বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সময়টা ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখ।আমি তখন ৫ম শ্রেণীতে পড়তাম।পড়ালেখায় মোটামুটি ভালোই ছিলাম।দুষ্টুমি একটু আধটু করতাম।মায়ের সাথে গ্রামে থাকতাম।বাবা শহরে থাকত। শিক্ষকতায় ছুটি পেলে মাঝেমধ্যে গ্রামে আসতেন।
সেই সময়ে আমার পরীক্ষাটা শেষ হলো।খুব আনন্দে ছিলাম।কারণ পরীক্ষা শেষ।
হঠাৎ সকালবেলা বাবা এসে হাজির হলেন।বাবা সাধারণত এত শীঘ্রই বাড়িতে আসেন না।তাই বাবাকে এত শীঘ্রই আসতে দেখে আমি খুব খুশি হলাম। উত্তেজনার মাঝে কারণটাই জিজ্ঞেস করা হলো না।
অনেকদিন ধরে মামাবাড়ি যাবার শখ ছিলো।অপেক্ষায় ছিলাম কখন পরীক্ষা শেষ হবে আর বাবা বাড়িতে আসবেন।
আজ বাবা বাড়িতে আসতেই বাবার কাছে মামাবাড়ি যাবার বায়না ধরলাম।বাবা বারণ করলেন না।বরং রাজি হলেন।
মামাবাড়ি কুমিল্লায়।চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে যেতে সাড়ে চার কি পাঁচ ঘন্টা লাগে।তবে দূরযাত্রার বাসগুলোতেও যাওয়া যায়।এই বাসগুলোতে গেলে সময় বেশি লাগে আবার খরচও বেশি।তাই ট্রেনে করে যাওয়াই নিরাপদ।
মামাবাড়ি কখনো দেখিনি।আজ পর্যন্ত একবারও মামাবাড়ি যাওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি।অনেকদিন ধরে ভেবেছিলাম মামাবাড়ি দেখব।কিন্তু 'মামাবাড়ি যাব' বলার সুযোগটা পাচ্ছিলাম না।এখন সেই সুযোগটা হলো।
সেদিন বিকেলে বাবা আমাদের তিনজনের জন্যে তিনটে টিকিট কাটলেন।টিকিটগুল
ো ছিলো রাত এগারোটার ট্রেনের।তাই আমরা রাত সাড়ে দশটায় ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালাম।
স্টেশনে ট্রেন লেট করল না।আগে থেকেই উপস্থিত ছিলো।আমরা ট্রেনে উঠে আমাদের কামরাটায় গিয়ে বসলাম।ঠিক এগারোটায় ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে রওনা হলো।আমরা যে কামড়াটায় বসেছিলাম তার এক কোণায় একটি সিটে বসেছিল এক বৃদ্ধা।বৃদ্ধার বয়স ৭০-৮০ এর কাছাকাছি হবে। চুলগুলো খুব লম্বা। কোমর পর্যন্ত যায়।পাকা,একটু একটু বাদামী টাইপের।পরনে একটা সাদা শাড়ি।চেহারা যেমন ফর্সা তেমন সুন্দর।খুব ভদ্র।তবে চেহারায় ভয়ংকর একটা ভাব আছে।
আমার জানালার পাশে বসতে খুব ভালো লাগে।তাই আমি জানালার পাশে বসেছিলাম।আমার পাশে বসেছিল বাবা।আর আমাদের সামনাসামনি সিটে বৃদ্ধার পাশে বসেছিল মা।বৃদ্ধা বসেছিলেন জানালার পাশে।
মা বাবা দুজনেই ট্রেনে উঠে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।আমি ঘুমালাম না।ঘুমই আসছিল না।জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিলাম।খুব দমকা হাওয়া বইছিল।আমার চুল উড়ছিল সেই বাতাসে।বাইরে কত গাছপালা,বাড়িঘর
,রাস্তা,দোকান দেখা যাচ্ছিল।রাত হয়ে গিয়েছিল বলে সব কেমন জানি ঝাপসা দেখাচ্ছিল।আমার সামনে বসা বৃদ্ধা মহিলাটি ঘুমালেন না।বাইরে তাকিয়ে ছিলেন তিনি।তখনই একটা হিম বাতাস গা জুড়িয়ে দিল আমার।ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগতেই কেঁপে উঠলাম আমি।সোয়েটার পরে নিলাম।
একসময় হঠাৎ বৃদ্ধা মহিলাটি বাইরে থেকে চোখ ফিরিয়ে আমার দিকে তাকালেন।মহিলাটিকে দেখেই ভয় পেয়ে গেলাম।তার চোখ হয়ে গেল টুকটুকে লাল।পরনে সাদা শাড়িটা হঠাৎ লাল হয়ে গেল।আর মহিলাটি বয়স্কা থেকে যুবতী হয়ে উঠলেন।লম্বা লম্বা চুলগুলো বাতাসে অদ্ভুতভাবে উড়ছিল।
হঠাৎ মহিলাটি উঠে দাঁড়ালেন।তখন মহিলাটিকে মানুষখেকো রাক্ষসীর মতো লাগছিল।তার মুখের চারদিক থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল।
কিছু বুঝে উঠার আগেই মহিলাটি সামনে এসে আমার গলা টিপে ধরলেন।আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না।দম আটকে আসছিল।মনে হচ্ছিল এক্ষুণি বুঝি মরে যাব।
আমি যত সম্ভব হাত পা ছুড়ছিলাম।প্রচন্ড জোরে।তাও মহিলাটি আমায় ছাড়ছিলেন না।আরও জোরে চেপে ধরলেন।কিছু করতে না পেরে চেঁচাতে চেষ্টা করলাম।কিন্তু গলা দিয়ে কোনো আওয়াজই বেরোল না।
আমি আমার বাম হাত দিয়ে বাবাকে ঠেলার চেষ্টা করছিলাম।কিন্তু হাত গন্তব্যে পৌঁছাল না।
মহিলাটি আমার গলা আরো জোরে টিপে ধরলেন।তখন মহিলাটি তার লাল লাল দাঁতগুলো বের করলেন।সেই দাঁতগুলো নিয়ে তিনি আমার খুব কাছে চলে আসতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
জ্ঞান ফেরার পর আমি নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম।বাবা মাকে পেলাম আমার পাশে বসা অবস্থায় আর নিজেকে পেলাম হাসপাতালের বেডে শোয়া অবস্থায়।কিছুক্ষণ পর মা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,'কী হয়েছিল তোর?ট্রেনে আমাদের পায়ের নিচে এভাবে পড়েছিলি কেন?'
আমি সব কথা খুলে বললাম মা বাবাকে।সব শুনে মা বাবা তো অবাক।তারা বিশ্বাসই করতে চাইলেন না।
সুস্থ হয়ে ওঠার পর আমার আর মামাবাড়ি যাওয়া হলো না।তবে পরের বছর ঈদের ছুটিতে মামাবাড়ি গেলাম। দূর যাত্রার বাসে করে।
এরপর ৫ বছর কেটে গেল।যখনই ঐ মহিলাটির কথা মনে পড়ে তখনই হঠাৎ গা কেঁপে ওঠে।
কিন্তু ঐ অদ্ভুত মহিলাটি আমাকে আর কখনো দেখা দেয় নি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now