বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হরর উপন্যাসিকা
"অভিশপ্ত রক্ত"
আফজাল হোসেন
-----------------
(শেষ পর্ব)
রুমা ক্রোধান্বিত গলায় বলে উঠল, তখন তুমি আমাকে ওই অভিশপ্ত রক্তের শিকার বানাও ৷ নিজের মুক্তির লোভে অন্যের জীবনকে অভিশপ্ত করো।
না… তাতেও আমার মুক্তি মেলেনি। শরীরটা ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু এখনও আমার আত্মার মুক্তি মেলেনি ৷
রুমা গর্জে উঠল… ‘তাতে কী! মাঝখান থেকে তুমি তো আমার জীবনটাও ধ্বংস করলে। এখন আমিও তোমার মত একটা জীবন্ত প্রেতাত্মা হয়ে যাচ্ছি।
‘এখন আমি তোমার এবং আমার দুজ্নেরই মুক্তির উপায় জানি।
রুমা ব্যাগ্র গলায় বলল, ‘কি ভাবে?! কীভাবে এই অভিশপ্ত রক্ত থেকে মুক্তি মিলবে?
“যেহেতু আমি ওই শ্মশান তান্ত্রিকের নির্দেশে এবং তার মন্ত্র ব্যবহার করেই ওই অভিশপ্ত রক্ত শরীরে নিয়ে ছিলাম তাই ওই রক্ত তাকেই ফিরিয়ে দিতে হবে।
“সেটা কীভাবে সম্ভব? ! তাকে তো গ্ৰামবাসীরা মেরে ফেলেছে!
তান্ত্রিকের দেহাবশিষ্টের উপরে তোমার শরীরের খানিকটা রক্ত ফেললেই তাকে এই অভিশাপ ফিরিয়ে দেওয়া হবে ৷
আট
রুমা তার বাবা মায়ের সাথে শিবপুর গ্ৰামে এসেছে। এটাই দীপালিদের গ্রাম ৷ এই প্রামের শ্মশানেই পুঁতে ফেলা হয়েছিল তান্ত্রিকের লাশটা। রুমা আর ওর বাবা মা গ্রামের লোকজনদের জিজ্ঞেস করে জেনে নিয়েছে শ্মশানের ঠিক কোন্ স্থানে তান্ত্রিককে পোঁতা হয়েছিল। দু;জন মাটি কাটা কােদালিও ঠিক করে ফেলেছে। মাঝ রাতে গোপনে কোদালিদের দিয়ে শ্মশানের সেই স্থানটা খোঁড়াবে।
চারদিক অন্ধকার। খাঁ খাঁ করছে৷ দমকা হাওয়ার মত হাওয়া বইছে৷ একটা হ্যাজাক বাতির আলোতে বলশালী দুই কোদালী তান্ত্রিককে পুঁতে ফেলা শ্মশানের সেই স্থানটা অতি দ্রুত খুঁড়ে চলেছে ৷ পাশে দাঁড়িয়ে রুমা আর রুমার বাবা মা দেখছে।
খুঁড়তে খুঁড়তে এক পর্যায়ে দেখতে পাওয়া গেল তান্ত্রিকের মাথার খুলি আর হাড়গােড়। কোদালিরা খোঁড়া বন্ধ করল। রুমা ব্লেড দিয়ে তার হাত চিরে হাড়গোর গুলোর উপর রক্ত ফেলতে লাগল ৷
প্রতি ফোটা রক্ত ঝরার সঙ্গে সঙ্গে রুমার মনে হতে থাকে, তার শরীরটা যেন হালকা হয়েই যাচ্ছে। ভেতর থেকে অভিশাপ বের হয়ে যাচ্ছে। রুমার শরীরের বেশ অনেকটা রক্ত তান্ত্রিকের হাড়গােড়ের উপর ঝরানাে শেষে কোদালিরা আবার জায়গাটা আগের মত মাটি ফেলে ভরাট করে দিল ৷
পরিশিষ্ট
;রুমা এখন পুরোপুরি অভিশাপ মুক্ত ৷ এখন আর সে আত্মাদের দেখতে পায় না৷ ভুলু নামের পোষা কুকুরটার সঙ্গে এখন আবার তার আগের মত খাতির ৷ তার জীবনটা আবার খুশিত আর আনন্দে ভরে উঠেছে ৷ তার বিয়ের কথা বার্তা চলছে ৷
গভীর রাত। বাইরে প্রবল ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। রুমা তার বিছানায় বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।
অনেক দিন পর আজ আবার রুমা একটা দুঃস্বপ্ন দেখছে। স্বপ্নে সে শিবপুর গ্রামের শ্মশানটাকে দেখতে পাচ্ছে ৷ সেখানেও সাঙ্ঘড়াতিক ঝড় হচ্ছে। ক্ষণে ক্ষণে বিজলি চমকাচ্ছে৷ চমকানাের আলোতে দেখা যাচ্ছে শ্মশানের যে স্থানে তান্ত্রিককে পোতা হয়েছিল সেখানকার ভিজে নরম মাটি ঠেলে, মাটির ভিতর থেকে একটা মানুষ উঠে আসছে।
বাস্তৰিকই রুমার কাছ থেকে অনেক দূরের শিরপুরের সেই শ্মশানে একটা মানুষ মাটি ফুঁড়ে উঠে আসছে। এই মানুষটাই শ্মশান তান্ত্রিক। সে পুনর্জীবন লাভ করেছে। তার মৃত হাড়গােড় এর উপর রুমার শরীরের অভিশপ্ত রক্ত পড়ার পর থেকে তার দেহ আবার নতুনভাবে গড়তে শুরু করে। আজ এই ঝড় বৃষ্টির রাতে সে পুনর্জন্ম লাভ করল। এখন তার ক্ষমতা আরও বেড়ে গেছে। ইচ্ছে করলেই সে যে কোনও মানুষের রূপ ধারণ করতে পারবে ৷ তার ক্ষমতা আরও বাড়াতে… সমস্ত পৃথিবীকে বশে আনতে, অমর হওয়ার জন্য তাকে আবার শব সাধনা করতে হবে। সবচয়ে ভাল হয় যে মেয়েটার শরীর থেকে অভিশপ্ত রক্ত পেয়ে পুনর্জন্ম লাভ করেছে সেই মেয়েটাকেই শব সাধনার ব্যবহার করতে পারলে। মেয়েটা কুমারী। প্রয়জনে মেয়েটার বিয়ের পাত্র সেজে সে মেয়েটাকে হাসিল করবে।
(সমাপ্ত)
------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now