বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অবশেষে পরাজিত
.
.
- এর আগে তোমার আরও রিলেশন ছিল?
.
আমি অভ্র, ব্যাংকে জব করি। ২ মাস হল জয়ন করেছি। অনেক ছোট থাকতেই বাবা-মা মারা যান। এরপর মামার কাছেই মানুষ। জব পেয়ে আলাদা বাসায় উঠেছি। উনারা আসতে দিচ্ছিলেন না। কিন্তু আর কত উনাদের ঘাড়ে বসে খাব? আত্মসম্মানে লাগছিল। তাই নানা অজুহাতে বেরিয়ে এসেছি। আমি বাসায় একা থাকি আর বুয়া এসে রান্না করে দিয়ে যায়। আমার এক প্রেমিকাও আছে নাম রাত্রি। রাত্রির সাথে আমার প্রায় ১ মাসের রিলেশন। অনেক কষ্টে পটিয়েছি। আজ বিকেলে ওর সাথে দেখা করার কথা। তো পার্কে ১০ মিনিট হল বসে আছি। হঠাৎ ও হন্তদন্ত হয়ে কোথা থেকে ছুটে আমার সামনে এসেই রাগী গলায় ওই কথা বলল। এই প্রশ্নে আমি একটু বিব্রত বোধ করছিলাম। আমার ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে ওর জানার কথা না। তাইলে পুরো প্ল্যান বানচাল হয়ে যাবে। আমি একটু সন্দিহান হয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম,
.
- এসব কথা তোমাকে কে বলেছে??
- আগে আমার প্রশ্নের জবাব দাও।
ওর কনফিডেন্স দেখে আমি ভড়কে গেলাম। বুঝলাম যেভাবে হোক, ও নিশ্চিত খবর জোগাড় করে এসেছে। এখন লুকালে সমস্যা হবে। তাই মাথা নিচু করে বললাম,
- হ্যাঁ ছিল।
- কতজন?
- ১৪-১৫ জন হবে।
- এতগুলো মেয়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে তোমার বিবেকে একটুও বাঁধল না?
- এগুলোর মধ্যে একটাও ৬ মাসের বেশি টেকেনি। আর বিশ্বাসঘাতকতা কেন বলছ? আমি ওদের টাচও করিনি। ওরা করতে চাইলেও আমি মানা করে দিছি।
- তাহলে কি উদ্দেশ্যে এতগুলো মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়ালে?
- তুমি মাথা ঠান্ডা করে এখানে একটু বস। আমি ১ম থেকে বলছি।
- হুম, বসলাম। এবার বলো। শুরু থেকে বলো।
.
- আমি প্রেমে কখনোই বিশ্বাসী ছিলাম না। সবসময় এরেঞ্জ ম্যারেজের পক্ষে। আমি যখন অনার্স ১ম বর্ষে তখন একবার আমার মামাতো ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে শার্ট কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরেও আমার শার্ট আর পছন্দ হচ্ছিল না। ১০- ১২ টা দোকান ঘুরে অবশেষে আমার মনের মত একটা শার্ট পেলাম।
- আমি তোমার শার্ট এর গল্প শুনতে চাই নি। তোমার এতগুলো রিলেশনের কারণ জানতে চাইছি। খবরদার যদি এড়িয়ে গেছ,,,, খুন করে ফেলব!!
- রাত্রি একটু ধৈর্য নিয়ে শোন। আমি সেটাই বলছি।
- আচ্ছা বলো।
- তো সেই শার্টটা বাসায় আনার পর সবার খুব পছন্দ হল। আর শার্টটা যেমন সুন্দর গায়ে দিতেও তেমন আরাম। এককথায় অসাধারণ। শার্টটা যখন গুছিয়ে রাখছিলাম তখন আমার মাথায় একটা কথা এল। আমি যদি এরেঞ্জ ম্যারেজ করি তাহলে সম্পূর্ণ অচেনা একজন মানুষকে সারাজীবন এর সঙ্গী করতে হবে। আমি যদি শার্টের মত লাইফ পার্টনারও বেছে বের করি তাহলে কেমন হয়? অবশ্যই ভালো হয়। যেই ভাবা সেই কাজ। তখন থেকে মেয়ে পটানো শুরু। ভালো না লাগলে ব্রেকাপ। এরপর থেকে এরকম চলে আসছে।
.
- কি বোকা লজিক তোমার। জীবনটাকে কি খেলা মনে করো?
- না, তা হবে কেন। দেখ, যার সাথে সারাটাজীবন কাটাব সে আমার পছন্দের হতে হবে না?
- শুধু তোমার পছন্দের কথাই ভেবে গেলে? মেয়েটার দিক ভেবে দেখবে না?
- এজন্যই তো প্রেম করছি। আমাকে পছন্দ না করে প্রেম করবে কেন?
- এর মধ্যে একটাও যদি সত্যিকারের হত তবে তুমি ছাড়তে পারতে না। যখন আমি অনুর কাছে তোমার বিষয়ে শুনেছি তখনি তোমার সাথে ব্রেকাপ করা উচিত ছিল। কিন্তু করিনি, কেন জান? কারণ আমি বিশ্বাস করি তুমি আমাকে ঠকাবে না। তোমার যুক্তি ঠিক থাকলেও এর কোনও ভিত্তি নেই। তুমি লাইফ পার্টনার বাছাই করছ। কারণ তুমি বিশ্বাস করতে পারছ না, যে তোমার জীবনে আসবে সে তোমার উপযোগী হবে কি না। বিশ্বাস না থাকলে কোনও সম্পর্ক টেকে না। বিশ্বাস হল একটা সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তুমি যদি নিজের জীবনসঙ্গীর ওপর বিশ্বাস না রাখতে পার তবে সারাজীবন একসাথে থাকবে কিভাবে? একটা মানুষ কখনই সবদিক দিয়ে পারফেক্ট হয় না। কিছু বিষয় মেনে নিতে হয়। দুজনের মধ্যে ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকলেই সম্পর্ক টেকে। তুমি আমার ১ম ভালোবাসা। একবার ভূল করেছ আর করোনা। আমি তোমাকে ভালোবাসি অভ্র। আর আমি চাই মৃত্যুর আগে এবং পরেও আমার জীবনে তুমিই থাক। থাকবে তো? পারবে আমাকে নিজের করে নিতে?
.
ওর যুক্তির সামনে আমার যুক্তি পুরোপুরি ভিত্তিহীন মনে হল। ঠিকই তো বলেছে ও। আমি আসলেই তো বিশ্বাস করতে পারিনি। তবে এক ভূল আর দ্বিতীয় বার করব না। এতদিন পর আমার মনের মত মানুষ পেয়েছি। ও আমার ভূল করা দেখেও আমায় ছেড়ে চলে যাবে না। বরং আমার ভূল ধরিয়ে দিয়ে সেটাকে শুধরে দেবে এবং সারাজীবন পাশে থাকবে। আর কি চাই আমার?
- এতদিন শুধু ভেবে গেছি আমি লাইফ পার্টনার শার্টের মত বাছাই করব। কিন্তু বাইরের মানুষ ছাড়াও ভেতরে যে একটা মানুষ আছে সেটার কথা মাথায়ই আসে নি। আমি আচরণ আর চেহারাকেই গুরুত্ব দিয়েছি। মনুষ্যত্ব আর মনকে গুরুত্ব দিই নি। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পেরেছি বাস্তবিক আমার কি চাই। অবশেষে আমি পরাজিত হলেও পরোক্ষভাবে আমিই জিতে গেলাম। কারণ আমি তোমাকে পেয়েছি। যে শত দুঃখ কষ্টেও আমার পাশে থাকবে। হ্যাঁ রাত্রি আমি তোমাকেই আপন করে নেব। তুমিই আমার বিশ্বাস আর তুমিই আমার ভালোবাসা। সারাজীবন শুধু তোমার পাশে থাকব, কথা দিলাম।
.
ও আমার কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি ওকে বললাম,
- এই পাগলী কাঁদছ কেন?
ও ধরা গলায় বলল,
- এ দুঃখের অশ্রু নয় সুখের অশ্রু।
আমি টের পেলাম আমার চোখের কোনটাও ভিজে এসেছে। বুঝতে পারলাম এই অশ্রুর মধ্যে নিহিত আছে প্রকৃত ভালোবাসা। যা এত খুঁজে অবশেষে আমি পেয়েছি। তাই আমি শক্ত করে ওকে বুকের মধ্যে আটকে রাখলাম। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম ওকে কখনও ছেড়ে যাব না আর ওর চোখ দিয়ে আর কখনও জল পড়তে দেব না।
.
সমাপ্ত,,
.
লেখনীর অন্তে,,,,
.
"অসমাপ্ত চিরকুট (নীল অভ্র)"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now