বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঐ♥যে♥রাতে-৬

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Imran khan♥ (০ পয়েন্ট)

X #ঐ♥যে♥রাতে #ইমরান খান #পর্ব_6 . নিঝুম তাকিয়ে দেখে প্রিতম অগ্নিমূর্তি হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। লোক টার চোখে স্পষ্ট রাগের চিহ্ন । ওর দিকে চোখ লাল করে চেয়ে আছে। নিঝুম কিছু বুঝে উঠার আগেই ওর হাত থেকে ফোন আর ইয়ার ফোন টান দিয়ে নিয়ে গেল। নিঝুম বিস্মিত হয়ে গেল! লোক টা এরকম অদ্ভুধ আচরন করছে কেন? ও তো কোন ভুল করে নি। -" এই বের হন আমার রুম থেকে । কি চান আপনি বলুন? আপনি এত বেয়াক্কেল কেন? মাথায় কি কোন সেন্স নেই?" নিঝুম বিস্ময়ের চরম শিকরে পৌঁছে গেল। লোক টা অযথা কি খারাপ বিহেব করছে। মানছি উনি আমার উপকার করছে। এজন্য এমন বিহেব করতে হবে। খুব কান্না পাচ্ছে আবার ,চোখে জল টলমল করছে। নিঝুম নিচু স্বরে বলল, -" আমি কি কোন ভুল করেছি? হ্যাঁ চলে তো যাবো ই। রাত টা থাকতে দিবেন কথা তো এমন টা ছিল।" প্রিতম রাগে কটমট করছে , -"না ,না আপনি কোন ভুল করেন নি। আপনি শেষ রাতে ফুল সাউন্ডে গান বাজাচ্ছেন। সেই কখন থেকে জ্বালাচ্ছেন ,এত করে বললাম যে এখন আমি ঘুমাবো কোন ডিস্টার্ব করবেন না। তা আপনি আপনার ইচ্ছা মত কাজ করছেন।" নিঝুম অপরাধীর মত মাথা নিচু করে বলল, -" আমি তো ইয়ার ফোন দিয়ে গান শুনছিলাম যাতে আপনার ডিস্টার্ব না হয়। কিন্তু... নিঝুমের কথা শেষ হওয়ার আগেই প্রিতম ওকে থামিয়ে দিল। -" ইয়ার ফোন দিয়ে গান শুনলে তার সাইন্ড আমার কানে কিভাবে গেল? এত রাতে গানের শব্দ শুনলে বাবা-মা এবার সত্যি ভাব্বে আমি পাগল হয়ে গেছি। শেষে বাকী টা জীবন আমার পাগলা গারদে কাটাতে হবে।" প্রিতমের চোখ পরল ইয়ার ফোনের দিকে, -" এটা কি আপনার ইয়ার ফোন? " নিঝুম সংকুচিত কন্ঠে বলল, -" না ,মানে আমার কাছে ইয়ার ফোন নেই তাই আপনার ড্রেসিং টেবিলের উপর একটা ইয়ার ফোন পেয়েছি ওটা দিয়ে গান শুনতেছিলাম।" প্রিতমের এবার রাগের মাঝেও সত্যি খুব হাসি পেল। -" নষ্ট ইয়ার ফোন দিয়ে ফুল সাইন্ডে গান শুনছেন তাই না? সেটাও একবার খেয়াল করলেন না?" নিঝুম এবার সত্যি খুব লজ্জা পেল। ছিঃ কেমন একটা কাজ করে ফেলল। একটা বার খেয়ালও করল না। -" আসলে আমি খুব ডিপ্রেসনে আছি তো তাই খেয়াল করি নি।" প্রিতম আর কথা না বাড়িয়ে শুয়ে পরল। নিঝুম নিজের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। এই লোক টা কি করে বুঝবে তার মনে অবস্থা। যে বুঝার সে ই তো বুঝল না। কত তা ডিপ্রেসনে আছে সে! এত গুলো কড়া কথা না শুনালেও পারত। কিছু হলেই শুধু বাড়ি থেকে যাওয়ার হুমকি দেয়! প্রচুর মাথা ব্যাথা করছে এখন। কান্নাও থামছে না একদম আউট অফ কন্ট্রোল এসব ভাবতে ভাবতে কখন জানি ঘুমিয়ে গেল। . ভোর আট টা বেজে গেছে। প্রিতম তো এত বেলা পর্যন্ত কখনো ঘুমায় না। প্রিতম বাবা প্রিতমের মাকে উদ্দেশ্য করে বলল, -" আপনার শাহজাদা পুত্র এখনো উঠে নি?" -" আমার ছেলে শাহজাদা ই। কালকে অনেক রাতে ঘুমিয়েছে তাই হয়তো এখনো ঘুমাচ্ছে।" প্রিতমের বাবা ব্যঙ্গ সুরে বলল, -" আপনার ছেলে অনেক রাত পর্যন্ত কি এমন শুভ কাজ করছে। ও তো এগারো টা বাজেই অফিস থেকে বের হয়ে আসছে।" -" এই তুমি আমার ছেলে কে এভাবে বলছো কেন? ভালো হচ্ছে না একদম । হয়তো বন্ধু- বান্ধব এর সাথে কোথায়ও গিয়েছিল ।" -" অত রাতে বন্ধু- বান্ধবের সাথে কিসের এত আড্ডা?" -" দেখ প্রিতম এখন আর ছোট নেই। ও এখন বড় হয়েছে। এখন ওর নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে।" -" দেও দেও স্বাধীনতা । কোন দিন দেখবা কোন অপকর্ম করে বসে আছে।" -" আমার ছেলের উপর আমার বিশ্বাস- আস্থা সব আছে। আমার ছেলে কেমন তা আমি জানি।" -" হয়েছে চুপ কর। ওকে নাস্তা খেতে ডাক দেও । আজকে একটু তাড়াতাড়ি অফিসে যেতে হবে জরুরী মিটিং আছে।" -" আচ্ছা তুমি বসো আমি ওকে ডেকে আনছি।" দরজা নক করার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল প্রিতমের । চোখ জ্বলছে খুব । মোটেও উঠতে ইচ্ছে করছে না। দরজা নক করেই যাচ্ছে । কালকের রাতের কথা মনে পরতেই লাফিয়ে উঠল । মেয়ে টা এখনো ঘুমাচ্ছে। কি করবে এখন! মা- বাবা কি ভাব্বে এসব জানলে? কত কষ্ট পাবে কেউ কি আমার এই আজগুবি কথা বিশ্বাস করবে। -" এই মরার ঘুম ঘুমাচ্ছিস নাকি? কতক্ষন ধরে দরজা নক করছি?" প্রিতমের মাথায় কিছু আসছে না। কি করবে এখন! মেয়ে টা সজাগ থাকলেও হত। এখন তো ডাকাও যাবে না। কি উটকো বিপদে পরল। -"মা,আমি আসতেছি। যাও তুমি।" -" আরে তুই দরজা খোল আগে।" -" আমি ফ্রেশ হয়ে আসতেছি যাও তুমি।" -" দরজা খোলতে তোর সমস্যা কি? দরজা খোল তোর চাঁদ মুখ খানা দেখি।" প্রিতম খাটের কাছে গেল। মেয়ে টা বেহুশের মতো ঘুমাচ্ছে। নড়াচড়া করছে না। হে আল্লাহ! মরে গেল না তো আবার। -" কিরে কি হয়েছে? কি করিস তুই বল তো?" ধুর! আম্মুও বা দরজা খোলার জন্য এত জোর করছে কেন? প্রতিদিন তো ডেকে ই চলে যায়। প্রিতম কোন উপায় না পেয়ে নিঝুমের পায়ের তলায় সুড়সুড়ি দিল। মেয়ে টা তাও সজাগ হচ্ছে না। সত্যি কি মরে গেল? নাকের কাছে হাত নিয়ে দেখে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। যাক বেচে আছে তাহলে । কপালে হাত দিয়ে দেখে গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে । মেয়ে টা মনে হয় সেন্স লেস হয়ে আছে। মেয়ে টা কে তো এই অবস্থায় ওয়াশরুমেও রাখা যাবে না। প্রিতম কোন উপায় না পেয়ে পাজা কোলে করে খাটের নিচে শুইয়ে দিল। বিছানার চাদর ফ্লোরের ছোয়াছে করে দিল। তারপর দরজা খুলে দিল। -" এতক্ষন কি করছিস? দশ মিনিট ধরে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছি।" প্রিতম ভয়ে যথারিতী ঘামতে শুরু করল। -" আরে আমি ওয়াশরুমে ছিলাম।" -" ওয়াশরুমে কি করছিস এতক্ষন? এখনো ফ্রেশ হস নি।" প্রিতম থতমত খেয়ে গেল। -" আম্মু এত জেরা করছ কেন? আমি কি এখন টয়লেটেও যেতে পারব না?" -" তুই ই তো বললি ওয়াশরুমে গেছিস। আবার বলিস টয়লেটে সমস্যা কি তোর? তোকে এমন অস্থির দেখাচ্ছে কেন?" -" কালকে অনেক রাতে ঘুমাইছি তাই খারাপ লাগছে।"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঐ♥যে♥রাতে-৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now