বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকের নাম- মাজহারুল মোর্শেদ
অবরুদ্ধ জীবনের গল্প -১৩
ছিঁচকে মাপের কাঁচা চোরেরা দু’চারবার জেল হাজতে গেলেই সেখানে বড় চোরদের তালিম পেয়ে পাকা হয়ে ওঠে। জেলখানাই হলো তাদের আসল ট্রেনিং সেন্টার। কাল্লু চোর হলো এমন চোরদের ওস্তাদ। ছোট বেলা থেকেই সে চুরি করে আর জেলে যায়। বারবার জেলখেটে সেখানে নতুন নতুন তালিম পেয়ে এমন ভাবে হাত তার পেকে গেছে যে, চুরিটাকে আর চুরি মনে হয় না। ওটা তার কাছে রাতের কাজ বলে দ্বায়িত্বের মধে পড়ে যায়। এখন রাত হলেই সে আর ইচ্ছে করেও বাড়িতে থাকতে পারে না হাত পা গুলো কেমন নিসপিস নিসপিস করে, শরীরের রক্তগুলো শিরার ভেতর শির শির করতে থাকে ।
এই এলাকায় তার একমাত্র যোগ্য শিষ্য হলো কান্দু চোর। অভাবের তাড়ণায় একটু বয়স করে এ জগতে আসলেও তার শ্রম, মেধা ও সাহসিকতায় সে খুব তারাতারি অনেকদুর এগিয়ে যায় চান্দু। এজন্য কাল্লু চোর তাকে যোগ্য উত্তরসুরি হিসেবে আখ্যা দেয়। কাল্লু চোর মাঝে মধ্যে খুব গর্বকরে বলে আমার অবর্তমানে বাপ দাদার এ ঐতিহ্যটা একমাত্র কান্দুই ধরে রাখতে পারবে।
তিনকুড়ি মহাজন কাল্লু চোরকে খবর দিয়ে নিয়ে আসে এবং তার সাথে পরামর্শ করে কিভোবে বউ তালাক দেওয়ার জন্য ধলা বয়াতিকে রাজি করা য়ায়।
কাল্লু চোর বলে-মহাজন এটাতো মোর এক মিনিটের কাম। এই ছোট্ট একনা ব্যাপার নিয়া তোমা মোক ডাকের নাগচেন। কান্দুক ডাকাইলে না ওয় আইজে রাইতোত সব ঠিকঠাক করি ফেলাইল হয়।
আরে কাল্লু মুই আর মারা-মারিত যাবার চাছো না, মোর কথা হইল তুই বয়াতিক ধরি আসি গায়োত দুই-চাইরটা বসে দিয়া জোর করি বোউটাক তালাক দিয়া নিবু। ওক তোর মারি ফেলার কি দরদার?
হ্যাঁ মহাজন তোমা অবশ্য ঠিক কথাই কইছেন, একিনা ছোট-খাট বিষয়ে ওক ফির মারি ফ্যালের কি দরকার। আচ্ছ মহাজন আইজ রাইতোত মুই ওক কাচারি ঘরোত আনি বান্দি থুইয়া তালাক নামা লেখি নিম ।
একদিন ভরদুপুরে ছাগলগুলো ছায়ায় এনে বাঁধার জন্য আমেনা রাস্তার ধারে যায়, কিন্তু যেখানে ছাগলটা বাঁধা ছিল সেখানে শুধু রশিটা পড়ে আছে ছাগল নেই। একে, ওকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে আব্বাস আলির আলুর ক্ষেতে ঢুকে অনেক নাকি আলুর গাছ খেয়ে ফেলেছে তাই সে ছাগটিকে তার বাড়িতে ধরে নিয়ে য়ায়। আমেনা আব্বাস আলির বাড়ির দিকেই যাচ্ছিল ছাগল আনতে এমন সময় কয়েকটা ছেলে মেয়ে নদী থেকে গোসল করে চোখ লাল করে বাড়ি ফিরছিলো। তারা কাছে আসতে সালেহা ভাসানিকেও তাদের সাথে দেখতে পেলো। সালেহা ভাসানিকে কাছে ডেকে তার আঁচল দিয়ে ভেজা মাথা মুছে দিয়ে বললো- মা, এই দুপুরা রৌদোত তুই ক্যান্ নদীত গাও ধুবার গেছিস, তোর চোখ-মুখ যে নাল হয়া গেইছে, যদি জ্বর আইসে সেলা কি হবে?
মায়ের মন অনেক কিছুই আন্দাজ করতে পারে। সত্যি সত্যি রাতে ভ প্রচণ্ড জ্বর আসে ভাসানির গায়ে। জ্বরের তাপে যেন তার গা পুরে যাচ্ছে, তার কাছে থাকা যায় না। এভাবে বেশ কয়েদিন কেটে যায় কিন্তু ভাসানির গা থেকে জ্বর নামে না। সালেহার ধারণা ভরদুপুরে নদীতে গোসল করে ধুধু বালু চরের উপর দিয়ে বাও বাতাসে আসার সময় তার গায়ে কোন কিছু ( জিন-ভূত) আঁচর করেছে। তাই সে নিজেই গিয়ে নূরুল মুনসিকে ডেকে এসে ঝাড়-ফুক, তেল পড়া, চিনি পড়া সবি ঠিক ঠাক মতো করে নেয়। কিন্তু তাতেও যখন জ্বর কমে না, তখন ভাসানিকে নিয়ে যায় প্রফুল্ল ডাক্তারের কাছে। ডাক্তারের অষুধ খেয়ে দিনের বেলা জ্বরটা পড়ে গেলেও রাতে আবার আসে। এভাবে চলতে থাকে কিছুদিন।
বাতে খাওয়ার পর মা-বাবা দু’জনে ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু ভাসানির চোখে ঘুম আসছে না। গায়ের জ্বরটাও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। আধো ঘুম আধো জাগরণে ভাসানি স্বপ্নের ঘোরে গভীরভাবে দেখছে-একটা ভয়ঙ্কর কালো মেঘ অন্ধকার হয়ে নদীর উপর নেমে পড়ছে। মেঘের গর্জনে বিজলী চমকাচ্ছে এই বুঝি মাথার উপর বাজ পড়ে। এমন সময় ভয়ানক একটা তরঙ্গ এসে তাকে যেন ভেসে নিয়ে যাচ্ছে। তার পাশে একটি কালো বিড়াল বসে আছে তার চোখ দু’টো মেঘের অন্দকারে তারার মতো জ্বলজ্বল করছে। ভাসানি বিড়ালটিকে দেখেই চিনতে পারলো যে, সে তাকে দেখলেই নখাঘাত করার জন্য তেরে আসে। আঁছড়ে নেবে তার হাত পা, মুখের নরম অংশ। সে বিড়ালের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণপণে চিৎকার করতে থাকে। কিন্তু কেউ তার চিৎকার শুনছে না, কেউ তাকে বাঁচাতে আসছে না। স্বপ্ন ভঙ্গের পর ভাসানি সে অনুভব করে, এটা একটা স্বপন ছিলো। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। এর মাঝে গায়ের জ্বরটাও বুঝি একটু একটু করে ছেড়ে দিতে শুরু করেছে। মাথাটা বেশ হালকা লাগছে। ভাসানি আস্তে আস্তে বিছানা ছেড়ে উঠে বসলো। তার খুব আনন্দ লাগছে, এখন আর মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠছে না। বাইরের বাতাসটাও বেশ ফুরফুরে, তার মাথার উসকো-খুসকু চুলগুলোকে উড়িয়ে মজা পাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ল তার কুসুমপরীর কথা, কিন্তু এখনও সে তার কাছে আসছে না কেন? নাকি এ কয়দিনে তাকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে সে অভিমান করে চলে গেছে। ভাসানি একদৌড় দিয়ে আবার ঘরে আসে এখানে সেখানে তাকে খুঁজতে থাকে, কোথাও তার কুসুমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাঁদো-কাঁদো চোখে মাকে চিৎকার করে ডাকে মা-মা-মোর কুসুমপরী কই?
মাগো-তুই এ্যাকলায় বিছানা থাকি ক্যান উঠি আসিলু মা, মোক ডাকাসনি ক্যান? যদি বিছানা খাকি পড়ি গেলু হয়?
না-মা-দেখ, মোর গায়োত আর জ্বর নাই। মুইতো ভালো হয়া গেইছু মা।
আমেনা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তার কপালে চুমু খায়, আর বলে মাগো- মুই তোর জন্য ছোট মুরগী ঝোল আন্দিছু, এ্যাকনা ভাত খা মা। তারপর হামরা দু’জনে মিলে কুসুমপরীকে খুঁজমো এ্যালায়, হয়তো এ কয়দিনে তোকে না পায়া তায় কোন্টে ব্যাড়েবার গেইছে? বেড়ানো শ্যাষ হইলে ঠিক ঠিক চলি আসবে দেখিস। সকাল হলে ভাসানি মায়ের হাতে একটু একটু করে খায় আর মনে মনে তার অনুসন্ধিৎসু চোখ এদিক সেদিক কুসুমপরীকে খুঁজতে থাকে। হঠাৎ ঘরের চালে সবুজ পাখনার মতো কিছু একটা তার চোখ পড়ে, অমনি সে চিৎকার দিয়ে ওঠে বলে-মা-মা, ঐযে কুসুমপরী, ঘরের চালোত বসি আছে।
কোন্টে কেনা মা? মুইতো দেখিবার পাও না।
ভাসানি মায়ের হাত ধরে আঙ্গুল দিয়ে সোজা করে দেখিয়ে দেয়, ঘরের চালের সেই সবুজ ও টিয়ে রঙের পাখনাটি।
মা-মা-ওটেকোনা বসি অয় কি করির নাগচে? আজ মোর কাছোত আইসে না ক্যান?
এক চামুচ সুজি তার মুখে দিতে দিতে মা বলে- কুসুমপরী তোর উপর ভীষণ রাগ করেছে সেই জন্য না আইসে?
ক্যান মা? মুই ওক কি করনু যে মোর উপর এ্যাতো রাগ?
ঐযে-তোর জ্বর হওয়ার পর এ কয়দিনে তুই অর সাথে যে খেলা খেলিস নাই, খাওয়াস নাই হয়তো সেই জন্য তোর ওপর রাগ করছে।
মোর তো জ্বর ছিল, সেই জন্যই তো মুই খ্যালের পাও নাই, সেটা কি মোর দোষ?
কুসুমপরীতো আর হামার মতো মানসি নয়, ওয় কি মানসির মতো বোঝে? সেই জন্য না বুঝি রাগ করেছে।
বাবা কই গেইছে মা?
বাগানে কাজ করির গেইছে।
এমন সময় ধলা বয়াতি বাড়ি আসে। বাবাকে বাড়িতে আসতে দেখে ভাসানি দৌড়ে গিয়ে একলাফ দিয়ে বাবার কোলে ওঠে। মেয়েকে সুস্থ দেখে ধলা বয়াতির চোখ আনন্দে ছলছল করে ওঠে। মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে সে মনে মনে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে।
বাবা-বাবা, কুসুমপরী মোর উপর রাগ করি ঘরের চালের উপরে বসি আছে, নিচে নামছে না। ওক এ্যাকনা টানি ধরি নামাও তো?
আচ্ছা ঠিক আছে মা, আগে তুই খাওয়াটা শেষ কর, তারপর হামরা দু’জনে মিলে কুসুমপরীকে জোর করে টানি নিচে নামামো, টিক আছে?
মোরতো খাওয়া শ্যাষ হইছে বাবা।
ধলা বয়াতি ঘরের চালায় উঠে দেখে টিয়ে পাখিটা মরে পড়ে আছে। হয়তো রাতে কোন বিড়াল এসে তাকে মেরে ফেলেছে। কিন্তু এ কথা তার অসুস্থ মেয়েটাকে কোন ভাবে জানানো যাবে না। সে তার প্রাণের চেয়েও বেশী ভালো বাসে এ পাখিটাকে। কাজেই তার মৃত্যুকে সে স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারবে না। তাই সে পাখিটাকে চালের পচা খড়ের তলে লুকিয়ে রেখে টুনটুনিকে ডেকে বলে মা, -কোন্টে কেনা তুই কুসুমপরীক দেখছিস? এ্যাটে তো কিছুই নাই।
না-বাবা, মুই যে তার গায়ের পাখনা দেখিনু?
না-মা, সেটা কোন পাখনা না, একটা সবুজ রঙ্গের চিলতে পাতা। কুসুমপরী তোর উপর রাগ করি কোন্টেভালা চুপ করি বসি আছে। তার রাগ থামি গেইলে আবার বাড়ি আসিবে দেখিস। আইজ না হোক কাইল সে তোর বগলোত আসবেই। তোর উপর রাগ করি তায় কি থাকিবার পায় মা?
বাবা চলোতো বাঁশবাড়িত য্যায়া খুঁজি দেখি কুসুমপুরী কোন্টে বসি আছে।
ধলা বয়াতি ভাসানিকে কোলে নিয়ে বাঁশঝাড়ের দিকে যায়, সেখানে অনেকগুলো পাখি তাদেরকে দেখে ভয়ে উড়ে যায়। এদের মধ্যে টিকা রঙের পাখিও ছিল কিন্তু ভাসানি তার কুসুমপুরীকে খুঁজে পেলো না। তাই সে মনের দুঃখে বাবাকে বলে-বাবা চলো বাড়ি যাই।
ধলা বয়াতি ভাসানিকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসার সময় জঙ্গলের একটা আতা গাছে ভাসানি দেখতে পায় দু’টো আতাফল পেকে টকটকে হয়ে আছে। ভাসানি বলে-বাবা ম্যাওয়া ফলটা (আতা) পাড়ে দেওতো খাই।
ধলা বয়াতি ভাসানিকে তার কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে আতাফল পাড়িয়ে দেয়। ভাসানি বাবার কোলে বসে আতাফল খেতে খেতে বাড়িতে আসে।
একটু পরে ভাসানির গায়ে আবার জ্বর ওঠে। গা যেন পুড়ে যাচ্ছে শরীরের তাপে। বাবা হয়ে সে আর সহ্য করতে পাচ্ছে না। প্রচণ্ড গরম পড়েছে আজ, বাতাসের কোন চিহ্ন নেই একটি গাছের পাতাও নড়ছে না। নিজের ঘাড়ের গামছাটি হাতে নিয়ে বাতাস করতে করতে শামছুল মাস্টারের কাছে এসে বসে বলে-
স্যার হামার কি হবে? কি ভাবে হামরা বাঁচি? দশ-বারো দিন হয়া গেলো, ছওয়াটার জ্বর ছাড়ে না। ধাপড়া-মেখলীগঞ্জেতো পায়ে দেওয়া যায় না। দু’তিন ধরি শুধু এ্যাকনা চিনিমেশা পানি আর সুজি মুখে দিয়া আছে, কোন কিছু গিলিবার পারে না। কথা গুলো বলতে বলতে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো ধলা বয়াতি ।
বয়াতি, কালকেও তোমার সাথে দেখা হলো একটি বারওতো আমাকে কিছু বললে না।
হ্যাঁ স্যার প্রভুল্ল ডাক্তারক দ্যাখে ওষুধ আনি খাওয়াইচি কিন্তু জ্বরতো কমে না।
আচ্ছা চলোতো তোমার বাড়ি যাই, আগে বাচ্চাটাকে দেখি কি অবস্থা। তারপর একটা কিছু ব্যবস্থা করা যাবে।
ধলা বয়াতি মেয়ে ভাসানি সাত বছরে পা দিয়েছে, কিন্তু তাকে দেখে মনে হয় না তার বয়স সাতের ঘরে। কয়েক দিনের জ্বর আর অনাহারে থেকে থেকে শরীরে মাংস গুলো হাড়ের সাথে মিশে এক হয়ে আছে। গায়ের চামড়া হাড়ের সাথে মিশে পেন্সিলের মতো চিকন হয়ে গেছে। মশা মাছি তাড়ার মত শক্তি তার শরীরে অবশিষ্ট নেই। প্রদীপের নিভু নিভু আলোয় তার চোখ দু’টো কেবল মিটি মিটি করে জ্বলছে। ভাসানির হাতটা ধরে মাস্টার শরীরের তাপমাত্রা বোঝার চেষ্টা করছেন, গায়ে এখনও প্রচণ্ড জ্বর তাপমাত্রা একশ’ দু’তিন ডিগ্রি পার হয়ে যাবে।
শামছুল মাস্টার বয়াতির বোউকে বলে- মেয়ের মাথায় বেশি করে পানি ঢালো। একটা ভেজা গামছা দিয়ে গোটা শরীরটা বারবার ভালো করে মুছে দাও।
মাস্টার বলে-বয়াতি, আশ্রমের কারো সাথে বাচ্চাটাকে মেখলিগঞ্জের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া যায় না?
হ্যাঁ স্যার, গত পরশুদিন কল্যাণী বোষ্টমীর সাথে আমেনাকে বাচ্চাসহ মেখলিগঞ্জে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বি.এস.এফ তাদের যাইতে দেয়নি। বর্ডার থেকে ফেরত পাঠিয়েছে।
আচ্ছা এই টাকাগুলো নিয়ে তুমি আশ্রমে যাও। সেখানকার যে কোন একজনকে জ্বরের বর্ণনা দিয়ে ধাপড়ার হাটে পাঠিয়ে দাও। যাও বয়াতি খুব দ্রæত যাও, কোথাও একমুহুর্ত দেরি করনা। আমি স্কুলের মাঠে আছি ঔষধ নিয়ে আসলে আমাকে খবর দিও, আমি চলে আসবো।
ধলা বয়াতি আর একমুহুর্ত দেরি না করে আশ্রমে যেয়ে নিতাই বাউলকে ঔষধ আনার জন্য ধাপড়ার হাটে পাঠিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরলো।
ডাহাগ্রাম-আঙ্গরপোতার মুসলমানেরা ভারতে পা দিতে না পারলেও কিন্তু হিন্দু ধর্মাবোলম্বিরা ঠিকই নিয়োমিত হাটবাজারে যাতায়াত করে। তারা হিন্দু বলে তাদের সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করে না, কেউ বাঁধাও দেয় না। ভাসানির জ্বরের বর্ণনা দিয়ে ধলা বয়াতি নিতাই বাউলকে ঔষধ আনার জন্য ধাপড়ার হাটে পাঠিয়ে দেয়। ছোট্টশিশু রোগাক্রান্ত হয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় বিছানায় ছটফট করছে, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, এ কথা ভাবতেই তার বাউল মন আঁৎকে ওঠে। সেই ছোট্ট শিশুটি বোঝেনা সমাজ, সংসার, রাষ্ট্র, ধর্ম, হিন্দু-মুসলমান। তার চোখে আমরা সবাই মানুষ। এ পৃথিবীর সকল পুরুষকে সে তার বাবার মতো, আর সকল মহিলাকে তার মায়ের মতোই মনে করে। ডাক্তারের কাছে যেতে না দেয়ায়, বিনা চিকিৎসায় যদি সে মারা যায়, তার আত্মা ওপার থেকে পৃথিবীর সকল মানুষকে ঘৃণা করবে। তার বাসযোগ্য এ পৃথিবী থেকে নিষ্ঠুর ভাবে, জোর করে আমরা তাকে বিতাড়িত করেছি। হায় ভগবান এ তোমার কেমন লীলা খেলা?
রাত যতোই বাড়তে থাকে জ্বরের তীব্রতা ততোই বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড জ্বরের মধ্যেও একবার চোখ খুলে বলে-বাবা কুসুমপরী কি আইচ্চে?
ধলা বয়াতি ঘাড়ের গামছা দিয়ে চোখের পানি মুছে বলে- মা গো রাত পোহালে মুই তোক কুসুমপরী কাছোত নিয়া যাইম, তারপর হামরা দু’জনে মিলি ওক টানি ধরি আসমো, টিক আছে মা?
ঠিক আছে বাবা, মোক এ্যাকনা কোলোত নেও তো।
এইতো মা, তুইতো মোর কোলাতে আছিস। এই যে তোর মা, হাত-পা মুছি দিবার নাগচে। আমেনা তাড়াতাড়ি ধলার পাশে বসে তাকে কোলে নিল। ভাসানি মায়ের কোলে শুয়ে তার বাবার হাত দুটো ধরে চিরকালের জন্য চোখ দুটো বন্ধ করলো। পৃথিবীর সকল চঞ্চলতা-যেন স্থবির হয়ে পড়লো, আকাশের চাঁদ ডুবে গেলো, জোনাকীর আলো নিভে গেলো, ঝিঝি পোকাদের ডাকা-ডাক থেমে গেলো, রাত জাগা পাখি গুলো ভারাক্রান্ত মনে ডানার শব্দে উড়ে গেলো। পৃথিবীর সব মায়া-মমতা যেন স্থবির হয়ে আলস্য গুঞ্জনে ঝিমিয়ে পড়লো।
আমেনা মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে। তার বুকের ধন, এতদিন যাকে বুকে ধরে আগলে রেখেছে আজ তার সেই বুকের ধনকে কিভাবে দুরে ঠেলে দেবে, কিভাবে তাকে অন্ধকার কবরে রেখে আসবে? এসব কথা যখনই ভাবে তখনই সে অজ্ঞান হয়ে যায়। আবার চৈতন্য ফিরে এলে সে বয়াতিকে বকা বকি শরু করে। সে বলে ভাসানির বাপ তোমাক এতো করি কনু যে চলো হামা ওপারে (বাংলাদেশে) চলি যাই, তোমা মোর কথা শৃনলেন না। এটা বোলে তোমার বাপ-দাদার গ্রাম, ছাড়ি যাইতে তোমার কলিজাখান ফাটি যায়। কি আছে তোমার বাপ-দাদার এই গ্রামোত? না খ্যায়া মরি গেইলেও কাঁও দেখার নাই। তোমার গ্রামোত নাই ভাত-কাপড়, নাই ডাক্তার, নাই ওষুধ পথ্য। আইজ বিনা চিকিৎসায় মোর ছওয়াটা মরি গেইল। পাটগ্রাম চলি গেইলে মোর ছওয়াটার আজ এই দশা হইল না হয়। মোর ছওয়াটাক দুনিয়া থাকি চলি যাবার নাগিল না হয়।
গোটা পাড়ার লোক এসে জমা হয় বয়াতির বাড়িতে। সবার চোখে পানি। নিস্পাপ বাচ্ছাটিকে যে একবার চোখের দেখা দেখে, সেই আর চোখের পানিকে ধরে রাখতে পারে না। নিতাই বাউল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঔষধ নিয়ে এসে হাজির হয় ধলা বয়াতির বাড়িতে। কিন্তু না তাতেও অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন তার ঔষধের কোন কাজ নেই। নিতাই বাউল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে কষ্টের অশ্রæ।
অতঃপর খোলা আকাশে লক্ষকোটি নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে থাকে আমেনা, অনাবরত মিটমিট জ্বলছে তারাগুলো, হয়ত তাদের মাঝে লুকিয়ে খেলা করছে তার ভাসানি। একবুক নিদারুণ শুন্যতা আঁকড়ে ধরে এই রাতের নীরবতায়। কতো আত্মত্যাগের মরণ হয়েছে ঐ আকাশে। সত্যি জীবনটাও নক্ষত্রের মতো তার নিজেস্ব আবর্তে ঘূর্ণায়মান। এখনো হৃদয়ের স্রোত হয়ে ভাসে, দমকা হাওয়ায় মাঝে ফিসফিস করে কানে কনে ভাসানি বলে যায়। অনেক দূরে-ঐ আকাশের ভাঙ্গা ভাঙ্গা মেঘের ফাঁক দিয়ে মাথা বের করে ভাসানি ডাকছে-মা,- মা-গো..
এইতো কয়েক মাস আগে মাকে হারিয়েছে ধলা বয়াতি কিন্তু এতোটা ভেঙ্গে পড়েনি সে, যতোটা না ভাসানিকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়ে। গভীর রাত জোছনাহীন অন্ধকার বাড়ির বাইরে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে বয়াতি ভাবে হে আমার সৃষ্টিকর্তা-তাকে যদি কেড়েই নিবে তবে কেন মাত্র ক’টা দিনের জন্য আমার বুকে এনে দিলে? তবে কি তোমার চেয়েও আমি ভাসানিকে বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলাম? তাহলে তুমি আমাকে তুলে নিলে না কেন?
মা ও মেয়েকে হারিয়ে মানসিক ভাবে বিদ্ধধস্ত হয়ে পড়ে ধলা বয়াতি। সংসার জগতের মায়া তার মন থেকে মুছে গেছে। কাজ-কর্ম, নাওয়া-খাওয়া কোন কিছুতেই তার মন বসে না। সংসারে এখন দু’টি মাত্র মানুষ, আমেনা আর সে। তাই বয়াতি মনে মনে ভাবে এই গ্রামে আর সে থাকবে না। আমেনাকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাবে।
হায়রে মানুষ! কেহ কারো দুঃখে কেঁদে বুক ভাসায় আবার কেহ আনন্দ পায়। কেহ মানুষের জীবন বাঁচাতে নিজের সবকিছু বিলিয়ে দেয় আবার কেহ নিজের সুখের জন্য মানুষের সবকিছু কেড়ে নেয়। এমনিতে সন্তান হারার শোকে ধলা বয়াতি কাতর হয়ে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। আর সেই সুযোটাই কাজে লাগায় তিনকুড়ি মহাজন।
ভাসানিকে একটু ভুলে থাকার জন্য, মন থেকে তার স্মৃতিগুলোকে একটু সরিয়ে দেওয়ার জন্য ধলা বয়াতি আমেনাকে কয়েদিনের জন্য মায়ের কাছে রেখে এসে সে বেশিভাগ সময় পড়ে থাকে আশ্রমে।
একদিন আশ্রম থেকে বাড়ি ফেরার সময় কাল্লচোর আর চান্দুচোর দু’জনে মিলে ধলা বয়াতিকে রাস্তা থেকে ধরে এনে তিনকুড়ি মহাজনের কাচারিঘরে বেঁধে রাখে। তারপর তিনকুড়ি মহাজন এসে তার বোউকে তালাক দিতে বলে। কিন্তু ধলা বয়াতি কিছুতেই তার বউ তালাক দিতে রাজি হয় না। তারপর শুরু হয় তার উপর নির্যাতন। মারতে মারতে বয়াতির সমস্ত শরীর রক্তাক্ত করে দেয় কিন্তু তবুও সে তার নির্দোষ বোউকে তালাক দিতে রাজি হয় না।
মুখের শিকার পালিয়ে গেলে, বিড়ালের কোমল থাবার ভেতর থেকে যেমন কর্কশ নখর বের হয়ে আসে, তার গাম্ভীর্য ভেদ করে সুপ্ত-হিংস্র প্রবৃতি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সে সমস্ত শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শিকারের উপর। ঠিক তেমনি তিনকুড়িও রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে বিষধর সাপের মতো ফোঁস ফাঁস করতে করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বয়াতির উপর। চোখ বন্ধ করে ফুটবলের মতো এক প্রান্ত থেকে লাথি মেরে অন্য প্রান্তে নিয়ে যায়। এরপরেও যখন ধলা মিয়া বোউ তালাক দিতে রাজি হয় না এক পর্যায়ে উত্তপ্ত গরম পানি তার নাকে ঢেলে দেয়। সে অজ্ঞান হয়ে গেলে একখানা তালাকনামা লিখে তাতে বয়াতির আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে নেয়। তারপর তিনকুড়ি বলে-কাল থাকি গ্রামের সবাই জানবে যে, ধলা বয়াতি তার বোউকে খাওয়া পরার ভয়ে তালাক দিছে। এর স্বাক্ষী হবে মোর লোকজন। কাল্লু চোর ধলা বয়াতির অচেতন দেহটাকে ঘরের বাইরে রেখে সে তিনকুড়ির কাছে টাকা পয়সা নিয়ে চলে যায়। রাত গভীর হতে চলছে এবার বাড়ি যাওয়ার পালা। তিনকুড়ি মহাজন বলে- এই হাবা এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি খাওয়াতো।
হাবা গ্লাস পরিষ্কার করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই গ্লাস ভর্তি পানি বাহিরে ফেলে দেয় সেই পানি যেয়ে ধলার চোখে মুখে পড়লে তার জ্ঞান ফিরে আসে। ধলা উঠে গিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখে ঘরে তিন কুড়ি আর হাবা ছাড়া কেই নেই। এটাই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ তিনকুড়িকে সাজা দেওয়ার। ধলা বয়াতি দরজা ভিড়ে দেয়ার লাঠিটা হাতে নিয়ে তিনকুড়ির কাঁধ বরাবর ধুপ-ধাপ করে ক’টা বসিয়ে দেয়, অবস্থা বেগতিক দেখে তিনকুড়ি বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য দরজার কাছে আসে আর অমনি সেই লাঠির ঘা, একটার পর একটা তার মাথায় পড়তে থাকে। সেখান থেকে বের হওয়ার কোন সুযোগ সে পেল না সে। মাথা ফেটে গিয়ে দরদর করে রক্ত পড়তে লাগল। গায়ের গেঞ্জি, পরনের লুঙ্গি রক্তে ভিজে যাচ্ছে, তিনকুড়ি চিৎকার করে বলে-ও বাবারে মোক বাঁচাও! মোক বাচাও তার মুখ থেকে আর কোন কথা নাই। মানে এই দাঁড়ায় যে, তার কোন হুস নেই, মারের চোটে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
তিনকুড়ির চিৎকার শুনে হাবা দৌড়ে আসে। অমনি হাবার মাথায় একটা লাঠির আঘাত পড়ার সাথে সথে সে মাটিতে পড়ে হাত পা ছড়িয়ে দেয়।
জীবনের সব সরলতা আজ যেন ঠিক বিপরীত হয়ে অগ্নিরূপে আত্মপ্রকাশ করে। ধলা এখন আর বয়াতি নেই, এখন সে প্রতিবাদী এক বীর পুরুষ। রাতের বেলা সবাই দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি চলে গেছে। বাজারে লোক সমাগম নাই বললেই চলে। তাছাড়া তিনকুড়ি খাঁর আড়তটি মূল বাজার থেকে একটু দুরে, নির্জন এলাকায় তাই কেউ সংবাদও পেলো না সেখানে আসলে কি ঘটে গেলো। অবশ্য ধলা বয়াতি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দরজার বাহিরের শিকলটি বন্ধ করে দেয় যেন তিনকুড়ি তাড়াতাড়ি বের হয়ে চিৎকার দিয়ে কাউকে ডাকতে না পারে। ধলা বয়াতী জানে তিনকুড়ির রোষানল থেকে তার বাঁচার আর কোন পথ নেই। শয়তানের সঙ্গে শয়তানী করে হলেও তার উপযুক্ত জবাব সে দিতে পেরেছে এ জন্য তার নিজেকে স্বার্থক বলে মনে করছে। মরণের ভয়ে সবাই তার সামনে লেজ গুটিয়ে, মাথা নতো করে জী-হুজুর, জী-হুজুর করে। ধলা বয়াতী তার সুষ্টিকর্তা ছাড়া কোন দিন কারও কাছে মাথা নতো করে নাই, আর করবেও না। এতে তার জীবন যায় যাবে, সে মরণের ভয় করে না। ধলা বয়াতি সোজাসুজি চলে আসে আমেনার কাছে। তাকে বলে বোউ, আর এক মুহুর্ত দেরি নয়, এলায় ব্যাড়ের নাগবে। তানাহলে তিনকুড়ির লোকজন চলি আসবে। চল জলদি কর? তোক খালার বাড়িত থুইয়া মুই অন্য কোথাও চলি যাইম। দু’চার দিন পর আমি তোর কাছোত আসিম।
ক্যান কি হইছে তোমার? তোমা ফির হাফেবার নাগচেন ক্যান? মুইতো কিছুই বুঝবার পাছো না। মোক তোমা একটা কিছুতো কও?
আরে বউ, তাড়াতাড়ি কর? রাস্তায় যাইতে যাইতে মুই তোক তামান কওছো।
চলো, আর কোন সমস্যা নাই। কি হইছে এ্যালা কওতো ?
শোন বোউ, তিনকুড়ির আসল উদ্দেশ্য মোক মারি ফেলে তোকে বিয়া করা।
এইলা তোমা কি কবার নাগচেন?
হ্যাঁ-বোউ? আশ্রম থাকি ফেরার সময় তিনকুড়ির মহাজনের লোকজন মোর চোখ বান্দি তার কাচারি ঘরোত ধরি যায়। কোন কথা বার্তা নাই কাল্লুচোর তোক তালাক দিবার কয়, তালাক নামায় সই করির কয়।
মুই তাতে রাজি না হইলে একটা মোটা লাঠি দিয়া মারতে থাকে। তিনকুড়ি শেষ বারের মতো মোক কয়, তার-কথা না শুনলে মোক মারি ফেলাবে। এরপরেও যখন মুই তোক তালাক দিবার রাজি না হঁও, তায় গরম পানি আনি মোর নাকোত ঢালি দেয়। তারপর মুই অজ্ঞান হয়া যাঁও আর কিছু কবার পাঁও না। অনেক্ষণ পর মোর জ্ঞান ফিরি আসিলে মুই দরজার ফাঁক দিয়া দ্যাখো ঘরোত তিনকুড়ি ছাড়া আর কাঁও নাই। এই সুযোগে ঘরের কপাট দেওয়ার লাঠিটা নিয়া তিনকুড়ির মাথায় ধুপ-ধাপ করি মার শুরু করি দিনু। মুই জানো তায়তো ডাকাত ছিলো, গায়োত খুব শক্তি তার মোক যদি ধরি ফেলায়, সেই জন্য মুই প্রথমে তার মাথাত আঘাত করো। আর মাথায় মারগুলা লাগচে বলে তার হুস ছিলো না। মারের চোটে তিনকুড়ি মাটিতে পড়ে মাথা দিয়া দরদর করি রক্ত পড়ছে। মুই আর এক মুহুর্ত দেরি না করি সোজা তোর কাছোত চলি আইসো। তিনকুড়ির লোকজন হামাক ছাড়বে না। সেইজন্য কয়দিন হামাক পালে থাকির নাগবে।
বয়াতি, এতোদিনে তোমা একখান কাজের মতো কাজ করেছেন। তোমাক স্বামী বলে পরিচয় দিতে মোর গর্ব হচ্ছে। তিনকুড়িক মারি ফ্যালের পাইলে তোমার আরও বেশি ছওয়াব হইল হয়, অনেক নীরিহ মানুষ, অনেক অসহায় মা-বোন তার অত্যাচার থাকি বাঁচি গেইল হয়। তিনকুড়ির ফাটা মাথা ঠিক হতে মাস খানেক সময় লেগে যায়। কিন্তু কুকুরের বাঁকা লেজে চল্লিশ মন ঘি মালিশ করলেও সেটা যে সোজা হয় না। তিনকুড়ি তার প্রকৃত উদাহরণ। মার খেয়ে মাথা ফাটার পরেও তার স্বভাবের কোন পরিবর্তন হল না। তার ভেতরের স্বভাবজাত কুকুরটি আবার ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। প্রতিশোধের আগুনে চোখ রক্তলাল হয়ে যায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now