বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"অদ্ভুত আঁধার এক"
লিখেছেন- সোহানা রহমান
----------------------
বাড়িটা অদ্ভুত। চারদিক শ্যাওলা ধরা। কেমন একটা পুরানাে গন্ধ। অনেকদিন বস্তায় রাখা চালের মত ৷ অথবা প্রথম বৃষ্টির মত ৷ মরচে ধরা লোহাতেও এরকম গন্ধ পাওয়া যায় ৷ তবে সেটা যা ই হোক, কেমন যেন প্রাচীন ৷ গা ছমছমে।
… এরকম জায়গায় বাসা কেন নিল মনি? দুটো বাচ্চা নিয়ে একা থাকা কি চাট্টিখানি কথা ? ওর বর থাকে দেশের বাইরে ৷ এর চেয়ে ঢের ভাল জায়গা স্বচ্ছন্দে পেত ওরা ৷ ণ্ডধু কি টাকা বাঁচানোর জন্য? কিন্তু মনিকে যতদুর চিনি, সে মোটেই কৃপণ না। হতে পারে ওর বর বেশি সাশ্রয়ী।
আমার আজকাল কাটছে চাকরির জন্য দৌড়াদৌড়ি করে। মাষ্টার্স শেষ হয়েছে বছর খানিক। এখনও পর্যন্ত কোন চাকরি হলো না। বাড়ির যে অবস্থা, বাবা অসুস্থ, মা নেই… ছোট দুটো যমজ বোন স্কুলে পড়ে। এই অবস্থায় চাকরি ছাড়া আর কিছু ভাবতেই পারি না। বিয়ে হয়তো এ জীবনে করাই হবে না।
আজ এই এলাকায় একটা ইণ্টারভিউ ছিল। জানতাম না মনি এখানেই থাকে ৷ হেঁটে ফিরছিলাম। হঠাৎ করে কে যেন ডাক দিল ৷ জায়গাটা নির্জন। একটাই বাড়ি চোখে পড়ে ৷ ‘জঙ্গলের ভিতর একটা বাড়ি, কাকাবাবুর একটা উপন্যাসের কথা মনে পড়ে গেল।
ওই বাড়ির দােতলার ঝুল বারান্দা থেকেই দেখলাম হাত নেড়ে নেড়ে ডাকছে আমার ছোটবেলায় বান্ধবী মনি। আগের মত নেই আর। আমি তাকাতেই দাড়াতে বলল ইশারায় ৷ তারপর দুই মিনিটের ভিতর এসে আমাকে
হাত ধরে নিয়ে গেল ভিতরে ৷
ভিতরে ঢুকেই মনটা কেমন করে উঠল। এত প্রাচীন একটা বাড়ি, এত বড়... একটা ছাব্বিশ বছরের মেয়ে তিন আর পাঁচ বছরের দুটো বাচ্চা নিয়ে কী ভাবে এখানে থাকে ভাবতেই হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল ৷ দেখলাম মনির এটা নিয়ে কোন চিন্তাই নেই। বেশ ভাল আছে সে।আমাকে বসার ঘরে বসিয়ে ভিতরে গেল ও চা করতে ৷
খুব অদ্ভুত লাগল একটা জিনিস। এই বসার ঘরের পাশেই বিশাল এক পানির চৌৰাচ্চা। ৰিশাআআআআল ৷ গভীর কতখানি জানি না। কিন্তু কৌতূহল সামলাতে না পেরে পাশে গিয়ে দেখলাম একটা রুমের সমান বড় হবে চৌৰাচ্চাটা ৷ গভীরও ওরকমই হবে।
খুব মনোযোগ সহকারে হিসাব করছিলাম, যত যাই হোক, গণিতের ছাত্রী আমি। আচমকা কে যেন পাশ থেকে এসে চিৎকার করে ঝাঁপিয়ে পড়ল পানিতে। আমি কিছু বোঝার আগেই দেখলাম একটা বাচ্চা পানিতে ভাসছে, ডুৰেই যাচ্ছে বোধহয়। খুব বেশি হলে পাঁচ বছর হবে বয়স। আমিও আগুপিছু কিছু চিন্তা না করে ঝাঁপিয়ে পড়লাম পানিতে। বাচ্চাটাকে বাঁচাতে হবে। সাঁতরে ওর কাছে যেতেই দেখি দিব্যি সাঁতরাচ্ছে ৰাচ্চাটা। নিশ্চয়ই এভাবে স্নান চলে তার রােজ। খিলৰিল করে হাসল মেয়েটা।
আমার হঠাৎ মনে হলো ব্যাপারটা অস্বাভাবিক ৷ এই পুরো ব্যাপারটা। ভর দুপুরে সাত বছর আগে দেখা বান্ধবীর বাসায় আসা, এরকম নিস্তব্ধ পরিবেশ, ছোট্ট একটা মেয়ের এরকম মাছের মত সাঁতার কাটা। সব কিছু কেমন জানি। সর্বাঙ্গ কাঁটা দিয়ে উঠল। আমি কোনক্রমে কাঁপতে কাঁপতে উঠে এলাম ৷
আমি মনির নাম ধরে ডাকলাম কিছুক্ষণ ৷ তারপর নিজেই ভিতরে ঢুকে গেলাম ৷ ভেজা শাড়ি পরে থাকলে নির্ঘাত ঠাণ্ডা লাগবে আমার , জ্বর হলে বিপদে পড়ব।
দেখলাম মেয়েটাও সাঁতার কেটে উঠে এসেছে। রিনরিনে গলায় বলল ‘মাকে খুঁজছ? এসো আমার সাথে।‘
আমি কিছু না বলে পিছু পিছু চললাম পিচ্চির। অনেক গলি ঘুপচি পেরিয়ে একটা ভেজানো দরজা খুলে ভিতরে ঢুকল সে। আমি অবাক হয়ে গেলাম ৷
মনি দিব্যি ঘুমােচ্ছে খাটে শুয়ে শুয়ে। আমার জন্য চা বানাতে এসে নিজে ঘুমিয়ে গিয়েছে দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। বেরােতে হবে। এখানে আর না। মনিকে দু’বার ডাক দিলাম। সে উঠে বসল।
তারপর আমাকে দেখে যেন ভুত দেখার মত চমকে উঠল ৷ চিৎকার করে বলল, "তৃষা, তুই এখানে কী করিস? কীভাবে এলি?"
আমি রেগে উত্তর দেয়ার আগেই সে প্রায় ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল আমাকে। তারপর কান্নায় ভেঙে পড়ল। ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল… "আমার মেয়ে দুটো একসাথে চৌৰাচ্চায় পড়ে মারা যাওয়ার পর থেকে আমি পাগল হয়ে গেছি ৷ মাঝে মাঝে একটু সুস্থ হলে এখানে চলে আসি। ওদের কবরের পাশে কিছুক্ষণ বসে থেকে ৰাড়িটা ঘুরে যাই। এই রুমেই ওরা থাকত। এখানকার সব কিছুতে ওদের স্মৃতি।"
আমার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল কথা শুনে। আমি ছোট মেয়েটার দিকে তাকালাম। আমার চোখের সামনেই উধাও হয়ে গেল সে।
মনি তখনও কথা বলছে, "মানুষ নাকি আমার মেয়েদের দেখে এখানে ৷ আমি এত আসি, কই আমি তো দেখি না। জানিস, তৃষা,… আমি বিষ খেয়ে মরলৃম, তাও ওদের দেখা পাই না ৷
এরপর আর কিছু মনে নেই। শুধু অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগে দেখলাম মনিও উধ্ওে হয়ে গেল।
তারপর সব অন্ধকার।
(সমাপ্ত)
-----------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now