বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Redio Munna
রাত পোহালেই সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা।প্রস্তুতি
নেয়া হয়নি
এতটুকও।কিন্তু কী অদ্ভুত..কোনো টেনশনই কাজ করছেনা।
তবুও
হাল্কা একটু পড়লাম।পাস করার মতোই!
ঘুমোতে ঘুমোতে অনেক রাত হয়েছিলো তাই উঠলামও
প্রায় দুপুর
বারোটায়।ফ্রেশ হয়ে এক্সাম হলে গেলাম..পরীক্ষার তখন
মাত্র
আধা ঘন্টা বাকি।একটি ফোন আসবে এই অপেক্ষায়
তখনো ফোন
হাতে অস্থির পায়চারি করছিলাম।বেশ অবাকই হয়েছি
সকাল
থেকে কোনো মেসেজ কিংবা ফোন আসেনি বলে।
এমনটা তো হয়নি
কখনো।
সময়ের সাথে সাথে উৎকন্ঠাও বাড়ছিলো সমান তালে।
অবশেষে মেসেজ আসলো একটা।
"তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে জানো।
আসবে তুমি প্লিজ?"
আমি না করতে পারি নাই।
পরীক্ষা দেয়া হয়নি আমার।
সবাই বলেছিলো এক্সামটা দিয়ে যা অন্তত।নাহলেতো
ইয়ার ড্রপ
দিতে হবে।
আমি মুচকি একটা হাসি দিয়ে চলে আসছিলাম।
কাউকে কিছু না বলেই সাতক্ষীরার পথে রওনা দেই।
পুরো পথটাই পুরোনো কিছু স্মৃতি আর অজানা কিছু
আশঙ্কা করেই
কেটেছিলো।
মেয়েটার নাম বৃষ্টি।
ফেসবুকেই পরিচয়।কিন্তু আর দশটা ফেসবুক ফ্রেন্ডশিপের
মতো নয়।
ও আমাকে সবসময় তুই করেই বলতো।দুষ্টুমি কিংবা শাসন
দুটোতেই
ছিলো ওস্তাদ।কষ্টও দিতো যেমন..কষ্ট ভুলিয়ে দিতেও
ওর সমতুল্য
কেউ ছিলোনা। বন্ধুত্বের থেকেও অনেক বেশি কিছু
ছিলো
সম্পর্কটা।এই ভাবেই কেটে গেছে প্রায় দুই বছর।
ততদিনে আমি ওকে প্রচন্ড ভালোও বেসেছি।কিন্তু ও
কখনোই
চায়নি আমি ওকে ভালোবাসি।যদিও আমি জানতাম সেও
আমায়
প্রচন্ড ভালোবাসে।
মেন্টাল ডিজেজে ভুগছিলো ও।প্রায় সবসময় অসুস্থ
থাকতো শুনতাম।
এর বেশি কিছু বলতোনা।জানবার চেষ্টা করিনি
আর..তাতে আরো
বেশি কষ্ট পাবে হয়তো।উল্টো সবসময় ভুলিয়ে রাখতে
সর্বোচ্চ
চেষ্টা করতাম।।সবসময় বলতাম আমি ওকে বিয়ে করতে
চাই।ও একটা
কথাই বলতো শুধু..
"পাগলামো করবি না প্লিজ।জানিস.. আমি না বাঁচবো
নারে
বেশিদিন।"
আমি প্রচন্ড রাগ করতাম।আমিও বলতাম..
"আমিও দেখবো আমায় ছেড়ে কোথায় যাস?"
ও কিছু বলতোনা অনেক্ষন।আমি জানতাম ও কাঁদতো।
তারপর
অনেকবার আই লাভ ইউ বলতাম।কিংবা অভিমান করে
থাকতাম।পরে
ও নিজের থেকেই অভিমান ভাঙাতো।বলতো..
"আমারো বাঁচতে ইচ্ছে করেনা বল?
সবার মতো আমারো তো বাঁচতে ইচ্ছে করে,স্বপ্ন দেখতে
ইচ্ছে
করে।
কিন্তু কী করবো?তুই বা আমি চাইলেই তো সব হবেনা না?
আল্লাহ হয়ত চায়না সেটা...."
আমার খুব কান্না পেতো ওর কথা শুনে।আমি কিচ্ছু বলতে
পারতাম
না।
ওর বাড়িত থেকে অনেক বড় বড় ডাক্তারও দেখিয়েছে।ওর
বাবার
ফার্মেসির দোকান ছিলো।স্বচ্ছল ফ্যামিলি।যতটা সম্ভব
করেছে।
ডাক্তার নাকি বলেছিলো অপারেশন করানো যাবে
কিন্তু আন
এক্সপেক্টেড কিছুর ঝুকিটাই অনেক বেশি।না করালে
আবার পাগল
হবার সম্ভাবনাটাও অনেক।
ও আমায় বলেছিলো কী করবে।আমি না করছিলাম।পাগল
হলে হবে
তবু বেঁচে থাকুক।সবসময় দেখতে তো পারবো।
আমি সবসময় চেয়েছি ওকে প্রচন্ড আলোবেসে সুস্থ করে
তুলবো।
এসব ক্ষেত্রে মনের অদম্য ইচ্ছা টাই অনেক বেশি কাজ
করে আমি
জানতাম।আর আমার বিশ্বাস ছিলো আমি পারবো।কারন
আমি ওর
জীবনে আসার পর থেকেই ও নাকি অনেকটা সুস্থ..ও
বলেছিলো
আমায়।আমি বিশ্বাস করতাম আমার প্রচন্ড ভালোবাসাই
ওকে সুস্থ
রাখবে সবসময়।
তারপর ভালোই চলছিলো সবকিছু।আমি ভার্সিটিতে
এডমিশন
নিলাম।ও কলজে।প্রথমে আর্টস নিলেও পরে একবছর ড্রপ
দিয়ে
সাইন্স নিয়েছিলো।কারন ডাক্তার হওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছে
ছিলো।বেশ
স্বাভাবিক ছিলো সবকিছু।
কিন্তু হঠাৎ কয়েকদিন থেকেই ও ফেসবুকে কম আসতো।
ফোনও
দিতোনা বেশি।সেদিন বলছিলো ও নাকি বেশ অসুস্থ।
ডাক্তার
বলছে অপারেশন করাতেই হবে।একটু ঝঁকিতো নিতেই হবে।
ওর বাবা
মাও নাকি অপারেশন করানোর কথা ভাবছে।
তারপর থেকে আমার খাওয়া,ঘুম,পড়াশুনো সব শেষ।
সবসময় হারানোর ভয় পেয়ে বসেছিলো।শুন্য মনে হতো
সবকিছু।
সবকিছু থেকেও যেনো কিছুই নেই।সেদিন থেকে
যোগাযোগও অফ।
ফোন বন্ধ,ফেসবুকেও নেই।জানতাম... আমি কষ্ট পাবো
ভেবেই ও
আমার থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করছে।ও নিজেও হয়তো
সহ্য
করতে পারছেনা আর।আজকে আমার এক্সাম ও জানতো।
আমিও
জানতাম ও ফোন বা মেসেজ দিবেই।কারন আমার সকল
এক্সামের
আগে ও শুভকামনা জানাতো।অবশেষে মেসেজ আসলো
কিন্তু আমার
বুঝতে বাকি রইলোনা কী হতে যাচ্ছে।
যতক্ষনে সাতক্ষীরা পৌছাই।রাত প্রায় নয়টা বাজে।
সেখান থেকে অনেক খোজাখুজি করে ওদের বাড়ি
গেলাম।
বাড়িতে কেউ ছিলোনা।জানতে পারলাম বৃষ্টিকে সদর
হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।রাতে অপারেশন।আমি
কীভাবে সহ্য
করেছি জানিনা।আমার কোনো সেন্স ছিলোনা।খুব
জোরে কাদতে
ইচ্ছে করছিলো শধু।ছুটে গেলাম সদর হাসপাতাল।অপরাশে
ন রাত
দুইটায়।ও ঘুমিয়ে ছিলো।প্রথম দেখলাম ওকে।এত সুন্দর
একটা মেয়ে
অথচ...
তারপর কী হয়েছে বলনে পারিনা।এগারটার দিকে জ্ঞান
ফিরলো
আমার।আমি শুধু একটা কথাই বললাম,আমি ওর সাথে কথা
বলবো
একটু।
বারোটার দিকে ওর ঘুম ভাঙছিলো।ও আমায় দেখে
খুশিতে কেদেই
ফেললো প্রায়।আমিও নিজেকে কন্ট্রোল করতে
পারিনি।ওর হাতটা
ধরে ওর পাশে বসলাম..
"তুমি আমায় আগে কিছু বলোনি কেনো হুমম?
তোমার যদি কিছু হতো?"
ও বললো.."তুমি শুনলে কষ্ট পাবে তাই বলিনি।"
কথা বলতে পারছিলোনা ও।কাদছিলো শুধু।
"একটা রিকুয়েস্ট করবো,,রাখবে বলো?"
"হুমম বলো"
"আমি তোমায় বিয়ে করতে চাই এখনি।
না করবেনা প্লিজ"
"দেখো পাগলোমো করোনা প্লিজ।
হয়না এটা..
তুমি অনেক ভালো কাউকে..........."
আমি থামিয়ে দিলাম ওকে।
"আমি তোমায় সিরিয়াসলি বিয়ে করতে চাই এবং এখনি।
প্লিজ না করোনা তুমি?
প্লিজ"
ও আমাকে এতটা সিরিয়াস দেখে কিছু বলেনি আর।ওর
চোখ বেয়ে
আনন্দের অশ্রুধারা বইছিলো শুধু।অত রাতেই
হাসপাতালেই ওর
সাথে আমার বিয়ে হয়।কেউ আপত্তি করেনি।
ওকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার আগে ও আমার সাথে
কথা
বলতে চাইলে আমি গেলাম।ও আমায় জড়িয়ে ধরতে
বললো খুব করে।
আমি জড়িয়ে ধরেই কাঁদতে শুরু করলাম।সেও খুব বেশি
কাদছিলো।
সেদিনই সে আমায় প্রথম ভালোবাসে বলছিলো।
"আমিও তোমায় খুব ভালোবাসতাম জানো।বলতে
পারিনি।
আমি তোমায় অনেক কষ্ট দিয়েছি..ক্ষমা করিও।
আমার জন্য দোয়া করিও প্লিজ।
আমি বাঁচতে চাই।
আমাকে মরতে দিওনা প্লিজ।"
আমি কিচ্ছু বলতে পারিনি।চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে
করলেও ও
কষ্ট পাবে ভেবে নিজেকে সামলে নিলাম।
ওকে নিয়ে যাওয়া হলো।ও আমায় ছাড়তে চায়নি।ওর
যাওয়ার
পানে তাকিয়ে থাকলাম শুধু।আমার সমস্ত অনুভূতি
হারিয়ে গেছে।
.................................................................................
23 may 2016..................
.................................................................................
তারপর সাতদিন কোমায় ছিলো ও।সবসময় অজানা একটা
আশঙ্কায়
থেকেছি।সাতটা দিন পাগলের মত কেদেছি শুধু।কিন্তু
বিশ্বাস
হারাইনি একবারো।কারন প্রচন্ড বেশি ভালোবাসতাম।
অবশেষে ওকে ফিরে পেয়েছি এবং পুরোপুরি আমার
করেই
পেয়েছি।(আলহামদু-লিল্লাহ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now