বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-তো মিস্টার,কেমন চলছে।
-জ্বি ভালো।
-এভাবে ছাদে বসে কি করছেন!
-এমনি প্রকৃতি দেখছি।
-আমারো এই সময় প্রকৃতি দেখতে খুবি ভালোলাগে।
-গুড।
-ভাব নিচ্ছেনন!
-কই নাতো।
-তবে কথা বলছেন না ক্যানো!
-কি কথা বলবো।
-এমনি ভাব করার চেষ্টা করবেন।
-আজব মেয়েতো আপনি।
-ক্যান!
-লজ্জা বলতে কিছুই নেই।
-ভালোভাবে কথা বলুন,আমার যথেষ্ট লজ্জা রয়েছে।
-তো আমার সাথে সেধে কথা বলছেন ক্যানো!
-এক বাসায় থাকি,তাই পরিচিত হইতে চাইছিলাম।হুহ....
*
অতঃপর ছাদ থেকে নেমে আসতে বাধ্য হলাম।
সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণীর নাম হচ্ছে নারী।
এদের প্রধাণ অস্ত্র মন ভুলানো হাসি,বিনা কারণে চোখের পানি।
তাই এদের থেকে সব সময় পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখতে পছন্দ করি।
.
.
রাতে শুয়ে ফেসবুক গুতাচ্ছি।
কোথা থেকে এক বালিকার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এসে হাজির।
দেখা মাত্রই কোনো বিবেচনা ছাড়াই ক্যান্সেল দিয়ে দিলাম।
কিছুক্ষণ বাদে একটা রিকুয়েস্ট ম্যাসেজ আসলো "ভদ্র ছেলের মতন ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেন".
মেয়ে দেখে আর রিপ্লাই করলাম না।
সিন দিয়ে ফেসবুক থেকে বেড় হয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।
.
যখন ঘুম ভাংলো তখন সকাল ৮টা বাজে।
আস্তেধিরে ফ্রেস হয়ে ব্রেকফাস্ট করে আফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
গেট থেকে বেড়িয়েই খেলাম এক ধাক্কা।
ভালো করে দেখে বুঝলাম এটা কালকের সেই মেয়েটা।
তাই বিনা চিন্তায় "সরি" বলে পাশ কাটিয়ে যেতে লাগলাম।
-সরিতে কাজ হবেনা,আমার একটা হেল্প করতে হবে।
-কি হেল্প!
-আমায় ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে আসতে হবে।
-পাগোল নাকি!
-ক্যানো।
-আপনার বাবা-মা দেখলে কি বলবে।
-সেটা আমি ম্যানেজ করেই নিবো।
-হুম,কিন্তু আমার বাবা-মাকে কে ম্যানেজ করবে!
-নামিয়ে দিয়ে আসবেন কি না!
-রিক্সায় গেলেই তো পারেন।
-নাহ্,আমার বাইকে উঠতে খুব ভালোলাগে।
-আমার কাউকে উঠাতে ভালোলাগেনা।
-ওকে,আপনার আম্মুকে বলবো আপনি আমায় ইচ্ছা করে ধাক্কা দিয়েছেন।
-থাক বলতে হবেনা,চলুন।
*
দুর্ভাগ্যক্রমে প্রথম কোনো বালিকাকে নিয়ে বাইক চালাচ্ছি।
ভয়ে হাত কাঁপছে।
আর বালিকা মহা আনন্দে জড়িয়ে ধরে বসে আছে।
দীর্ঘ ২০মিনিট এই কর্মকান্ড সহ্য করে বালিকাকে ভার্সিটির সামনে নামিয়ে দিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
যখন পৌছে হাজির হলাম তখন আমি পুরোই অবাক।
আমার নাকি প্রমোশন হয়েছে।
খুশিতে আরো মন দিয়ে অফিসের কাজ গুলো সেরে বাসায় চলে আসলাম।
.
সারা বিকাল টিভি দেখে কাটালেও সন্ধায় নিজেকে ছাদে যাওয়া থেকে আটকাতে পারলাম না।
কারণটা হয়তো সূর্যাস্তের দৃশ্য...
*
-আজকেও হাজির...
-হুম।
-মিষ্টি কই!
-কিসের মিষ্টি!
-প্রমোশন হয়েছে তার মিষ্টি।
-আপনি কিভাবে জানলেন!
-আছে,হিহিহি....
[সেই মন ভুলানো হাসি।
যেটা দেখে এখনো শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে]
-কে!
-যে আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েছে।
-আমার ছোটো ভাই!
-ফোন টা দেনতো।
-ক্যানো।
-আমায় ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিবো তাই।
-কোন দুঃখে!
-দিবেন কি না।[ঝারি মেরে]
-এই নেন[ভয়ে ভয়ে]
.
কিছুক্ষণ ফোনটা ঘাটাঘাটি করে মন ভুলানো একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো।
.
ভুল মানুষ একবারি করে,তাই দ্বিতীয় ভুলটা আমি আর করছিনা।
জানি নামনা জানা মেয়েটা আমায় পছন্দ করে।
সর্বোচ্চ ভালবাসে।
তারচেয়ে বেশি কিছুই নয়।
কিন্তু দেখার বিষয় এটা কত দিনের!
.
আর কিছু ভাবলাম না।
চোখের কোণে থেকে দু-ফোটা পানি জমা হয়েছে।
সেটা আলতোভাবে মুছে নিচে নেমে এলাম।
রাতে আর মেয়েটার ভয়ে ফেসবুকে গেলাম না।
সকালে যখন অফিসে যাবো তখন বাইকের কাছে মেয়েটা দাঁড়ানো।
পাশ কাটিয়ে বাইকটা চালু করে যেতে যাবো তখন মেয়েটা হাসি মুখে ডাকলো.....
-কোথায় যান মিস্টার রফি...
[অবাক হয়ে শুধু তাকালাম!
এই নামটা জানলো কি করে।
অনেক আগেইতো নামটা ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে]
-আপনি এই নাম জানলেন কি করে!
-হিহিহি,আমায় ভার্সিটিতে নামিয়ে দিবেন না!
-আগে বলুন এই নামটা কে বললো!
-বলবো এক সময়।সব বলবো...
.
বলেই বাইকে চেপে বসলো।
আমি এক রহস্য আজ আমার কাছেই সবকিছু রহস্যময় লাগছে।
.
বালিকাকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে চলে আসবো তখনি একটা বাক্য ছুড়ে দিলো....
-রিহি...আমি রিহি।
[বলেই আবারো হাসিটা দিয়ে চলে গেলো।
মন চাইতেও আর কিছু ভাবলাম না।
কারণ ভাবলেই স্মৃতি গুলো এক এক করে মনে পরবে।
আর স্মৃতি মানে শুধুই বেদনা।]
*
অফিসে পুরোটা সময় এক.. ঘোরের মাঝে কাটালাম।
যখন বাসায় আসলাম তখন পুরোই শক।
নিধি.....
যার মুখ দেখবোনা ভেবে এখানকার সবকিছু বিক্রি করে অন্য শহরে চলে গিয়েছিলাম ভাগ্যক্রমে তার মুখ দর্শন হয়েই গেলো।
নিধি আমাদের ঘরে কি করে!
জানতে আম্মুর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম।
আফসুস কিছুই বললোনা।
তাই সোজা নিধির কাছেই চলে গেলাম।
-তোমার এখানে কি!
-রিহির সাথে দেখা করতে আসছি।
-এটা রিহির ঘরনা,সেটা অবশ্যই জানো।
-হুম,আন্টির সাথেও একটু দেখা করলাম।
(আর কিছু বললাম না।
ফ্রেস হতে চলে গেলাম)
.
সন্ধায় সিগারেটের প্যাকেট হাতে ছাদে গেলাম...
সূর্যাস্ত দেখার সাথে একের পর এক সিগারেট টেনেই চলেছি।
এমন সময় ছাদে রিহি আর নিধির আগমন।
সেই দুই মামাতো বোন......
-রফি একটা কথা বলবো(রিহি)
-হুম বলুন(আমি)
-আমায় আগের মতন তুমি করে ডাকোনা।(রিহি)
-আপনার মাথা ঠিক আছে!(আমি)
-হুম,যথেষ্ট ঠিক আছে।(রিহি)
(বলেই আমি ছাদ থেকে নেমে আসতে যাবো তখনি রিহি হাত টেনে ধরলো)
-রফি রিহি তোমায় ভালবাসে(নিধি)
-হুম,মনে পরে একি কথা একটা সময় রিহিও তোমার হয়ে বলেছিলো...(আমি)
-কিন্তু সত্যি আমি তোমায় ভালবাসি।এই ভালবাসা এখন নয়,যখন নিধি আপুর হয়ে তোমায় প্রপোজ করেছিলাম তখন থেকেই জন্ম নিয়েছিলো(রিহি)
-আমি কাউকেই ভালবাসি না(আমি)
-তুমি জানোই আমি খুব জেদি।আমায় ফিরিয়ে দেবার পরিণাম খুব একটা ভালো হবেনা।(রিহি)
-আমি কালকেই এই বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছি।[কিছুক্ষণ থেমে]সরি এই বাসা নয় এই শহর থেকেই চলে যাচ্ছি(আমি)
-এখানে এসেছো আমার ইচ্ছায়,যাবেও আমার ইচ্ছায়(রিহি)
-মানে(আমি)
-নিজের নাম গোপন করলেই নিজেকে গোপন করে যায়না।(রিহি)
-সব ক্লিয়ার করে বলুন।(আমি)
-অনেক খোঁজ নিয়ে তোমায় খুঁজে পাই।তারপর তোমার আম্মুকে সবটা জানাই।
প্রথমে তোমার আম্মু না করলেও পরে রাজি হয়ে যায়।
তারপর ডিস্ট্রিক ট্রানেস্ফার করে তোমায় এখানে আনা।
ভেবেছিলাম দেখেই আমায় চিনে ফেলবে,কিন্তু এক মাসেও আমায় একটুও চিনতে পারোনি ভেবে কষ্ট পেয়েছিলাম।
তবে দোষটা যে তোমার নয় সেটা পরে বুঝতে পারি,তাই সেদিন নিজে থেকেই সেধে এসে এসে কথা বলি।
[চোখের কোণে থেকে চোখের পানি মুছে] প্রথমে ভেবেছি সব গোপন রেখে তোমায় ভালবাসার কথা জানাবো।
কিন্তু পরে ভাবলাম তোমার ঠকাতে পারবোনা।
প্লিজ আমায় ফিরিয়ে দিওনা।
আর হুম নিধি আপু যেটা করেছে তার জন্য সরি।
[আমি শুনে কিছুক্ষণ অবাক ভাবে তাকি রইলাম।
তারপর এটাও নাটক ভেবে চলে আসলাম।
রিহি কয়েকবার ডাক দিলেও পিছ ফিরে তাকালাম না।
তারপর চেঁচিয়ে হুমকি দিলো আজ রাতে ছাদে তারা ভরা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে "ভালবাসি" কথা না বললে সে বিষ পাণ করবে।
নাটকের মাঝে সব কিছুই নাটকীয় ভেবে হাসতে হাসতে ঘরে ফিরে এলাম।]
*
সকাল ৭টা বাজে...
যখন চরম ঘুমে মগ্ন,তখন মোবাইলের স্ক্রিনে চিরচেনা সেই নাম্বার ভেসে উঠলো।
কাঁপা কাঁপা হাতে রিসিভ করতেই কান্নার শুরে ভেসে এলো "রফি...রিহি বিষ খেয়েছে"।
-রি..রিহি কোথায় এখন?
-সদর হাসপাতালে।
-আচ্ছা আমি এখনি আসছি।
.
কোনো ভাবে ফ্রেস হয়ে বেড়িয়ে পরলাম।
হাসপাতালে পৌছে গেটের সামনে নিধির সাথে দেখা...
-এই চলো,রিহি কোথায়!
-দ্বিতীয় তলায়,তুমি যাও আমি আসছি।
-আচ্ছা।
.
দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখলাম রিহির আব্বু-আম্মু সহ আরোও আন্তীয়-স্বজন দাঁড়িয়ে আছে।
আমার উপস্থিতি টের পেয়ে সবাই আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকালো।
সব কিছুকে পরক্কা করে রিহির কেবিনে যাওয়ার অনুমতি চাইলাম।
প্রথমে সবাই অমত জানালেও পরে রিহির আম্মুর সম্মতি জানালো।
.
কেবিনে ঢুকে রিহির দিকে এক-পা দু-পা করে এগোতে লাগলাম।
অনেক বছর পর আবার কোনো বালিকাকে দেখে মায়া লাগছে।
রিহি গভীর ঘুমে মগ্ন।
তাই তাকে ডাক না দিয়ে পাশে গিয়ে বসে মায়াবী মুখটা দেখতে লাগলাম।
তখনি এক এক করে পুড়নো স্মৃতি গুলো মনে পরতে লাগলো।
*
সাত বছর আগে....
-ওই কলেজে যাবেনা।
-হুম দেরী আছে।
-এখনি উঠে রেডি হও,আম্মু আজ তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে।
-আমার আম্মু তো আর বলেনি,so আজ একাই যাও।
-এখন উঠবে কি না!
-না..
-তবেরে..না উঠলে এখন জড়িয়ে ধরে চিল্লিয়ে বলবো তুমি আমায় জড়িয়ে ধরেছো।
-মাইরালা,আর সবাই মেনে নিবে।
-দেখবে...
[বলে যেই জড়িয়ে ধরতে যাবে তখনি এক লাফ দিয়ে ফ্রেস হতে চলে গেলাম।
যখন রেডি হয়ে আসলাম তখনো নিধি বসে আছে।]
-ওই চলো...
-যাবোনা।
-আচ্ছা তবে বসেই থাকো।
-হুহ,আমি না গেলে কার কি আসে যায়[নিচের দিকে তাকিয়ে]
-কেউ যদি আজ যেতো তবে ফুচকা খাওয়াতাম।
-কেউ যদি আজ নিজের হাতে ফুচকা খাইয়ে দিতো তবে যেতাম।
-হইছে,এখন চলো।
.
দুজন একি কলেজে পড়ি।
পার্থক্য শুধু ইয়ারের।
so বেচারিকে কলেজে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা আমার প্রতিদিনকার রুটিন।
আর আমার মেয়ে বান্ধুপ্পি গুলার কাছে আমার নামে পিন মারা নিধির প্রতিদিনকার রুটিন।
তবে সবকিছু ভালোই চলছিলো।
কিন্তু নিধির চাঞ্চল্যতা,কথা বলা কখন ওর প্রতি দূর্বল করে দিয়েছে আমারি অজানা।
আফসুস সেটা প্রকাশের সাধ্য আমার মাঝে নেই।
.
.
শন্ধায়....
ছাদে বসে সূর্যাস্ত দেখছি।
এমন সময় পিচ্চি এক বালিকার প্রবেশ।
-এইযে ভাইয়া ছাদ থেকে নামেন।
-ক্যানো!
-এখন আমি সূর্যাস্ত দেখবো।
-হুম তো দেখো।
-আমি ছাদে থাকাকালীন অন্য কারো উপস্থিতি পছন্দ করিনা।
-কিসে পড়ো।
-অষ্টম শ্রেণীতে।
-এত্ত গুছিয়ে কথা বলা শিখিয়েছে কে!
-আমার নিধি আপু।
ওওও,নিধি তোমার কেমন আপু।
-বড় আপু।
-আরে..মানে কার কি হয়!
-মামাতো বোন।
-তোমাদের বাসা কোথায়!
-এখান থেকে ৫কিলোমিটার দূরে।
-তো...সেটা কোথায়!
-এত্ত জেনে কি করবেন!বাসায় যাওয়ার ইচ্ছে আছে নাকি!
.
ভয়ে আর কিছু না বলে ছাদ থেকে নেমে আসলাম।
ভেবেছিলাম একটু পটিয়ে ওকে দিয়ে নিধিকে পটাবো।
আফসুস কাজের কাজ কিছুই হলোনা
বালিকা পুরাই সুপার ডেঞ্জারাস।
.
পরেরদিন....
প্রদিনকার মতন নিধি সকালে এসে হাজির।
-ওই ওঠো।
-কয়টা বাজে?
-৮.৪৩
-আর ১৭ মিনিট পরে উঠছি।
-রফি একটা কথা বলি!
-হুম বলো।
-আজ কলেজে না গেলে হয়না।
-আচ্ছা যাবোনা।
-হুম তবে ঘুরতে যাবো।
-যাও।
-তোমার সাথে।
-কিছু খাওয়াতে পারবোনা।
-কিপটা,আচ্ছা যাও আমিই খাওয়াবো।
-ওক্কে,এখনি উ.....
এমন সময় মীমের কল।
রিসিভ করে যা শুনলাম তাতে মনটা পুড়ো খারাপ হয়ে গেলো।
(আজ practical খাতা সাইন করানোর লাস্ট ডেট।)
নিধিকে অনেক কষ্টে বুঝিয়ে কাল ঘুরতে যাবার কথা বললাম।
.
তারপর একসাথে কলেজে গেলাম।
ভাগ্যক্রমে মীমের সাথে গেটেই দেখা হয়ে গেলো।
নিধিকে বিদায় জানিয়ে মীমের সাথে ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
.
অনেক ঝামেলার পর practical সাইন করিয়ে যখন বেড় হলাম তখন আর নিধির দেখা পেলাম না।
কল দিয়েও কাজ হলোনা।
অবশেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
ভাবতে পারিনি রাস্তায় নিধির দেখা পাবো।
একটা রেস্টুরেন্টে ওর এক বন্ধুর সাথে বসে হেসে কথা বলছে।
আমায় দেখে হাসির পরিমাণটা যেন বেড়ে গেলো।
সবকিছু ইগনোর করে বাড়ি ফিরে এলাম।
দুদিন আর ঘর থেকে বেড় হলাম না।
নিধি অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করেছে,কিন্তু আমি এড়িয়ে গেছি।
.
দুদিন বাদে সন্ধায় ছাদে গেলাম।
আকাশের দিকে চেয়ে আছি,এমন সময় এক মেয়ে বলে উঠলো....
-নিধি আপু আপনায় ভালবাসে।
শুনে ফিরে তাকিয়ে দেখি পিচ্চি মেয়েটা "রিহি"।
রিহির পেছনে নিধি অশ্রু চোখে দাঁড়িয়ে আছে।
একটা কথায় সব অভিমান মুছে গেলো।
সৃষ্টি হলো এক নতুন ভালবাসার।
যার সাক্ষি রয়েছে ভরপুর এই সূর্যাস্ত যাওয়া সন্ধ্যা।
.
নতুন এই ভালবাসা ভালোই চলছিলো।
একটা সময় বাড়ির সবাই আমার আর নিধির ব্যাপার কিছুটা বুঝতে পাড়লেও কোনো বাঁধা দেয়নি।
.
দেখতে দেখতে HSC পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো।
অনেকদিন গ্রামের বাড়ি না যাওয়ায়,আব্বু অফিসে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।
উপায়হীন হয়ে আব্বু-আম্মুর সাথে আমায়ও গ্রামে আসতে হলো।
ভাগ্য এতটাই খারাপ সেখানে বিদ্যুতের কোনো সু-ব্যবস্থা নেই।
১০কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ফোন চার্জ দিয়ে আনতে হয়।
যেটা প্রতিদিন আমার জন্য সম্ভব ছিলোনা।
নিধিকে অবস্থার কথা জানালে প্রথমে সে রাগ করে পরে মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
.
দীর্ঘ ২০দিন বাদে আবার শহরে ফিরে যাই।
মনের মাঝে এক অন্যরকম আনন্দ।
বাড়ি ফিরে ফোনটা চার্জ দিয়ে নিধিকে ফোন দিলাম।
অনেকবার চেষ্টা করেও বাড় বাড় একটাই কথা শুনছিলাম "নাম্বারটি এই মুহূর্তে বন্ধ আছে"।
.
নিজেকে আর আটকাতে পারলাম না।
সোজা নিধিদের ঘরের দিকে রওনা দিলাম।
কয়েকবার কলিংবেল চাপরেই আন্টি দরজা খুলে দিলো।
আন্টিকে নিধির কথা জিজ্ঞাসা করতেই মুখ গোমরা করে নিলো।
.
[নিধি আমার অনুউপস্থিতিতে অন্য এক ছেলের সাথে রিলেশন করে।
আর কয়েকদিন বাদেই পালিয়ে বিয়েও করে]
*
অনেক কষ্টে স্মৃতি গুলো ভুলেছিলাম।
আজ আবারো মনে পরে ব্যথাগুলো নতুন করে আঘাত করতে শুরুকরে।
.
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চোখ বেয়ে পানি পরতে লাগলো।
এমন সময় কেউ কাঁপা হাতে পানি মুছে দেবার চেষ্টা করছে।
ভালোভাবে খেয়াল করে দেখি রিহি সজাগ হয়েছে।
-এই কান্না করছো ক্যানো,দেখো আমি ঠিক হয়ে গেছি।
-এমনটা ক্যানো করলে!
-কষ্ট দাও ক্যানো তবে!
-আর দিবোনা।
-ভালবাসবেতো!
-অনেক অনেক ভালবাসবো।
-জানো অনেক কষ্ট হয়েছে রাতে,একটু জড়িয়ে ধরে সব কষ্ট দূর করে দিবা!
.
আর কিছু বলতে না পেরে পাগলির পাগলামোর কাছে পরাজিত হয়ে জড়িয়ে ধারলাম।
তখনি নিধি এক ভদ্রলোকের সাথে কেবিনে দরজা দিয়ে ঢুকতে লাগলো।
আমাদের দেখে সেখানেই দাঁডিয়ে গেলো।
স্পষ্ট খেয়াল করলাম নিধির চোখের কোণে জমতে শুরু করা দুফোঁটা পানি।
সব কিছুর শেষে,
নতুন কিছুর সৃষ্টি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now