বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত রক্ত-৫

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X হরর উপন্যাসিকা "অভিশপ্ত রক্ত" আফজাল হোসেন ------------------ (পর্ব ৫) সাত নির্জন গভীর রাত। আজ আবার দুঃস্বপ্ন দেখে রুমার ঘুম ভেঙে গেল। স্বপ্নটা এমন ছিল রুমা যেন ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে সাজছে। হঠাৎ আয়নায় তার চেহারাটা বিকৃত হতে লাগল। মুখের চামড়া কুঁচকে ভাঁজ ভাঁজ আর কালো হয়ে গেল। উঁচু নাকটা বসে গিয়ে কুঁচকানাে মুখের মাঝে মিলিয়ে গেল। শুধু নাকের ফুটো দুটো দেখা গেল। ঠােট দুটো ফুলে উঠে গাড়ির টায়ারের মত রূপ ধরল। কান দুটো খরগােশের কানের মত লম্বা হয়ে গেল। চুলগুলো লালচে উষ্কুখুষ্ক জঙ্গুলে রূপ নিল ৷ চোখ দুটো ঘোলাটে হতে হতে একেবারে সাদা হয়ে গেল। সে বুঝতে পারে মাঝে মাঝে আয়নায় নিজের চেহারার পরিবর্তে কুৎসিত বৃদ্ধার যে চেহারা ফুটে উঠতে দেখে, এটা সেই চেহারা নয়। এটা তার নিজেরই চেহারা। নিজের চেহারারই বিকৃত রূপ। ঘুম ভাঙার পর রুমা অন্ধকারে বিছানায় শুয়ে শুয়ে স্বপ্নট৷ নিয়ে ভাবছে ৷ বেড সুইচ টিপে বাতিটাও জ্বালল না। আজকাল তার ভয় ডর একেবারেই কমে গেছে ৷ অ্যাক্সিডেন্টের পর থেকে সে এত সব ভয়ানক দৃশ্যের মুখোমুখি হয়েছে যে এখন ভয় ডর তাকে স্পর্শ করতে পারে না। রুমা সিটি হসপিটালে গিয়ে সেই নার্সের সঙ্গে কথা বলে এসেছে। সেই নার্স, যে ওই কুত্সিত বৃদ্ধার শরীর থেকে রক্ত নিয়েছিল ৷ নার্স মেয়েটা রুমাকে সেই রাতের ঘটনা সব জানিয়েছে।রক্ত দেওয়া শেষে বৃদ্ধার পুড়ে অঙ্গার হওয়া… এর পর অঙ্গার দেহটা অদৃশ্য হওয়া, নার্সের কথা কেউ বিশ্বাস করেনি সেই কথা- সব জানিয়েছে রুমাকে ৷ অন্য কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক রুমা নার্স মেয়েটার সব কথা বিশ্বাস করেছে ৷নার্স মেয়েটার সাথে সে ও এক মত ওই বৃদ্ধা কোনও স্বাভাবিক মানুষ ছিল না।, অশুভ ছিল। ওই বৃদ্ধার রক্ত আজ তার শরীরে বলেই সে বিভিন্ন ভীতিকর অস্বাভাবিক দৃশ্যের মুখোমুখি হচ্ছে। রুমা বেড সুইচ টিপে বাতি জ্বেলে বিছানা থেকে উঠে পড়ল ৷ ডাইনিংয়ে গিয়ে পানি খেল ৷ শুনতে পেল রান্নাঘরে কেউ শব্দ করে রান্না করছে। নিশ্চয়ই রহিমা! অশরীরী রহিমা৷ গভীর রাতে রান্নাঘরেই থাকে। অশরীরী রহিমার উপস্থিতি টের পেয়েও রুমার কোন ভাবান্তর হলো না। রোজকার ঘটনা! সে এখন এসব ব্যাপারে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। সে নির্বিকার ভঙ্গিতে নিজের রুমে ফিরে এল ৷ বাথরুমে ঢুকবে বলে পা বাড়িয়েছিল। শুনতে পেল বাথরুমের ভিতরে কারা যেন ফিসফাস করে কথা বলছে৷ আবার কারা!! অশরীরীরা ! অশরীরীরা আজকাল রুমার আশপাশেই থাকে। রুমা বাথরুমে না ঢুকে ড্রেসিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল ৷ নিজের সুন্দর মুখটা একটু আয়নায় দেখবে। মনে হয় না খুব বেশি দিন তার মুখটা এমন সুন্দর থাকবে ৷ ধীরে ধীরে তার চেহারা বোধ হয় স্বপ্নে দেখা মুখের রূপই ধারন করবে। কিছুটা পরিবর্তন হতে শুরুও করেছে। গায়ের বিচ্ছিরি গন্ধটা বেড়েই চলছে। দামি পারফিউমের সুন্দর গন্ধও এখন আর সেই ৰিচ্ছিরি গন্ধকেও চাপা দিতে পারছে না। শরীরের দুর্গন্ধের কারণে সে আজকাল বাইরের লোকেদের সামনে তেমন একটা যায় না৷ সারাক্ষণ ঘরের মধ্যেই থাকে। ঘর অন্ধকার করে রাখে। অন্ধকারে থাকতে তার ভাল লাগে। রুমা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে লাগল। কী সুন্দর একটা মুখ ! চোখ দুটো বড় বড় আর আন্তরিক! মাথা ভর্তি দীঘল কালো লম্বা চুল! ফর্সা নিখুঁত মুখমণ্ডল! নাকের ডগাটা লালচে, ভেজা ভেজা। হঠাৎ আয়নায় রুমার চেহারার পরিবর্তে দেখা গেল সেই কুৎসিত চেহারার বৃদ্ধাকে। রুমা মোটেও চমকাল না। এমনটা তাে প্রায়ই হয় ৷ আয়নায় বৃদ্ধা খল খল করে হাসতে লাগল ৷ রুমা ধমকে উঠল, হাসবার কী হলো? হাসছ কেন? বৃদ্ধা হাসতে-হাসতে বলল, তােমার কথা ভেবে হাসছি ৷ তোমার এই সুন্দর মুখটা আমার চেহারার মত কুত্সিত হয়ে যাবে।‘ রুমা গর্জে উঠল, ‘তোমার জন্যই তো আজ আমার এই দশা ৷ বৃদ্ধা বলল, আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই। রুমা আগের মত চটা গলায় বলল, “না, তোমার কোন সাহায্যের আমার দরকার নেই। তুমি সাহায্যের নামে আরও কী ক্ষতি করতে চাও? ঠিক আছে, তোমাকে আমার সাহায্য নিতে হবে না। কিন্তু আমার অবস্থা এমনটা কী করে হলো সেটা তোমার জানতে ইচ্ছে করে না? জানতে চাও না, আমি কে, কোথা থেকে এসেছি… কেন তোমার জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছি-এসব? রুমা কিছু বলল না, চুপ করে রইল। বৃদ্ধা বলতে লাগল, দশ বারো বছর আগে আমিও তোমার মত একটা যুবতী মেয়ে ছিলাম। এমন বুড়াে মানুষদের মত চেহারা ছিল না। তোমার মত অতটা হয়তো সুন্দরী ছিলাম না , তাই বলে দেখতে একেবারে খারাপও ছিলাম না। নাম ছিল দীপালি ৷ গরীব হিন্দু পরিবারের মেয়ে ৷ এইচ.এস.সি পর্যন্ত লেখাপড়াও করেছিলাম। সংসারে সচ্ছলতা আনতে শহরে এসে সিটি হসপিটালে নার্সের চাকরি নিই। সব ভালই চলছিল। তখন সিটি হসপিটালে মর্গে কেয়ারটেকারের কাজ করত শুকুর নামে একজন। আমি তাকে শুকু তাই বলে ডাকতাম৷ মহিষের মত বলশালী চেহারার লৌক। যে কেউ ই প্রথম দেখাতেই বুঝতে পারবে লোক বেশি সুবিধের নয়। অবশ্য আমি তখন বুঝতে পারিনি। রাতের বেলা সে মর্গের ভিতরে বসে মদ টদ খেত। মাঝে মাঝে লুকিয়ে চুরিয়ে তার দু একজন বন্ধু ৰান্ধুবও নিয়ে আসত। মর্গের ভিতরে বসে তারা মদ খেত, তাস খেলত, হাসি-ঠাট্টা করত। মর্গের নিরিবিলি পরিবেশ হয়তো তাদের কাছে মদ খাওয়া, জুয়া খেলার জন্য আদর্শ জায়গা ছিল। অবশ্য এসব আমি কিছুই জানতাম না৷ পরে জানতে পারি। মাত্র তো কিছু দিন হয়েছিল নার্সের চাকরিটা নিয়েছিলাম। এক রাতে, রাত দেড়টা কি পৌনে দুটো বাজে ৷ কেবিনের এক পেশেন্টকে ইঞ্জেকশন দেবার ছিল। ইঞ্জেকশন দেওয়া শেষে করিডর ধরে ফিরছি। শুকুর ভাইকে দেখতে পাই। সে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে উত্তেজিত গলায় বলল,“দীপালি, আজ সন্ধ্যায় মর্গে যে লাশটা রাখা হইছে, সেই লোকটা বোধহয় মরে নাই। দু একবার গোঙানির মত শব্দ করছে। তুই এসে একটু পরীক্ষা কইরা দেখৰি? এত রাইতে ডাক্তারদের জানাইলে, ধমক খাইতে হইবে। ডাক্তারগুলান হইছে সব এক নন্বরের হারামি ৷ আমি কিছু না ভেবে বলি, “ঠিক আছে, চলেন, গিয়ে দেখি।শুকুর ভাইয়ের সঙ্গে গিয়ে মর্গে ঢুকি। সে যে লাশটাকে আঙুল উচিয়ে দেখিয়ে দেয় সেই লাশটার হাতের নাড়ি ধরে দেখতে থাকি ৷ অবাক হয়ে যাই, সত্যিই লাশটার পালস পাওয়া যায়। এর মানে লোকটা জীবিত! উত্তেজিত গলায় বলি… “শুকুর তাই, এখনই ডাক্তারদের জানাতে হবে। এখনই! লোকটা জীবিত।শুকুর ভাই হা হা করে হাসতে থাকে। অবাক হয়ে আমি তার হাসিরত মুখের দিকে তাকাই৷ ঠিক তখনই স্ট্রেচারে শোয়া, লাশ মনে করা লোকটার হাত আমার কজি এঁটে ধরে ৷ শুকুর ভাই হাসতে হাসতে বলে, ওই দেখ, আরও একটা লাশ জাইগ্যা উঠছে ৷ ‘তাকিয়ে দেখি সত্যিই পাশের স্ট্রেচারে আরও একটা লাশ সাদা কাপড় ঠেলে উঠে বসেছে ৷ ততক্ষণে আমি বুঝে যাই এরা কেউই লাশ নয়। এদের মতলব খারাপ। “আমি চিৎকার দেবার আগেই…শুকুর দলবল এসে আমার মুখ চেপে ধরে। বলতে বলতে আয়নার মধ্যে বৃদ্ধা ডুকরে কেঁদে উঠল। কাঁদতে কাঁদতে বলল… ‘তিনজন মিলে সেই মর্গ রুমেই কতগুলো লাশের সামনে সারা রাত ধরে আমাকে পালাত্রুমে ধর্ষণ করে। বাধা; দেওয়ার কেউ থাকে না৷ ওই তিনজন ছাড়া যারা থাকে…তারা তো সবাই প্রানহীন মৃত লাশ ৷ রুমা সহানৃভূতি নিয়ে বলে উঠল, ‘তুমি এদের বিরুদ্ধে কিছু করলে না? ‘কী আর করব বলো! আমার মত গরিব ঘরের অসহায় একটা মেয়ের পক্ষে কী ই না করার আছে! হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। তারা তদন্তের ব্যবস্থা নেয়। শুকু প্রমাণ করে দেয়-সেই রাতে সে হাসপাতালেই ছিল না। সন্ধ্যা রাতেই মায়ের অসুখের কারণে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিল। উল্টো আমিই খারাপ চরিত্রের মেয়েমানুষ ৷ তার সঙ্গের সেই দুজন আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়… আমি নাকি টাকার বিনিময়ে এর ওর সাথে রাত কাটাই ৷ সেই রাতে ওদের সঙ্গে কাটিয়েছি। এক অটো রিকশাওয়ালা এসে সাক্ষী দেয়, সেই রাতে রাত দুটোর দিকে তার অটো রিকশায় করেই ওই দুজনের সাথে ফকিরাপুলের এক বাসায় যাই। খুব ভোরে হসপিটালে ফিরে আসি। “সব শুনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। এক বুক কষ্ট, লজ্জা আর অপমান মাথায় নিয়ে গ্রামে ফিরে আসি। ভাবি আত্মহত্যা করে এই কষ্ট… লজ্জা আর অপমানের হাত থেকে মুক্তি নেব। আবার ভাবি যারা আমার এমন সর্বনাশ করল তাদের কিচ্ছু হবে না? তারা এভাবে পার পেয়ে যাবে? প্রতিশোধ নিতে কী করতে পারি আমি? কেউ কি আছে আমার হয়ে ওদেরকে শাস্তি দেবে? মনে পড়ে এক তান্ত্রিকের কথা। যাকে সবাই শ্মশান তান্ত্রিক নামে চেনে। আমাদের গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে নদীর পাড়ে একটা শ্মশান আছে। সেই শ্মশানেই শ্মশান তান্ত্রিক থাকে। শ্মশান তান্ত্রিককে গ্রামের কেউ ভাল চোখে দেখে না। সবাই তাকে ভয় পায়, ঘৃণা করে। সে খুবই ভয়ঙ্কর এক তান্ত্রিক। জাদু টোনাে, তন্ত্র মন্ত্র… বান মারতে জানে ৷ সে কোনও পোশাক পরে না৷ উলঙ্গ অবস্থায় থাকে। শুধু মাত্র গায়ে চিতার ছাই মেখে রাখে। দিনের বেলা তাকে দেখা যায় না৷ শ্মশানের পাশের বিশাল বনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। রাতে বেরিয়ে আসে ৷ শ্মশানে পােড়নো শবদেহের রয়ে যাওয়া অবশিষ্ট পােড়া ঝলসানাে মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে ৷ শব সাধনা করে। শব সাধনা করতে কুমারী মেয়েদের মৃতদেহ লাগে৷ কুমারী মেয়েদের মৃত দেহের বুকের উপর বসে এই সাধনা করতে হয়। তার … কিছু গোপন ভক্ত অনুরাগী আছে। তারাই কুমারী মেয়েদের মৃত দেহ জোগাড় করে দেয় ৷ মনে হয় কবর থেকে চুরি করে আনে। অথবা অন্য কােনওভাবে ৷ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের ধারণা, সুৰিধে মত কোনও কুমারী মেয়েকে একা বাগে পেলে হত্যা করেও শব সাধনার লিপ্ত হতে দ্বিধা বোধ করে না তান্ত্রিক। এক গভীর রাতে গোপনে সেই তান্ত্রিকের কাছে যাই। আমার সাথে যে অন্যায় হয়েছে সব তাকে জানাই ৷ প্রতিশোধ্ নিতে তার সাহায্য চাই ৷ “সব শুনে তান্ত্রিক সাহায্য করতে রাজি হয় ৷ তান্ত্রিক গমগমে গলায় বলে, তাের প্রতিশোধ্ তুই ই নিবি। আমি শুধু তোর মধ্যে প্রতিশেধে নেবার ক্ষমতা দিয়ে দেব। “শুরু হয় আমার গোপনে গোপনে যজ্ঞে বসা আর মন্ত্রের সাধনা ৷ “সাধনার এক পর্যায়ে তান্ত্রিক বলে… এখন তোর শরীরে মৃত মানুষের রক্ত নিতে হবে। তা হলেই তুই প্রতিশোধ নিতে পারবি। আমি অবাক হয়ে বলি, “মৃত মানুষের রক্ত? হ্যা, মৃত মানুষের রক্ত তোর শরীরে ঢুকাতে হবে। “মৃত মানুষের রক্ত তো জমে যায় ৷ সেই রক্ত কীভাবে নিজের শরীরে নেব? তান্ত্রিক বলে, “মৃত্যুর সাথে সাথেই রক্ত জমে যায় না।” বুঝে যাই কী করতে হবে। তান্ত্রিককে আবার প্রশ্ন করি, মৃত মানুষের রক্ত শরীরে নিলে কী হবে?তাতে কীভাবে প্রতিশাধ নেওয়া হবে? মৃত মানুষের রক্ত শরীরে নেওয়ার পর মৃত আত্মাদের তুই দেখতে পাবি। তাদের সাথে কথা বলতে পারবি। তারা তোর যে কোনও নির্দেশ পালন করবে। সব সময় তোর আশপাশে থাকবে। মর্গে রুমে যে মৃত লাশেদের সামনে তােকে লাঞ্ছিত করা হয়, সেই মৃত লাশেরাই তোর হয়ে প্রতিশোধ নেবে। ‘আমি সুযোগের অপেক্ষায় থাকি করে একটা সদ্য মৃত লাশের দেহ থেকে রক্ত বের করে নিজের শরীরে ঢুকাব। গ্রামের কেউ অসুস্থ হলেই সেখানে ছুটে যাই। সব সময় অসুস্থ লোকেদের পাশে পাশে থাকি। মৃত্যুর অপেক্ষা করি। নার্সের চাকরি করতাম বলে অসুস্থ লোকের পাশে আমাকে পেয়ে সবাই খুশীই হত। অবশেষে একদিন সুযোগ এসে যায়৷ আমার চোখের সামনে একটা লোকের মৃত্যু হয় ৷ দেরি না করে সবার অলক্ষ্যে মৃত লোকের হাতের শিরার সুই ঢুকিয়ে,সিরিঞ্জ দিয়ে টেনে খানিকটা রক্ত দিয়ে নিজের শরীরে প্রবেশ করাই ৷ তান্ত্রিকের কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়। মৃত মানুষের রক্ত শরীরে নেবার পর আত্মাদের দেখতে শুরু করি। প্রথমটায় বেশ ভয় লাগত। পরে সব ঠিক হয়ে যায়৷ আত্মাদের কাছ থেকে জেনে নিই কীভাবে প্রভিশোধ নিতে হবে। ‘আত্মাদেৱ নির্দেশ মত একদিন শহরে গিয়ে লুকিয়ে সিটি হসপিটালের মর্গে ঢুকে প্রত্যেকটা লাশের কানে কানে বলে আসি প্রতিশোধ নেবার কথা। পরের দিনই পেপারে দেখতে পাই সিটি হসপিটালের মর্গের ভিতর মর্গের কেয়ারটেকার সহ তিন জনের রহস্যজনক মৃত্যু। কেউ বলতে পারে না মর্গে তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল। ‘এদিকে আর একটা ঘটনা ঘটে। তান্ত্রিক গ্রামের এক অল্পবয়সী কুমারী মেয়েকে একা পেয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে শব সাধনায় বসে। এই ঘটনায় সমস্ত গ্ৰামবাসী তান্ত্রিকের উপর ভয়ানক খেপে যায় ৷ ক্ষোভে ফেটে পড়ে তারা। সবাই একত্রিত হয়ে শব সাধনারত অবস্থাতেই তান্ত্রিককে পাকড়াও করে ফেলে ৷ সবাই মিলে খুব …নির্মম ভাবে তান্ত্রিককে মেরে ফেলে। মেরে তান্ত্রিকের লাশটা শ্মশানের মাটিত্তেই পুঁতে দেয় ৷ আমার প্ৰতিশোধ্ নেওয়া শেষ হলেও মৃত আত্মারা আমার সঙ্গ ছেড়ে যায় না। শুরু হয় আমার অভিশপ্ত জীবন। যেন নরকের অভিশাপ নেমে আসে আমার উপর ৷ আত্মাদের নিয়েই বাস, আত্মা দের নিয়েই থাকা।স্বাভাবিক জীবন যাপন বদলে যায়৷ নিজের চেহারাটার পরিবর্তন হতে থাকে৷ দিনে দিনে চেহেরাটি প্রেতাত্মাদের মত কুৎসিত রূপ নেয়। চুলগুলো বুড়ো মানুষদের মত সাদা হয়ে যায়। যা থেকে আসে মৃত মানুষের দুর্গন্ধ। স্বাভাবিক কোনও খাবারও খেতে পারি না। খেতে গেলে বমি আসে। আমার লোভ জাগে মরা পচা খাওয়ার প্রতি। লোকালয় ছেড়ে থাকতে শুরু করি বিভিন্ন … শ্মশানে-কবরস্থানে। সেসব জায়গায়ই আমি খুঁজে পাই আমার পছন্দের-খাবার আর আত্মা সঙ্গীদের। জীবন্ত একটা প্রেতাত্মায় পরিণত হই। লোকে আমাকে দেখলে ভয় পায়, ঘৃণা করে, দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। নরক জীবন থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে থাকি। বুঝতে পারি মৃত্যুই আমার একমাত্র পথ। কিন্তু মৃত্যুও আমাকে ধরা দেয় না। উঁচু স্থান থেকে লাফিয়ে পড়ি, চলন্ত গাড়ির নীচে চাপা পড়ি, কেরোসিন ঢেলে নিজের গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দিই, ট্রেনের নীচে কাটা পড়ি…… কিন্তু কিছুতেই আমার মৃত্যু হয় না … হবে কীভাবে মৃত মানুষের রক্ত শরীরে আমি তো আগে থেকেই মৃত ! ভাবি ওই … অভিশপ্ত রক্ত শরীর থেকে বের করে ফেললেই বুঝি মৃত্যু হবে । নিজের মুখ হাত পা নখ দিয়ে আঁচড়ে খামচে চিরে শরীর থেকে সব রক্ত বের করে ফেলতে চাই। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরের সমস্ত ক্ষত শুকিয়ে রক্ত বের হওয়া থেমে যায় ৷ “মৃত্যুর জন্য পাগলের মত হয়ে উঠি।দিশেহারার মত মুক্তির পথ খুঁজতে থাকি। এক সময় মনে হয় আমার এই অভিশপ্ত রক্ত অন্য কাউকে দিতে পারলেই বুঝি মুক্তি মিলবে ৷ (চলবে) ------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত রক্ত-৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now