তায় দিন গুনত, সে আজ নিজের পরিবারকে একটি সুন্দর, সুরক্ষিত ও সম্মানজনক জীবন উপহার দিয়েছে। সাফল্য পাওয়ার পর, একদিন একটি বিশেষ অনুস্থানে হংসদের সাথে দেখা হয় সেই মেয়েটির। মেয়েটি আর কেউ নয়, হংসদেরই বাল্যকালের এক সহপাঠী, যে নীরবে তাকে ভালোবেসেছিল এবং তার বিপদের দিনে নিজের পরিচয় গোপন করে তাকে অন্ধকারের গহ্বর থেকে টেনে তুলেছিল। হংসদ যখন জানতে পারল যে তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে ধ্রুবতারার মতো আলো জ্বালানো সেই মানুষটি কে, তখন তার চোখের কোণে ছিল কৃতজ্ঞতার জল। পরিবারের সম্মতি ও হিন্দুশাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠান মেনে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে হংসদ সেই মেয়েটির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। যে ছেলেটি একদিন জীবনের সব আশা হারিয়ে ফেলেছিল, ঈশ্বরের কৃপা আর নিজের মেহনতে সে আজ কেবল একজন সফল মানুষই নয়, বরং একটি সুন্দর ও ভালোবাসায় ভরা পরিবারের প্রধান। হংসদের এই গল্প আজ তাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা—যারা মনে করে পথ শেষ হয়ে গেছে, আসলে সেখান থেকেই শুরু হয় এক নতুন ভোরের।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অন্ধকারের পর আলো: হংসদের জীবনসংগ্রাম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now