বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"অদ্ভুত প্রেমের সূচনা "
লিখেছেনঃ রাসেল পারভেজ
-কি কর...???
-
--পড়ছি..!!
-
--আমার মেসেজের উত্তর দিতে চাও না কেন...???
-
--আধ্যাত্মিক প্রশ্ন করলে উত্তর দেব কি...???
-
--আমি আধ্যাত্মিক প্রশ্ন করি...???
-
--নয়তো কি...???আমার ঠোঁটের নিচে তিল আছে কিনা, বাম হাতে কাটার দাগ আছে কিনা, খাওয়ার পরে কয় গ্লাস পানি খাই। এগুলো কি প্রশ্নের ধরন...???
-
--রেগে যাচ্ছ কেন...!
-
--রাগার মত কথা বললে রাগব নাতো কি করব হুম্ম...???
-
--তুমি একদম বৃষ্টির মতনই...!
-
--অইইইই মিয়া খালি বৃষ্টি বৃষ্টি কর কেন...???
-
--তোমার নামও তো বৃষ্টি..!!
-
--কাক্কু হেইডা আমি জানি..! আমার কথা তো একবারও কও না....???
-
--তুমি তো একটা খাটি সেলফিস...!!
-
--কিইইই...??? কি কইলা তুমি...???
-
--হুনবার পাও নাই...??? তোমার লগে এত্তদিনের পরিচয়। তুমি না দিলা এক্কান ফডু, না দিলা তোয়ার নাম্বার..!!
-
--তুমি মিঞা হে জব্বর ধান্ধা বাজ দেখতাসি...!!
-
--চল না একদিন আমরা দেখা করি...!!
-
--না পারমুনা, ওকে বাই..!!
-
--আইচ্ছা বাই।
•
এতক্ষণ কথা বলছিলাম বৃষ্টির সাথে। ফেসবুকে ওর সাথে দেখা, ফেসবুকে পরিচয়, ফেসবুকেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব।
পরিচয়ের সম্পর্ক প্রায় ১.৫ মাসে গড়িয়েছে, কিন্তু এখনও ওর থেকে ওর নাম্বার কিংবা ছবি কিছুই আদায় করতে পারলাম না।
আপনাদের কি মনে আছে ছোটবেলার ওই সেই বৃষ্টির কথা....???
এই বৃষ্টির খুনসুটি ও একদম ওই বৃষ্টির মতই।
.
একদিন "অঝোর বৃষ্টি "নামক একটা আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট। আমি ভাবলাম আমার মত পুলার কাছে কে আবার রিকুয়েস্ট দিছে, ফেক ভেবে ঝুলিয়ে রাখলাম।
দুদিন পর সকালে দেখি ওই আইডি থেকে একটা মেসেজ দিছে,
--ওইইই মিয়া আপনি কি চোখে দেখেন না, রিকুয়েস্ট পাঠাইছি চোখে বাধে নাই হুম্ম...???
.
রিকুয়েস্ট এ্যাকসেপ্ট করে নক করলাম।
--হ্যালো রিকুয়েস্ট এ্যাকসেপ্টেড।
-
--ওইইই মিয়া রিকুয়েস্ট কি চোক্কে বাধে নাই, এত পরে এ্যাকসেপ্ট করলেন কেন হুম্ম...??
-
--কি দজ্জাল রে বাব্বা..!!
-
--ওই মিয়া বেশি কথা কইলে কিন্তু মুখে টেপ লাগাইয়া দিমু..!
এরপর থেকে শুরু আজ সেই পরিচয় এই পর্যন্ত এসে ভিড়েছি।জানি না এতটুকু সময়ের মধ্যে ওকে ভালবেসে ফেলেছি কিনা, কিন্তু ওকে যে খুব মিস করি কিংবা পছন্দ করি এটা একদম ঠিক।কিন্তু জানিনা ও আমাকে পছন্দ করে কিনা, তবে আমার মনে হয় আমার আর ওর অনুভূতি হয়তো একই হবে।
•
দুইদিন পরে দেখি ওই আমাকে মেসেজ দিছেঃ
-কবে, কখন, কোথায় দেখা করবা...???
-
--বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে আসতে পারবা...???
-
--না দেখা করলে হইলে রেনইউয়িক বাধে আসতে হবে।
-
--ওখানে তো সব জোড়ায় জোড়ায় বসে থাকে...!!
-
--ধুর মিয়া তুমিই কি একাএকা যাচ্ছ নাকি, আমি আছি না...। হিহিহি
-
--ওলে বাব্বা,,, মাইয়া এগ্ললা কই কি...???
-
--হ, আসার সময় হিমুর মত একটা হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে আসবা...!!
-
--কিন্তু আমার তো হলুদ পাঞ্জাবি নাই...!!
-
--হাতির মাথা আছে? হলুদ যে কোন শার্ট কিংবা গেঞ্জি পড়ে আসলেই হবে।
-
--কিন্তু আম্মু তো আমাকে হলুদ পোশাক পড়তে দেয় না।
-
--কেন? দেয়না কেন...???
-
--হলুদ কাপড়ে পোকামাকড়ের গা ভরে যায়।
-
--হিহিহি...!!
-
--আমার পছন্দ হয়, লাল পড়ে আসি...???
-
--আরে গাধা, তুমি কি এখনও ছোট আছ যে লাল পড়বা, মেজাজটাই খারাপ করে দেয়..!!
-
--হেহেহে.....আচ্ছা নীল পাঞ্জাবি পড়ে আসব, তুমি কি পড়ে আসবে...???
-
--আমি কি পড়ে আসব সেটা তোমায় বলব...???
-
--ও যাহহহ... তাহলে তোমাকে চিনব কি করে...???
-
--চেনা লাগবে না। ওকে বাই।
-
--ধুর মিয়া।
•
এই বলে অফলাইনে চলে গেল। মেজাজটা যদিও বিগরে যাচ্ছিল তবুও কিছু করার ছিল না।
পরদিন বিকাল ৪.৩৫ টায় একটা নীল পাঞ্জাবি পড়ে, স্বপ্নকন্যার জন্য বের হলাম, যাওয়ার আগে সজীবকে ফোন দিয়ে বললাম, বিপদে পরলে উদ্ধার করে আনিস।
.
একটা ডায়েরি হাতে নিয়ে রেইনউইকে বসে থাকলাম, কিন্তু হেতের আসার কোন খবর নাই।মেজাজ এমনিতেই খারাপ তারপর বল্লো না কি পড়ে আসবে।
হঠাৎ দেখি ওই মেয়েটা, মানে "একটি ট্রেন ভ্রমণ "গল্পে যে মেয়েটার কথা বলেছিলাম, সেই মেয়েটা।
ওমা ওতো দেখছি আমার দিকেই আসছে। আমার দিকে চোখ পড়তেই বলে উঠলোঃ..
--হেইইই..লালনের প্রতিবেশী কি খবর আপ্নার....???
-
--হেহেহে ভালোই,,, কিন্তু আপ্নে এখানে যে...???
-
--এইতো একজনের সাথে দেখা করতে আসলাম, কিন্তু আপ্নে এখানে মতলব কি হুম্ম ...??? হাতে আবার দেখছি ডায়েরি, হুম্ম...???
-
--আরে নাহ এমনি। সেদিন হঠাৎ করে চলে গেলেন কিছু তো বলে গেলেন না...!!
-
--হুম, সেদিনকার জন্য দুঃখিত।
-
--লুকায়ে চলে গিয়ে এখন দুঃখিত হুম্ম...???
.
এভাবে ওনার সাথে কিছুক্ষণ কথা চলতে থাকলো কিন্তু বৃষ্টির কোন খোঁজখবর নেই, ওনার সাথে কথাবার্তা চুকিয়ে রাগে ফুলতে ফুলতে চলে এলাম।
.
রাতে ফেসবুকে নক করলাম..
-এইযে মহিলা আমাকে মিথ্যা বলে বসিয়ে রাখলে কেন...???
-
--এই খবরদার মহিলা বলবা না...কালকে কাজ ছিল তাই যেতে পারিনি বুচ্ছ...???
-
--ধ্যাত্তেরি...!!
-
--প্লিজ রাগ করোনা কালকে আবার আসো...???
-
--যাবার পারি কিন্তু একটা শর্ত আছে...!!
-
--কি হেইডা...???
-
--এখন আমারে এক্কান চুম্মা দিতে হইবো..!!
-
--ওইইইই চুপ, মুখে কিন্তু টেপ লাগাইয়া দিমু...!!
-
--অ.কি...???
-
--টাটাটাটাটা বাই বাই..!!
-
--হ..!!
•
রাগ হচ্ছে, ভাবছি যাব কি যাব না। তবু রাগ সংযত করে আবার গেলাম, সেই পোশাক, সেই ডায়েরি, সেই জায়গায় গিয়ে বসলাম, শুধু পরিবর্তন হলো, আসার সময় একটা রজনীগন্ধার স্টিক এনেছি,
শুরু হল আবার প্রতিক্ষার পালা, এদিক ওদিক চায়ছি, সবাই জুটি বদ্ধ, এখানে নিজেকে অস্বস্তি লাগছে।
ধ্যাত্তেরি উঠে যাব ভাবছি, হঠাৎ দেখি সেই মেয়েটা আবার আসছে, অর্থাৎ কালকের মেয়েটা। আজকে একটা নীল ড্রেস পড়ে এসেছে, দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে, আমার পাশে এসে বসে বললোঃ
--কি মিয়া এখানে বসে আছেন কারণ কি হুম্ম...???
-
--নাহ..এমনি বসে আছি, কিন্তু আপনি...???
-
--আমার কথা বাদ দেন আগে বলেন কাকে খুজতে রোজ রোজ এখানে আসেন হুম্ম...???
-
--কোই নাতো এমনি বসে আছি...!!
-
--আপনাকে কি কেউ আসতে বলেছিল, হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে...???
-
--নাহ..কেউ না...!!
-
--তাহলে আমি উঠলাম...!!
এই বলে মেয়েটা উঠে দাড়ালো,তখনই আমার হুশ হল, আরে এই কি সেই মেয়ে মানে বৃষ্টি....???
খপ করে হাতটা চেপে ধরে বললাম "ওই মাইয়া কোথায় যাচ্ছ হুম্ম...???"
মেয়েটা হিহিহি করে হেসে উঠে বললো...
--কেন চইলা যাইতাছি, আর আপনিই বা কে শুনি...???
-
--ওরে পাজি, কালকে তুমি আমারে ডস দিছ ক্যান হুম্ম...???
-
--হিহিহি তুমি দেখছি এখনও তেমনই হাঁদা রাম রয়েছ দেখছি...!!
-
--কিইইই আমি হাঁদা...????
-
--হ, পাতি হাঁদা, খালি তো পার বৃষ্টি বৃষ্টি করতে, সে বৃষ্টিটা কে শুনি...!!
-
--বৃষ্টি আমার ছেলেবেলার বান্ধবী সেই যে হারিয়ে গেল আর খুজেঁ পেলাম না।
-
--তা ওর কাছে যাও, আমার কাছে কিইইই...???
-
--আচ্ছা তুমি তো ট্রেনের ভিতরে বলেছিলে, তোমার নাম. মেহনাজ আফরিন।
-
--হ্যাঁ মেহনাজ আফরিন বৃষ্টি।
-
--ওরে পাজি..!!
-
--আচ্ছা তুমি কি আমাকে এখনও চিনতে পারনি...???
-
--মানে...???
-
মেয়েটা কাদোঁ কাদোঁ গলায় বলল...
--দেখতো বাম হাতের এই দাগটা চিনতে পার নাকি, ছেলে বেলায় তো কামড়ে দিয়ে ছিলে...!!
এ কথা শোনার পড়ে নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না, আবেগে চোখ দিয়ে নোনা পানির ঝর্ণা নেমে এল, ওর হাতটা জাপটে ধরে বললাম, তুমি সেদিন বলনি কেন তুমি বৃষ্টি..??
-দেখলাম তুমি আমাকে কতটা মনে রেখেছ....!!
-
--তোমাকে আমি অনেক অনেক খুজেছি কিন্তু পায়নি, সেদিন তোমাকে বৃষ্টি ভেবেছিলাম, কিন্তু সেই বৃষ্টি আর এই আর এই বৃষ্টির মধ্যে ফারাক বুঝতে পারিনি।
বৃষ্টি চোখ মুছে আমার মাথা চুলকে দিয়ে বললো...
--আরে পাগল এখন তো বুঝতে পেরেছ..!!
আমি আর দেরি করলাম না, জানতাম রজনীগন্ধা ওর খুব প্রিয় তাই হাটু গেড়ে বসে বললাম...
-will you marry me
-
--ওলে আমার বাবুটা কি বলে এগুলা...!!
-
--ধ্যাত্তেরি বল না..!!
-
--হুম, আমিও
-
--আমিও কি...???
-
--ভালোবাসি...!!
-
--কাকে...???
আমার গাল টিপে ধরে বললো, আমার এই বাবুটাকে, হ্যাঁ আমার জন্য কিন্তু চকলেট আনতে হবে নয়লে কিন্তু বন্ধু ভেঙে দেব।
দুজনেই হোহো করে হেসে উঠলাম।
.
বৃষ্টির হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বললাম আমি কি সারাজীবন এই হাতটা ধরে গল্প করার অধিকার পেতে পারি।
এভাবেই শুরু হয়ে গেল আমাদের নতুন প্রেমের সূচনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now