বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত রক্ত-২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X হরর উপন্যাসিকা "অভিশপ্ত রক্ত" আফজাল হোসেন ------------------ (পর্ব ২) তিন রুমার শারীরিক অবস্থা এখন বেশ ভাল। অ্যাক্সিডেণ্টের জখমগুলো এবং অপারেশন করা স্থানের সেলাইয়ের ক্ষত ভালভাবে শুকিয়ে গেলেই সে হাষপাতাল থেকে বাসায় ফিরে যেতে পারবে ৷ এ ছাড়া তেমন কোন জটিল সমস্যা তার শরীরে নেই। সে এখন কারও সাহায্য নিয়ে একটু আধটু হাঁটা চলাও করতে পারে ৷ রুমা বেশিরভাগ সময় বেডে শুয়ে শুয়ে গল্প উপন্যাস পড়ে কাটায়। কখনো আবার তার কেবিনের ৰারান্দায় গিয়ে বসে। খোলা আকাশে মেঘেদের দলকে ছুটতে দেখে৷ পাখিদের উড়ে যেতে দেখে। অনেক দূরের মাঠে কম বয়সী ছেলেদের সাদা পোশাকে ক্রিকেট খেলতে দেখে খুব ভাল লাগে তার। রক্ত দেওয়া শেষে পাগলীর দেহটা যে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গিয়েছিল, এই দৃশ্য সেই নার্স মেয়েটা ছাড়া আর কেউই দেখেনি। সেদিন নার্স মেয়েটাকে যখন রক্ত পরিসঞ্চালন কক্ষ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তখন বেডের উপর পাগলির পােড়া অঙ্গার দেহ বলতে কিছুই ছিল না। ছিল না কোনও পােড়া গন্ধ বা ধোয়া৷ সব কিছু একেবারে পরিপাটি স্বাভাবিক ৷ যেমনটা সব সময় থাকে ৷ নার্স মেয়েটার জ্ঞান ফেরার পর সবাইকে ঘটনাটা বলে ৷ কিন্তু কেউ তার কথা বিশ্বাস করে না৷ সে সবাইকে বারবার বোঝাতে চায় যে ওই পাগলিটা স্বাভাবিক কেউ ছিল না৷ পাগলির চেহারা আচার আচরণ, রক্ত কিছুই স্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু কেউই তার কথা বিশ্বাস করে না। সবাই ধারণা করে, অতিরিক্ত কাজের চাপে কোনও মানসিক সমস্যা হয়েছে তার। কিছুদিনের জন্য তাকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। তবে ওই নার্স মেয়েটার একটা প্রশ্নের সঠিক জবাব কেউ দিতে পারে না ৷ তা হলো পাগলিটাকে কি কেউ হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছে? রিসিপশনিস্ট, গার্ড, সবাইকে জিজ্ঞেস করা হয়। সবাই স্বীকার করে কেউই পাগলিটাকে যেতে দেখেনি ৷ কিন্তু তাতে কী আসে যায়। হয়তো তাদের সবার অলক্ষে কোনও এক সময় পাগলী হাসপাতাল থেকে চলে গিয়েছে ৷ হাসপাতালে এত মানুষ আসা যাওয়া করে, সবার দিকে লক্ষ্য রাখা কি সম্ভব? গভীর রাত। সমস্ত হাসপাতাল জুড়ে পিনপতন নীররতা৷ রুমার কেৰিনের দরজায় কে যেন টুক টুক করে শব্দ করছে। এত রাতে কে এল? হাসপাতালের কোনও নার্স কি রুটিন চেকআপ করতে এসেছে?রুমার তো মাঝ রাতে কোনও ওষুধ বা ইন্জেকশন নেবার নেই। তা হলে এত রাতে নার্স এসে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে কেন? রুমা তার ঘুমন্ত মায়ের দিকে তাকাল। রুমার মা কেবিনের এক্সট্রা বেডে বেঘোরে ঘুমাচ্ছেন ৷ রুমার অ্যাক্সিডেন্টের পর থেকে মা ই সর্বক্ষণ পাশে থাকছে। দেখাশোনা করছেন। গত দিনগুলোতে তাঁর ওপর দিয়ে যে ধ্কল গেছে! একে তো সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে থেকেছেন তার ওপর রুমার সেবা শুশ্রূষা করা। অনেকগুলো রাত না ঘুমিয়ে রুমার শিয়রে বসে কাটিয়েছেন। রুমা ভাবল মাকে ঘুম থেকে না জাগিয়ে সে নিজেই উঠে দরজা খুলে দেখবে কে এসেছে। সে এখন কারও সাহায্য ছাড়াই দেয়াল টেয়াল ধরে হাঁটা চলা করতে পারে। রুমা কেবিনের দরজা খুলল ৷ দরজার সামনে হাসপাতালের কোন নার্স দাড়িয়ে নয়, খুবই বয়স্ক একজন লোক র্দাড়ানো। লোকটার মুখটা কেমন শুকনো আর মলিন ৷ বৃদ্ধ লোকটা রুমাকে দেখেই অনুনয় করে বলে উঠলেন মাগাে খুব বিপদে পইড়া আইছি। আমি এই হাসপাতালের এক রােগী। এই তলায় উত্তর মাথার ক্যান্সার ইউনিটের কেবিনে আছি। আইজ রাইতে আমার লগে আমার ছেলে মেয়ে বা বাড়ির কেউ নাই। ডাক্তাররা আমারে মাঝ রাইতেও কী যেন একটা ট্যবেলেট খাইতে দিছে ৷ অতগুলান ট্যাবলেটের মধ্যে কোনটা খাইতে হবে তা তো বুঝতেছি না। নার্স আইস্যা খাওয়ানাের কথা ছিল৷ কিন্তু কোনও নার্সরে আশপাশে দেখতেছি না। মাগো তুমি মনে হয় শিক্ষিত মাইয়্যা তুমি যদি আমার কেবিনে গিয়া একটু দেখাইয় দিতা। বৃদ্ধের করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে না বলতে পারল না রুমা। একটু যেন ভেবে বলল, ঠিক আছে, চলুন দেখিয়ে দিচ্ছি ৷ বৃদ্ধকে অনুসরণ করে এগোতে লাগল রুমা৷ নীরব নিস্তব্ধ করিডর। রুমা দু পাশের দেয়াল ধরে কোনক্রমে হাটছে। একটার পর একটা বদ্ধ রুমের পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে তারা ৷ দুজনেই খালি পারে, তাই হাঁটার কোনও শব্দ হচ্ছে না। হঠাৎ রুমা তার সামনে বৃদ্ধ লোকটার চলার ভঙ্গি দেখে চমকে উঠল। লােকটা যেন মেঝেতে পা ফেলে ফেলে হাটছে না, কেমন শূন্যে ভর করে ভেসে ভেসে যাওয়ার মত দেখাচ্ছে! নিশ্চয়ই রুমার কোন ভুল হচ্ছে। মধ্যে রাতের এই সুনসান নিস্তব্ধতা তাকে ৰিভ্রম দেখাচ্ছে ৷ করিডরের একেবারে উত্তর মাথায় পৌছবাৱ পর হঠাৎ লোকটা যেন কোথায় গায়েব হয়ে গেল। রুমার গা কিছুটা ছমছম করতে লাগল। উত্তর মাথার রুমের দরজাটা ভেজানো। এটাই কি তা হলে বৃদ্ধের কেবিন? বৃদ্ধ কি কোন এক ফাঁকে রুমার অলক্ষে ভিতরে ঢুকে গেলো? সেটাই হবে হয়তো। রুমের ভিতরে ঢুকে দেখা উচিত। রুমা ভেজানো দরজায় হাত রাখল ৷ নিঃশব্দে দরজাটা খুলে গেল। ধীর পায়ে ভিতরে ঢুকে পড়ল ৷ ভিতরে হালকা নীলচে অস্পষ্ট নরম আলো। তাপমাত্রা হিমশীতল। ফিনাইলের কড়া গন্ধের সাথে কেমন বিদঘুটে ভ্যাপষা গন্ধের মিশেল। স্বল্প নীলচে আলোতে কিছুটা চোখ সরে আসতেই রুমা বুঝতে পারল বেশ বড়সড় একটা কামরা। কামরাষভর্তি সারিবদ্ধ করে রাখা কতগুলো স্ট্রেচার। বেশ কিছু স্ট্রেচারে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ধবধবে সাদা কাপড়ে ঢাকা মানুষ রয়েছে ৷ সাদা কাপড়ের উপর দিয়ে মনুষ্যাকৃতি গুলাে ফুটে রয়েছে। শোয়া অবস্থায় শক্ত হয়ে সিঁটিয়ে রয়েছে তারা ৷ রুমার বুঝতে দেরি হলো না এটা যে হাসপাতালের মর্গ রুম ৷ সাদা কাপড়ে যারা ঢাকা রয়েছে তারা মৃত লাশ! রুমা জমে যাওয়া পায়ে কোনক্রমে পিছু হটতে লাগল৷ তখনই ঝড়াে হাওয়ার মত দমকা একটা হাওয়া বয়ে গেল ৷ হিমশীতল দমকা হাওয়া। হাওয়ার তােড়ে তার পিছনে মর্গ রুমের দরজাটা দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল ৷ লাশগুলোর উপর থেকে সাদা কাপড়গুলো খসে পড়ল ৷ রুমের একমাত্র নীলচে আলোর বাতিটা ক্রমাগত জ্বলতে নিভতে লাগল। আতঙ্কে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে রুমা ৷ যেন কেউ তার গলা চেপে ধরেছে ৷ হাত পা বরফের মত ঠাণ্ডা হয়ে আসছে ৷ থরথর করে কাঁপছে সমস্ত শরীর। লাশগুলোর মধ্যে একটা লাশকে রুমা চিনতে পারল ৷ সেটা হচ্ছে সেই বৃদ্ধ লোকটার লাশ যে রুমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। রুমার আতঙ্কিত চোখের সামনে হঠাৎ লাশগুলো তড়াক করে শোয়া অবস্থা থেকে উঠে বসল। ওগুলোর বোজা চোখ খুলে গেল। নিষ্প্রাণ, রক্তশূন্য স্থির… পলকহীন চোখ।চোখগুলাে সোজা তাকিয়ে রয়েছে রুমার দিকে। রক্ত জল করা চাহনি! চাহনির মাঝে অশুভ ছায়া। ভোরবেলা রুমাকে মর্গ রুম থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৷ জ্ঞান ফেরার পর রুমা গতরাতে তার সঙ্গে কী ঘটেছে সব জানায় ৷ রুমার কথা শুনে হাসপাতালের ডাক্তাযর নার্স সবাই একেবারে হতৰাক হয়ে যায়। রুমার বর্ননার যে বৃদ্ধ তাকে মর্গ রুমে ডেকে নিয়েছে বলে জানিয়েছে সেই লোকটা সেদিন সন্ধ্যারাতেই মারা গিয়েছিল। বৃদ্ধ অনেক দিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিল৷ মৃত একটা লোক কীভাবে রুমাকে ডেকে নেবে? (ক্রমশ) ------------- ।। একাকী কন্যা ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত রক্ত-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now