বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অন্যরকম

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X স্যারের কাছে প্রাইভেট পরে বাসায় আসলাম। আসার সময় গেটে দেখলাম একটা বড়সরো ট্রাক আসলে ফ্যামিলির জিনিসপত্র নিয়ে। বুঝলাম আমাদের পাশের যে বাসাটা খালি হয়েছিল। সেটায় নতুন ভাড়াটিয়া আসছে। . বাসায় ঢুকে সোজা রুমে ঢুকে ব্যাগটা টেবিলে রেখে সোজা বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। আমার পরিচয়টা দেই। আমি অাবির। অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি।বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। বড্ড আদরের। যাইহোক শুয়ে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে পরলাম বুঝতেও পারি নি। . .ঘুম থেকে উঠে ড্রোয়িং রুমের দিকে এগোলাম।ঢুকে দেখি কিছু গেস্ট এসেছে। একজন ভদ্রমহিলা সাথে একটা মেয়ে আর ছোট্ট একটা ছেলে। আমি ঢুকতেই মা বললো উনারা আমাদের পাশের ফ্লাটে উঠেছেন। এইহচ্ছে উনার ছেলে।আর উনার মেয়ে । আমি আন্টিকে সালাম দিলাম। তারপর তারপর মেয়েটার দিকে একটু নজর দিলাম। একি মেয়ে দেখি আমার মাথা থেকে পা অব্দি পরখ করতাছে। আমি নিচের দিকে তাকাইয়া দেখলাম সব ঠিক আছে কিনা।তারপর একটু মুচকি হাসি দিলাম। দেখি মেয়েটাও হাসি দিয়া বুড়ো আঙ্গুল দেখাইলো। কি আজিব মাইয়া আদব কায়দা শিখে নাই। চিনে না জানে না বুড়ো আঙ্গুল দেখায়। . . কিছুক্ষন আলাপ করে তারা চলে গেল। পরদিন শুক্রবার ভার্সিটি বন্ধ থাকায় রুমে শুয়ে শুয়ে ফেসবুকের নিউজ ফিড ঘাটতেছি।হঠাৎ করে চেয়ারে চোখ পরলো। . . -মাগো ভূত ভূত.........(আমি) - এই এই কি হচ্ছে।আমি । -এ্যা আমি কে!!??? -আপনাদের পাশের বাসার নতুন ভাড়াটিয়ার মেয়ে!!! -ওহহহ আপনি!! -হ্যা,কেন চিনতে পারেন নাই বুঝি!!?? - নাহ মানে,কালকে মেকাপ করে ছিলেন তো। তাই হয়তো আজকে চিনতে পারি নাই। -তাই বলে ভূত ভাববেন!!আমাকে কি এতটাই খারাপ দেখতে!!?? -আরেহ মাইয়া এত বেশি বুঝে ক্যা??(মনে মনে) -কি ব্যাপার চুপ করে আছেন যে?? - নাহ মানে হঠাৎ ঘরে অচেনা কাউকে দেখে চমকে উঠেছিলাম..!! -ওহহ,কি করেন?? -এইতো ফেসবুক চালাইতেছি। -কি নাম?? - অাবির -আরে ফেসবুকের নাম!! -বিনয়ী অাবির -তোমার নাম?? -অভিশপ্ত মানবী!! - মানে?? - মানে আমার ফেসবুক নাম!! -মজা করো!!! -সরি!!! আমার নাম সন্ধ্যা তারা। -এইটা কেমন নাম!!!?? -এইটাই হচ্ছে আমার ফেসবুকের নাম।তখন মজা করছিলাম। আল্লাহ আমারে উঠাইয়া নাও।এ কেমন মাইয়া বলি কি,আর বলে কি!!! . . -আরে তোমার ডাকনাম। -আমার আসল নাম যেইটা,অইটাই আমার ডাকনাম। (এ মাইয়া নাকি জিলাপি।সোজা কথা বলতে জানে না) -সেই নামটাই কি?? -শোভা -আমার মাথা ঘুরাইতেছে।তুমি যাও - টক খান চলে যাবে!! বলেই চলে গেল। আল্লাহ একটা মেয়েই বানাইছে।দুনিয়ার প্যাচ। . . সোজা কথা বলতে শিখে নাই। ওর কথা শুইনা আমার মাথা ঘুরানি শুরু হইছিল। এখন ও চলে যাওয়াতে একটু কমছে। … . . পরদিন বিকালে ভার্সিটি থেকে এসে দেখি শোভা আমাদের বাসায়। বুঝলাম মাথা ঘুরানি শুরু হতে আর দেরি নাই। কিছুক্ষন পর রুমে আসল . -কি করেন??(শোভা) -মুড়ি ভাজি!!! -শুইয়া শুইয়া কেউ মুড়ি ভাজে?? -দেখতেই তো আছো শুয়ে আছি।তাহলে জিজ্ঞাস করো কেন?? - বাব্বাহ ভালোই তো প্যাচাইয়া কথা বলেন।আচ্ছা একটা ধাধার উত্তর দেন তো। "এমন একটা জায়গা যেখানে আপনি টাকা দিবেন,কিন্তু কিছু আনার বদলে রেখে আসবেন" -পাবলিক টয়লেট -ইস না উত্তরটা সেলুন।কিভাবে পাবলিক টয়লেট হল বুঝিয়ে বলেন!!! -খুবই সোজা। তুমি পাবলিক টয়লেট ইউজ করো হাগু দেয়ার জন্য। আর সবাই হাগু করে হাগু ফেলে আসে।আসার সময় উল্টা টাকা দিয়ে আসতে হয়। . . -ছি.....থু..থু করতে করতে চলে গেল। কথাটা একটু বাজে শুনালেও ভালো।আপদ বিদায় হইছে। কিন্তু ও আমার ধারনা ভুল প্রমান করে আবার আমার রুমে চলে আসলো।সাথে দেখলাম পাতলা একটা বই। তাতে লেখা,"বাংলার বিখ্যাত সব ধাঁধা" খাইছে আমি আজকে শেষ। এসেই বলেছে। . . -খুব তো পাকনা পাকনা উত্তর দিলেন এবার দেখবো,কয়টা এমন দিতে পারেন??!!!! আল্লাহ গো কি বিপদেই না ফালাইলা। তখনই মনে মনে শোভার সম্পর্কে একটা ভবিষ্যৎ বাণী করে ফেললাম, "এই মেয়ে যে ছেলের ঘাড়ে উঠবে,তার জীবন তামা তামা" আল্লাহ ওই ছেলেরে তুমি রক্ষা কইরো। . . ও প্রায় প্রতিদিন এভাবে আমাকে বিরক্ত করতো। প্রতিদিন আসতো।আর আমার মাথা হ্যাং করে বীরের বেশে চলে যেত। কিছুই বলতে পারতাম না। উনি আবার আম্মুর খুব প্রিয়ব্যক্তি।কিছু বললে সেগুলো সুদ সমেত আমার উপরই এসে পরবে। . . . হঠাৎ একদিন এসে আমাকে বললো!! -আপনার জিএফ আছে??(শোভা) -কেন?? -এমনি বলেন!! -পিচ্চি পোলাপাইন এতকিছু জেনে কি লাভ?? -ঐ আমি পিচ্চি না। আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। -তো কি হইছে??পিচ্চিই তো -আচ্ছা মানলাম। বলেন আপনার জিএফ আছে কিনা?? -আছে(মিথ্যা বললাম) -ওওও(মনে হল আশাহত হইছে) চলে গেল।যাক বাবা আল্লাহ রহমত করছে।আপদ নিজে থেকে বিদায় হইছে। আমার ধারনা আবারো ভুল প্রমানিত হল,বুঝলাম যখন রাতে খাবার খাচ্ছিলাম। . . . আব্বু আম্মু দুজনেভমই আমার দিকে অদ্ভুদ ভাবে তাকাচ্ছে,যেন চিড়িয়াখানায় বান্দর দেখতেছে। হঠাৎ আব্বুকে উদ্দেশ্য করে আম্মু বললো . -শুনছো ছেলে অকালে পেকে গেছে।একটু নজর রাখো,নইলে ছেলে আমাদের বখে যাবে (আম্মু) (যা বাবা আমি আবার কি করলাম??) -আমি কি করছি?? - আপনি নাকি সঙ্গি জুটাইছেন?? -মানে?? -মানে মেয়েবান্ধবী!!(আব্বু) -কে বললো??আর এগুলো কি বলতেছো।?? -কে আবার শোভা। তখন আর বুঝতে বাকি রইলো না ব্যাপরটা কি ঘটছে। ইচ্ছা যা করতেছে না ওরে থাপরাইয়া চ্যাপ্টা করে দিতে। কিন্তু কপাল।কিছুই করতে পারবো না আম্মুর জন্য। পরদিন আবার আসছে,দেখি হাসতেছে তা দেখে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে। হঠাৎ বললো, -আপনি নাকি সুন্দর গান গাইতে পারেন??(শোভা) [একদম মিথ্যা কথা,নিশ্চই কোনো ফন্দি আটতেছে। কিন্তু বুঝতে পারতেছি না] . -কই নাহ। -আচ্ছা আপনি জাতীয় সংগীত জানেন?? -তা কে না জানে!! -আসলে আমি একটা লাইন ভুলে গেছি। -মজা করো?? -সত্যিই ভুলে গেছি,বলেন না আমার সোনার বাংলার পরের লাইনটা কি?? -হুহ বাঙালি নামে কলংকো।এই লাইনটাই জানো না। -আপনি তো বাঙালি নামের যোগ্য ব্যক্তি।আপনিই তাহলে বলেন!!! -আমি তোমায় ভালবাসি -সত্যি?? -কি সত্যি?? -আমাকে ভালবাসেন?? - না তো। -এইযে বললেন। -আমিতো জাতীয় সংগীতের দ্বিতীয় লাইন বললাম। -আমি বুঝি না ভেবেছেন।আপনি আমাকে প্রপোজ করেছেন।আর এখন বলেন জাতীয় সংগীতের দ্বিতীয় লাইন। আর হ্যা আমিও আপনাকে ভালবাসি!!! বলেভ দৌড়। . . . আর আমি আহাম্মকের মত দাড়িয়ে আছি। নিজেকে আহাম্মক বললেও আহাম্মক শব্দটার অপমান হবে। অথচ আমি নিজেকে কত বুদ্ধিমানই না ভাবতাম। অবশেষে আমার এই ধারনাটাও ভুল প্রমান করে ছাড়লো মেয়েটা!!! মনে হয় আমার জন্মই হয়েছে ভুল লঘ্নে..!!! . . . কিছুক্ষন পর হঠাৎ আব্বু ডাকলো। -(শোভাকে দেখিয়ে) ও যা বলছে তা কি ঠিক??? (আব্বু) -কি বলছে??(অবাক হয়ে) -তুই নাকি ওকে ভালবাসিস?? -নাহ (আকাশ থেকে পরলাম,আব্বু এগুলা কি বলে!) -দেখেছেন আংকেল,এখন সবকিছু অস্বীকার করে"!(শোভা কান্নার ভান করে)[আল্লাহ মাইয়া দেহি পুরা ডেন্জারা] -আব্বু বিশ্বাস করো।আমি ওরে এ কথা জিবনেও বলি নাই।(আমি) -চুপ হারামজাদা,সাদিকও(শোভার ছোটভাই) দেখছে তুই ওকে প্রপোজ করেছিস তখন। কি বলমু।আমার বাবাই একচন মানুষ,নিচের ছেলেরে বিশ্বাস করে না!!! . . -আংকেল ও যদি আমাকে মেনে না নেয় তাইলে আমি আত্মহত্যা করবো।(শোভা) -ছি মা একথা বলে না।তোমাকেব আমার ছেলের বউ বানাবো।এখনি সব ব্যবস্থা করতেছি। আমি কিছু বলতে চাইছিলাম,কিন্তু বললাম না।কে শুনবে আমার কথা।নিজের বাবাই বিশ্বাস করে না।ধুর ভাল্লাগে না। পরেরদিন সন্ধ্যাবেলন আমারে সকলে মিলে কুরবানি দিল।মানে ওই জিলাপির সাথে বিয়া করাইয়া দিল। . . . বাসর ঘর: -কি কেমন লাগলো??(শোভা) -এইটা তুমি আমার সাথে কেমনে করলা?? -ভালবাসি তো তাই করলাম"!বলেই একটা বই বের করলো -একি ধাধার বই এখানে কেন?? -সেদিন তুমি ধাধার উত্তর দাওনি।আজ সারারাত বসে সবগুলার উত্তর দিবা। -পারবো না।খুব ঘুম পাইছে।ঘুমাবো। -তাইলে সকালে আংকেল সরি আব্বুকে বলবো তুমি আমাকে মেনে নাওনি উল্টা আমাকে টর্চার করছো। -এই নাহ নাহ এমনটা বইলো না।আমি উত্তর দিবো বলো। পরক্ষনে একটা কথাই মনে পড়লো।যেটা আমি ওর। সম্বন্ধে ভবিষ্যৎ বাণী করছিলাম...."এই মেয়ে যে ছেলের ঘাড়ে উঠবে,তার জীবন তামা তামা" এই প্রথম কোনো ধারনা সত্যি প্রমানিত হইলো। আল্লাহগো নিজের জন্য কিছু চাইনা।শুধু এই মেয়ের অত্যাচার থেকে ওর স্বামীকে হেফাজত কইরো। তুমি ছাড়া যে আমার কেউ নাই। নইলে আমার জিবন আসলেই হয়ে যাবে তামা তামা.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অন্যরকম গল্প ৫
→ অন্যরকম গল্প ৪
→ অন্যরকম গল্প ৩
→ অন্যরকম গল্প ২
→ অন্যরকম গল্প ১
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম এবং জিজে মেম্ববারস (শেষ পর্ব)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম এবং জিজে মেম্ববারস ৮
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম এবং জিজে মেম্ববারস৭
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম এবং জিজে মেম্ববারস (পর্ব৬)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম এবং জিজে মেম্বারস (পর্ব৫)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম এবং জিজে মেম্বারস (পর্ব৪)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম এবং জিজে মেম্বারস (পর্ব৩)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম এবং জিজে মেম্বারস(পর্ব২)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম এবং জিজে মেম্বারস (পর্ব১)
→ অন্যরকম ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now