বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিস্তব্দ চারিদিক।
কালো ঘুটঘুটে অন্ধকার
রাতের, শশ্মানপুরীর
নিস্তব্দতা কে ভেদ
করে একটা পেঁচা
তীক্ষ্ণ চিৎকার করতে
করতে জানলার পাশ
দিয়ে উড়ে গেল। শুনসান
পিচ রাস্তা টা বেশ
কিছুটা দুরে গিয়ে
শহরের
ভেতর মিশেছে।
দোতালার জানালা
দিয়ে
রাস্তার
ল্যাম্পপোস্টের আলো টা
দেখা
যায়। দু'তিনটে মেঠো
কুকুর সেই আলোর
নীচে দাঁড়িয়ে আছে।
কোনো শব্দ
নেই মুখে। মিলির চোখে
ঘুম আসছে না।
সোহমের সাথে অনেক
আগেই চ্যাট বন্ধ
করে দিয়েছে।
দোতালার ঘরে নিজের
খাটের উপর উপুড় হয়ে
শুয়ে ,পা দুটো হাটু
পর্যন্ত ভাঁজ করে
দোলাতে লাগলো। পাশ
থেকে মাথার বালিশ
টা বুকের নীচে দিয়ে,
সামনে রাখা
ল্যাপটপের
টাচপ্যাডের উপর
অনিদিষ্ট ভাবে আঙুল
ঘোরাতে লাগল। সমস্যা
সামনে এলে, অনেক সময়
মাথা কাজ করে
না। মিলির ও করছে না।
গত পাঁচ মিনিট ধরে শুধু
ভেবেই চলেছে–
ছেলেটির ফ্রেন্ড
রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট
করবে কিনা?
আরও একবার ভিউ
প্রোফাইলে ক্লিক করল
সে। ছেলেটির
নাম,সমীর। বয়েস তার
মতোই। নীচের দিকে
নামতে নামতে,
একটা লেখা দেখে
মিলি থেমে গেল,–
ভালবাসার মৃত্যু হয় না,
শুধু ভালবাসার মানুষের
মৃত্যু
হয়। মিলির মন টা
কেমন হয়ে যেন গেল।
মেসেজ অপসানে গিয়ে
ছেলেটিকে
একটা মেসেজ করল,—"
তুমি আমাকে
চেনো?" ওপার থেকে
সঙ্গে সঙ্গে
রিপ্লাই এল,—" না।"
আবার ম্যাসেজ টাইপ
করল
মিলি— "তবে আমাকে
ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট
পাঠালে কেন?" ছেলেটি
লিখল,— "আমি
সমীরন কে চিনি। আমার
রিকোয়েস্ট টা
অ্যাকসেপ্ট কর।" বুকটা
কেঁপে উঠল মিলির।
গলার কাছে যেন
শুকিয়ে এল। একটা ঢোক
গিললো সে। হাত, পা
দুটো একটু একটু করে
কাঁপতে থাকলো।কাঁপা
কাঁপা হাতে কোনো
রকমে টাইপ করল -
"তুমি, সমীরনের কে
হও?" — "ছোটবেলার
বন্ধু। সমীরনের
বাড়ির পাশেই আমার
বাড়ি।" - "ওকে!
অ্যাকসেপ্ট
করছি।" পনেরো মিনিট
কথা হওয়ার পর গুড
নাইট
জানিয়ে ল্যাপটপ টা
বন্ধ করে দেয় মিলি।
খাটের উপর এপাশ,
ওপাশ করতে থাকে। এই
ছেলেটি কি সব জানে?
সমীরন কী মরার
আগে ও কে ফোন করে সব
বলে
দিয়েছে? কিন্তু ফোন
করবে কি
করে?........ ছেলেটি এবার
আমাকে
ব্লাকমেল করবে না তো?
কাউকে যদি
বলে দেয়! মাথা ঘুরে
আসে মিলির।উঠে
বসে পাশের টেবিল
থেকে জলের
বোতোল টা নিয়ে এক
ঢোক জল খায়।- তার
তো কোনো দোষ নেই?
আরও দুজন
স্টুডেন্ট মারা
গিয়েছিল সেই ভ্রমনে।
মনে
মনে মিলি ভাবে। তবে
হ্যাঁ, তারা ইচ্ছে
করলে সমীরন কে
বাঁচাতে পারত, কিন্তু
করিনি। আর করবেই বা
কেন? মাছের কাঁটার
মতো ,গলায় আটকে থাকা
জিনিষের মরে
যাওয়াই ভাল। মিলি
সাত পাঁচ ভাবতে থাকে।
সোহম
কে এই ছেলেটির
ব্যাপারে জানাবে?
ফোনটা হাতে তুলে
আবার বালিশের পাশে
রেখে দেয় মিলি।— না!
একটু দেখাই যাক।
ছেলেটি এ সম্পর্কে
কিছু বলে কিনা?
অনেক ভাবনা চিন্তার
পর শেষ রাতের দিকে,
কোল বালিশ টা কে জোর
করে আঁকড়ে
ধরে ঘুমিয়ে পড়ে মিলি।
সমীরন, মিলির
প্রাক্তন প্রেমিক। সরল
সাধাসিধে একটা
ছেলে। পড়াশুনায় খুব
ভাল। শহরের মতো
হয়তো ওতোটাই স্মার্ট
নয়, তবে
একেবারে আনস্মার্ট ও
বলা যায় না। লম্বাটে
গড়ন,ফর্সা মুখের টানা
টানা চোখ দুটো
থেকে যেন, সব সময়
প্রেম ঝরে
পড়ছে। আর এই চোখ
দেখে মিলি নয়,
মিলির মা ই সমীরন কে
পছন্দ করে
ফেলেছিল– মিলির
জন্য। মিলিদের বাড়ির
ঠিক
পেছনের বাড়িটিতে
ভাড়া থাকত সমীরন।
কলেজে দুজনই একই
বিভাগের। জিওগ্রাফি
অনার্স। তাই প্রেম টা
আরও জমে উঠেছিল,
দুজনের। আসলে সমীরন
পাগলের মতো
ভালবেসে ফেলেছিল
মিলিকে। মিলিও
ভালবাসতো সমীরন কে-
তবে পাগলের
মতো না। দু বছর কেটে
যাওয়ার পর
কলেজের তৃতীয় বর্ষে
এসে, মিলির
কাছে যেন অসহ্য লাগল
এই ভালবাসা টা। এত
বেশী ভালবাসা তার
যেন ভাল লাগল না।
সমীরনের কোনো
কিছুতেই, না নেই।
মিলির সব কিছুতেই,সে
হ্যাঁ বলতো। ক্লাসে
বোকার মতো ফ্যাল
ফ্যাল করে তাকিয়ে
থাকত তার দিকে। কোনো
দিন একটুও ঝগড়া
ও করিনি তার সাথে ।
সম্পর্ক টা দিনের পর
দিন
কেমন যেন ফ্যাকাসে
হয়ে পড়ছিল। বার বার
মনে হচ্ছিল একটা
যন্ত্রনার উপর দাঁড়িয়ে
আছে মিলি। তবুও শেষ
চেষ্টা করেছিল মিলি।
ফাঁকা বাড়িতে একদিন
সমীরন কে দুহাতে
বুকে জড়িয়ে ধরে প্রায়
আড়াই মিনিট
ঠোঁটে, ঠোঁট ডুবিয়ে
রেখেছিল।
নিজের দুধসাদা শরীর
টাও সেদিন
প্রথমবারের মতো
দেখিয়েছিল সমীরন
কে। সমীরন ও বোকার
মতো মিলির
কোমোর টা জড়িয়ে ধরে
বলেছিল,-"মিলি
তোর নাভির একটু নীচে
একটা তিল আছে।"
উফ! বলে একটা বিরক্তি
প্রকাশ করেছিল মিলি।
পরদিন গভীর
রাতেই,ডিসিসান টা
নিয়েই
ফেলল,– এ সম্পর্ক টা আর
রাখা যাবে না। কিন্তু
সব থেকে বড় বাঁধা হয়ে
দাঁড়াল মিলির মা।
অনেক আগে থেকেই যে
সমীরন
কে,তিনি জামাই
হিসেবে ভেবে
নিয়েছেন।
ভ্যাবসা গরমের মধ্যে
এক টুকরো হিমেল
হাওয়া যেমন শরীরে
মাদকতা আনে,ঠিক
তেমনি তৃতীয় বর্ষের
মাঝামাঝি কলেজের
ক্রিকেট টিমের
ক্যাপ্টেন সোহম ও
মিলির
শরীরে মাদকতা এনে
দিল । সোহম বেশ
স্মার্ট ছেলে, দেখতেও
মন্দ নয়। একথা
সত্য যে কোনো সম্পর্ক
যখন অসহ্য
লাগে বা, তার থেকে
কেউ যখন বেরিয়ে
আসার চেষ্টা করে, তখন
অন্য কাউকে
তাড়াতাড়ি ভাল লেগে
যায়। মিলির ক্ষেত্রে ও
ঠিক তাই হল। সোহম ,
মিলির সাথে একই
ক্লাসে পড়ে। মাঝে
মাঝে সোহম মিলির
দিকে যে তাকাতো
সেটা, এখন খুব ভাল
করে বুঝতে পারে মিলি।
সম্পর্কের এই
টানাপোড়েনের মধ্যে
ম্যাজিকের মতো
মিলির জীবন কে রঙিন
করে তোলে
সোহম। আর সেই রঙিন
আলোয় মিলিও
পাগলের মতো ভালবেসে
ফেলে
সোহম কে। সমীরনের
সাথে যে মিলির
কথা হয় না-সেটা ঠিক
নয়। তবে সেই কথা এখন
রঙহীন। সামনেই
জিওগ্রাফি
ডিপার্টমেন্টের
দার্জিলিং ট্যুর।
ক্লাসের সবাই যাচ্ছে।
কিছুদিন
বেশ আনন্দে কাটবে। দু
দিন বেশ ভালই
কেটেছিল। তৃতীয় দিন
ভয়ঙ্কর সেই
অ্যাক্সিডেন্ট টা ঘটল।
পাহাড়ি ধসের কবলে
পড়ল পুরো কলেজের দল
টা। একসাথে
তিনজন ঘুরে ঘুরে
দেখছিল, আকাশের
মেঘের ভেলা। হঠাৎ
করেই ধস টা নামে।
ইচ্ছে করলে সমীরন কে
বাঁচাতে পারত মিলি
আর সোহম। কিন্তু শেষ
পর্যন্ত মিলি,
সমীরনের জামাটা আর
সোহম, সমীরনের
হাত টা ছেড়ে দিল।
সমীরনের সাথে সাথে
আরও দুজন স্টুডেন্ট
হারিয়ে গিয়েছিল
দার্জিলিং
এর কোলে। যেন হাঁফ
ছেড়ে বাঁচল মিলি।
এতক্ষনে তবে মাছের
কাঁটা টা গলা থেকে
নামল। এ ঘটনা টি তিন
বছর আগের। এর মাঝে
অনেক সময় কেটে গেছে।
তবুও ঘটনাটা
মিলি মন থেকে মুছে
ফেলতে পারিনি।
সোহমের সাথে মিলির
বিয়ের দিনও প্রায়
ঠিক
গেছে। কিন্তু হঠাৎ
করেই এই ছেলেটি
সমীরন কে নূতন করে
মনে করিয়ে দিল।
কি চায় এই ছেলেটি?
সোহমের সাথে
বিয়ের রাতে পুলিশ
নিয়ে হাজির হবে না
তো?
আজকে রাতে মিলি
ল্যাপটপ খুলে ফেসবুক
টা অন করল। এ'সময় সে
সোহমের সাথে
কথা বলে। বারোটা
বাজতেই ছেলেটিকে
প্রতিদিনের মতো
অনলাইন দেখালো। গত
পনেরো দিন ধরে
ছেলেটির সাথে চ্যাট
করছে মিলি।– অভদ্র
বলে মনে হয় না
ছেলেটিকে।বরং ওর
সাথে কথা বলতে
বেশ ভালোই লাগে
মিলির।এ কয়দিনেই
কেমন যেন কাছের বন্ধু
হয়ে গেছে।
মিলি ম্যাসেজ টাইপ
করল,–"সমীর, কি করছ?"
ওপার থেকে রিপ্লাই
এল,–"আমাকে এবার
থেকে তুই করে বলবি।" –
"ওকে।তুই
করেই বলব।" হাসলো
মিলি। ইচ্ছে করেই
মিলি
ছেলেটিকে,সমীরন
সম্পর্কে
কোনো কথাই জিজ্ঞাসা
করে না। রাত একটা
বাজে। সোহম কে অনেক
আগেই মিলি
গুড নাইট বলে দিয়েছে।
কিন্তু ছেলেটির
সাথে চ্যাটিং করে
যাচ্ছে এখনও।- কি
মিষ্টি মিষ্টি
কথা বলে ছেলেটি। মনে
মনে ভাবল মিলি।
একটু দুষ্টমি করতে
ইচ্ছে হল মিলির।
ম্যাসেজে টাইপ
করল,–"এই রাতে এখনও
ফেসবুকে তুই?
গার্লফ্রেন্ড আছে
নাকি?"
সমীরের রিপ্লাই এল,–
"না রে।ও সব এক
সময় ছিল।" মিলি
হাসল।–"এই বল না,
তারপর
কোথায় গেল?" কিন্তু
ওপার থেকে যে
রিপ্লাই টা এল সেটার
জন্য মিলি মোটেই
প্রস্তুত ছিল না। – "তোর
ঠোঁটের ডান
পাশের নীচে একটা
তিল আছে না?" চমকে
উঠল মিলি।–" তুই কি
করে জানলি?" সমীর
একটা
হাসি মুখের স্টিকার
পাঠালো। লিখল,–"
সমীরন
আমাকে সব বলতো।"
মিলির নিশ্বাস–
প্রশ্বাশের হার বেড়ে
গেল। দ্রুতো টাইপ
করল,–"আর কিছু বলেছে
নাকি?" – "হ্যাঁ,
বলেছে। তোর নাভির
ঠিক চার আঙুল নীচে
একটা কালো তিল আছে।"
মিলি লজ্জা পায়।
মনে মনে ভাবে,–" ইস!
কী বাজে
ছেলে সমীরন। বন্ধুদের
সাথে সব কথা
বলতে হয়।" মিলির
শরীর,মাত্র দুটো
ছেলেই দেখেছে।
সমীরন আর
সোহম। খুব রাগ হয়
সমীরনের উপর।
গালাগালি
করতে ইচ্ছে করে
মিলির,– ও মরেছে ঠিক
হয়েছে। কিছুক্ষন চুপ
থেকে টাইপ করল
মিলি– "বাজে ছেলে
একটা।" ঘড়িতে
আড়াইটে বাজে। মিলির
সেদিকে কোনো
খেয়াল নেই। ঘরের
নাইট ল্যাম্প টা থেকে
হাল্কা আলো ছড়িয়ে
পড়ছে বিছানার উপর।
বাইরের নি:ঝুম
অন্ধারের ভেতর শুধু ঝিঁ
ঝিঁ
পোকার ডাক আর ঘড়ির
টিক্ টিক্ টিক্ শব্দ
কানে
আসে। আশেপাশের
দোতালা বাড়ি গুলো
সব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
পাশের বকুল গাছ
থেকে একটা রাতজাগা
পাখির ডানা
ঝাপটানোর
আওয়াজ এল। ঠিক এই
সময় সমীরের
মেসেজ এল আবার,–" ও
পাগলার কথা ছাড়।"
মিলি
উৎসাহের সাথে
লিখল,–" হ্যাঁ তাই
ভালো।
তোর প্রেমে ল্যাং
খাওয়ার কথা বল?"
সমীর
লিখল,– "একটা মেয়েকে
খুব ভালবাসতাম।
সেও বাসতো কিন্তু বেশ
কিছু দিন পর মনে
হল মেয়েটি আর
ভালবাসতে চাইছে না
আমাকে।" মিলি লিখে
পাঠালো, – "ভেরি
স্যাড!
তারপর?" সমীরের
রিপ্লাই টা একটু
দেরীতে এল,–" বুঝতে
পারলাম মেয়েটি
অন্যএকটি ছেলেকে
ভালবাসে। তবুও
মেয়েটির মা আমাকে
খুব পছন্দ করত।" একটা
ঢোক গিললো মিলি,–"
তারপর!" – "এরপর,
একদিন কলেজ থেকে
বেড়াতে গেলাম
সবাই। মেয়েটি এবং
সেই ছেলেটিও সাথে
ছিল।" মিলির নিশ্বাস–
প্রশ্বাস গতি নিল।
তাড়াতাড়ি
টাইপ করল,–"কোথায়
বেড়াতে গিয়েছিলিস?"
ওপার থেকে রিপ্লাই
এল,– "দার্জিলিং। "
মিলির
বুকটা দপ দপ করে
কাঁপছে। তবুও লিখল,–
"তারপর?" – "পাহাড়ি
ধসের মুখে পড়ল পুরো
দল টা। তিনজন স্টুডেন্ট
মারা গেল। তার মধ্যে
আমিও ছিলাম।" মিলির
শিরদাঁড়া বেয়ে একটা
ঠান্ডা
স্রোত নেমে গেল। হাত,
পা গুলো থর
থর কাঁপছে। হঠাৎ ঘরের
নাইট ল্যাম্প টা দপ দপ
করতে শুরু করল।আর সেই
সাথে রাস্তার
কুকুর গুলো যেন ভয়ার্ত
স্বরে চেঁচিয়ে
উঠল। ল্যাপটপের
স্ক্রিন টা কাঁপছে।
মিলির গলা
শুকিয়ে এল।আর সেই
শুকিয়ে যাওয়া গলা
থেকে একটাই আওয়াজ
বেরিয়ে এল,–
"সমীরন তুই!"
ল্যাপটপের স্ক্রিন
ঝাপসা হয়ে
উঠেছে। তবুও মিলি
পরিষ্কার দেখতে
পেল, এতদিনের ফেসবুক
আইডির সমীর
নামটা এখুনি কোন
অলৌলিক বলে সমীরন
হয়ে গেছে। সমাপ্ত.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now