বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনেক সাধনার পর

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahamul Haque (০ পয়েন্ট)

X সকাল সকাল কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছি। আর কাঁধে ব্যাগটা নিয়ে কনকনে শীতের সকালে হেটে হেটে প্রাইভেটে যাচ্ছি। চারপাশ টাতে হালকা কুয়াশা পরছে। তবে শীত ঠিকেই আছে। . হঠাৎ আমার হাটার মাঝে ব্যঘাত ঘটাল,একটি রিক্সা সামনে দাঁড়িয়ে। মাথা উচিয়ে কিছু বলার আগেই উল্টো ঘুরে হাটা শুরু করলাম। . এক পা না দিতেই ডাক পরলো দাঁড়াও না হয় খবর আছে।।( যে মেয়েটি খবর আছে বললো সে হলো সূচি। তার কথা উপেক্ষা করে হাটা আমার পক্ষে সম্ভব না।কি মেয়েরে বাবা। দেখলেই শরীরে কাটা দাড়িয়ে যায়। কি আর করা ভয়ে ভয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।) -কোথায় যাচ্ছো (সূচি) -ব ব ব বা (আমি,ভয়ে ভয়ে) -এই কি ববব বা করছো? -না মানে বাড়ি যাচ্ছি। -বাড়ি কেনো, আমি তো জানি এখন তোমার প্রাইভেট আছে।। -হ্যা তবে যাবো না।শরীরটা ভালো লাগছেনা।। -না লাগুক। তুমি আগে বলো আমাদের জানালার গ্লাস ভাঙ্গলে কেনো।। -কই আমি ভাঙ্গিনি তো। -এক চড় দিবো মিথ্যে বলার জায়গা পাওনা। -না মানে বল লেগে ভেঙ্গে গেছে।। -বুঝছি, ঐটা বল খেলার জায়গা, ওখানে কেও বল খেলে? -আমরা খেলিতো। -এক চড় দিবো, আমরা খেলিতো। হ্যা জানি, কেনো খেলো। আমাকে দেখার জন্য খেলো।তুমি জানো আমি প্রতি বিকালে বাগানে পানি দেই, আর তাই তুমি খেলার ছলে আমাকে দেখো।। -আমি আপনাকে দেখিনা।। -আবার মিথ্যে কথা। -সত্যি বলছি। -এখন কিন্তু সত্যি সত্যিই চড় দিবো। চড়ের কথা শুনে আমার মুখ দিয়ে আর কথায় বের হলোনা।। -আমি জানি তুমি আমাকে আমার বাসার সামনে গিয়ে খেলার ছলে দেখো। যেখানে প্রাইভেট পড়ি সেখানে তুমি নতুন প্রাইভেট নিয়েছো আমাকে দেখার জন্য।। কলেজ থেকে আসার সময় দেখি তুমি দাঁড়িয়ে থাকো সেটা কিসের জন্যে, আমার জন্যেই তো।।এখন বলো আমাকে দেখে কি লাভ, আর কেনো দাঁড়াও।। -না মানে এমনি দাঁড়াই। -এমনি কেনো।।শোন আর কখনোই দাঁড়াবানা। কারণ আমিও একজনকে ভালোবাসি। -সরি আর দাঁড়াবো না। -ওকে মনে থাকে যেনো।।যদি আর কখনো পাই টেং ভেঙ্গে দিবো।। -ওকে।।আমি যাই আমার প্রাইভেট আছে।। (কি বাঁচা বেচে গেলাম আজ।। রাস্তার মধ্যে চড় মারলে কি অপমানটাই না হতো) . এ হলো সূচি আর আমি লরিক্স।। হ্যা এই মেয়েটাকে আমি সবসময় লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি।। কারণ তাকে আমি ভালোবাসি। যাকে নিয়ে আমি আমার স্বপ্ন সাজায়।।কিন্তু সূচি যখন অন্যজনকে ভালোবাসে বললো, তখন বুকের ঠিক বামপাশ টাতে মোচর দিয়ে ওঠলো।। কি যেন এখান থেকে হারিয়ে গেলো।। . সূচিকে আমি ভালোবাসি, এই কথাটা বলতে পারিনা।। সূচিকে দেখলে কেনো জানি আমার ভয় করে।। মুখ দিয়ে কোন কথায় বাহির হয়না।। কিন্তু আমি তাকে সত্যিই ভালোবাসি।। বলবো বলবো বলে আধো বলা হলোনা।। কিন্তু আজ থেকে তো আর কখনোই বলতে পারবোনা।। কিন্তু এটাই সত্য যে আমি তাকে ভালোবাসি।। ,,,, ,,,, কিছুদিন পরের কথা,, পড়ার টেবিলে বসে ইংলিশ পড়ছিলাম।। হঠাৎ এক অচেনা নাম্বার থেকে কল আসলো।। অচেনা নাম্বার তাই কল রিসিভ করিনি।। তারপর আবার দিলো।। তারপর রিসিভ করে সালাম দিলাম।। ঐ পাশ থেকে সালামের উত্তরটা পেলাম। আর সাথে সাথেই বলছে কাল সকালে যেনো প্রাইভেটে যাওয়ার পথেঘাটে দেখতে পায়।।এই কথা বলে কল কেটে দিলো।। পরে আমি কল দিলাম,,ফোন অফ।। সূচি কল দিয়ে ছিলো।। কারণ সব ভুলে গেলোও তার কন্ঠটা ভুলার নই।। ,,, ,,, পরের দিন শীতটা এখন অনেকটা কম।তবোও আজ শীত করছে। আর এই শীতের কারণ হলো বাতাস।। কেনো যে একটা শার্ট পরে বের হয়েছি।। তাই শরীর গরম রাখার জন্য ভলিয়ম full করে কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছি।আর আস্তে আস্তে হাটছি।। হঠাৎ দেখলাম সূচি আসছে।। মুখটা ভার।। গায়ে একটা চাদর দেয়া।। কাছে আসলো আমাকে বললো তার সাথে যেতে।। আমি দূরত্ব বজায় রেখে সূচির সাথে হাটছি।। সূচি আমাকে নিয়ে নদীর পাড়ে নিয়ে গেলো।। (এমনি হালকা বাতাসে শীতে কাপছি, আবার নদীর পাড়)।। সূচি নদীর পাড়ে গিয়ে বড় বটগাছটার নিচে বসলো।। আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে।। হঠাৎ সূচি বলে ওঠলো -আপনি আমার বাড়ির সামনে খেলতে যান না কেনো।। কলেজ ছুটির পর রাস্তায়, প্রাইভেটের কাছে আপনাকে পাইনা কেনো। আপনি জানেন আপনার জন্য কত অপেক্ষা করেছি।। শেষে আপনার বন্ধুর থেকে নাম্বার নিয়ে ফোন দিয়েছি।। -আপনি কেনো খুজেন। আমাকে তো আপনি ভালোবাসেন না।আপনি অন্য জনকে ভালোবাসেন -আমি আপনাকে ভালোবাসি।।আমি বলিছি এক জনকে ভালোবাসি।। সেই একজনটা হলেন আপনি।। -আপনি কাঁদছেন কেনো -কাঁদবো তাতে তোমার কি যাও আজ থেকে আর কাঁদবোনা, তোমাকে ভালোও বাসবোনা।। যে নাকি আমার চোখের পানি মুছে দিতে জানেনা।। চোখের পানির মূল্য বুঝেনা তাকে ভালোবেসে কি করবো।। . সূচির এরকম কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। কি করবো বুঝতে পারলাম না।। কিছু না ভেবে সূচির কাছে গিয়ে আমার হাত দিয়ে তার চোখের পানি মুছে দিলাম।। আর একটু আন-রোমান্টিক ভাবে বললাম, ভালোবাসি তোমায়।। বলে একটু দূরে এসে দাঁড়িয়ে রইলাম।। . তখন নদীর পাড়ের বাতাসে আমার অনেক শীত করছে।। তখন সূচি আমাকে তার কাছে ডেকে নিয়ে বসতে বললো।। আমি দূরত্ব বজায় রেখে বসলাম।। তখন সূচিই আমার কাছে এসে আমার কাঁধে মাথা রেখে তার চাদর দিয়ে আমাকেও ঢেকে নিলো।। হঠাৎ করেও মুখ দিয়ে খালিদ হাসান মিলুর গানটি বের হয়ে গেলো। অনেক স্বাধনার পরে আমি পেলাম তোমার। পেলাম খুজে এ ভুবনে আমার আপন জন।।।আমার মুখে গান শুনে সূচি মাথাটা কাঁধ থেকে ওঠিয়ে হাসছে।। আর আমি তার হাসিটা অপলকে তাকিয়ে দেখছি।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অনেক সাধনার পর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now