বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত তুমি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X . . রাত প্রায় তিনটা বাজে........... এখনো বাড়ান্দায় বসে আছি, সেই যে দশটাই বসছিলাম, এখনো এভাবেই আছি। কখন যে গিটারের তারগুলো থেমে গেছে টেরই পেলামনা। এই গিটারটাই আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আপন। আমার কাছে বাবার শেষ'স্মৃতি বলতে ছিলো এই গিটারটাই। আজকের এই দিনেই বাবা আমাকে রেখে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। বাবার কথা খুব মনে পড়ছে আজ। এই একটা ব্যাক্তিই ছিলো যে আমার সকল ইচ্ছার'মূল্যায়ন করতো। বাবাকে যেদিন প্রথম বলেছিলাম- একটা গিটার কিনে দেওয়ার জন্য। বাবা বলেছিলো-- কয়েকদিন পর কিনে দেবে। আমিও অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আমি জানতামনা আমার রিক্সাচালক বাবার পক্ষে গিটার কিনে দেওয়াটা যে কত কষ্টের। জানবোই বা কি করে,,, আমি তখন ক্লাশ ফাইভের ছোট্র একটা পিচ্চি ছিলাম মাত্র। যেদিন জানতে পারলাম বাবার গিটার কিনে দেওয়ার কষ্টের কথা, তখন একবার বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারলামনা- সরি বাবা,,, তোমার রক্ত বিক্রি করা টাকা দিয়ে আমার গিটার বাজানোর আনন্দ আমি উপভোগ করতে চাইনি। আমি যখন গিটারে সুর তুলতাম তখন বাবা বাচ্চাদের মতো আমার পাশে বসে সেটা শুনতো। বাবা সবসময় বলতো-- কাব্য তুমি যদি কোনদিন বড় গিটারিস্ট হও, তাইলে বাবা আমি তোমাকে আমার রিক্সায় চড়িয়ে অনুষ্ঠানে দিয়ে আসব। আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলতাম। বাবাটাও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতো-- কাঁন্দছ কেন বাবা,,,,,,,, তুই কানলে আমার খুব কষ্ট হয় বাবা। বাবা আমার চোঁখের জল মুছে দিয়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতো। আজ বাবা নেই,,, কিন্তু বাবাটাকে খুব মিস করছি আমি। . হঠাৎ মীরার ফোনে ঘোরটা ভাঙ্গলো। মীরা হলো আমার জিএফ। আমি আর মীরা দুজনেই একই ভার্সিটিতে অনার্স করতেছি। চোঁখটা মুছতে মুছতে ফোনটা রিসিভ করলাম-- ---হ্যালো মীরা বলো ---কি ব্যাপার তোমাকে সারাদিন ফোন দিয়ে পেলামনা। কই থাকো হ্যা? ---বাসায় ছিলাম। ---ভার্সিটিতে আসোনাই কেন? ---ইচ্ছে করেনি ---এমন ভাবে কথা বলছো কেন? ---ভালো লাগতেছে এখন রাখি বলে ফোনটা কেটে দিলাম।" মীরা হয়তো অনেক কষ্ট পেয়েছে। কি আর করবো। বাবার চেহারাটা এখনো চোঁখের সামনে ভাসছে। রাত অনেক হয়েছে, ঘুমানোর জন্য চেষ্টা করতেছি। বাবার কথা ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়লাম। . সকালে উঠেই নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। ক্যাম্পাসে ডুকেই টিপুর সাথে দেখা হলো। টিপুর কাছে গিটারটা দিয়েই মীরাকে খুজতে গেলাম। মীরা রাগে ফোনটা রিসিভ করেনি। সরাসরি ক্লাশে চলে গেলাম। জানি মীরাকে ক্লাশেই পাবো। গিয়ে দেখি মীরা ক্লাশে বসে বান্ধবীদের সাথে'কথা বলতেছে। আমি মীরা কে'লক্ষ করে বললাম-- ---এই যে মিস এদিকে আসো, ---কেন আসব হ্যা? আমি কারো কেউ না। ---আসতে বলছি আসো।" অবশেষে বান্ধবীদের অনুরোধে মীরা আসতে রাজি হলো। মীরার একটা অভ্যাস হলো যখন আমার সাথে কোথাও ঘুরতে যাবে'বা হাটবে তখন আমার হাতটা আলতো করে ধরে রাখবে। আজো এর ব্যাতিক্রম হলোনা। মীরাকে নিয়ে ভার্সিটির পিছন সাইডে চলে গেলাম।ওখানে আমার বন্ধুরা সবাই'বসে আছে। টিপু আমার গিটারটা বাজাচ্ছে, আর দীপ গান গাচ্ছে। দীপ গান মোটামুটি ভালোই পারে। মীরাকে নিয়ে গিয়ে সবার মাঝখানেই বসে পড়লাম।আমি গিটার বাজাতে খুব ভালোই পারি। তবে আজ আর একটু ও বাঁজাতে মন চাচ্ছেনা। কিন্তু আজ সবার অনুরোধে গিটারটা'হাতে নিলাম। আমি গিটারের তারে হাত নাড়াতে শুরু করলাম। দীপ গান গাইতে শুরু করলো। মীরা আমার কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আজ। গিটারে হাত দিলেই শুধু আমার বাবাটার কথা মনে পড়ে। গান শেষ করেই দীপ আমার মাথায় হাত রাখলো। দীপ বলল ---খুব কষ্ট হচ্ছে তোর, তাই না কাব্য? ---নারে ঠিক আছে, তোরা বলতে পারিস আমার বাবাটা কেন আমাকে ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি চলে গেলো?? একথা বলতেই মীরাটা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। এই মেয়েটা জানে কিভাবে আমার কষ্টটা লাঘব করতে হয়। সবাই মীরাটার কান্ড দেখছে। এইটা মীরার প্রতিদিনের কান্ড। তাই অবাক হওয়ার কিছু নাই। সবার কাছে বিদায় নিয়ে ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে আসলাম। তারপর মীরাকে বাসায় পৌছে দিয়ে আমিও বাসায় চলে আসলাম। . আজ ভার্সিটিতে ম্যাথ পরীক্ষা। আজ পরীক্ষা শেষে মীরা দেখা করতে বলেছে। কি জানি গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। কি বলবে ভাবতে ভাবতেই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলাম। পরীক্ষা শেষে আমি আর মীরা পার্কে বসে আছি। হঠাৎ মীরা বলতে শুরু করলো-- ---কাব্য একটা বড় সমস্যা হইছে। ---কি সমস্যা? ---আমি তোমার সন্তানের মা হতে চলেছি।" কথাটা শুনে কাব্য চমকালো না,, কারণ কোন একটা সময় তাদের দুজনের মিলন হয়েছিলো। যার ফসল আজকের এই কথা। কাব্য বলল-- ---চলো তাহলে বিয়েটা করে নেই। ---কি বলছো এসব,, তোমাকে বিয়ে করব আমি? ---কেন করবেনা মীরা, আমরা দুজন দুজনকে ভালবাসি। আর সবচাইতে বড় কথা তোমার গর্ভে আমার সন্তান। ---দেখো কাব্য প্রেম আর বিয়ে এক কথা নয়। তাছাড়া আমি তোমার মতো ফকিরের সাথে সারাজীবন থাকতে পারবোনা। ---এতদিন তোমার এটা মনে ছিলোনা? ---এই বিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাইনা। আমার বাচ্চাটা প্লীজ নষ্ট করে দাও। ---আমার সন্তান আমি কোনদিন নষ্ট করবোনা। ---তোমার বাবার কসম দিলাম প্লীজ আমার গর্ভের ঐ পাপটাকে তুমি মুছে দাও। কারন আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।" আমি মীরার মুখে এই কথাটা শুনে আর কোন কথা না বলে সোজা বাড়ির দিকে চলে আসলাম। .. আজ ১২ জানুয়ারী,,,,,, এইদিনেই বাবার দেওয়া গিটারটা বিক্রি করে আমার ছোট্র বাবুটাকে পৃথিবীতে আসার সব রাস্তা আমি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। মীরার বিয়ে হয়ে গেছে ১বছর হলো। খুব সুখেই আছে মীরা। আজ বাবা নেই, বাবার দেওয়া গিটারটা নেই, আমার বাবুটাও নেই। সরি বাবা - আমি তোমার রক্ত বিক্রি করা টাকা দিয়ে কেনা গিটারটা বিক্রি করে আমার বাবুটাকে কবর দিয়েছি। আমার আর কোন রাস্তা ছিলোনা বাবা। প্লীজ বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিও। জানো বাবা- তোমার কাছে'চলে আসতে আমার খুব ইচ্ছে করে। আমার পৃথিবীর মানুষগুলোকে একদম ভালো লাগেনা। বাবা একটা কথা রাখবে-- তুমি সৃষ্টিকর্তাকে একবার বলে দাওনা প্লীজ- মীরার মতো মেয়ে যেন আর তিনি সৃষ্টি না করে,, প্লীজ বাবা প্লীজ। কথাগুলো বলতে বলতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে কাব্য। হয়তো কয়েকফোটা জলও জড়িয়ে পড়ছে চোঁখ থেকে। .. .. ধিক্কার জানাই এইসব মেয়েদেরকে যারা তাদের অনাগত সন্তানকে পৃথিবীর মুখটা পর্যন্ত দেখতে দেয়না। কোন মেয়ে কষ্ট পাবেন না প্লীজ। আমি আপনাদের ছোট করার জন্য গল্পটা লিখিনি। এটা বাস্তব। শুধুমাত্র ঐসব মীরা স্বভাবের মেয়েদের জন্য লেখা। কাব্যের জন্য শুভকামনা রইলো।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত তুমি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now