বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হরর উপন্যাসিকা
"অভিশপ্ত রক্ত"
আফজাল হোসেন
------------------
(পর্ব ৩)
চার
রুমা হাসপাতাল থেকে রিলিজভ্ হয়ে বাসায় ফিরেছে ৷ বলতে গেলে সে এখন একদম সুস্থ ৷ এরপরও আরও সপ্তাহখানেক বাসায় রেস্টে থেকে স্বাভাবিক কাজ কর্ম শুরু করবে ৷ অফিসে জয়েন করবে।
রুমাদের বাড়িতে একটা কুকুর আছে।বেশ নাদুস নুদুস বিশালদেহী সরাইলের কুকুর। অনেক দিনের পোষা। কুকুরটার নাম ভুলু। রুমার খুব আদরের। রুমার সামনে পড়লেই কুকুরটা লেজ নেড়ে মাথা নুইয়ে, কান দুটো ঘাড়ের সাথে চেপে ধরে কুঁই কুঁই এক জাতীয় শব্দ করে।বোধ্হয় তখন কুকুরের ভাষায় মনিবকে শ্রদ্ধা জানায়। রুমা মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দেয়। কুকুরটা আদর পেয়ে একেবারে মাটিতে বসে পড়ে। মাথাটা একেবারে নুইয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
সুযোগ পেলে জিভ বাড়িয়ে রুমার পা চেটে দিতে চায়।অবশ্য এই ব্যাপারটায় রুমার গা ঘিন ঘিন করে। তাই রুমা সাবধান থাকে যাতে কােনওভাবেই পা চাটতে না পারে।
রুমা যখন অফিস থেকে বা বাইরে থেকে বাসায় ফেরে তখন বাসার কিছুটা কাছাকাছি পৌছতেই কুকুরটি ছুটে এসে রুমার চলার পথের সঙ্গী হয়। গা ঘেঁষে যেন নেচে নেচে হাঁটে। খুশির ডাক ছাড়ে, লেজ না নারে, চারদিকে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকায় ৷ হয়তো কুকুরটা তখন এটাও বলে, মনিব, এখন আপনার ভয়ের কিছু নেই আমি আপনার সাথে আছি। রুমা রিকশার থাকলে রিকশার পাশে পাশে ছুটে চলে।
রুমা বাড়ি থেকে বের হবার সময়ও একই ব্যাপার ৷ রুমাকে বাড়ি থেকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসে।
এতটাই ভাব রুমা আর ভুলু নামের কুকুরটার মাঝে।
কিন্তু হাসপাতাল থেকে ফেরার পর ভুলু রুমাকে একটুও সহ্য করতে পারছে না ৷ রুমাকে দেখলেই ক্রোধে ঘড় ঘড় শব্দ করতে করতে, দাঁত খিচিয়ে , হিংম্র রূপ নিয়ে আক্রমণ করতে চায়।
যেদিন রুমা হাসপাতাল থেকে প্রথম বাড়িতে পা রাখল, সেদিন ভুলু যে কী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ কারেছিল ভাবা যায় না। যেন রুমাকে বাগে পেলে কামড়ে ছিড়ে মেরে ফেলবে। অনেক কষ্টে রুমার বাবা ভুলুকে শিকল পরিয়ে বেঁধে ফেলেন ৷ শিকলে বাধা অবস্থায়ও ভুলু হিংস্র রূপে বার বার রুমার দিকে তেড়ে আসতে চায় ৷ শিকলে টান খেয়ে খেয়ে পিছিয়ে যায় ৷ ওকে তখন এতটাই হিংস্র দেখায় যে ভয় লাগে কখন আবার শিকল ছিড়ে রুমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে ৷
এরপর থেকে রুমাকে দেখলেই ভুলু ভয়ঙ্কর খেপে যায়। রুমাকে বাড়ির জানালার বা বারান্দায় দাড়াতে দেখলেও , দেখামাত্র ক্রোধান্বিত পাগলা কুকুরের মত করতে থাকে। বিকট হিঃস্র গর্জন শুরু করে ৷ বাইরে থেকে একতলা বাড়ির জানলা ৰারান্দার গ্রিলে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে ৷ যেন পারলে গ্রিল ভেঙে রুমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
হাসপাতাল থেকে ফেরার দিন রুমা ভেবেছিল, হয়তো অনেক দিন পর ভুলু তাকে চিনতে পারেনি বাইরের লোক মনে করেছে। কিন্তু আজকাল বিষয়টা রুমাকে খুব ভাবায়।
কুকুররা মানুষ চেনে গন্ধ দিয়ে . মানুষের গায়ের গন্ধেই কুকুরেরা চিনে নেয় সেই লােকটা তার পূর্ব পরিচিত অথবা মনিব কিনা ৷ ভুলু কি তা হলে রুমার গায়ের গন্ধ চিনতে পারছে না ?
অবশ্য রুমারই আজকাল নিজের গায়ের গন্ধটা অপরিচিত লাগে। নিজের গা থেকে নিজেই কেমন ইদুর মরা ইদুর মরা ৰিচ্ছিরি গন্ধ পায় ৷ প্রথমে ভেবেছিল অনেক দিন গোসল না করায় হয়তো গা থেকে অমন গন্ধ বেরুচ্ছে ৷ হাসপাতাল থেকে ফেরার পর থেকে সুগন্ধি সাবান শ্যাম্পু মেখে, গরম পানি দিয়ে, রোজ অনেকক্ষণ ধরে ভালভাবে গোসল করছে ৷ কিন্তু তাতেও গায়ের গন্ধ যাচ্ছে না। বরং যতই দিন যাচ্ছে আরও বেড়ে যাচ্ছে।
আরও একটা বিষয় রুমাকে ভাৰায়। রুমা যখন ড্রেসিং টেবিলের বড় আয়নার সামনে আঁচড়াতে বা সাজতে বসে তখন হঠাৎ মনে হয় যেন আয়নায় তার চেহারার বদলে কুতসিত ভয়ঙ্কর একটা চেহারা ফুটে উঠে নিমেষে মিলিয়ে যায়। এটা অবশ্য ৰিভ্রমও হতে পারে৷ হয়তো সে ভুল দেখে৷ সেই রাতে হাসপাতালের মর্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা শুনে ডাক্তাররা বলেছিল বড় ধরনের কোনও অ্যাক্সিডেন্টের পর অনেকের ক্ষেত্রে কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। দৃষ্টিবিভ্রম্ শ্রবণবিভ্রম অথবা গন্ধ বিভ্রমও হতে পারে।এ ছাড়া ঘুমের মধ্যে হাঁটা, দুঃস্বপ্ন দেখা,চেনা খাবারের স্বাদ অন্য রকম লাগা, ৰিষন্ন বোধ করা, অহেতুক ভয় পাওয়া, কান্না পাওয়া, রেগে যাওয়া………এরকম অনেক কিছুই হতে পারে। এক সময় ধীরে ধীরে সব সমস্যা ঠিক হয়ে যায় ৷ এমনিতে ঠিক না হলে তখন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যাওয়া উচিত। ‘
পাঁচ
মাঝ রাত। দুঃস্বপ্ন দেখে রুমার ঘুম ভেঙ্গে গেল ৷ স্বপ্নটা এতই কুৎসিত, নোংরা আর আতঙ্কের ছিল যে ভাবতেও ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে রুমা।গা ঘিন ঘিন করছে। কান্না পাচ্ছে ৷
রুমার বুকের ভিতর এখনও ৰেদম্ দুরমুশ পিটাচ্ছে ৷ বুকটা হাপরের মত ওঠা নামা করছে ।সমস্ত শরীরটা ঘামে ভিজে চুপচুপে। গলাটা শুকিয়ে কাঠ ৷
স্বপ্নে রুমা একটা মর্গ রুম দেখেছে। সেই রাতে হাসপাতালের মর্গ রুমটা যেমন দেখেছিল তেমনই বড়সড় একটা মর্গ রুম l রুমে হালকা নীলচে অষ্পষ্ট আলো ৷ সারিবদ্ধ করে রাখা অনেকগুলো স্ট্রেচার ৷ স্ট্রেচারগুলোর উপরে সাদা কাপড়ে ঢাকা লাশ ৷ রুমা সেই সারিবদ্ধ করে রাখা স্ট্রেচারে শোয়ানাে লাশদের মাঝ দিয়ে দুরু দুরু বুকে হেঁটে যাচ্ছে ৷ পিনপতন নীরবতা। হঠাৎ সাদা কাপড়ে ঢাকা একটা লাশের হাত তড়াক করে কাপড়ের নীচ থেকে বেরিয়ে তার দিকে ছুটে আসে ৷ খপ করে তার একটা হাতের কব্জি চেপে ধরে। লাশের হাতটা একেবারে বরফ শীতল।
রুমা ভয়ে আতঙ্কে পাগলের মত আর্তনাদ করতে থাকে৷ সেই সঙ্গে লাশের হাতটা থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিছুতেই সে পেরে ওঠে না৷ একেবারে বজ্র আটুনিতে ধরে থাকে লাশের হাতটা। লাশটার হাত থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করতে করতে এক পর্যায়ে রুমার আর্তনাদ রূপ নেয় কান্নায়। বোধ্হয় সেই কান্না দেখেই লাশটা সাদা কাপড়ের নীচ থেকে হো হো করে সমস্ত রুম কাপিয়ে হেসে ওঠে । সাদা কাপড় উপর থেকে হাসির দমকে লাশটার শরীরের দুলুনি দেখা যায়। রুমা তার স্বাভাবিক জ্ঞান বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে। সে পাগলের মত লাশের হাতটায় তার অন্য হাত দিয়ে আঁচড় খামচি দিতে থাকে৷ কিন্তু তাতেও লাশের হাতটার বজ্র আটুনি একটুও আলগা হয় না। এক পর্যায়ে মুখ বাড়িয়ে রুমা লাশের হাতটায় কামড়েও দেয়। তখনই লাশটা শোয়া অবস্থা থেকে তড়াক করে উঠে বসে। লাশের মুখটা দেখা যায়৷ জল্লাদের মত চেহারার কোনও এক পুরুষের লাশ ৷ কিছু বুঝে উঠৰার আগেই লাশটা রুমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। রুমাকে মেঝেতে ফেলে গায়ের উপর চেপে বসে। লাশটার কবল থেকে মুক্তির সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয় রুমার ৷ পরাজিত রুমার চিল চিৎকার আর কান্নার শব্দে ভেঙে খানখান হয়ে যেতে থাকে সুনসান নীরবতা ৷
চিৎকারের শব্দে যেন অন্য লাশগুলোও জেগে ওঠে। সেগুলােও স্ট্রেচার থেকে গড়িয়ে নীচে পড়ে হামাগুড়ি দেবার ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে রুমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। পায়ের উপর চেপে থাকা জল্লাদের মত চেহরার লাশটা রুমার মুখ চেপে ধরে। থেমে যায় চিৎকারের শব্দ। রুমার মুখ থেকে রেরোয় শুধু চাপা গোঙানি।
এরপর লাশটা যা করে তা ভাবতে এখনও রুমা কেঁপে কেঁপে উঠছে! সমস্ত শরীর রি রি করছে! গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে! পেটের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠছে! বমি পাচ্ছে!
লাশটা তাকে ধর্ষণ করে! এবং অন্য লাশগুলােও হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে সেই একই উদ্দেশ্যে ৷
রুমা কিছুটা ধাতস্থ হতেই বিছানা থেকে নেমে পড়ে।ডাইনিং রুমে যাবে সে। তার খুব পানি পিপাসা পেয়েছে। ডাইনিঙে গিয়ে প্রাণ ভরে পানি খাবে ৷ ঘুম ভাঙার পর তাড়াহুড়াে করে অন্ধকারে বেড সুইচ ঢিপে বাতি জ্বালাতে গিয়ে, বেড সাইড টেবিলের উপরে রাখা পিরিচ দিয়ে ঢাকা পানির গ্লাসটা কাত করে ফেলে দিয়েছিল ৷
ডাইনিঙে পৌছে একটা চেয়ার টেনে বসল রুমা ৷ বসে আরাম করে পানি খাবে। বুকটা এখনও ধ্ড়ফড় করছে৷ গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে রয়েছে।
পরপর দু গ্লাস পানি ঢেলে খেল রুমা ৷ তৃষ্ণার্ত বুকটা বেশ অনেকটা জুড়াল। লম্বা একটা হাই দিল ৷ হাই দেওয়া শেষ হতেই রান্নাঘরেযর দিক থেকে কেমন মৃদু খুটখাট শব্দ শুনতে পেল ৷ মনে হচ্ছে কেউ রান্না ঘরে রান্না করছে ৷হাঁড়ির ভিতরে খুন্তি অথবা চামচ দিয়ে নাড়ার শব্দ। এত রাতে কে রান্না করবে?
রুমা ডাইনিংয়ের চেয়ার ছেড়ে উঠে রান্না ঘরের দিকে এগোতে লাগল। মসলা পোড়া ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে লাগছে ৷ যতই সামনে এগােচ্ছে ততই গন্ধটা বাড়ছে ৷
কিন্তু রুমার ধারণা ঠিক সত্যিই রান্না ঘরে কেউ কিছু রান্না করছে। যে রান্না করছে তাকে পেছন থেকে দেখা যাচ্ছে। কে হতে পারে রুমার মা? না রুমার মা নন ৷ যে রান্না করছে সে অনেক রোগা পাতলা একটা মহিলা ৷
পরনে জবরজং প্রিন্টের কম দামি শাড়ি। রুমা বুঝতে পারল, ওটা বোধহয় তাদের বাসার কাজের মহিলা রহিমা। কিন্তু রহিমা এত রাতে কী রান্না করছে?
রুমা পেছন থেকে ডাকল… বুয়া, এই বুয়া, এত রাতে তুমি কী রান্না করছ?’
রহিমা মুখ না ঘুরিয়ে থমথমে গলায় বলল, মগজ রানছি_ মগজ! খাইবেন? খাইলে অনেক মজা পাইতেন।’
রুমা ধমকের সুরে বলল, এত রাতে তোমাকে কে মগজ রাধ্তে বলেছে?
“কী করমু আফা, মগজগুলান সব রাস্তায় পইড়্যা আছিল। মরা মাইনষের মাথার মগজ!
রুমা চড়া গলায় বলে উঠল “কী সব আবােল তাবােল বকছ? তোমার মাথা কি ঠিক আছে?
“না, আফা… মাথা ঠিক নাই ৷ মাথাটিই তো ট্রাকে পিষ্যা দিল ৷ এই দ্যাহেন……… বলতে বলতে রহিমা তার মুখটা ঘুরাল। রহিমার মুখটা দেখে মাথা ঘুরে পড়ে যাবার অবস্থা হলো রুমার।
থিকথিকে রক্তে মাখা একটা মুখ। মাথাটা সম্পূর্ণ থেতলানো৷ সেই থেতলানাে মাথা থেকে মগজ মিশ্রিত ঘন আঠাল রক্ত বেয়ে নামছে।
রুমা বিকট স্বরে ভয়ার্ত চিৎকার দিয়ে উঠল ৷ রুমার চিৎকারের শব্দে রুমার বাবা মা ঘুম থেকে জেগে ছুটে এলেন। রুমা ৰিকারগ্রস্তের মত এক টানা চিৎকার করেই যাচ্ছে আর ভয়ে কাঁপছে। রুমার মা রুমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলেন, কী হয়েছে, মা তোর? কী হয়েছে৷! এত রাতে রান্নাঘরে কী জন্যে এসেছিস?
রুমার বাবাও রুমার কাধ ধরে ঝাকাতে ঝাঁকাতে বলতে লাগলেন, ‘কী দেখে ভয় পেয়েছিস? কী দেখে? এত রাতে রান্নাঘরে কী করছিস?
রুমা মা বাবাকে দেখে সম্বিত ফিরে পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল… রহিমা বুয়। রহিমা বুযার মাথাটা থেতলানো। থেতলানো মাথো থেকে রক্ত মগজ বেয়ে বেয়ে নামছিল।‘
রুমার বাবা মা দুজনেই সাঙ্ঘাতিক অবাক গলায় বলে উঠলেন, কোখায় রহিমা?এত রাতে রহিমা আসবে কােথেকে?গত সপ্তাহেই না রহিমা ছুটি নিয়ে কিছুদিনের জন্য ওর দেশের বাড়ি গেছে।’
‘না, না, রহিমা বুয়া একটু আগেও এখানে ছিল। মগজ রাধছিল৷ ওর নিজের মাথার মগজ। ট্রাকের চাকার পিষে গিয়ে ওর মাথার সমস্ত মগজ ছিটকে রাস্তায় পড়েছে, সেই মগজ !
রুমার মা মেয়ের পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, ‘চুপ কর, মা, চুপ কর। অ্যাক্সিডেন্টের পর থেকে তোর যে কী হয়েছে! উল্টো পান্টা আচরণ করছিস!’
রুমার বাবা বললেন, কালই রহিমার দেশর বাড়ি খবর পাঠিয়ে, রহিমাকে আসতে বলছি। রহিমা আসার পর নিজেই বুঝতে পারবি তুই যা বলছিস তা ঠিক নয়। রহিমার কিচ্ছু হয়নি l শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিস ৷ হয়তো দুঃস্বপ্ন দেখেছিস। নয়তো বা ঘুম ঘুম চোখের অতি কল্পনা ৷
পরের দিন রহিমার দেশের বাড়িতে খবর নিয়ে জানা গেল, রহিমা বাড়ি যাবার পথে একটা ট্রাকের নীচে চাপা পড়ে মারা গেছে। ট্রাকের চাকা রহিমার মাথাটা পিষে একেবারে থেতলে দিয়ে যায় l রক্ত মগজ ছিটকে পড়ে রাস্তার।
(ক্রমশ)
--------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now