বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-নতুন স্যার ঠিক হয়েছে ?
নিহিন আমার কথার কোন জবাব দিল না । মাথা নিচ
করে বইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল । আমি খুব ভাল
করেই জানি ও কিছু পড়ছে না । আমার কথার জবাব
দিবে না বলে এভাবে তাকিয়ে আছে । আমি আবার
বললাম কথাটা
-নতুন স্যার ঠিক হয়েছে ?
-জি না ।
-আশ্চর্য ! কেন ? স্যার ঠিক কর নি কেন ?
-অন্য কোন স্যারের কাছে পড়বো না তাই ?
-মানে কি ?
এবার নিশি আমার দিকে তাকালো চোখ তুলে ।
খানিকটা তীব্র কন্ঠে বলল
-মানে তো আপনার জানা দরকার নাই । আপনি
পড়াবেন না ব্যাস ! আমি কার কাছে পড়বো বা না
পড়বো সেটা নিয়ে আপনার না ভাবলেও চলবে ।
আমি খানিকটা আহত হলাম ।
এমন তীব্র জবাব না দিলেও পারতো মেয়েটা !
আজকেই নিহিন কে শেষ বারের মত পড়াতে আসছি ।
কাল থেকে আর আসবো না ।
নিহিন আর আমার সামনে বসলো না । উঠে চলে গেল
। আমি ওর ঘরটাতে বসে রইলাম । চুপচাপ ।
নিহিনদের বাসায় পড়াতে শুরু করেছিলাম কয়েক
মাস আগেই । আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু রফিক ভাইয়ের
মাধ্যমে টিউশনিটা পাই আমি । রফিক ভাই টিউশনি
দেওয়ার আগে আমাকে বলল
-পড়াতে যাচ্ছ । কেবল পড়াবেই । অন্য কিছু যেন না
শুনি ! মনে রেখ আমার রেফারেন্সে যাচ্ছ তুমি !
আমি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম । কিন্তু ঠিক কি
কারনে রফিক ভাই আমাকে এমন একটা কথা বলল
বুঝতে পারলাম না । আমাদের এলাকায় আামর
যথেষ্ট সুনাম রয়েছে । রফিক ভাই এটা ভাল করেই
জানেন , বিশেষ করে নারী ঘটিত কোন সমস্যা আমা
রকোন দিন হয় নি । সারা জীবন কেবল পড়া শুনা
নিয়েই ব্যস্ত থেকেছি , অন্য কিছু করার সময়
কোথায় !!
প্রথম যেদিন পরাতে এলাম সেদিনই টের পেলাম যে
রফিক ভাই এমন একটা কথা আমাকে কেন বলেছিল ।
আমি নিহিনের ঘরে বসে থাকলাম আরো কিছুক্ষন ।
মনে হল নিহিন আর একবার হয়তো আসবে । কিন্তু আর
এল না । একটু পরে ওর মা এল । আমি বিদায় নিয়ে
চলে এলাম । ওদের বাড়ি থেকে বে রহবার সময় কেন
জানি একটা কষ্ট হচ্ছিল । বার বার মনে হচ্ছিল যে
নিহিন কে আমি আর দেখতে পাবো না !
ঐ মিষ্টি হাসিটা আর আমাকে পাগল করবে না !
আর আমি চাইলেও ঐ মেয়েটার সাথে কথা বলতে
পারবো না !
একবার মনে হল কি দরকার ছিল এমন টা করা !! চুপচাপ
থাকতাম ! বলতে না পরলেও অন্তত সপ্তাহে চারটা
দিন আমি নিহিনকে দেখতে তো পারতাম । এটাই বা
কম ছিল কি ?
রফিকভাই বলেছিলেন যে একটা মেয়েকে পড়াতে
হবে কিন্তু নিহিনকে দেখার পর আমি মোটামুটি
আমার ভাষা হারিয়ে ফেললাম কিছুক্ষন । ওর সামনে
স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগলোই । প্রথম দিন
আমি চুপ চাপ বসে ছিলাম । এদিক ওদিক দেখছিলাম
। এক জন চা দিয়ে গেল । আমি চায়ে চুমুক দিবো ঠিক
তখনই মেয়েটা ঘরে ঢুকলো মাথা নিচ করে । আমার
সামনে বসলো । আমি চায়ে চুমুক দিতে ভুলে গেলাম
।
মিষ্টি স্বরে মেয়েটি বলল
-আপনাকে কি স্যার বলতে হবে নাকি ভাইয়া বলে
হবে ?
মেয়েটির প্রশ্নে যেন বাস্তবে ফিরে এলাম ।
বললাম
-কি বললে ?
-এর আগে যে কয়জন পরাতে এসেছে তারা সবাই
ভাইয়া বলতে বলত । কিন্তু আম্মু স্যার বলতে বলেছে ।
-না ঠিক আছে । স্যারই ঠিক আছে । ভাইয়া বললে
কেমন পড়া লেখার সম্পর্ক মনে হয় না । স্যার ই বল !!
মেয়েটি চুপ করে রইলো মাথা নিচ করে । আমি
আমার চোখ ফিরিয়ে নিলাম । রফিক ভাইয়ের
সতর্কবানী মনে পড়লো ।
আমাকে কেবল পড়াতে হবে এই মেয়েটিকে !
শুধুই পড়াতে হবে !!
ঐদিন বাসায় এসে আমার কেন জানি রাতের বেলা
আর ঘুম এলো না । কেবলই এপাশ ওপাশ করতে
লাগলাম । কি একটা অস্বস্থিরতা আামকে যেন
ঘুমাতে দিচ্ছিল না । রাত তখন তিন কিছু বেশি
বাজে । আমি আবিষ্কার করলাম যে আমি নিহিনের
প্রেমে পড়েছি । কত সহজেই আমি ওর প্রেমে পরে
গেলাম ।
আশ্চর্য !!
নিয়মিত পড়াতে যেতাম । নিহিন প্রথম প্রথম কথা কম
বললেও আস্তে আস্তে ও স্বভাবিক হয়ে এল । আমিও
মোটামুটি স হজ হয়ে এলাম । পড়া লেখা ছাড়াও
মেয়েটা অনেক কথা বলত । আমার কেন জানি মনে
হত মেয়েটা কথা বলার জন্য মনের মত মানুষ পেত না ।
ওর কথা শুনেই বোঝা যেত যেন কত দিন ঠিক মত
কারো সাথে কথা বলে না ।
আমি ওর কথা শুনতাম মন দিয়ে !! মাঝে মাঝে আমার
কথা বলতাম । তবে কথা ও ই বেশি বলত !!
আমি ভেবেছিলাম নিহিন কেবলই আমার সাথে কথা
বলে ! এর বেশ কিছু না ! আমি ওর স্যার ! ওর সাথে
আমার একটা সহজ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এর বেশি
কিছু না । কিন্তু একদিন বুঝতে পারলাম যে বয়াপার
গুলো এতো সহজ না যততা না আমি ভেবেছিলাম !
একদিন ওকে পড়াতে পড়াতে বাথরুমে গেছিলাম ।
হাত মুখ ধোয়ারও দরকার ছিল । মোবাইলটা বাইরেই
ছিল । আমি মোবাইলটা আর সাথে করে নিয়ে
গেলাম না। টেবিলের উপর রেখেই বাথরুমে ঢুকলাম
না । ফিয়ে এসে নিহিনকে আবার পড়াতে বসেছি
দেখি ওর মুখটা কেমন যেন ভার ভার !!
কি হল ? একটু আগে তো ভালই ছিল ! আমি কারন টা
জানতে চাইলাম ও কিছু বলল না । মাথা নিচ করে
বইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল । আমি ঠিক বুঝে উঠতে
পারলাম না । পড়িয়ে বেরিয়া আসার পর মোবাইল
চেক করে দেখি সুমনা ফোন দিয়ে ছিল । সুমনা আমার
ক্লাস মেইট !! দুবার ফোন দিয়েছে !! সময়টা দেখে
মনে আমি যখন বাধরুমে ঢুকেছিলাম তখন !!
আমার কিছু মনে হল না । আবারও ঠিক একই ঘটনা
ঘটলো । এবার আমি লক্ষ্য করলাম নিহিনের মুড
আবার অফ হয়ে গেল । একদিন নিহিন আমাকে
জিজ্ঞেস করেই ফেলল সুমনার কথা !
-স্যার, সুমনা আপু কি আপনার গার্লফ্রেন্ড ?
আমি খানিকটা আশ্চার্য হই ! বললাম
-তুমি সুমনাকে কিভাবে চিনো ?
নিহিন মাথা নিচু করে রইলো কিছুক্ষন । তারপর বলল
-না আপানর মোবাইলে তো প্রায়ই ওনার কল আসে ।
চিনি না ঠিক নাম দেখেছি !
নিহিনের চোখে মুখে কেমন একটা ভাবছিল সেটা
আমার কছে একডম অচেনা । আমি হেসেই বললাম
-না । গার্লফ্রেন্ড না !
-তাহলে আপনাকে এতোবা রফোন দেয় কেন ?
-ফোনতো দিতেই পারে ! একসাথ পড়ি না আমরা !
ক্লাসমেট না আমার !!
-ক্লাস মেট না ছাই !!!
-কি বললে ? না কিছু বলি নাই !
আমি ওর মুখ দেখ স্পষ্টই বুঝতে পারলাম যে অন্য
মেয়েরা যে আমাকে ফোন দেয় এটা নিহিন পছন্দ
করছে না ।
আমি এতোদিন নিজেকে শাসন করে রেখেছিলাম
সেটা কেন জানি খুব কঠিন হয়ে পরলো । নিহিনকে
রাতের বেলা ভাবনা টা আরো যেন বাড়িয়ে দিলাম
। কেবলই ওর কথাই মনে হত । অন্য কিছু না ।
তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম আর না ।
এই মেয়েটার কাছ থেকে আমাকে দুরে যেতে হবে !
চোখের সামনে ওকে এভাবে দেখতে থাকলে একটা
সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রন করা কষ্টকর হয়ে যাবে ।
যেদিন বললাম যে আমি আর তোমাকে পড়াতে
আসতে পারবো না, নিহিন কিছুক্ষন আমার দিকে
তাকিয়ে রইলো !!
-কেন স্যার ? আর কেন পড়াতে আসবেন না ?
-আসলে পড়া লেখার খুব চাপ ইদানিং । আমি ঠিক
পেরে উঠছি না
ওর মাকেও বললাম কথাটা । বললাম সামনের মাস
থেকে নতুন স্যার ঠিক করে নিতে !!
আমি কেবল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম নিহিনের
দিকে । ওদের বাড়িতে পড়ানো ছেড়েছি প্রায় এক
মাস । এরই মাঝে মেয়েটার চেহারা কেমন হয়ে
গেছে । চোখের নিচে কালী পড়েছে । গাল দুটো
কেমন বসে গেছে । আমি নিহিনকে বললাম
-কি হয়েছে তোমার ?
কোন জবাব নাই । মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে
মেয়েটা ।
-কথা বল প্লিজ ! কি হয়েছে !
তবুও নিহিন কিছু বলল না । চুপ করে দাড়িয়েই রইলো ।
আমি জানি এই প্রশ্নের জবাব সে আর দিবে না ।
তাই জানতে চাইলাম না ।
-এখানে কি কোন কাজে এসেছ?
নিহিন মাথা নাড়লো ।
-কি কাজে ?
আবার চুপ ! এই মেয়েটা কে নিয়ে আমি কি করবো ।
তবে ভার্সিটির ভিতর এভাবে ওর সাথে দাড়িয়ে
কথা বলাটা মনে হয় ঠিক হচ্ছে না । কারন হল
নিহিনে রগায়ে স্কুল ড্রেস । মেয়েটা বোধ হয় স্কুল
থেকে সরাসরি চলে এসেছে !!
কিন্তু এখন তো দুপুর বেলা । একটার কিছু বেশি
বাজে । এই সমসয় তো স্কুল ছুটি হবার কথা না ।
তাহলে?
আমি বললাম
-তোমার স্কুল কি ছটি হয়ে গেছে?
আমি ভেবেছিলাম নিহিন এই প্রশ্নটার জবাবও দিবে
না কিন্তু দিল । আমার কথা শুনে ফিক করে হেসে
পরলো । এতোক্ষন গম্ভীর ছিল এভাবে হঠাৎ করে
হেসে ওঠাটা কেমন যেন লাগলো !!
-হাসলে যে?
নিহিন বলল
-স্কুল পালিয়েছি !
-সেকি কেন ?
-আপনার সাথে দেখা করবো বলে । আপনি তো আর
আমার সাথে দেখা করবেন না তাই লজ্জা শরমের
মাথা খেয়ে আমি দেখা করতে এলাম ।
আমি তাজ্জাব হয়ে গেলাম মেয়েটার কথায় । এই টুকু
একটা বাচ্চা মেয়ে কি বলছে এসব ?
-তুমি কি বলছো এসব ?
নিহিন গম্ভীর হয়ে গেল । শান্ত গলায় বলল
-আপনি কেন আমাকে পড়ানো বন্ধ করে দিলেন বলেন
তো?
-আমি তো আগেই বলেছি আমার পড়া লেখায় সমস্যা
হচ্ছিল ।
-যারা মিথ্যা কথা বলতে পারে না তাদের মিথ্যা
বলা উচিৎ না । সত্যি করে বলেন । আমি জানি সত্যি
কথাটা কি তবুও আপনার মুখ থেকে শুনতে চাই !!
এর চোখ মুখ দেখে আমার আসলেই মনে হল যে আমার
মনের কথা টা ও খুব ভাল করে জানে ।
নিহিন ঘাসের উপর বসে পড়লো । আম বসলাম ওর
পাশে । অনেকক্ষন চুপ থাকার পর বললাম
-আমি গরিব মানুষ নিহিন । চাঁদের দিকে হাত
বাড়ানো আমার সাজে না ।
-তাই না ??
নিহিন আমার দিকে এক ভাবে তাকিয়েই রইল ।
তারপর আমার হাতে একটা মড়ানো কাগজ দিয়ে বলল
-আমি যাই ।
-একা একা যাবা কিভাবে ? আমি পৌছে দেই ।
তোমাদের বাসা তো বেশ খানিকটা দুরে ।
নিহিন রাজি হয়ে গেল !! ওকে পৌছে দিলাম ওদের
বাসায় । ফিরে আসার সময় মড়ানো কাগজটা খুললাম
। ওখানে মাত্র একটা লাইনই লেখা । কিন্তু লাইনটা
পড়ে কেন জানি আমার অদ্ভুদ একটা আনন্দ হল ।
নিহিন লিখেছে
আপনাকে ছাড়া আমি মরে যাবো
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now