বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অমূল্য জীবন

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বান্ধবী ফোন দিয়ে কান্না করছে। প্রবলেমের কথা জানতে চাইলে কান্নার পরিমান দিগুন বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই হতভম্ব হয়ে ওর কন্না শুনতে থাকলাম.. . এ্যট লাস্ট ৫মিনিট পর কান্না থামালো। নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলাম.. এত কান্না করলে হবে! আগে বল কি হইছে! . আমি রেগুলার যে রোড দিয়ে ভার্সিটি যাই ঐ রোডে সবসময় কিছু ছেলে দাড়িয়ে থাকে। আমি যখনই ওদের সামনে দিয়ে হেটে যাই তখন ওরা নোংরা নোংরা কমেন্টস করে। আমি ওদের কেয়ার না করে মাথা নিচু করে হেটে চলে আসি.. কিন্তু গতকাল ভার্সিটি থেকে বড় আপুর সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে আসতেছিলাম তখন ৩-৪জন ছেলে আমার পথ আকড়ে বলে.. কি! পোষায় না? রাস্তা দিয়া যাওয়ার সময়ও নিতে হয়! . - বলিস কি! আংকেলকে এ ব্যাপারে জানিয়েছিস? . হুম। আব্বু একদিন ওদের ধরার জন্য লুকিয়ে আমার পিছে পিছে গিয়েছিল। কিন্তু ওদের সদস্য সংখ্যা অনেক তাই আব্বু ওদের সাথে পেরে ওঠে নি.. . - পুলিশদের এ সম্পর্কে জানাতে পারতিস? . এরা এখানেই শেষ নয়। আমি নিরাপদে রাস্তা পাড়াপাড়ের জন্য যখন ওভার ব্রীজের উপরে ওঠি তখনও কিছু লোক খারাপ খারাপ কমেন্টস করতে থাকে। তাই রিস্ক নিয়ে কিছুদিন মেইন রাস্তার মাঝখান দিয়েই পাড় হয়েছি। কিন্তু অল্প কিছুদিন না যেতেই সেখানেও এই জাতীয় কিছু লোক আমাকে ডিস্টার্ব করতে শুরু করে। কাছ ঘেষে হাটার ছলে শরীর টাচ করে.. মানলাম এরা রাস্তার মানুষ। শিক্ষা দিক্ষা পায় নাই। কিন্তু যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিজিং হই তখন কি করার থাকে? - বলিস কি? . হ্যা। ভার্সিটির ক্লাস টাইম শেষে আমি একজন টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়ি এবং আমার সাথে একজন বান্ধবী ও পড়ে। একদিন ঐ বান্ধবী অসুস্হ্য থাকার কারনে ভার্সিটি থেকে ক্লাস শেষ হবার আগেই চলে যায়। কিছুদিন পর এক্সাম। তাই স্যারের কাছে একাই পড়তে গেলাম। স্যার ঐদিন দুর্বলতার সুযোগ পেয়ে আমার হাত চেপে ধরে.. হাত ছিটকে চলে আসি। কিন্তু কপালটা আমার বেশ খারাপ। তাই বাধ্য হয়ে সেই স্যারের কাছে এখনও পড়তেছি.. . দোস্ত আমি একটা জিনিস খুব ভালভাবে বুঝতে পারলাম। আসলে এ সমাজটা নারীদের জন্য না শুধু পুরুষদের। আমার মত প্রায় সব মেয়েই ইভটিজিংয়ের শিকার। মেয়েরা রিতিমত ছেলেদের পছন্দের খাবার হয়ে দাড়িয়েছে। . তাই একটা ডিসিশন নিলাম আর কখনো বাসা থেকে বের হব না। যদি তাতে একটু রক্ষা পাই.. ভাল থাকিস.. . চুপ করে ছিলাম। কিছু বলতে যাব! উপদেশ দিতে যাব! কিন্তু ভাষা হারিয়ে ফেলছি। লাইনটা কেটে গেল। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে ওর কথাগুলো শুনলাম। বাস্তব নাকি কল্পনা এখনো বুঝে ওঠতে পারছি না। আমি পুরুষ হয়ে জন্মিয়ে সত্যিই লজ্জিত.. ... এখন কেউ কেউ বলবেন মেয়েরাই টিজিং এর জন্য দায়ী! ছোট ছোট কাপড় পরলে টিজ তো হবেই.. ভাই এমন সস্তা মনমানষিকতা বদলান.. বাংলাদেশে এমন কোনো একজন নারী পাবেন যে ইভটিজিংয়ে শিকার হয়নি! পাবেন না.. . সে বোরকার নিচেই থাকুক আর তথাকথিত আধুনিকাই হোক না কেন। ফেস টু ফেস কিংবা ভার্চুয়াল, নারী পরিচিত-অপরিচিতদের কাছ থেকে কখনো নোংরা কথা কিংবা কখনো ‘হাই সুন্দরী’, এই জাতীয় প্রশংসাসূচক কথার মাধ্যমেও টিজিংয়ের শিকার হয়ে থাকে । যে বলে, ‘কই আমার মা-বোনেরা তো কোনো দিন টিজিংয়ের শিকার হয়নি!’ কিছু না জেনেই আবার যে বলে, ‘টিজিং করছে, নিশ্চয় মেয়েটার দোষ ছিল। এক হাতে তো বাপু তালি বাজে না। আরও তো মেয়ে আছে, তাদের তো কেউ টিজ করে না।’ আমি তাদের বলব, ‘আপনি সত্য থেকে বহু দূরে! টিজিংয়ের জন্য সুন্দরী-অসুন্দরী, হিজাব-নেকাব কোনটাই কাজে আসে না। ওই যে ‘নিনজা’ যায় কিংবা ‘বোরকাওয়ালি’ আইছ - এটাও তো টিজিং পর্যায়েই পড়ে। আর তালি আজকাল এক হাতে বাজেও বটে, দরকার শুধু একটা ড্রাম বা ঢোল জাতীয় কিছু। . তাই মেয়েরা তোমাদের বলছি, নোংরা কথা নোংরা লোকেরা বলবেই। আত্মহত্যা কিংবা নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্ত এর কোনো সমাধান নয়। কে কী বলে বলুক, তুমি শক্ত হয়ে পথ চলো। মাথা উচু করে হেঁটে যাও। ওদের মিথ্যা কথায় কষ্ট পাচ্ছ? বুঝতে দিও না। তোমাকে টুকরো টুকরো করে ভাঙাই তো ওদের লক্ষ্য। তুমি যখন নির্বিকার থাকবে, ওরা এমনিতেই দেখবে একদিন উত্সাহ হারিয়ে চুপটি মেরে যাবে। আর তুমি তোমার পড়াশুনায় মন দাও, ভালো ক্যারিয়ারের স্বপ্ন দেখো। অমূল্য এই জীবনটাকে তুমি গড়ে তোলো তোমার মেধা দিয়ে, তোমার কর্মগুণে। . রাস্তার নোংরা ছেলেগুলো থাক না রাস্তায় পড়ে। তোমার এই অমূল্য জীবন শুধুই তোমার। তুমি ভয় না পেয়ে এগিয়ে যাও, অনেক দূরে, সাফল্যের শিখরে.. লিখাঃ Hossain Muhammad Palash


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অমূল্য জীবন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now