বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অমীমাংসিত ৯ (১০)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান selfiAan Razon (০ পয়েন্ট)

X জুবায়ের আলী ছোট ছিল বলে ভয় পেত জিনিসটা। কারণ ও শখের বশে নয়, ভয়ের বশে কাজটা করতো। খুব সম্ভব ও কোনো কবরের লাশের জীবন্ত হওয়ার পর ভয় পেয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে পালিয়ে গিয়েছিল মাদ্রাসা ছেড়ে। আর সে কারণেই শাস্তি সরুপ তার দ্বিতীয় একজন অস্তিত্বকে এখানে পাঠানো হয় এবং অসুখ হয়ে মারা যায়, তারপর কবরের ভেতরে সেই কষ্টটা পেয়ে মৃত্যু হয় তার- যে কষ্টটা অন্য কেউ একজন পেয়েছিল কবরের ভেতর দ্বিতীয়বার বেঁচে উঠেও শ্বাস নিতে না পেরে মারা যাওয়ায়। জুবায়ের আলি যে রাতে কবরের ভেতর মারা যায়- সে রাতে আমিও একই কাজ করেছিলাম। ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। হয়ত সে কারণেই আমার দ্বিতীয় সত্ত্বাকে পাঠানো হয় এবং কবরের ভেতর জেগে উঠে শ্বাস বদ্ধ হয়ে মরার কষ্টটা পেতে হয়। আমি স্বপ্নের মাঝেই আমার যাত্রা করি- হয়ত জুবায়ের আলীও সেরকম কিছু করে। হয়ত আমার মত দুঃস্বপ্ন যাত্রা সে করে না, সে তারিখ মিলিয়ে খুঁজে বের করে কার পুনরাগমন ঘটবে আবার? কে জানে হয়ত এখনো করে। তবে জুবায়ের কবরের নাম, তারিখ দেখে যে কাজটা করতে পারত আমি তা পারি না। হয়ত আমাদের ধরন আলাদা। আমি জানি না কে জেগে উঠবে কবরের মাঝে? শুধু এটুকু আন্দাজ করে বলতে পারি- আমি যে রাতে কবরের ভেতরে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাই- সে রাতে আমার কবরের ওপরে কিংবা আশে পাশে কেউ একজন ছিল...... হয়ত আমার মত কেউ...... যে ভয় পেয়ে আমাকে বের করতে যায়নি। হয়ত এভাবেই প্রকৃতি তার বিচিত্র শৃংখ্যলটা সৃষ্টি করেছেন। হয়ত এভাবেই এই মানুষ গুলো তাদের নিজেদেরকে আবিষ্কার করবে...... আমি দিনাজপুর চলে আসার দীর্ঘ দিন পর হিঙ্গুলী মাদ্রাসার ঈমাম ইদ্রীস শেখের চিঠি আসে আমার কাছে। চিঠিতে সাধু-চলিত মিশিয়ে ফেলেছেন ভদ্রলোক। তিনি লিখেছেনঃ- “ভাই মোঃ নজরুল হোসেন, আমার সালাম নিবেন। আমি আসলে ঠিক কিভাবে লেখবো ব্যাপারটা বুঝতে পারিতেছি না। আমি আপনি চলিয়া যাওয়ার পর খেয়ালের বসেই পত্রিকায় জুবায়ের আলীর নিখোঁজ সংবাদ দিয়া খবর ছাপাই। অনেকেই আমাকে পাগল ঠাউরেছিল সেই সময়। ইহা মহান আল্লাহ তা আলার বড় অদ্ভূত কুদরত- এক মাসের মাথায় জুবায়ের আলীকে ব্রাক্ষ্মণ বাড়িয়ায় খুঁজিয়া পাওয়া যায়! বড়ই আশ্চর্যের বিষয় সে সুস্থ আছে এবং মতি ভ্রমও হয় নাই! বর্তমানে মাদ্রাসায় আছে সে। আপনি একবার তাকে দেখিতে আসলে খুশি হইতাম। সে এখনো নতুন কবরের নাম, তারিখ পড়িয়া বেড়ায়। - আরজ গুজার মাওলানা মোঃ ইদ্রীস শেখ” আমি যাইনি। চিঠির জবাবও দেইনি। ইদ্রীস সাহেবের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, তবুও কেন যেন এড়িয়ে গেলাম চিঠিটাকে। কারণ এখন আমার কাছে কোন প্রশ্ন জমা নেই। যেটার উত্তর জুবায়ের আলী দেবে আমাকে। হ্যা, কবরের নাম, তারিখ দেখে কিভাবে সে বের করে যে এই কবরের মানুষ পুনরুত্থিত হবে- সেটা জানার আগ্রহ ছিল। কিন্তু মনে হয় না সে আমাকে বলবে। কারণ আমরা দুজনেই ভয় পাই, অজানা একটা ভয়...... প্রচন্ড মাথা ব্যথা আর জ্বরে কাঁপছি। সাথে বুকের ভেতর কফ জমেছে। ঘড় ঘড় করে সারাক্ষণ। দুপুরে দুটো প্যারাসিটামল খেয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়েছি। তাতেও শিতে মানছে না। কিছুদিন হল বাসার কাজ করে দেয়ার জন্য গ্রামের বাড়ি থেকে ফুফু একটা ন্য বছরের বাচ্চা মেয়েকে পাঠিয়েছে। অনাথ। কেই নেই বলেই আমার কাছে পাঠিয়েছে। আমি ত সারাক্ষণ রোগে শোকে ভূগি, তাই ও এখানে থাকলে খাওয়া দাওয়াটা অন্তত করা হয়। নামটা বলা হয়নি- পারুল। শ্যামলা মত হালকা পাতলা মানুষ। বাতাস এলে উড়ে যাবে এরকম। আমার জ্বর আসলেই খুব ব্যস্ত হয়ে পরে পারুল। মাথায় পানি ঢেলে দেয়, কপালে জলপট্টি দেয়। আজকেও মাথা ব্যথা আর জ্বরে যখন কাঁপছিলাম, পারুল আমার গায়ের ওপর আরো দুটো কাঁথা চাপিয়ে দিয়ে উদ্বিগ্ন মুখে বলল, “চাচা আপনের তো অনেক জ্বর! আপনে শুইয়া থাকেন। আমি ডাক্তার ডাকে আনতেছি মোড়েরই ডাক্তারের দোকান।” আমি কিছু বলার শক্তি পাচ্ছিলাম না। প্রচন্ড মাথা ব্যথায় মগজটা ছিঁড়ে যাচ্ছে আমার, জ্বরের ঘোরে কেবল গোঙ্গাচ্ছি...... পারুলের কথা শুনতে পেলাম না...... তলিয়ে যাচ্ছি কোথাও আমি...... ভীষণ স্যাঁত স্যাঁতে কোথাও বসে আছি। ঠান্ডা আর ভ্যাপসা একটা স্থির বাতাস। নিজের হাত পা কিছুই দেখতে পারছি না। কিন্তু হাত বুলিয়ে চারপাশে বুঝতে পারলাম একটা কবরের ভেতরে আছি। আমার পা নাড়াতেই এই কবরের লাশটার গায়ে লাগল। স্থ ির হয়ে গেলাম। শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে লাশটা। খারাপ ধরণের একটা গন্ধ। নাকে হাত দিলাম। বুকের ভেতর ঢাকের মত আওয়াজ করা শুরু হয়েছে। শান্ত রাখার চেষ্টা করলাম নিজেকে। বোঝার চেষ্টা করলাম কোথায় আছি। মাথার ওপরের ছাদ মাটি চেপে সিমেন্টের মত হয়ে গেছে, তবে দেয়ালের মাটি খুব আলগা। হাত দিতেই ঝুর ঝুর করে ঝরে পড়ল। পুরনো কবর। খুব ধীরে ধীরে শ্বাস নিচ্ছি আমি। বাতাস ফুরিয়ে গেলে মরতে হবে...... চারপাশে পিনপতন নীরবতা। জমাট নিস্তব্ধতা। হঠাৎ মনে হল খুব চাপা, গুমোট একটা কান্নার শব্দ কানে এল...... কান পেতে শোনার চেষ্টা করলাম কোত্থেকে আসছে। কিছুতে থাবড়ানো, আচঁড়ানোর শব্দ শুরু হল। আমি অস্থির হয়ে উঠলাম। কবরের দেয়ালে কান লাগিয়ে শোনার চেষ্টা করলাম শব্দটার উৎসটা কোথায়......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অমীমাংসিত (১০)
→ অমীমাংসিত ৯ (১০)
→ অমীমাংসিত ২-(১০)
→ অমীমাংসিত ১-(১০)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now