বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শুভ নববর্ষ, দিনটা সবার জন্য শুভ হলেও
আমার জন্য নয়। কারনটা খুবই সহজ, একাকীত্ব
জীবনে শুভ দিনগুলো পারি দেওয়া খুবই কষ্টদায়ক।
যেখানেই যাইনা কেন, সব জায়গাতেই শুধু লাভ বার্ড।
মানেতো বুজেনই। আরে ভাই প্রেম করবি ভালো
কথা, একটু সামলিয়ে চলবিতো নাকি। কি যে ডং
তাদের মধ্যে, দেখলে শুধু হিংসে হয়।
যাক আসল কথায় আসি, রাস্তার পাশ দিয়ে হাটতে
ছিলাম তো ঠিক তখনি একটা মেয়েকে দেখলাম।
দেখে তো পুরাই ক্রাস খাইলাম। কিভাবে, কিভাবে
একটা মেয়ে এত সুন্দর হয়। পুরাই যেন ডানা কাটা
পরি একটা। মেয়েটাকে দেখতে দেখতে কখন যে
রাস্তার ধারের গাছটির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলাম
একদম বুজতে পারলাম না। মুহুর্তটা অনেক্ষানি
সিনেম্যাটিক তাই না, আমারও তাই মনে হয়। যাক
বাদ দেই, তো সংঘর্ষের পরে যখন চোখটা মেললাম
মেলেই দেখি মেয়েটার মুখ। মনে হলো হয়তো ভুল
দেখতেছি, কিন্তু না ভালো করে খেয়াল করে দেখলাম
এতো সেই পরি। উনি আমাকে বলছিলো, আমি
ঠিক আছি কিনা? আমি যটপট উঠে গিয়ে বললাম -
হুম ঠিক আছি, আমারতো কিছুই হয়নি।
মেয়েটা আমার কথা শুনে হেসে বলে উঠলো,
তাই নাকি?
আমি বললাম,
হুম।
মেয়েটা হেসে সেখান থেকে উঠে চলে যাচ্ছিল আর
বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছিল।
মেয়েটাকে দেখে আমার বুকের ভিতরটা কেমন যেন
করছিল। হয়তো একেই লাভ এট ফার্স্ট সাইড বলে।
পরের দিন বন্ধুদের দিয়ে খোজ খবর নিয়ে জানতে
পারলাম মেয়েটা আমাদের পাশের এলাকাতেই থাকে। বিকালে মেয়েটাকে
দেখার জন্য বের হলাম, একটু পরিপাটি হয়ে।
বারান্দার সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় ২ ঘন্টা হয়ে
আসল। তবুও একবারের জন্যও দেখা পেলাম না
মেয়েটির। ঐদিনেরমত ফিরে আসলাম, তবে মনে একটু আফসোস
রয়েই গেল। পরের দিনও একই হাল। এভাবে দেখতে
দেখতে সাতদিন চলে গেল, মেয়েটার কোনো খোজখবর নেই।
অনেকটা কস্ট ও হতাশা নিয়ে যখন ৮ম দিন গেলাম তখনও
দেখি মেয়েটির খবর নেই, তাই সেদিন আর দেরি না
ফিরে আসার জন্য মোর ঘুরতেই কেও একজন পেছন
থেকে বলে উঠল,
এইযে শুনুন!
আমি ঘুরে তাকাতেই দেখি সেই মেয়েটি, অর্থাত আমার
পরি। আমিতো মহাখুশি মেয়েটাকে দেখতে পেয়ে। তার প্রতি
উত্তরে বললাম,
--জ্বী, আমাকে বলছেন?
--হুম আপনাকেই বলছি, প্রতিদিন আপনি এখানে
আসেন কেন?
--একজনকে দেখতে!
--ওহ, তো কে সে?
--আছে একজন, আপনাকে বলতে যাবো কেন?
--না এমনি বললাম আর কি, প্রতিদিন জানালা দিয়ে
আপনাকে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখিতো তাই।
--আপনি এই কয়দিন এখানেই ছিলেন?
--হুম, কেন?
--না এমনি।
--আচ্ছা আপনার নামটা কি জানতে পারি?
--হ্যা অবশ্যই। আমার নাম অধরা, আপনার?
--আমার নাম তন্ময়।
--আচ্ছা আমি এখন যাই, নাহলে মামা আমাকে
খুজতে বের হয়ে যাবে।
--এখন চলে যাবেন,
--হুম।
--আচ্ছা( মনে মনে বলতে লাগলাম আরেকটু
থেকে গেলে কিবা ক্ষতি হয়ে যাবে)
মেয়েটা অমনি চলে গেল, তবে মনটা যতটুকু খারাপ
ছিল তার চেয়ে অধিক ভালো হয়ে গেল।
পরের দিন আবার চলে আসলাম মেয়েটাকে দেখার
জন্য, এসে যা দেখলাম তাতে আমার মেজাজটাই
খারাপ হয়ে গেল, ও অন্য একটা ছেলের সাথে কথা
বলছে। আবার কথার মাজে মাজে মেয়েটার গালে
ছেলেটা চিমটি কাটছে, আবার মেয়েটাও ছেলেটার
গায়ে চিমটি কাটছে। এসব আর দেখতে পারছিলাম
না, তাই স্ট্রেইট বাড়ী ফিরে আসলাম। বাড়ী ফিরে
যখন আসলাম তখন কান্না বুকটা ফেটে যাচ্ছিল
কিন্তু কান্না করতে পারছিলাম না। একেও হয়তো ভালোবাসা
বলে। রাত অনেক গভীর, ঘরটা সিগারেটের ধুয়োতে ভরে যাচ্ছে
কিন্তু চোখে ছিটে মাত্র ঘুম নেই। সকাল ১১:১৫,
কখন যে রাতে ঘুমিয়ে ঠিক মনে পড়ছে না। ফ্রেশ হয়ে
নাস্তা সেরে বের হলাম বাড়ী থেকে, রাস্তার পাশ দিয়ে আজও
হাটতেছি আজ মনটা একটু হাল্কা লাগছে। ঠিক করেছি
আর মরীচিকার পিছু নিব না। কেনই বা নিব, কি হবে
ওর পিছু নিয়ে, যতসব....(এই বলে মনকে সান্তনা দিতে লাগলাম)
অনেকদিন পর নদীর ধারে আসলাম, আগে রোজই আসা
হতো। কেননা নদীটাই ছিল আমার একাকীত্ব সময় অতিবাহিত
করার অবলম্বন। বেশ কিছুক্ষন পর, কেও যেন পেছন
থেকে বলে উঠলো, আমি কি এখানে বসতে পারি।
আমি পিছন ফিরে তাকাতেই দেখি অধরা। ওকে দেখে একটু
আবেগময়ী হয়ে পড়লাম। ততক্ষনাত নিজেকে সামলিয়ে
বললাম,
--জায়গাটা যেহেতু আমার ব্যাক্তিগত না সেহেতু
আপনি যা খুশি করতে পারেন।
--তাহলে আমি বসতে পারি তাইতো?
--হুম।
--আচ্ছা আপনিতো আর আমাদের ঐখানে আসেন
না,
--হুম, তো
--তো তেমন কিছু না, তা কেন আসেন না জানতে
পারি?
--আমি তো ওখানে যেতাম এক পরীকে দেখতে,
কিন্তু পরীটা যে অন্য কারো সেটা আমার জানা ছিল
নাতো তাই!
-- ওহ, তো কিভাবে বুজলেন যে পরীটা অন্য কারো?
-- না বুজার কি আছে, নিজের চোখে যা দেখেছি তা তো আর ফেলে দিতে পারি
না। আর আপনি কি আসলেও বুজতে পারছেন আমি কি বুজাতে চাইছি,
--না।
-- আসলে প্রতিটা দিন ঘন্টার পর ঘন্টা আপনাদের বাড়ীর সামনে আমি
দাঁড়িয়ে থাকতাম কেন জানেন, শুধু আপনাকে দেখবো বলে।
আমি মনে করেছিলাম একদিন না একদিন হয়তো আপনি বুজতে পারবেন।
কিন্তু না, সেদিন যা দেখলাম তাতে আমার সব স্বপ্ন ভংগুর হয়ে গেছে।
--কোনদিনের কথা বলছেন আমি তো কিছুই বুজতে পারছিনা।
--(একটু আবেগময়ী হয়ে) হুম এখনতো বুজবেনই না, গালে চিমটি কাটুনি....আর কিছু
বলতে হবে?
--ওহ, সেদিনর ঐ বিষয় ধরে আপনি এখন বসে আছেন? ও তো আমার কাজিন।
--মানে
--হুম।
--ওহ , আমি সরি।
--ইটস ওকে।
-- একটা কথা বলব?
-- থাক বলতে হবে না, আমি জানি।
--কি জানেন
-- যতটুকু জানার এবং বোঝার তা আমি উপলব্দি করেছি।
--ওহ, (একটু লজ্জাবোধ করছিল নিজের মধ্যে, তাও বলেই ফেললাম)
I Love You.....(কিছুক্ষন নীরবতার অবসানের পর মেয়েটাও বলল)
-- I Love You 2.....
--আচ্ছা আমি কি আপনাকে তুমি করে বলতে পারি!
--অবশ্যই,
--তাহলে তোমাকেও আমাকে তুমি করে বলতে হবে।
--ওকে।
দুজন একসাথে, অনেকটা সময় বসে রইলাম। সূর্যটা হেলে পরছে ভূ-গর্বের
দিকে। হাতটা আলতো করে অধরার হাতের উপর রাখলাম, মেয়েটা কিছুই বলল না,
শুধু ওর মুখে একটি নতুন হাসির উদয় দেখতে পেলাম।
একেই হয়তো ভালোবাসা বলে, যে ভালোবাসা দেখা যায় না শুধু অনুভব করা যায়।
আর এই ভালোবাসা অনুভবের জন্য প্রয়োজন সুন্দর একটা মনের। যা প্রত্যেকের
মধ্যে বিদ্যমান, কিন্তু তা মানব উপলব্দি করতে বহু দেরী করে ফেলে। কেওবা সঠিক সময়ে
উপলব্দি করে।
(ভুলভ্রান্তি হলে ক্ষমারদৃষ্টিতে দেখবেন আশাবাদী)
ভালো লাগলে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন,
কিন্তু দয়া করে কপি করবেন না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now