বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হরর উপন্যাসিকা
"অভিশপ্ত রক্ত"
আফজাল হোসেন
------------------
(পর্ব ৪)
ছয়
রুমার ববো মা, রুমাকে পরামর্শ দিয়েছেন রুমার আর ঘরে শুয়ে বসে সময় না কাটিয়ে স্বাভাবিক কাজ কর্ম শুরু করা উচিত। সর্ব প্রথমে অফিসে জয়েন করা… বন্ধু বান্ধৰীদের সঙ্গে আগের মত সময় কাটানাে, শপিং করা, দর্শনীয় জায়গায় বেড়াতে যাওয়া…এসব করলে তার মাথা থেকে সমস্ত দুশ্চিতা, দুঃস্বপ্ন, উদ্বেগ, ভয় দুর হয়ে যাবে।
রহিমার সম্পর্কে বলেন, ওটা একটা কাকতালীয় ব্যাপার ৷ মাঝে মাঝে এমনটা হয় ৷ দেখা যায় না, অনেকেই কোনও নিকট আত্মীয় মারা যাবার আগে তাকে স্বপ্নে দেখে। তাই বলে এর পেছনে কোনও অলৌকিক ব্যাপার রয়েছে বলে মনে করার যৌক্তিকতা নেই ৷
রুমা বাবা মায়ের পরামর্শ মেনে নিয়ে অফিস করা শুরু করেছে ৷ মাঝে মাঝে অফিস শেষে কোনও কফি হাউসে বা রেস্টুরেন্টে বন্ধু ৰান্ধৰীদের সাথে আড্ডাও দিচ্ছে। ছুটির দিনে মায়ের সাথে শপিং করতে যাচ্ছে ৷ কখনও আবার বন্ধু বান্ধবী বা মা বাবার সাথে পার্কে, নদীর পাড়ে, চিড়িয়াখানায় বা দর্শনীয় কোনও জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছে।
কিন্ত কোনও কিছুতেই রুমা তেমন উৎসাহ পায় না ৷ পায় না কোনও আনন্দ। মন মরা হয়ে থাকে ৷ সব সময়ই তার মনের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করে ৷ কেমন গা ছমছম লাগে ৷ সারাক্ষণই মনে হয় তাকে ঘিরে আশপাণে কারা যেন আছে ৷ তাদেরকে চোখে দেখা যায় না। তারা শরীরধারী নয়, অশরীরী !
অফিস শেষে রুমা রিকশায় করে বাড়ি ফিরছে ৷ রিকশাটা চলছে গোরস্থান রোড ধরে। এই রাস্তার ধারে বিশাল একটা মুসলিম গোরস্থান রয়েছে। সেই জন্যই এই রাস্তার নাম গোরস্থান রোড। রুমা তার রিকশা থেকে অনেকটা সামনে দেখতে পেল_ অনেকগুলো লোক লাশ সমেত একটা খাটিয়া কাধে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের সম্মিলিত কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে আশহাদু’ আল লা-ইলাহা হা-ইল্লাল্লা হ.
লোকগুলো বোধহয় লাশটাকে গোরস্থানে দাফন করার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। লাশ বহনকারী লোকগুলোর কারণে রাস্তায় একটা ছোট খাটো জ্যামের মত হয়েছে। রিকশা গাড়িকে লোকগুলাের পিছন পিছন পাশ কাটিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে হচ্ছে।
রুমার রিকশাটা এখন একেবারে লোকগুলোর পিছনে। রুমার চোখ পড়ে খাটিয়র উপরে সাদা কাফনে মুড়ানাে লাশটার দিয়ে। লাশটার দিকে চোখ পড়তেই তার বুকটা ধক করে উঠল। ভয় লাগা সত্বেও কেন যেন সে লাশটার থেকে চোখ সরিয়ে নিতে পারল না।
একদৃষ্টে লাশটার দিকে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ রুমা দেখতে পেল খাটিয়ার মধ্যে লাশট৷ ধীরে ধীরে উঠে বসেছে। এটা কী করে সম্ভব!!! সে কি চোখে ভুল দেখছে?
লাশটা উঠে হাটু মুড়ে বসল।মুখের উপর
জড়ানো সাদা কাফনও ধীরে ধীরে খুলে পড়ল। মুখটা দেখা গেল ৷ রোগা চিমসে চেহেরার এক লোকের মুখ ৷ মুখ ভর্তি খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি ৷গাল ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে ৷ চোয়াল, কন্ঠার হাড় ৰিচ্ছিবিভাবে জেগে রয়েছে। যেন লোকটা যক্ষায় মারা গেছে।
লাশটার চোখ দুটো খুলে গেল। ঘোলাটে চোখ ৷ লাশটা সোজা রুমার দিকে তাকিয়ে বিকৃত ভয়ঙ্কর মুখ ভঙ্গিতে হাসল।
রুমা যেন এতক্ষণ ঘোরের মধ্যে ছিল। ভয়ার্ত গলায় চিৎকার করে উঠে চোখ সরিয়ে ফেলল। অন্য দিকে ফিরিয়ে নিয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে ভয়ার্ত অম্পষ্ট গলায় প্রলাপ বকার মত কিছু এলোমেলো বকতে লাগল।
রিকশাওয়ালা রিকশা থামিয়ে অবাক গলায় জিজ্ঞেস করল, ’অফো,আপনের কী হইছে?এমন করত্যাছেন ক্যান?
রুমা ভীত গলায় কোনক্রমে বলল, ‘ওদিকে তাকিয়ে দেখো খাটিয়ায় মধ্যে লাশটা উঠে বসেছে। ’
রিকশাওয়ালা হাসি মাথা গলায় বলল আফায় যে কী কন! আফসে নিজেই চাইয়া দেহেন, যেমন থাকার কথা তেমনই আছে।
রুমা রিকশাওয়ালার কথায় সাহস সঞ্চয় করে আবার খাটিয়ার দিকে তাকাল। তাকিয়ে দেখে, রিকশাওয়ালা যা বলছে তা ঠিক। সে তা হলে এতক্ষণ ভুল দেখেছে ! ! এসব কী হচ্ছে তার সঙ্গে! লোকজন তাে তাকে পাগল ভাবতে শুরু করবে! রিকশাওয়ালা হয়তো এতক্ষণে তাকে তেমনই কিছু ভেবে নিয়ছ।
রুমা যতটা সম্ভব নিজেকে সামলে নিয়ে বলল… “ঠিক আছে, এখন তাড়াতাড়ি চলো। অনেক দেরি হয়ে গেছে৷
বাড়িতে ফিরেই রুমা ওর মাকে জড়িয়ে ধরে ডেউ ভেউ করে কাঁদতে লাগল । রুমার মা ওর কান্না দেখে ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন… ‘মা… তুই এমন করে কাঁদছিস কেন? কী হয়েছে তোর? বল, মা, কী হয়োছে?...
রুমা কাঁদতে কাঁদতে বলল, “মা, আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি!
কেন মা তোর এমনটা কেন মনে হচ্ছে?
রুমা অফিস থেকে ফেরার পথে গোরস্থান রোডে ঘটে যাওয়া ঘটনা সব কিছু জানাল মাকে। সব শুনে রুমার মা নানান ভাবে রুমাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে শান্ত করলেন। রুমা পুরোপুরি ধাতস্থ হবার পর বললেন, “যা… যা… এখন গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নে। আজ সারাদিন যা গরম পরেছে। অনেকক্ষণ ধরে ভালভাবে গোসল করলে সরোদিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর হবে … মনটাও পুরোপুরি শান্ত হবে। মন থেকে সমস্ত ভয় ডর চলে যাবে। নিজেকে একেবারে সজীব সতেজ লাগবে ৷ আমি তোর জন্য বরফ কুচি দেওয়া লেবুর শরবত বানিয়ে আনছি।
রুমা শাওয়ারের নীচে র্দাড়িয়ে শ্যাম্পু মাখা মাথা দু হাত দিয়ে আঙুল চালিয়ে চালিয়ে ধুচ্ছে। তার চোখ বন্ধ। চোখ খুলে রাখলে শ্যাম্পুর ফেনা চোখে গিয়ে চোখ জ্বালা করবে।
হঠাৎ রুমা টের পেল, তার হাত দুটো ছাড়াও আরও একটা হাত পিছন থেকে তার মাথায় চুলের ভিতর আঙুল চালাচ্ছে ৷ হাতটা বরফের মত ঠাণ্ডা ৷ রুমা ঝট করে মাথা ঘুরিয়ে পিছনে তাকাল। পিছনে কুৎসিত, বিকৃত, ভয়ঙ্কর চেহারার এক বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে ৷ রুমার ডীত চোখ দেখে বৃদ্ধা খল খল করে বিচ্ছিরি ভঙ্গিতে হাসতে লাগল ৷ হাসতে হাসতে কালো ধোয়ার মত হয়ে বাথরুমের টালি বসানো দেয়ালের ভিতর মিলিয়ে গেল। আয়নায় নিজেকে দেখার সময়ও হঠাৎ হঠাৎ রুমা নিজের জায়গায় এই বৃদ্ধার চেহারাটাই দেখতে পায় ৷
রুমা আতঙ্কিত গলায় চিৎকার করতে করতে বাথরুম থেকে বাইরে বেরিয়ে গেল ৷ রুমার চিত্কার শুনে রুমার মা ছুটে এলেন ৷
আবার কী দেখে ভয় পেয়েছিস?বাথরুমে আবার কী দেখতে পেয়েছিস?
রুমা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, ‘কুত্সিত চেহারার এক বুড়িকে। মুখটা যেন আগুনে ঝলসানো! তার ওপর অন্ধ! চুলগুলো পাটের আঁশের মত! লম্বা লম্বা নখ…আয়নায় নিজেকে দেখার সময়ও মাঝে মাঝে এই বৃদ্ধার চেহারাটাই ফুটে উঠতে দেখি ৷ মা… আমি মনে হয় পাগল হয়ে গেছি।
রুমার মুখে বৃদ্ধার চেহারার বিবরণ শুনে ওর মা এতটাই অবাক হয়েছেন যে তাঁর মুখ থেকে কথা বের হতে বেশ সময় লাগল। তিনি তােতলাতে তােতলাতে কােনক্রমে বললেন, কী বলছিস, মা তুই!! তুই সেই অন্ধ বৃদ্ধাকে দেখতে পাস?
রুমা তার মায়ের মুখ দেখে বুঝতে পারল তার মা বৃদ্ধার ব্যাপারে আগে থেকেই কিছু জানেন।
রুমা ব্যাকুল গলায় বলল, মা, বাবা আর তুমি মনে হয় আমার কাছে কিছু লুকিয়েছ … ওই কুৎসিত বুড়ি সম্পর্কে তোমরা আগে থেকেই কিছু জানাে। যা জানো আর গোপন করে না রেখে আমাকে জানাও। আমার এই ভয় পাওয়া রোগের পেছনে নিশ্চয়ই ওই বুড়িরই কোনও হাত আছে।
রুমার মা বলতে লাগলেন, 'না না, বুড়ি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না। তুই যেমন চেহারার বুড়ির কথা বললি তেমন চেহারারই এক বুড়ি এসে তোকে রক্ত দিয়ে বাচিয়েছিল। তোকে জানাইনি এই ভেবে যে অমন কুৎসিত চেহারার এক বুড়ির রক্ত তোর শরীরে এটা জেনে তোর যদি মন খারাপ হয়, গা ঘিন ঘিন করে। নিজেকে অশুচি ভাবিস,এসব কথা ভেবে। তুই সুস্থ হতে হতে হাসপাতালে থাকাকালীন নার্স ওয়ার্ড বয়দের মধ্যে কানা ঘুষো শুনছিলাম, সেই রাতে নাকি বুড়ির রক্ত নেওয়া শেষে বুড়ি কোথায় যেন গায়ের হয়ে গিয়েছিল।
কেউ তাকে হাসপাতাল থেকে রেরোতে দেখতে পায়নি, অথচ তাকে আর কেথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি। ওসব কানাঘুষো নিয়ে মাথা ঘামাইনি, তােকে নিয়েই তো ব্যস্ত ছিলাম ৷ তােকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলাই ছিল তখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। তোকে বাঁচানোর জন্য রক্তের প্রয়জন ছিল। বুড়ির কাছ থেকে রক্ত পেয়ে যাই সেটাই সেই মুহূর্তে যথেষ্ট ছিল। বুড়িটা বাঁচল না মরল… না গায়ের হলো তা নিয়ে ভাববার সময় কোথায়।‘
রুমা কিছু মনে পড়া এমন ভঙ্গিতে বলে উঠল, ‘ওই কুৎসিত চেহারার বুড়ি আমাকে রক্ত দিয়েছে, তোমার মুখে এটা শুনে এখন আমার মনে পড়ল ওই পাগলি বুড়ির কারণেই তো আমার অ্যাক্সিডেণ্ট হয়েছিল। পাগলিটা আমাকে, রক্ত লাগবে….রক্ত….বলে তাড়া করেছিল।
রুমার মা বিম্ময়ে চোখ কপালে তুলে বললেন, “এসব কথা তো কিছুই আমাদের জানাসনি!
রুমা ধরা গলায় বলল, মা, আমার কিচ্ছু মনে ছিল না ! অ্যাক্সিডেন্টে সব আমি ভুলে গিয়েছিলাম। এই মাত্র মনে পড়ল।
(চলবে)
--------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now