বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিন্তু পরে অনেক লেগেছে। সবার মধ্যে তাঁর
মুখটা কিরকম কালো হয়ে গেলো। আসার সময়
দেখিনি পরে। হয়তো বাড়িতে চলে
গিয়েছিলো। দিলাম পরিক্ষা, করলাম কোনরকম পাশ।
ভর্তি হলাম উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতোটা ভালো
লাগতোনা।
.
বিশেষ করে টিফিন টাইমে খুব বেশিই মনে
পড়তো তাঁর কথা। গেলো প্রায় এক বছর
এভাবে। এবার সে সমাপনী দিবে। প্রতিদিন আমিও
গিয়েছিলাম। আমার বড় ভাই আর বন্ধুও পরিক্ষার্থী
ছিলো। একদম শেষের দিন, শেষ পরিক্ষার দিন।
.
পরিক্ষা দিয়ে আসার সময়। প্রায় অনেক দূরে। আমি
এ রাস্তায় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। জানতাম সে
ঐরাস্তার শেষদিকে গিয়ে তাঁকাবে। এটা নিয়ে
একজনের সাথে বাজিও ছিলো। প্রায় শেষ
মুহুর্তে তাঁকালো।
.
আর দাঁড়িয়ে আছে। আমি জানি পিছন পিছন গেলে
আর দাঁড়াবে না তাই আমিও তাঁকিয়ে আছি। অনেক দূর
মুখ দেখা যাচ্ছেনা। মিনিট দুয়েক পর চলে
গেলো। পরেরদিন নানুর বাড়িতে বেড়াতে
গিয়েছিলো মনে হয়।
.
কিছুদিন পরে হলো স্কুলে ভর্তি। আমি তখন
সেভেনে। তখন প্রতিদিনই দেখা হতো। ঐযে
চোখাচোখিটাই বেশি হতো কথা খুব কম। এক
ক্লাস পরেই দৌড় দিয়ে বের হয়ে গাছের নিচে
দাঁড়িয়ে থাকতাম। জানতাম সেও বারান্দায় আসবে।
.
স্কুলে যদি সে না যেতো তাহলে কি যেন
নেই নেই মনে হতো। উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথেই
প্রাইমারীতে ছিলো বার্ষিক ক্রীড়া
প্রতিযোগিতা। সবাই খেলা, নৃত্য দেখছে কিন্তু
আমি তাঁকে। সে জানে আমি দেখছি তাঁকে তাই
জায়গা থেকে নড়বেনা।
.
কিন্তু আমি না তাঁকালে আমার দিকে তাঁকাতো।
ভালো লাগছিলোনা দূর থেকে দেখতে।
গেলাম স্টেজের পিছনে। তাঁর পাশে ছিলো এক
সাইকেল। সাইকেলে বসে তাঁকিয়ে আছি।
চোখের সামনে একটু চুল কাটা।
.
কিছুক্ষন পরপর চুল দিয়ে মুখ ঢাকছিলো আর
সরাচ্ছিলো। মনে হয় ডান কানের নিচে একটা তিল
ছিলো। ঠিক মনে পড়ছেনা। হাসলে একটু গালে
ঢোল পড়ে। আর এতেই আমি কোরবান।
স্কুলে কি যেন একটা উৎসব ছিলো। তখন সে
ক্লাস এইটে।
.
আমি কোনরকম এইট পাশ করে নাইনে
প্রমোশন পেলাম। কিনেছিলাম এক ডাইরি দিবো
বলে। কিন্তু কি ভেবে পরে আর দেয়া হয়নি। ঐ
কালারের একটা কলম কিনলাম ঠিক। কিন্তু একটু দামী।
তাঁর বান্দবীর সাহায্যে দিয়েছিলাম।
.
বলেনি আমি দিয়েছি। মানা করেছিলাম। কিন্তু সমস্যা'টা
বাঁধলো অন্য জায়গায়। যদি কেউ তাঁর সাথে প্রেম
করতে চাইতো সবার আগে আমাকে ধমকাতো।
কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনরকম সম্পর্ক
ছিলোনা।
.
আমি তাঁকে দেখার জন্য পাগল হয়ে যেতাম। আর
সে হয়তো সে সুযোগ'টা দিতো। ব্যাস শুধু
এটুকুই। গ্রামের আরেকটা ছেলে এক তুমূল
কান্ড ঘটায় তাঁর সাথে প্রেম করতে। কিন্তু
পেরে উঠেনি। এখানে আমি কিছু কথা লিখছি না।
.
লিখলে সমস্যা হতে পারে। যাহোক পরে শুনলাম
তাঁর নাকি বিয়ে ঠিক করা হয়েছে এক হুজুরের
সাথে। অনেক বড় শক খাই। পরে তাঁদের বাড়ির
দিকে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। নাহলে বিয়েটা
ভাঙ্গতো আমাকে নিয়ে।
.
এর মধ্যে অনেক কাহিনি ঘটে যায়। এর পরে সে
তাঁর চলাফেরা বদলিয়ে দেয়। বেশ ভালই হাসি মুখ
দেখে বোঝেছিলাম তখন বিয়েতে তাঁর মত
আছে তাহলে। কিন্তু তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে
বিয়ে দিতে চাইছে শীগ্রই।
.
এবং মনে হয় দুই-তিনেক মাস পর বিয়ে হয়। বিয়ের
দিন সারাদিন চৌকিতে শুয়েছিলাম । বালিশটা ভিজেছিলো
শুধু। পরেরদিন একজন বললো "কিরে মি*'র
তো বিয়ে হয়ে গেছে " আমি কিছু জানিনা এমন
ভাব নিয়ে বললাম "তাই?
.
ভালো তো, শুনছিলাম জামাই নাকি ভালই, হুজুর মানুষ,
সুখেই থাকবে। এর পরে আর খবর রাখিনি। কিন্তু
কিছুদিন পর শুনলাম তাঁদের মাঝে নাকি কি সমস্যা!
সে তাঁর শ্বশুর বাড়িতে যাবেনা। কোনমতেই না।
.
এর কদিন পরে শুনলাম তাঁদের নাকি ডিবোর্সও
হয়ে গেছে। লেখাপড়াটা মনে হয় বন্ধ হয়ে
গিয়েছে। কিন্তু আমার ফিলিংস আগের মতোই কাজ
করে জানিনা কেন। বিয়ের আগে,পরে, বিয়ের
সময় একই।
.
এমনকি তাঁর বিয়ের দিনও আমি স্বপ্ন দেখেছি।
কোন পরিবর্তন নেই আমার। চব্বিশঘণ্টা সে আমার
মাথায় থাকে। চাইলেও না চাইলেও। এখনো এক
নজর দেখার জন্য আমি সব কিছু করতে পারি।
.
বন্ধুবান্ধবদের বলে রেখেছি "তাঁকে দেখলে
একটু আমাকে ফোন দিস তো " ওরাও দেয়
মাঝে দেখা পেলে আমি গিয়ে আর পাইনা। সারাদিন
মনে হয় বাড়িতেই কাটায়। একবার রাত আট'টা
বেজে পঁয়তাল্লিশ।
.
ফোন টিপছি, ফেসবুকে একটা গল্প পড়ে তাঁকে
দেখার জন্য মরেই যাচ্ছিলাম। শুধু এটুকু জানতাম
আজকে এখন তাঁকে আমার দেখতেই হবে
নাহলে আমি শেষ। পড়নে ছিলো শর্ট-প্যান্ট
আর গেঞ্জি।
.
পরিবর্তন করে শার্ট পড়ে দিলাম রওনা। আমাকে
দেখলে অনেকের কড়া নজর থাকে। কিন্তু
ঐদিন এতো কিছু মাথায় ছিলোনা। গেলাম তাঁর বাড়ির
সামনে। সৌরবিদ্যুত এর লাইট জ্বলছে। এখন কি
করবো।
.
এ রাতে সে কোথাই আছে কে জানে। ঘরে
থাকলে কিভাবে দেখবো? ঠিক ঐ সময়ে সে
রান্নাঘর থেকে তাঁর চাচীকে ডাক দিয়ে বললো
" কাকী লবণ কৈ? " গলায় পানি এলো বোঝলাম
রান্নাঘরে আছে।
.
গেলাম পিছন দেয়ে। এক ফুটো দিয়ে
দেখছিলাম। আগুনের আলো আর সৌরবিদ্যুত এর
আলো মিলিয়ে মুখটা কিরকম অস্পরীর মতো
লাগছে না পরীর মতো। কি যেন গান গাইছে
আর ডিম ভাজী করছে।
.
আমি আসার সময় বাড়ির উঠান দিয়েই এসেছিলাম
আরো ভালো করে দেখতে। তখন সে
দেখে ফেলেছিলো আমাকে। পরেরদিন স্কুল
পালানোর সময় বলেছিলো " কাল তুই আমাদের
বাড়িতে গেছিলি না?
.
আম দাঁড়িয়ে বললাম "হু" চোখ রাঙ্গিয়ে, "কেন
গিয়েছিলি? আম্মা কিন্তু দেখে ফেলছিলো আর
একটুর জন্য আমি কোনমতে কেউ একজন
বলে কাটিয়ে নিছি " আমি আবার দাঁড়িয়ে বললাম,
.
" ভালো করছিস, আমি জানিতো তুই ম্যানেজ
করে নিবি তাই গেছিলাম। তুই আমার বউ না? কথাটা
বলে দিতে চাইলাম এক দৌড় কিন্তু ডাক দিয়ে আবার
দাঁড় করালো, " কি বলছিস? একটু ঘোরে দাঁটিয়ে,
"বউ" বলে এক দৌড়।
.
অনেকদিন হয়ে গিয়েছে দেখতে খুব ইচ্ছে
হলেও দেখার জন্য আর পাইনা। ঐদিন এক
আত্বীয়'র মৃতুতে দেখেছিলাম। আগের
মতোই আছে। আগের চেয়ে আরো চিকনা
হয়েছে। চোখ, মুখ, নাক চুল একই আছে।
.
আমি দেখেছিলাম আগে। জানে আমি একবার
দেখলে পরে আর দেখতে না পেলে
খোঁজে খোঁজে অস্থির হয়ে যাবো তাই দূর
থেকে আরেকটু কাছে এসে বিপরীত দিকে
দাঁড়িয়ে আছে। পায়ে নূপুর ছিলো।
.
সাদাসুন্দর পা'টা আরো চমক লাগছিলো। নূপুর
দেখার আগেই গেলো চলে। কাল একজন
ফোন দিয়েছিলো। তাঁকে নাকি দেখেছিলো।
আমার কপাল আমি তখন ফোনের কাছে ছিলাম না।
.
গত রাতে দেখলাম মাহফিলে জানতাম একবার
আসবে কারো না কারো সাথে। হারামীদের
বলে রেখেছিলাম তাঁকে দেখলে খবর দিতে।
দেখে দিলো খবর লাইটের সাহায্যে।
.
আমাকে ডাক দেয়ার সময় সে শুনে
ফেলেছিলো। তাই দূর থেকেই দেখলাম। তাঁর
দুলাভাই এর বোন আমার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে
মনে হয় দেখিয়ে দিচ্ছিলো দুলাভাইকে ঐযে
জিন্স প্যাট আর শার্ট পড়া গলায় মাফলার টাঙ্গানো ঐ
ছেলেটা মি*'র জন্য পাগল।
.
মায়ামাখা মুখটা খুব আপন মনে হয়। মনে হয়
সারাজীবন তাঁর চোখের মাঝে যদি ডুবে থাকতে
পারতাম। হয়তো আমার বয়স যদি বিশ পার হতো আর
সে যদি রাজি থাকতো তাহলে পালাতাম। থাকলাম নাহয়
দুজন বাঁকি জীবনটা দুঃখে তবুও একসাথে।
.
একটা না পাঁচটা না তাঁর দশটা বিয়ে হয়ে গেলেও
সে রাজি থাকলে আমি এগোরো নাম্বার বিয়েটা
করতে রাজি আছি। সমাজ, পরিবার আর ব্যার্থতার জন্য
মনে হয় তাঁর সাথে কোনদিনও মিলন হবেনা।
.
পরজনমে খোদা যেন তোকে দেখার একটু
সুযোগ করে দেয় এটুকুই শেষ ইচ্ছা।
যেখানেই থাক, ভালো থাক, সুখে থাক, সুখী
দেখতে চাই সারাজীবন। মুখের মাঝে হাসি আর
চোখের কোণে কাজল।
.
এটুকুতেই চলবে আমার। দূর থেকে একটু
দেখতে পারলেই হলো। আমার প্রিয় মানুষটা তুই
আর চাই তুই তোর প্রিয় মানুষটাকে সুখে থাক।
আমি তোকে নিয়ে যেসময় স্বপ্নে বিভোর
থাকি তুই ও হয়তো তুর স্বপ্নের মানুষটাকে নিয়ে
বিভোর থাকিস।
.
তাঁকে নিয়েই সুখী হোস। শুধু মুখে হাসিটুকু
রাখিস। কাজলটা না বয়সের আড়ালে মুছে যাবে। ঐ
একটাই চাওয়া আল্লাহর কাছে। তোর মুখে সবসময়
হাসি যেন থাকে। হয়তো থাকবো দূরে।
.
আমার হায়াতও বেশি নেই। ভুলে যাবো আমাকে
তোকে ভুলা সম্ভব না। এখনো স্বপ্নদের
রানী তুই, গল্পদের নাইকা তুই, এই একটা তুই'ই
আমার জীবন। আমি শুধু ভালবাসতে চাই আর কিছুনা।
তুই তোর মতোই থাকিস।
.
.
__Siam Ahmed Joy
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now