বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অহংকারের জয়

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রাসেল পারভেজ (০ পয়েন্ট)

X বাদামের দাম মিটিয়ে একগাল হেসে বললাম, " ভাইয়া তোমার নাম কি? " ছেলেটার পড়নে আধাছেড়া জড়ানো একটা জামা। কোঁকড়ানো চুলগুলো চুপচুপে তেলে ভেজা। শীর্ন শরীরের কাধেঁর হাড় দুটো জেগে আছে। আমার কথা শুনে ছেলেটার মুখে নির্লিপ্ততার হাসি ফুটে উঠলো। একগাল হেসে বললো, "স্যার আমার নাম রতন শেখ। আমার আব্বার নাম মানিক শেখ। আমরা স্টেশনের পাশের ওই বস্তিটাতে থাকি। " ছেলেটার মুখে আবার সেই হাসি। ছেলেটার কন্ঠে একটা জিজ্ঞাসু সুর বেজে উঠলো। ঠোটদুতো বাকা করে বললো, " স্যার কার গাড়িডা বুঝি আপনার?? " আমি বললাম, "হুম " -- দ্যাখতে কিন্তুক সন্দর -- তাই নাকি???? -- হয়.. স্যার আইজ একবছর দ্যাখতাছি আপনে এইহানে একাএকা বইসা থাহেন!! আপনেরে কি কেউ মনে দাগা দিছে নাহি??? আমি একগাল হেসে বললাম নাহরে পাগল,,, এমনি জায়গাটা সুন্দর তাই বসে থাকি!!! ছেলেটার চোখ জুড়ে একটা সন্দেহের দৃষ্টি। আমার দিকে সেই সন্দেহের দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে মুচকি হাসতে হাসতে চলে গেল। • আমি তমাল। একটা প্রাইভেট কন্সট্রাকশন ফার্মের নির্বাহী প্রকৌশলী। ঠিক ৫ বছর আগে এখানেই শেষ কথা হয়েছিলো অদিতির সাথে। হ্যাঁ অদিতি। অদিতিই ছিলো একসময় আমার সমস্ত ভুবন। তবে এখন বুঝি আর নেই। আচ্ছা অদিতি এখন কালো টিপ পড়ে? এখনও কি খবলবিয়ে হাসে.???? আজ অবেলায় কেন বারবার অদিতির ডান ঠোঁটের উপরের তিলটার কথা মনে পড়ছে???? আচ্ছা অদিতি তুমি কি এখনও খোঁপায় বেলিফুল পড়ো.??? আচ্ছা এখনও কি কেউ অযাচিত হাসির জন্য তোমাকে বকা দেয়.??? এখনও কি ছেলেদের মতো শিস বাজাও.???? এখন কি আর কেউ তোমাকে ভাঙা গলায় গান গেয়ে শোনায়??? হয়তো শোনায় হয়তোবা না!!! এখন বোধহয় বেশ সুখেই আছো। নতুন পুজার নতুন আয়োজনে এখন বোধহয় আর পুরাতন সুরকে মনে পড়েনা। আমিই শুধু হারিয়ে গেলাম হারিয়ে যাওয়ার বনে। আমার ভিতরে কোনও ভালোবাসার বোধহয় কমতি ছিলোনা, ছিলো শুধু স্বার্থ আর আভিজাত্যের কমতি। আমি কখনোই ভাবিনি তুমি এভাবে স্বার্থপর হবে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের ভালোবাসা শুধু অন্তর আর এক ঠোঙা চিনে বাদামের ভিতরেই সিমাবদ্ধ থাকে। আমরা মধ্যবিত্তরা অসাধারণ শুধু স্বপ্ন দেখাতেই, কিন্তু আমাদের বেশিরভাগ স্বপ্নই হেরে যায় সামর্থ্যরে কাছে। . অদিতি ছিলো ধনী ব্যাবসায়ী বাবার ধনীর দুলালী। আর সেখানে আমি ছিলাম একজন সামান্য গরীব চাষীর ছেলে। যার বাবার কাছে ছেলেকে সামান্য কলেজ পড়ানোই ছিলো ফ্যান্টাসি। টিউশনি পড়িয়ে লেখাপড়ার খরচ চালাতাম। এদিকে অদিতির সমস্ত মন জুড়ে ছিলো শুধু অহংকার আর আভিজাত্যের দাম্ভিকতা। এমনকি আমার সাথেও মাঝেমাঝে দাম্ভিকতা দেখাতে লাগলো। আস্তে আস্তে টের পেতে লাগলাম অদিতি আমার কাছ থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। একদিন তো সরাসরি বলেই দিলো আমার সাথে সম্পর্কটা আর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব না। আমাকে অবশ্য অযুহাতগুলো শুনতে হয়নি তার আগে হাত থেকে মোবাইলটা পড়ে ভেঙে গেল। . তারপর আর কোনদিন অদিতির সাথে কথা হয়নি। জীবন কারও জন্য থেমে থাকেনা। সৃষ্টিকর্তার কাছে নাকি সব সৃষ্টিরই সমান মুল্য। তাই বোধহয় সৃষ্টিকর্তা আমাকে খাদ থেকে টেনে তুলেছিলেন। কিছুদিন পরেই স্কলারশীপে জাপানে গেলাম ইন্জিনিয়ারিং পড়তে। গতবছর পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরেছি। মায়ের স্বপ্নটা এবার পুরন হলো। এখন আর আমাদের খড়ের কুড়ে ঘরে থাকতে হয়না। ঢাকা শহরে একটা বাড়ি হয়েছে,, মোটামুটি একটা দামী গাড়িও আছে,, কিন্তু আজ নেই অদিতি। তাই অদিতিকে মনে পড়লে চলে আসি এই পুকুর পাড়ে। এই পুকুরের আশেপাশে চারিদিকে অদিতির স্মৃতিগুলো ছড়িয়ে আছে যেগুলো একাএকা হাতড়ে ফিরি। . অদিতিকে আজ আবার কল্পনায় আনার চেষ্টা করছি। এইতো দেখতে পাচ্ছি অদিতি আমার পাশে বসে বাচ্চাদের মতো হাত পা ছড়াছড়ি করছে আর শিস বাজিয়ে যাচ্ছে। আমি বারবার বারন করে যাচ্ছি কিন্তু অদিতি শুনছেনা। হঠাৎ উরু কাপানো ভোঁ ভোঁ শব্দে আমার কল্পনার ছেদ ঘটলো। চেনা একটা নাম্বার থেকে আমাকে ফোন করা হয়েছে তবে নাম্বারটা সেভ করা না। আমি ফোনটা ঘাসের উপরে রেখে দিলাম। ফোনটা আপন মনে বেজে যাচ্ছে। একসময় নাম্বারটা অনেক পরিচিত ছিলো এখন বড্ডো অপরিচিত লাগছে। আমি বিরক্তিকর মুখে ফোনটা কানের পাশে ধরে বললাম, -- হুম বলো অদিতি। ফোনের ওপাশ থেকে ফ্যাসফ্যাসে গলায় ভেসে আসলো, -- তারপর কেমন আছো.??? -- এইতো আছি বেশ। -- জানতে চাইলেনা আমি কেমন আছি???? -- বোধহয় ভালোই আছো,, সেজন্য জানার ইচ্ছা নেই। শুনতে পেলাম অদিতি ফুপিয়ে কাঁদছে। আমিও ক্ষনকাল চুপ থাকলাম। অদিতি আবার বললো, " -- প্লিজ আমাকে মাপ করে দাও। -- মাপ তো চাওয়া উচিত আমার কেননা বামন হয়ে চাঁদ ধরতে গিয়েছিলাম। ফোনের ভিতরেই শুনতে পেলাম অদিতি ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। আমি ক্ষনকাল নিরব শ্রোতা হয়ে শুনলাম। তারপর ফোনটা আবার ঘাসের উপরে রেখে দিলাম। সন্ধ্যার কালীমাখা অন্ধকার আস্তে আস্তে দিনের শেষ আলোটুককে গ্রাস করে নিচ্ছে। পক্ষীকুলেরা সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। রাস্তার পাশের বাল্বগুলো সোডিয়াম আলো ছড়াতে শুরু করে দিয়েছে। ঝিঝির দলে আপন মনে ডেকে যাচ্ছে। আশেপাশে দুএকটা জোনাকি পোকার আনাগোনা। এমনক্ষনে বোধহয় অহংকারের খেলায় আমিও জিতে গেলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অহংকারের পরিণতি
→ গল্পটা অহংকারের
→ অহংকারের পতন
→ অহংকারের জয়
→ অহংকারের পরিণতি
→ অহংকারের ফল
→ অহংকারের পরিণতি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now