বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনুশুচোনা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X শ্বাশুড়ি মায়ের মৃত্যুর পাঁচদিন পর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পাঁচদিন পর আমরা বাসায় ফিরে আসলাম। ফিরে আসার পর থেকে মঈনকে আমি আর চিনতে পারছিলাম না। প্রায় দুইযুগের কাছাকাছি সময় আমি যে মানুষ নিয়ে সংসার করেছি আজ যেন সে অন্য একজন। প্রচন্ড বদমেজাজি এক মঈন আমার ছায়া মাড়াত না। যতক্ষন সে বাসায় থাকতো আমি অন্য ঘরে থাকতাম। কাজের লোকজন ডেকে প্রয়োজন মেটাতো। অল্পতেই রেগে যেত। ভাংচুর করে একাকার করতো। ঘুমের নানান ওষুধপাতি ওর ঘর ভরা ছিলো। এভাবে এক অস্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছিলাম প্রায় বছর সাত কি আট। এর মাঝেই তিতলিকে বাইরে পাঠিয়ে দিলাম। মেয়ে চলে যাবার পর মঈনের অশান্তির ঝড় আমাকে বিদ্ধস্ত করে দিচ্ছিল। অনেক টাকার বিনিময়ে আমি দিপ্তকেও পাঠিয়ে দিলাম দুইবছরের মাথায়। মঈন নিয়মিত অফিস করছিলো না। অথচ অনেক বড় দায়িত্ব তার।দিপ্ত যাবার তিনদিন পর আমার মা দীর্ঘ অসুস্থতার পর চলে গেলেন। তার মৃত্যু আমাকে কেন জানি খুব ছুঁয়ে যায়নি। বরং সংসারের টানাপোড়ন নিয়েই আমি ছিলাম ব্যস্ত। তিতলি আমার খুব কাছের না হোলেও মোটামুটি একটা সম্পর্ক ছিল। দিপ্তর প্রয়োজন ছাড়া তার সাথে কথাই হোত না। কিন্তু আমেরিকা যাবার পর থেকেই পড়াশুনার দোহাই দিয়ে তিতলিও যোগাযোগ কমিয়ে দিল। দিপ্ততো কখনই করতো না। বরং ছেলে আমার এক নাইজেরিয়ান মেয়েকে বিয়ে করে ফেললো বছর দু'য়েকের মাঝেই। কিভাবে তার দিন কাটছিল জানি না। আর আমার ব্রিলিয়ান্ট মেয়েটাও পড়ায় পেছাতে লাগলো। গ্রাজুয়েশন করতে প্রায় বছর সাতেক নিলো। দু'জনের পেছনে টাকা ঢালতে গিয়ে আমি ক্লান্ত হয়ে পরি। অনেক কিছু বেঁচে দিতে হল। অনেক দেনায়ও জড়িয়ে গেলাম। এক জুলাই মাসের প্রচণ্ড বৃষ্টির রাতে মঈন চলে গেলো। রাত তখন প্রায় সোয়া দুটো। ড্রাইভার সেদিন ছুটিতে। বাসায় আমি দুটো কাজের লোক। আর বাইরে একটা দারোয়ান। কথা নেই বার্তা নেই মঈন আমাকে ডেকে তুলে পানি আর কিছু একটা খাবার চাইলো। আমি আনতে যেতেও পারিনি। খাটের পাশে পরে গেলো ও। কিছু বলতে গিয়ে আমার কোলে মাথাটা কাত হয়ে পড়ে গেল। মুখ থেকে বের হতে লাগলো সাবানের ফেনার মত কিছু। আমি ডাকলাম। বুকের কাছে কান পেতে দেখলাম সেখানটা স্তব্ধ। হাতের স্পন্দন থেমে আছে।আমার কিছু বুঝতে বাকি রইলো না। এতোটাই বৃষ্টি আর ঝড় ছিল বাইরে তার আগের দু'দিন যাবত যে আমার চিৎকার আর্তনাদ কিছুই পাশের ঘরেও পৌছাল না। সার্ভেন্ট রুম থেকে কাউকে ডাকবো সে সাহস পাচ্ছিলাম না। পা দুটো আটকে ছিলো। ল্যান্ডফোনের লাইন ছিলো না। আমি কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ইলেকট্রিসিটি চলে গেলো। আমি সারারাত মঈনের মরালাশ নিয়ে অন্ধকারে বসেছিলাম। কেবলি মনে হচ্ছিলো আমার শ্বাশুড়ি এ ঘরেই আছেন। তিনি তার ছেলেকে নিতে এসেছেন। ঘরময় আগরবাতির গন্ধে ভরেছিল। একদিন আমি মঈনকে তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে এনেছিলাম। আজ আর আমার কোন শক্তি নেই ছেলেকে ধরে রাখবার। আজ যেনো তারই দিন প্রতিশোধ নেবার। মঈনও যেনো আমাকে বিদ্রুপ করছিলো। একবিন্দু সময় না দিয়ে কোন সেবা করার সুযোগ না দিয়ে সে যে আমায় কতবড় অপরাধি করে গেলো। সে রাতে আমি শুধু এটুকুই বুঝেছি, এ আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত। জীবন কতটা কঠিন আমি সেদিনই টের পেলাম। ভোরের আলো ফোটার পর আমি ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে লোক জানাতে গেলাম। আমার প্রাসাদে মঈনের লাশ।শোবার ঘরে মাটিতে পরা । কেউ নেই সেখানে। বৃষ্টি থামেনি। তবু বের হলাম আমি। কাঁদতে ভুলে আমি পাগল প্রায়। দারোয়ান বকুলকে ডেকে তুলে সব বললাম। পাঠালাম আত্মীয়স্বজন খবর দিতে। আমি আর আমার প্রাসাদে ঢুকতে পারছিলাম না। বাইরে দাঁড়িয়ে কেবল পুরোনো কথা মাথায় ঘুরতে লাগলো। ঘন্টাকতক পর কেউ কেউ এলেন। কিন্তু সবার চোখে মুখে যেন কেমন অভিব্যক্তি। সবাই কেমন কানাঘুষা করছিলো। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি হয়েছে। এর মাঝেই মঈনের ছোট মামা আমায় ডেকে ধাতস্থ করলেন। বললেন কেন তারা এতক্ষণ কানাঘুষা করছেন। এ কি বলছেন তারা? এ কি করে সম্ভব? মঈন কি আমার স্বামী ছিল না? এসব কি বলছেন তারা? আমি কিছু বলতে পারিনি। তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল। এ যেন আমার আরেক পাপের শাস্তি। চলবে.......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অনুশুচোনা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now