বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিধী গুনে যাচ্ছে আর রাইয়ান উঠবস করতেছে। তার হাত দুটি কানের উপর অবস্থারত। তার অপরাধ সে পার্কে আসতে ১ঘন্টা লেইট করেছে সাথে নিধীর ফরমায়েশের দোলনচাঁপা আনতেও ভুলে গেছে। তার চেয়েও বড় অপরাধ রাইয়ানের মুখে সিগারেটের গন্ধ।
আশেপাশের লোকজন তা দেখতেছে, রাইয়ান তা খেয়াল করে নিধীকে বুঝানর চেষ্টা করতেছে….
— এবার মাফ করে দাও। সবাই দেখতেছে।
— দেখুক, তাতে আমার কি.! সিগারেট পোড়ানোর সময় শাস্তির কথা মনে থাকেনা…?
— থাকে তো।
— তবে ধোঁয়া ওড়াও কেন..?
— এর উত্তর শুনার আগে একটা কবিতা শুন প্লিজ..
— কি কবিতা..?
— যে ঠোঁট পুড়েছে সিগারেটের আগুনে,
আর যে ঠোঁটে দীর্ঘ চুম্বনেও বসন্ত হাসে না,
আক্ষরিক অর্থে সে সব যৌথ ঠোঁট বিষাক্ত হলেও
মনে রেখো তুমি ঠোঁটের পতিতালয় গড়েছ
আর আমি সিগারেটে প্রতিবার ভালবেসে ঠোঁট ছোয়াই।
— কবিতাটা খুব সুন্দর। হঠাৎ আমাকে শুনানোর মানে কি স্যার..?
— সিগারেটের মহাত্বটা বুঝতে পারলে না..!
— তার মানে তুমি সিগারেট ছাড়বা না..?
— ছাড়তে পারিনা যে…
— ঠিক আছে তাহলে আমাকেই ছেড়ে দাও, সিগারেট নিয়ে থাকো।
— কি যে বলনা তুমি, তোমাকে ছাড়া আমি থাকবো কেমনে। আচ্ছা যাও আজ থেকে সিগারেটই ছেড়ে দিলাম।
— প্রমিজ..
— হ্যাঁ। আমাকে ছেড়ে যাবে না তো..
— নাহ, শর্ত একটাই… আমাকে কিন্তু অনেক ভালবাসবে..!
নিধীর কথা শুনে চমকে ওঠে রাইয়ান । কারণ ৬মাস আগেও আরিশা এই কথাই রাইয়ানকে বলত। রাইয়ান-ও সারাক্ষণ চেষ্টায় থাকতো আরিশাকে ভালবেসে সব আবদার মিটিয়ে খুশি রাখার। কিন্তু আরিশা কথা রাখেনি। একটা ছোট্ট এসএমএসে প্রকাশ পায়
আরিশার আসলরুপ।
এরপর থেকে স্বাভাবিক রাইয়ান কেমন অস্বাভাবিক হয়ে যায়। বাসায় থাকলে একা একা থাকে ,আর ভার্সিটিতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে মামার দোকানে কার্ড খেলা আর সিগারেটের ধোঁয়ার আড্ডায় পরে থাকতো। কেউ ভাল কিছু বল্লেও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করত। রাইয়ানের ভার্সিটির পাশের কলেজে পড়ে নিধী। যে কলেজের প্রথমদিন থেকেই রাইয়ানকে মনে মনে আপন করে নেয়। কিন্তু ভার্সিটি পড়ুয়া রাইয়ানের ফ্রেন্ড আর তার কাজিনের কাছ থেকে রাইয়ান-আরিশার রিলেশনের কথা শুনে আর আগায়নি। কিন্তু দূর থেকে ফলো করে যেত। রাইয়ানের হঠাৎ অবনতি দেখে কাজিনের কাছ থেকে রাইয়ানেরফেবু আইডি নিয়ে তার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করে। রাইয়ান প্রথমে পাত্তা না দিলেও পরে নিধীর জিদের কাছে হার মানে। নিধীর ছোট্ট ছোট্ট চ্যাটে বন্ধুত্তের কেয়ারিং-এ আর অকৃত্রিম ভালাবাসায় রাইয়ান ফিরে আসে সেই আগে স্বাভাবিক রাইয়ানে।
নিধীকে পেয়ে যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে মুক্তি পায় রাইয়ান। তাই নিধীকে হারাতে চায়না আর। কিন্তু নিধীর মুখে আরিশার সেই কথা শুনে হারানোর ভয়ে এতক্ষণ এসব ভাবতেছিল। রাইয়ানকে চুপচাপ দেখে নিধী বুঝতে পারে তাই রাইয়ানকে। তাই জড়িয়ে ধরে বলে….
— তুমি বুঝনা কেন, তোমাকে ছেড়ে আমি থাকতে পারবো না। হয়তো, জীবন বাজি রাখলেও নীলপদ্ম এনে দিতে পারবেনা। কিন্তু তোমার হৃদয়ে যে ভালবাসা জমে আছে সেটাই আমার ১০১টি নীলপদ্ম, তাই দিয়েই আমাকে বেঁধে রেখো তোমার সাথে সারাটি জীবন।
রাইয়ান চুপচাপ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিধীকে। না তার আর ভয় নেই। নিধীর চোখে ভাষায় বলে সে কখনো ছেড়ে যাবেনা। নিধী আছে আর থাকবে তারই জানান দিচ্ছে রাইয়ানের বুকে মুখ গুজে।
হঠাৎ হিমেল বাতাসে উপরের কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে একঝল্কা ফুল ঝরে পরে তাদের উপর। যেন প্রকৃতি একাত্ত্বা প্রকাশ করতেছে রাইয়ান-নিধীর ভালবাসা আর রাইয়ানের আগের জীবনের প্রত্যাবর্তনের সাথে…….
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now